তিনটি কবিতা


নভেরা হোসেন নেলী

 

রাতের সিম্ফনি

১.
দৃশ্যগুলো বদলে যাচ্ছে
একটার পর একটা টয়োটা গাড়ি,
জি করোলার মসৃণতা মিলিয়ে যেতেই
গাল থেকে ঝুলেপড়া মাংসপিণ্ড
আধহাত দূরত্বে দাঁড়িয়ে,
চোখাচোখি হতেই চোখ সরিয়ে নাও তুমি
আঠারো শতকীয় নাগরিক ছাপ চোখে-মুখে,
নির্মমতা নয় সকালের একরাশ অধৈর্য
তিরতির কাঁপতে থাকে ভলভোর জানালায়
তুমিও চোখ বুজে ট্রেনের স্লিপার
দ্রুত পার হয়ে যাও মাঝরাতে।

২.
পথটা ভাঙাচোরা
এবড়ো থেবড়ো গলি-ঘুপচি
কে কোন্ গলিতে সটকে পড়েছে,
অপেরা হাউজের নীল আলোয়
হ্যাভ এ স্পেশাল ডে!

৩.
তুমি বেশ কষ্ট পাচ্ছ
তবু বদলে যাওয়া হাতের আঙুল ছুঁয়ে আছো
আর তার রুক্ষতায় নয়
সিমপ্যাথেটিক সিনড্রোমে
গুলে খেয়েছ ক্যালেন্ডারের একটা বছর।

৪.
পুরানো যতটুকু নতুনও ততটুকু
তোমার চোখই বলে দিচ্ছে
ভায়োলিনের একাঙ্কিকার কথা

৫.
চারপাশে যেমন সব মানুষ, কথা হচ্ছে
তুমিও তার সাথে সায় দিচ্ছো,
মাছের পেটিটা কেটে দু’টুকরো করছো
তারই মাঝে সরসর শব্দে চলে যাচ্ছে
কালো একটা গুঁইসাপ…

৬.
দুজনেই কথা বলছে, হাসছেও মাঝে মাঝে
গলায় মোলায়েম ধ্বনি
ঝুম বৃষ্টি, বৃষ্টিতে ভিজছে
রায়েরবাজারের কৃষ্ণাভ মেয়ে-
আর  কে তার হাতে সুঁই ফুঁটিয়ে দিচ্ছে,
সূত্রাপুরের বোহেমিয়ান ছেলে!

৭.
এসবই স্বপ্ন নয়
ভ্রান্তি যাকে বলে
ভুল ভালোবাসা হতে পারে
কিন্তু ভালোবাসা ভুল নয়

৮.
রোজ রাতে ওষুধ গোলাচ্ছ
লেমনে বা সোডাতে
পান করছে অন্যরা আর
তোমার কঙ্কালজুড়ে কালশিটার দাগ!

৯.
প্রচলিত নিয়মে যা যা বলা হয়Ñ
তাই বললে তুমি
সেখানে না ছিলে তুমি
আর না ছিলাম আমি।

১০.
প্যারানয়েড সিনড্রোম বাসা বেঁধেছে মনে
সারারাত ছাদে পায়চারি
একটা গোলাপি আলো কি দেখা যাচ্ছে
টানেলের কিনার ঘেঁষেÑ

১১.
এরপর যা কিছু থাকবে সব ভালো আর সুন্দর
এমন ক্লিশে শব্দ, বাক্য
কবিতায় তো লেখো না!

১২.
প্রখর রোদে ডানা মেলছে সারসেরা
তোমার নিরুত্তাপ চোখেও কি ফুটে উঠল
শিল্পীর অপ্রেম!

১৩.
মর্টারের শব্দ শুনছি
করোটি ভেদ করে চলে গেল
ঝাঁকে ঝাঁকে বুলেট
টেরই পেলাম না তোমার অগস্ত্যযাত্রা…

১৪.
ট্রেন চলছে শর্ষে খেত,
ট্রেন চলছে বালুর স্তূপ
দ্বিখণ্ডিত শিরিষের ডানা
প্রিয়তম নাম এডোনিস
প্রিয়তম নাম ওসিরিস।

 

ইকেবানা

১.
দূরে নির্জন পথ।
মহিষের ডাক
চার পাপড়ির ফুল
বৃহন্নলা এক।

২.
উত্তর ত্রিশে
মেদের ঝাড়
ম্যাজিক রিয়েলিজম
ডোনাল্ড ডাক।

৩.
অঞ্জন দত্ত বাড়ি ফিরছে
দোনলা বন্দুক
কাকে দেখছে?
তোমাকে না অঞ্জনদাকে?

৪.
মা কে পারবে বলতে,
তুমি পারবে
না আমি পারব?

৫.
রমনায় বৃক্ষ মেলা
গাছেরা সব কোথায় লুকালো?
বনসাই একা একা
ছাদের ঘরে।

 

বিষ

সেফটিফিন গেঁথে নেয় মসলিন পোশাক
পোশাকের নিচেই বাদামি আলো
ব্যথা নাই সন্ধ্যা
ফুটে আছে বেলি
পেয়ালায় মধু
ধুতুরা শাক।

 

 

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *