শামসেত তাবরেজী: অ-কবিতা ও মধুপুরে সাহেব-বাংগালির মৌতাত দেখে

আমি এ ভিলায় থাকব না, ভূতে কিলাচ্ছে
নব নব সৌকর্য দেখায়ে— পুনরায় টানছে প্রাচীনে।
দরোজা নি-খিল, পর্দা গেছে উড়ে গতকাল,
এসেছে গর্ভিণী বেরাল সে চায় না সন্তান আর,
মনুষ্য-স্বভাব বর্তনের- বিবর্তনের চিহ্ন-চাতুরী,
খাট থেকে মেজেটা মাথায় তোলে
আর ছাদ কপিশ রাত্রির মতো বিছায় দেহের নীচে,
জানালায় চন্দ্রগ্রস্ত উট—
বুকে ঝুলে আছে পাতাপৃষ্ঠাহীন বই—
একটি সবাক ব্যাং ঠ্যাং তুলে তা ধিন তা ধিন
কৌশলী বাঁক ও বিধান পেড়িয়ে ভোর-ভোর টিভি-উজ্জ্বল।
না, আমি থাকব না এ ভিলায়— এ মরণচাঁদ মিষ্টান্ন-ভাণ্ডারে।
দাও, ফেলে দাও যত দুধ আছে গেলে,
তোমাদের যা-কিছু খুশি ইচ্ছা করো জাতীয় সমাজ,
আমি যাব অন্য কোথাও, যেথা তুমি কর না বিরাজ!

তল্লা আর বৌড়া বাঁশ একটু ফাঁক
রেখেছিল নিগম—পথ সুবিধায়
আমিও কিন্তু হয়েছিলাম হতবাক
পরষ্পর ওরাও প্রেম করছিল
নির্দ্বিধায়
পীত সবুজ ভীত ঋতুর
সম্মিলন
আমি তবে কে ওদের বিপথিক?
রাস্তা পার হবার অছিলায় মরণ?
তল্লা আর বৌড়া বাঁশ
বলল: ঠিক,
জেগে ওঠার লোভে তুমি
বিস্মরণ!

হয়ত একদিন এ ভাবে মালার্মে
মনোযোগ হারিয়ে ছিলেন,
কিন্তু কবিতা যেহেতু অশরীরী
কিছুক্ষণ হাঁটলেন, ঘুরলেন মঁপারনাস—
গলি, তস্যগলি আর সবকটি লেন
বাতাসও বইছিল পারি-তে ঝিরিঝিরি,
যেহেতু অপছন্দ তাঁর অতি-ভাষ,
তাই ঘড়িটা রাখলেন জরুরি এলার্মে।

হয়ত একদিন আমাদের বন্দে আলি মিয়া
গাঁয়ের নদীর পাড়ে কিছুক্ষণ বসে
কান্নার মুক্তাগুলি ঘাসে ফেলে রেখে
বাড়ি ফিরলেন কিছুই হয় নি এই মতো,
বসলেন উপন্যাস লিখতে সময়ের দোষে
তাতেও কি শুকালো হৃদয়ের ক্ষত?
বরং ঘিনঘিন মাছি এসে বসল জেঁকে,
চোখের সামনে দিয়ে আগের মতই চলে গেল চটুল মতিয়া!

 

শামসেত তাবরেজী এর দশটি কবিতা - জলফড়িং

জন্ম ৫ এপ্রিল ১৯৬১, ঢাকা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। ফ্রিল্যান্স কনসালট্যান্ট, প্রোজেক্ট ট্রানস্লেশিয়া। প্রকাশিত কবিতার বই : ১. উদবাস্তু চিরকুট ২. আবাগাবা ৩. আম্রকাননে মাভৈ কলের গান ৪. অবিরাম অরেঞ্জ ৫. তক্তা ৬. হে অনেক ভাতের হোটেল ৭. দুজনেষু ৮. অশ্রু মোবারক ৯. রওজার দিকে

মাও জে দং (মাওসেতুঙ), রাসুল ঝা প্রমুখের কয়েকটি কবিতা তর্জমা করেছিলেন।

ই-মেইল : [email protected]

 

Facebook Comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।