পাঁচটি কবিতা


সুবীর সরকার

ঘুঙুর

যে কোনো রাস্তায় যাও দেখবে
মরণপণ লড়াই। নদীর ধারে কুড়িয়ে
পাওয়া পাথর নদীতেই ছুঁড়ে দিচ্ছি
রাত জাগি,টোকা মেরে শীত সরাই
সেতুতে ওঠার আগে অবস্থান বদল
আর ভ্রু-সন্ধির ঘাম ঘুমের ভিতর
আর ঘুঙুরের মতো বাজছে বিদ্রুপের
সিটি। কিছু কলঙ্ক লেপে দাও, নিচু হয়ে
কুড়োই।

 

গৌরচন্দ্রিকা

রক্ত ডানা মেলে উড়ছে। ডানা জেটপ্লেন। ডানা
ছায়া ফেলে জেলা হাসপাতালের ওপর। আর
ফাটাফাটি রাস্তা। গ্রন্থাগার আগলে রাখে
বাঁশবাগান। আর সেনাঘাঁটি ডিঙোলেই বাতিঘর।
জলকলস।
বরং রে রে করে তেড়ে আসুক রোদ
বরং গৌরচন্দ্রিকা শেষ এবার ঘটনায় ঢুকি
আর পাখিপ্রকল্পের মুখোমুখি বধূবরণের গেট

 

তথ্যছবি

টানা রিকসায় চালু হচ্ছে দিন, বাক বিদ্যুৎহীন
যুগলবন্দী ভেস্তে যায় বুঝি তবু এই শহরেই আছে
তথ্যচিত্রের সূচনাতে হাজার কলসি গান গায়
স্বপ্ন দেখাচ্ছে মাঝখান থেকে তুলে আনা কয়েক লাইন
আর পিচরাস্তায় ছুটে চলে শব্দ ও হারমোনিয়াম

 

শোকচিহ্ন

হারিয়ে যাবার কথা উঠলেই একটা গোটা
হাসপাতাল। জন্মদিন পালন করি রক্ত
ও ডেটল দিয়ে।অ্যাপ্রন পরা নার্স।অপারেশন
টেবিল থেকে গড়িয়ে নামছে বেড়াল। আর
হাসপাতাল এগিয়ে আসে শিশিবোতল ও
গীটারের দিকে

 

দিদির মৃত্যুর দিন

দিদির মৃত্যুর দিন বৃষ্টি হচ্ছিল, বৃষ্টি হচ্ছিল আর
থেকে থেকে হাওয়া, প্রবাল প্রাচীরের ওপর দিয়ে
হেঁটে আসতে গিয়ে দেখি বৃষ্টি টেনে নিয়ে  যাচ্ছে
সবাইকে। আর গোল হয়ে এগিয়ে আসছে
শোকচিহ্ন দিদির মৃত্যুর দিন।

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *