দুটি কবিতা

আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ

 

মেলার মুখ

ভিড়ের মধ্যে এক লাল ষাঁড় গুঁতো দিচ্ছে।
তার শিং থেকে পিতলের ঘণ্টি বনাঞ্চলের মাটি
গুড় গুড় করে ছড়িয়ে দিচ্ছে
বাসকলতা পোড়ো জমির বনসাই।
দূরে সরে যাচ্ছে না মানুষ। নরম কাধের মাংস ধরে
গলাতে মালা পরিয়ে দিচ্ছে ছোটো ছেলেমেয়েদের দল।
তাকে শহরের গরুর হাটে আনতেই শেষ বারের মতো
জমি ছেড়ে চলে যায় এক মায়াবী ফিঙ্গেল।
হাতে হারমোনিয়াম হারিয়ে যাওয়া মানুষের কাগজ
ঘোড়াগুলো ছুটছে আরবি ভাষার তালে।
কৃষকপুতুল প্লাস্টিকের বাঁশি একটা বাচ্চাকে দিতেই
হাম্বা হাম্বা রবে ছুটে আসলো গাভীমাতা।

 

গোলাপ ফুলের গেট

বিয়ে বাড়িতে ঢোকার জন্য লাইন ধরে আছি
গোলাপ ফুলের গেটে ঢুকে গেল পিতলের মাছি
সাথে আমার হাত ঘড়িটাও মিশছে পাপড়ি সিপালে।
পালকি চড়ে নতুন বউ আসছে—
মাথার পাগড়ি গলে যায় তার ঘুমন্ত চাউনিতে।
অবিবাহিত মেয়েদের মায়েরা তাকিয়ে আছে জামাইয়ের দিকে
তার ঘোড়া থেকে দিকবিজয়ের শ্বাস পড়ছে সাজানো খাবারে।
শীত এলো সূর্যপোড়া পৌর পাড়ায়
শীতের এই বুনোব্যবহার জামাই জানে!
সবাই যখন খাবার খেতে খেতে ফিরে যাবার কথা ভাবছে
নতুন বউয়ের শরীর থেকে পড়ে গেল ভিনদেশি নেকলেস ।

Facebook Comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।