মনিকা আহমেদের পাঁচটি কবিতা

উর্বী

অবিরল উল্টো পথে হাঁটি…
কপর্দক শূন্য যে-
লক্ষ হাতের হাত ছানি ছেড়ে, তারই হাত ধরি
হৃদয়ে আছে যার, আকাশ ও মাটি;
আমি উল্টো পথেই হাঁটি…

 

জলের প্রচ্ছদ

জলের উপর ভেসে থাকে বৃক্ষের শরীর
জলের ভাষা বৃক্ষ বোঝে না
এলিয়ে শরীর চেয়ে থাকে
তুমি থাকো জল হয়ে
জলের ওপরে চোখ খুলে;
সময়ের জলে ভিজে ভিজে
জল ও বৃক্ষ প্রচ্ছদ আঁকে।

 

রাত ভর

অনশন ভেঙে কবিতায় বসবাস সারারাত
তারা খুব কুয়াশা পান করে;
রাত জাগা পাখির ডাকে শব্দাংশ ভাঙে।
খুঁড়ে ফুঁড়ে ফের কুয়াশা পান করে, গলায় টুং টাং শব্দ
তখন মগজে চলে পেরেক ঠোকাঠুকি

দূর বনের জামা পড়া পাখিটির নাম কাকাতুয়া ডাকি
তাকে দেখেই বাগানে রোজ রোজ টিয়ের উঁকিঝুঁকি
জলের বিছানায় শুয়ে বহু দূর— বহু দূর ছুটি
মগজে তখনো চলে পেরেক ঠোকাঠুকি—

জলের বিছানায় এপাশ ওপাশ শুয়ে
রাতভর হারানো শব্দাংশ খুঁজি…

 

রাত্রির গান

যে রাত্রি জড়িয়ে ধরে পা
তাকে আর রাত্রি বলি না
যে গহন অন্ধকার ভালোবাসে
সে সবচেয়ে কাছে থাকে
তাকে ভেঙে-চুরে ক্ষান্ত অবশেষে…

যে আমায় দেখেও দেখে না
সেই-ই টানে—
সে-ই সবচেয়ে ভাল জানে;
তার সাথে হয় আমার পরিচয়
দিন রাত্রি পারাবার—
সে আলোকিত অধ্যায়।

তার সাথে বাঁধি সুর, প্রকৃতির স্বরে
সে বোধ ও বোধনে টানে
রাত্রির অন্ধকারে, জড়িয়ে ধরে প্রাণে।

 

ঘুম নামে মন্ত্রে

জেগে আছে গাঢ় রাত আর পাণ্ডুর ফটোগ্রাফ
নির্ঘুম চোখ; ধোঁয়াটে মেঘ
অনেক শোকে কমেছে আবেগ।

নতজানু ভালোবাসা
ভিজে কুয়াশা
ক্রমশ ঘুম নামে মন্ত্রে…
ভেসে যায় সুখ
এঁকে যাই মুখ;
চন্দ্রে…

 

মনিকা আহমেদ

জন্ম, খুলনায়। শেকড়, চট্টগ্রামে। বড় হওয়া, ঢাকায়। বই ও সাহিত্যের প্রতিটি শাখা তার প্রিয়। ভালো লাগে মানুষ ও প্রকৃতি । জীবন দর্শন: গৌতম বুদ্ধ। কাছের, দূরের মানুষকে শুদ্ধ সৃজনশীলতা, সুন্দরের হাত ধরে মননশীল চর্চায় অনুপ্রাণিত করার দায়িত্বশীলতাই তার কর্ম দর্শন । আজন্ম ভালোবাসা, কবিতার সাথে।

Facebook Comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।