তুচ্ছপুচ্ছ ভাবনা গুচ্ছ-২

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল

০৪/১০/১১

অন্ধ হলেই ভালো হতো, দেখতে হতো না, দেখতে দেখতে দৃষ্টি পাথর!
বোবা হলেই ভালো হতো, বলতে বলতে ভাষা শেষ।
কালা হলেই ভালো হতো, শুনতে হতো না
শুনতে শুনতে সঙ্গীতও অসহ্য!

 

০৫/১০/১১

আকাশও একা। একাতিত্বের আনন্দই আলাদা, অতুলনীয়
নিঃসঙ্গতায় নিজেকে পাবে পুরোপুরি, পুরোটাই সুঁতি।

 

২১/১০/১১

হাসপাতালের কবিতাগুলো কবুতরের মতো ঘুর ঘুর করে
তারা বুঝে না ট্রান্সট্রোমারের ভাষা-
শুধু খুঁটতে থাকে দুঃখদানা, খুঁজতে থাকে মাটির মন।

মলত্যাগ, জলত্যাগ আর ‘বুশের দেশ’ ত্যাগ এক নয় জেনেও
কবুতরগুলো আবৃত্তির ঢং-এ তেলায়েত করে বাকবাকুমবাক
তখন কুমারী নার্সেদের নাড়ীতে নাড়া দেয় নিঃসঙ্গবোধ
বোধের ভেতর বাজতে থাকে সেলফোন…

 

২৫/১০/১১

(রশীদ তালুকদারঃ ২৪ অক্টোবর আর ২৫ অক্টোবরের দূরত্ব বাহাত্তর বছর)
ইতিহাসের চোখ ঘুমিয়ে পড়লো
ল্যান্সে আর নড়ে উঠবে না শাদাকালোর আলোর খেলা।

খেলাঘরে পড়ে থাকে প্রিয় ক্যামেরা
ক্যামারার চোখ ঘুমিয়ে পড়ে অক্টোবরে

শুধু জেগে থাকে উত্তেলিত ভাষাচিত্র
টোকাইয়ের হাত, মুষ্ঠিবদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা, ঐতিহাসিক তর্জনী।

 

২৮/১০/১১

জঙ্গলের ফল খেয়ে মাতাল হয়েছে অষ্ট্রেলিয়ান পাখি
নিউজিল্যান্ডের চাঁদও আনন্দে আত্মহারা মাতাল হয়ে খুলে দিয়েছে কূলপ্লাবি জোছনা
অঢেল জোছনায় মাতাল মেথরপট্টি, চা বাগানের শ্রমিক, বড়বাবু, সৌদি আরব…
এক পা তিন পা করে শিশুদের হাঁটার মতো হাঁটছে পুলিশ, টলছে বাতাস
বুনোবাতাস আজ বনফুলের নেশার ঘোরে ঘুমিয়ে পড়ে একাকী
সামুদ্রিক মাতাল মাছগুলোও আজ মনে করতে পারছে না সাঁতারশিক্ষা, আত্মঅস্তিত্ব

তুমুল মাতাল নেশাগ্রস্থ পৃথিবীর হুলোস্থুলের ‘ড্রিঙ্ক ডে’র ভেতর থেকে বেরিয়ে
চলো আমরা চুরি করতে যাই….

 

২৮/১০/১১

এক মাতাল আরেক পাগলকে বলছে, বেটা মাতাল
আর পাগল বলছে, তুমি একটা পাগল।

অথচ তারা দু’জনই ভালোবাসতে জানে।

 

৩১/১০/১১

পুষ্পের চেয়ে পাতাগুলোই অপূর্ব
মধ্যপ্রাচ্যে মরুভূমির সৌন্দর্য, তুষারে ঢাকা শীতের সৌন্দর্য
মনে করিয়ে দেয় বিধাবার মতো পৃথিবী পত্রহীন

শুধু প্রাণীই নয়; মানুষও তৃণভোজী লতাপাতা খায়
খেতে পছন্দ করে।
পাতার সাথে কী মানুষের কোনো পৈত্রিকসূত্র আছে?

Facebook Comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।