শকুন্তলা চৌধুরী
অবলাকান্ত খাতা খুলিয়া লিখিলেন — “বাঙালী হইল রাজনীতি-প্রিয় জাতি। রাজনীতি লইয়া আলোচনা করিতে বাঙালী বড় ভালবাসে। আর ইহা কাহারই বা অনবগত যে, মানুষ যাহা করিতে ভালোবাসে তাহাতেই যে তাহার পারদর্শিতা থাকিবে এমন মাথার দিব্য কেহ তাহাকে দেয় নাই। অতএব পারদর্শিতা না থাকিলেও বহু বিষয় লইয়া বাঙালী প্রতিনিয়ত চর্চা করিয়া থাকে, এবং রাজনীতি তাহার মধ্যে প্রধান একটি বিষয়। প্রত্যহ দিবসে ও রাত্রে একাধিকবার রাজনীতি লইয়া চর্বিত চর্বণ না করিলে বাঙালীর উদরের অন্ন পূর্ণরূপে হজম হইয়া উঠে না, এবং ফলস্বরূপ জাতিগত আমাশয় রোগটি বাড়িয়া উঠে। অতএব স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করিয়া বাঙালী জাতিকে অহরহ রাজনীতি লইয়া আলোচনা করিতে দেওয়া হউক – ইহাই অধমের মত। কিন্তু আলোচনার বিষয়টিকে, অর্থাৎ বঙ্গদেশের রাজনীতিকে, কিঞ্চিৎ মর্যাদাপূর্ণ এবং ভার ও সার যুক্ত করা হউক – ইহা অধমের অনুরোধ। কেহ যদি ইহার কারণ জানিতে চাহেন, তাহা হইলে একটু খুলিয়া গোড়া হইতে বলিতে হয়।
‘রাজনীতি’ শব্দটির প্রকৃত অর্থ কি? এককথায় বলিতে গেলে, রাজনীতি হইল রাজ্যশাসনের নীতি। তাহার ভিতরে সাম, দাম, দণ্ড, ভেদ সকলকিছুই থাকে – কিন্তু পরিমাণে অথবা পরিমার্জনে কম-বেশী হইলে, ঘোরতর প্রলয় শুরু হইয়া যায়। কথা হইল এই যে, সেই পরিমিতি জ্ঞানটি চিরকালই বাঙালী জাতির মধ্যে অতি দুষ্প্রাপ্য। এবং পরিমার্জনা জ্ঞানটি এককালে থাকিলেও, অধুনা মনুষ্যের লাঙ্গুলের ন্যায় লুপ্তপ্রায় – চামড়ার তলায় হাত দিয়া প্রাগৈতিহাসিক বস্তুটির কঙ্কাল তথা হাড়টিকে অনুভব করা যায় মাত্র। অতএব, রাজনীতি চর্চার মাহেন্দ্রক্ষণ, তথা নির্বাচন, আসিল কি না আসিল – প্রলয় শুরু হইয়া যাইতে থাকে। প্রলয় না বলিয়া তাহাকে মহাপ্রলয় বলিলেই ভালো হয়। ইহা ছাড়াও বহুবিধ খণ্ডপ্রলয় সম্বৎসরই চলিতে থাকে। পাঁচটি বৎসর প্রলয় গণনা করিতে করিতেই চলিয়া যায়, নির্বাচনের পূর্বে দেওয়া নেতাগণের শপথগুলি পূর্ণ হইল কিনা তাহা আর কাহারও গণনা করিবার সময় থাকে না। বহুদিন হইল, বঙ্গদেশে রাজনীতি এইরূপেই চলিয়া আসিতেছে। তথাপি, বাঙালী জাতির রাজনীতি চর্চার উৎসাহে কোনো বাধা পড়িয়াছে বলিয়া মনে হইতেছিল না। কারণ, সারহীন ভারহীন গুজগুজানি-ফুসফুসানিতে বাঙালীর বড় উৎসাহ। কারণ, পথ হারাইতে বাঙালীর বড় উৎসাহ। কারণ, মর্যাদাহীন আত্মহননে বাঙালীর বড় উৎসাহ। অধুনা দেখিতেছি যে এই ‘প্রলয়’ বা ‘মহাপ্রলয়’টির চরিত্র পরিবর্তন হইয়া যাইতেছে। ইহার লক্ষণগুলি খুঁটাইয়া দেখিতে গিয়া অনুভব করিলাম যে, নামিতে নামিতে বাঙালী বহুদূর নামিয়া আসিয়াছে।
তৎসত্ত্বেও বাঙালী তো বাঙালীই – সাক্ষাৎ গুরুদেব রবীন্দ্রনাথের নাতির পুতির কুটুম্বগণ! অতএব
সগর্বে আপনাদিগকে সারা বিশ্বের সংস্কৃতির ধারক ও বাহক বলিয়া পরিচয় করাইতে তাহাদের বিন্দুমাত্র লজ্জা নাই। সত্যি কথা বলিতে কি, এই লজ্জা জিনিসটিও বঙ্গদেশে আরেকটি ‘লুপ্তপ্রায়’ বোধশক্তি – অঙ্গ হইলে বলিতাম, কতকটা এ্যাপেনডিক্সের মত। কাহারও কাহারও শরীরে ইহা মাঝে মাঝে বেদনা দেয় বটে, তবে অধিকাংশ লোকেই প্রতিনিয়ত ইহাকে ভুলিয়া থাকে। নিতান্ত বেদনা দিলে, তাহাকে ছেদন করিয়া ছুঁড়িয়া ফেলিতে বিজ্ঞজনেরা পরামর্শ দিযা থাকেন। আমি, এই অধম অবলাকান্ত, আজি অবধি সেই পরামর্শ গ্রহণ করিয়া উঠিতে পারি নাই। তাই আমার ‘এ্যাপেনডিক্স’টি অধুনা আমাকে বড় জ্বালাতন করিতেছে।
কেন জ্বালাতন করিতেছে, তাহা শুনিতে চাহেন? তবে বলি শুনুন।
বাল্যকালে শুনিতাম ‘রাজভবন’ একটি বিশেষ দর্শণীয় পিঠস্থান – তথায় সাংবিধানিক প্রধান রাজ্যপাল বাস করেন। শুনিতাম, তিনি রাজ্যে সর্ব্বোচ্চ সম্মানের অধিকারী। শুনিতাম, আজিকার গণতন্ত্রে মুখ্যমন্ত্রী রাজার সমান – তিনি সকলের মঙ্গলবিধান করেন। জানিতাম, ‘দুষ্টের দমন’ আর ‘শিষ্টের পালন’ রাজকর্তব্য। জানিতাম, রাজনৈতিক মতপার্থক্য আলোচনার বিষয় – মারামারির নহে। শুনিতাম, গণতন্ত্রে ‘রাজা’রও উপরে জনগণ – ‘রাজা’ ভুল করিলে, জনগণ প্রতিবাদ করিবে এবং নূতন ‘রাজা’ আনিবে। দেখিতাম, নির্বাচন আসিলে দিওয়াল-লিখন বাড়িয়া যাইত এবং সেইখানে রাজনৈতিক মতামতের আদানপ্রদান হইত।
বাঙালী আবেগের বন্যায় ভাসিতে ভাসিতে তর্ক করিতে ভালবাসে, তাই সদাসর্বদা যুক্তি দিয়া তর্ক করিতে পারেনা। বাঙালী কবিতা লিখিতে লিখিতে রাজনৈতিক চর্চা করিতে ভালবাসে, তাই সদাসর্বদা ক্ষুরধার রাজনীতি করিতে পারে না। অতএব সেই কাব্যিক লিখনগুলিতে যুক্তির ধার সর্বদা না থাকিলেও, বালখিল্যদের জীবনে তাহা প্রভূত কৌতুকের যোগান দিত। একদিন দেখিতাম একটি জন্তুর ‘চারটি শিং’-এর সঙ্গে মিল করিয়া জনতাকে অনুরোধ করা হইতেছে যে সেই দলটিকে ‘ভোট দিন’। পরেরদিন দেখিতাম যে অন্য আরেকটি দল কবিতাটিকে নকল করিয়া তৎপার্শ্বে দিওয়াল-লিখন লিখিয়া গিয়াছে – জন্তুর ‘চারটি শিং’-এর সঙ্গে মিল করিয়া জনতাকে অনুরোধ করা হইতেছে যে সেই দলটিকে ‘কবর দিন’। আমরা মাথা তুলিয়া নতুন নতুন লিখন দেখিবার অপেক্ষায় থাকিতাম – কিন্তু আমার ‘এ্যাপেনডিক্স’টি শান্ত থাকিত।
বাল্য হইতে কৈশোরে আসিতে আসিতে বাঙালীর জীবনে এক রাজনৈতিক ঝড় দেখিয়াছিলাম। সেই ঝড়ে বহুকিছু উলোটপালোট হইয়া গিয়াছিল, বাঙালী জীবনের শান্ত সুরটি ব্যাহত হইয়াছিল। অনেকের মতে, ঝড়টি ছিল ‘বহিরাগত’। সে বহিরাগতই হউক আর অন্তর্গতই হউক, বহুকিছু ধ্বংস করিবার ক্ষমতা লইয়া সে আসিয়াছিল। পাড়ার ভিতরে বা বড়-রাস্তায় হাঁটিতে হাঁটিতে দিওয়াল-লিখন দেখিতে যাইবার সাহস বা অনুমতি তখন আর পাওয়া যাইত না। চতুর্দিক ছাইয়া গিয়াছিল এক রক্তাক্ত কালো অন্ধকারে। দিওয়াল-লিখনগুলির জন্য যখন অপরিণত মনে কিঞ্চিৎ দুঃখ এবং অভাববোধ শুরু হইতে আরম্ভ করিয়াছিল, তখন ট্যাক্সি করিয়া মাসীর বাড়ি যাইবার সময় অকস্মাৎ একদিন চোখ পড়িয়া গেল একটি দিওয়ালে। কালো কালির বড় বড় অক্ষরে লিখিত লিখন পড়িলাম – ‘পুলিশ তুমি যতই মারো, মাইনে তোমার একশো বারো।’ বুঝিলাম – রাজনীতিতে সফল হউক বা না হউক, বাঙালীর রসবোধটুকু এখনো অক্ষুণ্ণ আছে। তাহার পরে আসিল ‘জরুরী অবস্থা’ এবং তাহারও পরে – রাজনৈতিক পটপরিবর্তন। এই অধম অবলাকান্ত, সদ্য যৌবনে পা দিয়া সেই নতুন রাজত্বে চেতনার উন্মোচন ঘটাইল। ‘এ্যাপেনডিক্স’টি তখনও পর্যন্ত শান্তই ছিল।
ইহার পর আসিল ব্যক্তিগত জীবনযুদ্ধ তথা টিকিয়া থাকিবার লড়াই। সেই যুদ্ধে ব্যতিব্যস্ত সরকারী আমলা, এই অধম অবলাকান্ত, আর দিওয়াল-লিখন পড়িবার সময় পাইত না – জীবনে কৌতুকরসেরও স্থান বিশেষ রাখিতে পারে নাই। এই প্রকারে পার হইয়া গেল কয়টি দশক। অবসর লইয়া, পৈত্রিক বাড়িটিতে গুছাইয়া বসিয়া, এই অধম পুনরায় চতুর্দিকে চোখ তুলিয়া দেখিবার অবসর পাইল। যাহা দেখিল, তাহাতে তাহার কৌতুকরস তো ফিরিয়া আসিলই না – উপরন্তু ‘এ্যাপেনডিক্স’টি নড়িয়া চড়িয়া বসিতে শুরু করিল।
গত শতকের বাঙালীর রাজনীতি ছিল নিরামিষাশী নিরীহ বাকসর্বস্ব রাজনীতি। কবে, কাহার ‘যাদুকাঠি’র ছোঁওয়াতে, তাহা হিংস্র ভয়ের রাজনীতি হইয়া গেল? মাংস-বিরিয়ানির গন্ধে মৎস্যভূক বাঙালীর শুধু ঘর ভরিয়া গেল না, তাহার লেখনীও বন্ধ হইয়া গেল – কৌতুকী কলমের স্থান লইল বিষাক্ত ধোঁওয়া-উগরানো আগ্নেয়াস্ত্র, যাহার নিশানা ঘর-বাহির চতুর্দিক। আমাদিগের সেই কৈশোরকালের রক্তাক্ত ঝড়ের সহিত ইহার অনেক পার্থক্য দেখিলাম। তাহা ছিল ক্ষণিকের ঝড় – তাই থামিবার আশা এবং অপেক্ষা ছিল। অধুনা যা হইতেছে তাহা হইয়াছে প্রত্যহের দিনপঞ্জী – থামিবার আশা বা অপেক্ষা কাহারও আছে বলিয়া বোধ হয় না। তখন দেখিয়াছিলাম রাজ্যের শাসনব্যবস্থা ঝড় থামাইতে কঠোরহস্ত। অধুনা দেখিতেছি ঝড় বাড়াইয়া তোলাই রাজকর্তব্য হইয়া দাঁড়াইয়াছে – অতএব শাসনব্যবস্থার উপরে আর কাহারো আস্থা নাই। অন্যায়ের প্রতিবাদ করা অথবা কৌতুকময় সহাবস্থানের পথ ধরিয়া চলা ইদানীং তামাদি হইয়া গিয়াছে। …
ইহা কবে হইল, আর কি করিয়াই বা হইল? রাজনীতি চর্চার, তথা সারা বঙ্গদেশের, এই চরিত্রান্তর কবে ঘটিল? অধুনা নির্বাচনের প্রাক্কালে দিওয়ালে আর কৌতুকময় ছড়া দেখিতে পাওয়া যায় না। বাঙালী আর বাংলা পড়ে না – তাহারা ইংরাজি ভাষায় দিগগজ হইতেছে, সঙ্গে ক্কচিৎ কখনো রাষ্ট্রভাষা। ছেলেপুলেরা আর রাজনৈতিক কৌতুক খুঁজে না – তাহারা আঠারো বৎসর হইলেই এই প্রদেশ হইতে পালাইবার পথ খুঁজে, সে যেখানেই হউক না কেন। যাহারা এই প্রদেশে পড়িয়া থাকে, তাহারা হয় উচ্চ বেতনের পেশাটি সামলাইতে ব্যস্ত নতুবা রাজনৈতিক ঝড় তুলিয়া জল ঘোলা করিতে ব্যস্ত। আর বাকী রহিল এই অধমের ন্যায় পৈত্রিক বাড়ীতে আটক বৃদ্ধ-বৃদ্ধার দল, যাহারা নির্বাচনের প্রাক্কালে মৃদুস্বরে অর্থহীন রাজনৈতিক চর্চা করিতেছে আর সূর্যাস্তের প্রহর গুণিতেছে। সুতরাং বাঙালীর গৃহের ধূলা ঝাড়িতে, অন্ধকার দূর করিতে, বাতি জ্বালাইতে আজ আর কেহ নাই। বাঙালী সংস্কৃতির জয়ধ্বজা উড়াইতে আজ আর কেহ নাই। পরবর্তী প্রজন্মকে দিবার মত বাঙালীর আজ আর কিছুই নাই – রাজনীতি চর্চার মত জাতিগত ‘গুণ’টিও না। এই অবলাকান্তের ঘটে অতো বুদ্ধি নাই যে সে ইহার কারণ বুঝে – তাই সে তাহার ‘এ্যাপেনডিক্স’টি লইয়া বড়ই বিব্রত হইয়া পড়িয়াছে। আপনাদিগের কারণ জানা থাকিলে অনুগ্রহ করিয়া জানাইবেন, যদি তাহাতে ‘এ্যাপেনডিক্স’টি একটু শান্ত হয়। এক্ষণে অবলাকান্ত চক্ষু মেলিয়া দেখিতেছে, কেবল দেখিতেছে।
জানিতে চাহেন যে অবলাকান্ত চক্ষু মেলিয়া চারিদিকে কি দেখিতে পাইতেছে?
সে দেখিতেছে যে বঙ্গদেশে সকল চিত্ত আজি ভয়পূর্ণ।
সে দেখিতেছে যে বঙ্গদেশে সকল গৃহ আজি যুবাশূণ্য।
সে দেখিতেছে যে বঙ্গদেশে সকল মনুষ্য আজি সংস্কৃতিশূণ্য।
সে দেখিতেছে যে বঙ্গদেশে রাজনীতি আজি নীতিশূণ্য।
সে দেখিতেছে যে বঙ্গদেশে জনতা আজি শক্তিশূণ্য।
এই শতক নাকি নতুন উদ্ভাবনী শক্তির শতক – ‘কৃত্রিম বুদ্ধি’র শতক! বাঙালী কি তাহার সহিত পা মিলাইয়া চলিতেছে? নাকি, বৃদ্ধাবাস-অধ্যুষিত প্রগতিবিহীন এই জঙ্গল-প্রদেশ আজি পিছনে হাঁটিতেছে? আর বাঙালী কবি হাহাকার করিয়া বলিতেছে – ‘দাও ফিরে সে সভ্যতা, লও ফিরে এ অরণ্য’? বাঙালী বুদ্ধিজীবি, বলিয়া দিন – কোথায় চলিয়াছি আমরা?”
এই বলিয়া অবলাকান্ত কলম রাখিয়া, খাতা বন্ধ করিয়া, উন্মুক্ত হাওয়ায় হাঁটিতে বাহির হইয়া গেলেন।
শকুন্তলা চৌধুরী

জন্ম কলকাতায়; বি. ই. কলেজ ক্যাম্পাসে বেড়ে ওঠা। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়েরকলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী, তথ্যবিজ্ঞানে পিএইচডি এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের বাসিন্দা। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পত্রিকায় সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি তাঁর কবিতা সুরারোপিত হয়েছে শ্রীকান্ত আচার্য, নচিকেতা ও রূপঙ্করের মতো জনপ্রিয় শিল্পীদের কণ্ঠে। ভারত, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের একাধিক জনপ্রিয় পত্রিকায় (যেমন: সানন্দা, পরবাস, সেতু, ইরাবতী ইত্যাদি) তাঁর সাহিত্যকর্ম প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর কবিতাকে গানের ভিডিও হিসেবে পরিবেশন করেছেন শ্রীকান্ত আচার্য, নচিকেতা চক্রবর্তী, রূপঙ্কর বাগচী এবং ‘কায়া’ ব্যান্ড।
প্রকাশিত বইসমূহ: যাদব-কন্যা (২০২২), অহল্যার চিঠি (২০২৩) এবং লক্ষ্মণরেখা (২০২৬):
