নয়ন তালুকদারের ৪টি কবিতা


নারীর কাসুন্দি

নারীর কাসুন্দি ঘাটতে কার না ভালো লাগে
নারী তো ততোধিক মধুর মানব–
নারী দেহের চাতুর্য বা চাতুরীপনা অস্বীকার করতে করতে
ফকির লালন বড়ই একা হয়ে গিয়েছিলেন।
নাজিম হিকমতের ‘জেলখানার চিঠি’ যে নারীকে লিখিত
এমন কোটি নারীতে কাঁধেকাঁধ মিছিলে নামুক এ-বিশ্বের সকল পাড়ায়।

নমিতা আমাকে পাবলো নেরুদা হতে বলেছিলো
তাহলে কি আমি ভুল রাস্তায় হেঁটেছি কখনো?!

কবি খলিল হাটে হাটে ফেরি করেন প্রেমের অষুধ
পৌরুষ বাণিজ্য তো নতুন কিছুই নয়,
তবু কবি খলিল গলায় ক্রন্দন আটকে স্বপ্ন রোজগার করেন হাটে হাটে
তাঁর বিধবা মা খুশি হবেন
গরিব বউ আদরের হাতে রোজ তাঁর বেহালাটা মুছে দেবেন–
এই স্বপ্নটাকে কিছুতেই তিনি মুছে ফেলতে পারেন না।

হে কবির স্বপ্নগণ তোমরা মিঠা পানির মাছ হও
মহাকাশের ফেরারি বাতাসে উড়াল ডানার পাখি হও!

 

ডাকাত

কুলিটার কাঁধে টুপলা-টুপলির ভার দিয়ে
বুড়ি তার কুজো মাজাটা দাপিয়ে হাঁটতে হাঁটতে
নাতনিটাকে উস্কে দিচ্ছেনÑ হাঁট . . . হাঁট . . .
দাবড়ে দাবড়ে পা চালিয়ে হাঁটরে ছেড়ি . . .

তুই দেখছিস লা– কুলির বেটা কুলি এই মদ্দটাকে
আমারও ছিলো একদিন হেই গতরে ঢেউ তোলা এক নিরীহ
আমি যা কিছুই বায়না ধরতাম হেই মদ্দটা তা-ই শুনতো বটে–
কুলির বেটা কুলি এই মদ্দটারই মতন।

তুই কি জানিসরে ছেড়ি
একবার শ্রাবণে সারারাত দুজনে বৃষ্টির জলেতে ভিজেছি
বলিহারি হেই মদ্দটারও খামখেয়ালি
সেই ঝমঝম বৃষ্টির অন্ধকারেও মৈথুন বৈমুখ করে নি বটে!

আমাকে চটকে চটকেই য্যান বৃষ্টির তুফান নামিয়েছিলো উঠোন ভরে
আর তুই তো জানিসনেরে ছেড়ি
হেই আমার মিদ্দটা আস্ত একখান ডাকাতই ছিলো বটে!

 

রায়তি পুরুষ

আমাকে দীর্ণ করো হে কাল হে মহাকাল
ধর্ষণ আমিও করেছি নারীকে
এই সমাজ তো প্রলুব্ধ আমাকে দিয়েই
নির্মাণ করিয়ে নিয়েছে এক বিনির্মাণের মুদ্রিত রতিকাল।

আমি মুখে যতই নারী-দর্পী হই
তবু আমি হাতড়ে ফিরি নারী-দর্শী পৌরুষের ভিমরুল
রাতের বিছানায় কচ্ছপের মতো আমার খোলসের মুখ বার ক’রে
উন্মত্ত আমাকে প্রকাশ করি আমিও এক রায়তি পুরুষ।

আমাকে দীর্ণ করো হে কাল হে মহাকাল
আমি তো ফণীমনশার কাঁটার মতো গ্রহণ করেছি স্বৈরিতার উস্কানি
এই আমি একবারও নারী-জন্মকে তো তার জীবনের আলোয় খুলে দেখি নি
আর আমি তো কখনো দেখতেই চাই নি
কতোটা কষ্টে নারীর স্নিগ্ধচোখ ভিজে গেছে জলের তপ্ত আগুনে?!

 

পাথর ও নাড়ার কাল

কী পাথর ভাঙছো তুমি পাথর দিয়ে
পাথরটাকে সরিয়ে দেখো তোমার জীবন।

নলিন গুড়ের শীত এসেছে নাড়া কুড়োও
কেন তুমি নাড়া কুড়োও তা কি জানো?
শরীর থেকে নাড়াগুলো সরিয়ে তুমি সূর্য দেখো
কেন তুমি সূর্য দেখো তা কি জানো?

পাথর দিয়ে পাথর ভেঙে ক্ষুধা মেটাও
নাড়া কুড়িয়ে নাড়া পেতে রাত্রে ঘুমাও
পাথর এবং নাড়ায় তোমার আর কতো কাল
কাঁসরঘন্টা বাজিয়ে কাটবে কুহক জীবন?!

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *