ভাষার বন্ধন, কবিতা ও কাঁটাতার: খসরু পারভেজ

১.
কবিতার কী অমোঘ শক্তি! সকল বাধা, কাঁটাতার পেরিয়ে কবিতার কী অপ্রতিরোধ‍্য অগ্রযাত্রা! এই সীমাহীন অগ্রযাত্রার আলোকবাহন আমাদের বাংলা ভাষা। আমাদের ভাষার অশেষ ঐশ্বর্যকে ধারণ করে বাংলা কবিতা অন‍্যান‍্য বিশ্বভাষার আধিপত‍্যের মধ‍্যেও আজ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।

পৃথিবীর অন‍্যতম সমৃদ্ধ ভাষা বাংলা ভাষা। এই ভাষার সম্মান অক্ষুণ্ন রাখতে জীবন দিয়েছে, রক্ত দিয়েছে আমাদের ভাইয়েরা, বোনেরা। বাংলা ও আসাম মিলিয়ে বাংলা ভাষার জন‍্য আত্মবলিদানের দৃষ্টান্ত আমাদেরকে গর্বিত করে। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি উর্দুকে চাপিয়ে দিয়ে আমাদের মুখের ভাষা, বাংলা ভাষা কেড়ে নেওয়ার প্রতিবাদে বাংলার অকুতোভয় সন্তানদের রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল ঢাকার রাজপথ। তেমনি আসামে সংখ‍্যা গরিষ্ঠদের ভাষা, বাংলা ভাষাকে উপেক্ষা করে অসমিয়া ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রতিবাদে শিলচর, কাছাড়, হাইলাকান্দি, করিমগঞ্জ জুড়ে সত‍্যাগ্রহ আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল। সেই আন্দোলনকে দমন করতে পুলিশের গুলিতে ১৯৬১ সালের ১৯ মে প্রতিবাদীদের বুকের রক্তে লাল হয়েছিল আসামের শিলচর। ভাষার দাবিতে বাংলার শহিদের পাশাপাশি, বারাক উপত‍্যকার এগারোজন ভাষাশহিদের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা।

শুধু বাংলা, আসাম নয়, ঝাড়খণ্ড, বিহার, ছত্রিশগড়, কর্নাটক, দিল্লীতেও বাংলা ভাষা ব‍্যবহার ও প্রতিষ্ঠার দাবিতে বিভিন্ন সংগঠনের তৎপরতার কথা এখনও কানে আসে। আর ভারতের মানভূমে বাংলা ভাষা আন্দোলন তো পৃথিবীর ইতিহাসে ঘটে যাওয়া দীর্ঘতম ভাষা আন্দোলন! যা শুরু হয়েছিল ১৯১২ সালে। আর ১৯৫৬ সালে বিহার থেকে আলাদা করে পুরুলিয়াকে পশ্চিমবঙ্গের জেলা করার মধ‍্য দিয়ে সে আন্দোলনের
সাফল‍্য ও সমাপ্তি।

ভাষাই একটি জাতির আত্মপরিচয়ের আয়না। বাংলার কবি, বাঙালির কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত বলেছিলেন,”আমরা যখন বিশ্বের সাথে কথা বলব, তখন যেন আমাদের মাতৃভাষাতেই বলি।” বিশ্বের সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সাহস আমাদেরকে প্রথম যুগিয়েছে এই ‘আমরি বাংলা ভাষা।’

আমরা বাঙালি, যেখানেই থাকি না কেন, আমাদের বুকের ভেতর লালন করা মায়ের ভাষা-বাংলা ভাষা কখনও হারিয়ে যেতে পারে না। জোর দিয়ে বলছি ঠিকই। কিন্তু কলকাতায় বা অন‍্যান‍্য এলাকায় যখন বাংলা ভাষা রক্ষার দাবিতে পোস্টার সাঁটতে দেখি, লিফলেট ছুঁড়তে দেখি, আলোচনা, আন্দোলন করতে দেখি, তখন শঙ্কা হয় এখান থেকে বাংলা ভাষা কি সত‍্যিই হারিয়ে যাবার পথে! বাংলা ও বাংলা ভাষা রক্ষার দাবিতে আন্দোলনরত এমনি কয়েকটি সংগঠনের নাম আমি জানি, যেমন ‘বাংলা ও বাংলা ভাষা রক্ষা কমিটি’ ; ‘আমরা বাঙালী ও বাঙলা পক্ষ’ ; ‘কলকাতার ভাষা ও চেতনা সমিতি’। কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ায়ের নেতৃত্বে ‘ভাষা শহিদ স্মারক সমিতি’ কর্তৃক বাংলা ভাষা রক্ষার জন‍্য বিভিন্ন দাবি ও পদক্ষেপের কথাও একসময় যথেষ্ট আলোচিত হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গে সরকারী দপ্তরে বাংলা ভাষার ব‍্যবহারের রীতি তাঁর উদ‍্যোগেই সম্ভব হয়েছিল।

পশ্চিমবঙ্গে হিন্দির আগ্রাসনে বাংলা ভাষা কোণঠাসা হয়ে আছে। যারা বাঙালি, বাংলা জানেন, তাঁরাও হিন্দি বলতে গর্ব বোধ করেন। রুটির দোকানের কাজের ছেলেটিও ক্রেতার সাথে হিন্দিতে কথা বলে শান্তি পায়। খোঁজ নিলে জানা যাবে, তার বাবা,নতুবা সে হয়তো কয়েক বছর আগে বাংলাদেশের কোনো জেলা থেকে এখানে এসেছে। কত দুঃখজনক! একটু স্বস্তি পাই, যখন দেখি কলকতার কলেজ স্ট্রিটের বইপাড়ায় প্রতিনিয়ত বাংলা বই প্রকাশিত হচ্ছে। বাংলা বই কেনার জন‍্য কোনো কোনো বইয়ের দোকানে ক্রেতাদের দীর্ঘ অপেক্ষা, প্রচুর ভিড় দেখে মনে আশা জাগে, বাংলা ভাষা এখান থেকে সহজে হারিয়ে যাবার নয়।

ভাষা নিয়ে রাজনীতি হয়। আমাদের ভাষাও রাজনীতির শিকার। এই যে, ভারতে বাংলা ও বাংলা বাঁচাও আন্দোলন, সেখানেও রয়েছে রাজনীতি। সমস‍্যা যেখানে প্রকট, সেখানে রাজনীতি এসে আসন গাড়ে ফয়দা লুটতে। ধর্ম এসে যোগায় মন্দ হাওয়া।

বলতে এসেছি কবিতার কথা, অথচ ভাষার কথা বলতে বলতে মনে হয় আমার বলাটা একটু দীর্ঘ হতে চলেছে। বলছি এজন্য যে, ভাষা যখন বিপদগ্রস্ত হয় তখন কবিদের দায়িত্ব বেড়ে যায়। কবিরাই ভাষাকে বাঁচিয়ে রাখেন। বাংলা ভাষার উন্নয়ন, টিকে থাকা তো বাংলা কবিতার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

আমি গর্বিত বাংলা ভাষায় লিখি বলে।

 

২.
কবিতা প্রাচীন শিল্প। কবিতাই একটি ভাষাকে টিকিয়ে রাখে। কিন্তু কবিতার কথা উঠলেই প্রথমে যে বিষয়টি সামনে আসে, তা হল পাঠকের সাথে কবিতার দূরত্বের কথা। কেন এই দূরত্ব? আমাদেরকে বারবার এই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। আধুনিক কবিতা দুর্বোধ‍্য, আর এই দুর্বোধ‍্যতার জন‍্য কবিতার পাঠক কম। অভিযোগ আজকের নয়, শতাব্দী কালের।

লেখকের সাথে পাঠকের গভীর সম্পর্ক থাকাটা স্বাভাবিক। কিন্তু সব লেখাই পাঠকবান্ধব হতে হবে, এমন কোনো কি দিব‍্যি আছে! আমি এ বিষয়ে আমার চিন্তা-ভাবনার কথা বলব। তার আগে একটা বিষয়ের উল্লেখ করতে চাই, কবিতার পাঠক কম হলেও কবিতা উপেক্ষিত, এমন কথা বলা যাবে না। কেননা, সাহিত‍্যের অন‍্যান‍্য বিষয়ের চাইতে কবিতা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা বেশি। এর কারণ সাহিত‍্যের সব শাখার মধ‍্যে একমাত্র কবিতাই লেখকের মৌলিক সৃষ্টি। আর একটি কারণ, যেটা আগেই বলেছি, কবিতাই ভাষাকে বাঁচিয়ে রাখে।

প্রাচীনকালে কবিতা বলা হত মুখে মুখে, কখনও উৎকীর্ণ করা হত তাঁদের বোধগম‍্য ভাষা বা সংকেতে গাছের বাকলে, পাথরের বুকে। তখন কবিতার কাজটি করতেন ব্রাত‍্যজনেরা। আজ যখন কবিতা ছাপা হচ্ছে মসৃণ কাগজে, মুদ্রিত হচ্ছে উন্নত ছাপাখানায়। তখন কাজটি করছেন শিক্ষিত জনেরা। আমি স্বশিক্ষার কথাই বলছি, সার্টিফিকেট অর্জনের শিক্ষার কথা নয়। কালে কালে কবিতার আঙ্গিক পাল্টিয়েছে, ভাষা বদল হয়েছে। পাল্টিয়েছে গতি-প্রকৃতি। সেই সঙ্গে বেড়েছে পাঠকের সাথে কবিতার দূরত্ব।

আধুনিক বাংলা কবিতার পথপ্রদর্শক মাইকেল মধুসূদন দত্ত। তাঁর হাতেই বাংলা কবিতা পুরনো খোলস ছেড়ে আধুনিকতার পোষাক পরেছে। মধুসূদন ইউরোপ থেকে দুহাত ভরে এনেছেন। আর অমূল‍্য রত্নে সাজিয়ে দিয়ে গেছেন আমাদের ভাষা-সাহিত‍্যের ভাণ্ডারকে। তাঁর আগে কবিতা ছিল মূলত গীতিকবিতা। মধুসূদন গান থেকে কবিতাকে মুক্ত করলেন। বোধ করি, তখন থেকেই কবিতা পাঠকের কাছে দুর্বোধ‍্য হয়ে উঠেছে। মধুসূদন ক্লাসিক কবি। তাঁর কবিতার জন‍্য প্রয়োজন শিক্ষিত-দীক্ষিত পাঠকের। যেটা সবসময়ই খুব বেশি আমাদের পাওয়া হয়ে ওঠে না। মধুসূদন পরবর্তী বিহারীলাল চক্রবর্তী ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম,জসীম উদদীন প্রমুখ গীতিধর্মীতায় নিজেদেরকে সমর্পণ করলেন। পুরোপুরি না হলেও পাঠক কবিতার কাছে ফিরে এলেন। রবীন্দ্রনাথ পরবর্তী ত্রিশের কবিরা কবিতাকে করে তুললেন দূরাশ্রয়ী। তাঁদের কবিতার ভাব-ভাষা সম্পূর্ণ ইউরোপীয়। সেই সময়ের একমাত্র জীবন ও প্রকৃতিনির্ভর কবি জীবনানন্দ দাশের কবিতাও সাধারণ পাঠকের কাছে সমাদৃত হয়নি। প্রশ্ন জাগে, কবিতা কি সবাইকে বুঝতে হবে? কবিতা কি সবার জন‍্য? যদি না হয়, তাহলে কবিতা মানুষের জন‍্য, একথা আমরা বলি কেন? আমি বলি, হ‍্যাঁ কবিতা মানুষের জন‍্য, আমরা মানুষকে নিয়েই কবিতা লিখি, কিন্তু সেই মানুষেরা কবিতা বুঝবেন, এমনটি প্রত‍্যাশা করা অনুচিত। কেননা, কবিতা যদি শিল্প হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ কি শিল্প বুঝবে? শিল্প কি সহজবোধ‍্য? নিশ্চয়ই নয়! একজন কবি প্রকৃতপক্ষে একজন শিল্পী। তিনি তাঁর চিন্তা-চেতনা, অভিজ্ঞতা, আবেগ,কল্পনাকে শিল্পীত ভাষায় উপস্থাপন করেন। শিল্প সমৃদ্ধ কবিতা বুঝতে হলে পাঠককে দীক্ষিত হতে হবে।

আমরা শিল্পের কথা বলছি। এই শিল্প নিয়েও বিতর্ক আছে। প্লেটো বলেছেন, “শিল্প হচ্ছে ইমিটেশন, নকল। একারণে তা সত‍্য থেকে অনেক দূরে।” শিল্প যদি নকল হয়, তাহলে তা তো মিথ‍্যা! আর মিথ‍্যা বেশিদিন টেকে না। এরিস্টটল তাঁর গুরু প্লেটোর কথা মানতে পারেননি। তিনি বলেছেন, “শিল্প ইমিটেশন, কিছুটা সত‍্য, কিন্তু তা সত‍্য, অধিকতর জীবন্ত।” অন‍্যদিকে ফ্রান্সিস বেকন বলেছেন, ”কবিতা হচ্ছে শয়তানের মদ।” এত সব নেতিবাচক মন্তব্যের পরেও কবিতা শিল্পের বিচারে বিচার্য। কবিতায় লুকিয়ে থাকে বিচিত্র রহস‍্য। শিল্পীত ভাষায় সেই রহস‍্য প্রকাশ করেন কবি।

প্রশ্ন জাগে, কবিতায় কি লেখেন কবি? বাংলা কবিতার রাজপুত্র জীবনানন্দ দাশ তাঁর কবি-জীবনের প্রথম দিকে বলেছিলেন:

কেউ যাহা জানে নাই
কোন এক বাণী
আমি বয়ে আনি।

অসাধারণ কথা! সাধারণের বোধগম‍্যের বাইরে কবির চেতনা বিস্তৃত। সাধারণ মানুষ যা দেখে, একজন কবি তাঁর চাইতে বেশি দেখেন, অর্থাৎ অন্তর চক্ষু তাঁকে স্রষ্টা করে তোলে। দেখার মধ‍্যে অদেখার অবলোকন, উৎসের মধ‍্যে উৎসরণের সম্ভাবনা প্রত‍্যক্ষ করাই কবির কাজ। একজন কবি অনন্ত সময়কে হৃদয়ে ধারণ করেন। জীবন ও সময়ের সব সৌন্দর্য হাতড়ে বেড়ান জীবনের মধ‍্যে, প্রকৃতির মধ‍্যে। আর এই দেখার ভিন্ন চোখ, সৌন্দর্য বোধের প্রকাশ সহজ নয়, জটিল। আর জীবনটাই তো জটিল!

কবিতায় দুর্বোধ‍্যতা নিয়ে একটা ঘটনা আছে। রবার্ট ব্রাউনিং দুর্বোধ‍্য কবি হিসেবে তাঁর সময়ে খ‍্যাতিমান ছিলেন। সেসময় তাঁর কবিতা শিক্ষা কার্যক্রমে সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত ছিল। একদিন একজন ছাত্র ব্রাউনিং-এর কবিতা বুঝতে পা পেরে সরাসরি চলে আসেন কবির কাছে। ব্রাউনিং কবিতাটি তিনবার পড়লেন, কিন্তু কবিতার অর্থ উদ্ধার করতে পারলেন না। কিছুক্ষণ চুপ থেকে তারপর বললেন,” কবিতাটি যখন লিখি, তখন মাত্র দুজন এর অর্থ জানতেন; একজন আমি, অন‍্যজন ঈশ্বর। আর এখন মাত্র একজনই জানেন, তিনি ঈশ্বর। ”
ব্রাউনিং এর এই মন্তব্যে পাঠকের খুশি হওয়ার কথা নয়। তবে কবির এই উক্তি আমাদেরকে জানান দেয়, কবিতার অর্থ খুঁজতে যাওয়া নিরর্থক। কবিতা এমনই অনির্বচনীয়।

কবিতার এই বুঝাবুঝি সম্পর্কে স্পষ্ট করে বলেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি বলেছেন, ” কবিতা শুনিয়া যখন কেউ বলেন- বুঝিলাম না, তখন ভীষণ মুশকিলে পড়িতে হয়। কেউ যদি ফুলের গন্ধ শুকিয়া বলেন-কিছু বুঝিলাম না। তাহাকে এই কথা বলিতে হয়-ইহা বুঝিবার কিছু নাই, এ যে কেবল গন্ধ।”

সত‍্যিই তো, কবিতার লাইন ধরে ধরে ব‍্যাখ‍্যা করা কঠিন। একটি কবিতা পাঠ করলে এক ধরনের মুগ্ধতা, এক ধরনের ভালো লাগা যদি পাঠককে আবিষ্ট করে তবে সেটাই সার্থক কবিতা। সমগ্র কবিতা পাঠ করে পাঠকের চেতনায় একটা অর্থ দাঁড়িয়ে যায়। তা হোক না কেন,ভাসা ভাসা অস্পষ্ট। পাঠক যদি আনন্দ পান, আলোড়িত হন, তাই-ই প্রকৃত কবিতা।
তবে একটা কথা আছে,কেউ যদি অসংলগ্ন বক্তব‍্য ভাষার ভুল ব‍্যবহারে কবিতা লেখেন তবে তা নিশ্চয়ই কবিতা নয়।

ইদানীং কবিরাও অন‍্য কবির কবিতা বোঝেন না ; এমন একটি কথা প্রচলিত আছে। আবার এটাও শোনা যায়,একমাত্র কবিরাই তাঁর কবিতার পাঠক।

রবার্ট গ্রেভস একবার বলেছিলেন, ” আমি কবিদের জন‍্যই কবিতা লিখি এবং ছন্দ রচনা বা হাস‍্যোদ্দীপক কাহিনি লিখে থাকি বুদ্ধিজীবীদের জন‍্য। আর সাধারণ মানুষের জন‍্য আমি যা লিখি, তা হলো গদ‍্য।” কেউ কেউ গ্রেভস-এর মন্তব্যে অহংকারের গন্ধ খুঁজে পেতে পারেন। তবে তিনি খুব একটা ভুল বলেননি।

পাঠকের এই পাঠবিমুখতায় কবিতা লিখে কি হবে! এ চিন্তাও কখনও কবিকে আক্রান্ত করে। কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় একবার আক্ষেপ করে বলেছিলেন:

কী হবে জীবনে লিখে! এই কাব‍্য, এই হাতছানি
এই মনোরম মগ্ন দীঘি
ফাঁস থেকে ছাড়া পেয়ে এই মৃত‍্যুময় বেঁচে থাকা?

কেউ কবিতা পড়ুক, না পড়ুক, এমনকি কবিরাও; তারপরও কবিতা লেখা হয়। মৃত্যুময় বেঁচে থাকাটা যোদ্ধার ব্রত হয়ে ওঠে।

যে কথা একটু আগে বলছিলাম, কবিতায় যদি এক ধরনের ভালো লাগা বা মুগ্ধতা যদি পাঠককে নাড়া দেয়, তাহলে সেটাই প্রকৃত কবিতা। কিন্তু এখনকার কবিতা সেখানেও ব‍্যর্থ। প্রচুর কবিতা লেখা হচ্ছে। মনে দাগ কাটার মতো কবিতার সংখ‍্যা কম। এটা বাংলা কবিতার বড় সংকট। হতে পারে তত্ত্ব ও প্রকরণের দিকে কবিদের বেশি ঝুঁকে পড়া এটির অন‍্যতম কারণ।

কবিতার ভাষা বদলাবে, আঙ্গিক বদলাবে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু পরীক্ষা-নীরিক্ষার নামে উদ্ভট শব্দ ও প্রকরণে কবিতা লিখলে তা কবিদের কাছেও বিরক্তিকর মনে হতে পারে।

বাংলা কবিতার তিনটি ছন্দ আছে। অক্ষরবৃত্ত, স্বরবৃত্ত এবং মাত্রাবৃত্ত। কিন্তু আমি আর একটি ছন্দের কথা প্রায়শই বলি, সেটা হল হৃদছন্দ। যেটি ছন্দ ও অলংকারের বই খুঁজলে পাওয়া যাবে না। যা কবির হৃদয়ে লুকিয়ে থাকে। প্রকৃত কবিকে তা অন্তর হাতড়ে খুঁজে নিতে হয়।

হৃদ ছন্দ হল হ‍ৃদয়ের অনুভূতি, আন্তরিকতা। কবি তার অনুভূতি, জীবনের অলিগলি থেকে খুঁজে নেওয়া শব্দগুলো আন্তরিক উপস্থাপনের মধ‍্য দিয়ে পাঠককে সহজেই সংক্রমিত করতে পারেন।

আমাদের কবিদের চিন্তা-চেতনায় অতিরিক্ত ইউরোপীয় আদর্শের পুনরাবৃত্তি, অনুরক্তি প্রকট। যে কারণে আমাদের কবিতা আমাদের অন্তর থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন। দীর্ঘ দিনের যে কলোনিয়ান দাসত্ব তা আমাদের সাহিত‍্যকেও আক্রান্ত করেছে। যে কারণে আমরা আমাদের প্রাচ‍্যের যে সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, ঐতিহ্য তা থেকে ক্রমাগতভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছি। আমরা যা নই, তা আমরা হতে চাইছি অথবা সেটিই জোরালো ভাবে প্রকাশ করতে চাইছি। অন্তত কবিতায় তা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসা জরুরি।

 

৩.
ঘুরে-ফিরে আবার সেই ভাষার কথায় ফিরে আসি।
দেশ ভাগ হয়েছে। আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, যা বাংলা ভাষাকে ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে। তাকে কি আমরা ভাগ করতে পেরেছি? ভাগ হয়েছে আমাদের হীন ভেদবুদ্ধির। আমাদের ভাষার যে ঐক‍্য, তাকে বিচ্ছিন্ন করেছে আমাদের যাপিত জীবনের ধর্ম। সাম্প্রদায়িকতা মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে বারবার। লাভবান হয়েছে কারা? লাভবান হয়েছে আমাদের ক্রোধ, আমাদের হীনমন্যতা। হীন স্বার্থ কুরে কুরে খেয়েছে আমাদের বোধ ও বুদ্ধিকে।

আমরা কাঁটাতার সরাতে পারব না। সরাতে পারব না আমাদের ধর্মভিত্তিক চেতনার পিলারকে। বরং এই কাঁটাতার, এই পিলার আরও ঘন হচ্ছে। কিন্তু কী আশ্চর্য, দেখুন! ভাষার শক্তি, বাংলা কবিতার মর্মবন্ধন আমাদেরকে বারবার কাছে টেনে নিয়ে আসে। অথচ ক্ষরণ কী শুকিয়েছে? না শুকোবে না কোনোদিন! এখনও ভেতরে ভেতরে আমরা রক্তাক্ত হই, কখনও প্রকাশ‍্যে।

 

৪.
এই যে আমি গতকাল সীমান্ত পার হয়ে আপনাদের মাঝে এসেছি। যখন সীমান্ত পার হই, তখন ছয় ঘন্টা আমাকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। প্রচণ্ড গরমে দাঁড়িয়ে আমি যখন ভাবছি পেছনের কথা। তখন আমার মনের ভেতর কবিতারা ভিড় করে। আমি নিজেকে জিজ্ঞাসা করি:

কি পাহারা দেয় বিজিবি বা বিএসএফ
ওরা কি আমাদের ভালোবাসাকে পাহারা দেয়
নাকি আমাদের কান্নাকে পাহারা দেয়
নাকি মমতাকে পিষ্ট করে বুটের আঘাতে !

তোমাদের ইমিগ্রেশন আছে, সীমান্ত আছে
দামি কিছু গালি আছে, স্বার্থের সুখপাখি আছে
আমার আছে অজস্র ঘৃণা, কবিতার ককটেল
বাংলা নামের স্বদেশী এক অবিশ্রান্ত প্রতিবাদ!

ইমিগ্রেশনের কাছাকাছি এসে যখন দেখি একজন বৃদ্ধকে নির্দিষ্ট স্থানে লাগেজ না রাখার জন‍্য গালিগালাজ করা হচ্ছে। তখন প্রশ্ন জাগে, কে কাকে গালি দিচ্ছে? একজন সন্তান তার পিতাকে গালি দিচ্ছে, নয় কি? একজন তরুণীকে যখন তল্লাশির নামে হয়রানি করা হচ্ছে, তখন ভাই কি তার বোনকে অসম্মান করছে না? সীমান্তে দাঁড়িয়ে আমি কখনও সর্বহারা হয়ে উঠি। আমার মনে পড়ে কবি রণজিৎ দাসের সেই কবিতা:

এই হল চেক পোস্ট, দাঁড়াও সুন্দরী!
আমিই পুলিশ, আমি এই ঘরে লোহার শয‍্যায়
গুপ্ত হৃদয়ের খোঁজে নগ্ন দেহ-তল্লাশির
কঠিন, বিষণ্ন কাজ করি।
এই হল চেক-পোস্ট, আমি তার উলঙ্গ প্রহরী।

‘মধ‍্যরাতে বেনাপোল’ এই কবিতা আমাদেরকে কি জানান দেয় না, কত দুঃখ, কত যন্ত্রণা-বিড়ম্বনা জমা হয়ে আছে আমাদের ইতিহাসে!

আমরা একটি অমানবিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত ফাঁদে আটকে আছি। সেটা আমাদের ভূগোলের ফাঁদ। স্বার্থের ফাঁদ। এই শৃঙ্খল থেকে আমরা কখনও কি বের হতে পারব না?

আমি আমার কথা বলি। গতকাল রাতে আমি দুর্গাপুর এসেছি। বনগাঁ থেকে রানাঘাট, নৈহাটি-বান্ডেল হয়ে দুর্গাপুর। ট্রেন বদল, এক্সপ্রেসে টিকেট করেও পুরো সময়টা দাঁড়িয়ে। দূর্গাপুরে নেমে রিকশা নিয়ে একটি হোটেলে আসি। তারা আমার এনআইডি দেখতে চান। রেজিস্ট্রারে আমার নাম-ঠিকানা লেখাও হয়। তারপর সেখানে আসেন হোটেলের কর্তাব্যক্তি। কপালে চন্দনের ফোঁটা। ভালো করে তিনি আমার পাসপোর্ট দেখেন। অনেক প্রশ্ন করেন আমাকে। আমি বলি,-“তিন বাংলা কবিতা উৎসবে অংশগ্রহণের জন‍্য এসেছি। এক রাতের জন‍্য থাকার ব‍্যবস্থা করলে হবে। আগামীকাল অনুষ্ঠানের আয়োজকরা এখান থেকে আমাকে নিয়ে যাবেন। ” কোথায়, কারা ইত‍্যাদি প্রশ্নের পর আমি আয়োজকদের ফোন নম্বর দিয়ে কথা বলতে বলি। তিনি ফোন করেন না। আমি নিজে হোটেলের ফোন থেকে ফোন করতে চাইলে তাতেও রাজি হন না। আমাকে বলেন, ” আপনি মহামেডান? আচ্ছা, আপনার নামটা বলুন তো দেখি!

আমি বলি, – পাসপোর্টে লেখা আছে। দেখুন দাদা, আমি মহামেডান বা মোহনবাগান কোনোটি নই, আমি একজন মানুষ। আমি এখানে খেলতে আসিনি। কবিতা পড়তে এসেছি।

এবার বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, – আপনার নামটা এমন জটিল কেন? না, কোনো কবি-টবিকে আমরা রাখতে পারবো না। আপনি আছুন! আর আপনাকে রাখতে পারি, ছেক্ষেত্রে থানায় যেতে হবে। তারপর পুলিছে পারমিছান দিলে থাকতে পারবেন।”

থানা-পুলিশের কথা শুনে আমি নিজেকে চোর ভাবতে থাকি। লোকটির পেছনের দেয়ালে কুলঙ্গিতে রাখা গণেশের মূর্তি। সেদিকে তাঁকিয়ে মনে হলো সিদ্ধিদাতা হাসছেন! আমি জাতে মুসলিম, সেহেতু অপরাধী। বেশিক্ষণ থাকাটা সমীচীন নয়, ভেবে আমি ওখান থেকে দ্রুত বের হয়ে আসি। আমার কাছে ইন্ডিয়ান সিম না থাকায়, আমি মোবাইল থেকে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারি না। হয়ত সকাল হলে সিম যোগাড় করা যাবে।

আসবার কথা ছিল কলকাতা হয়ে। তিন বাংলা কবিতা উৎসবের কর্ণধার ড. রাসবিহারী দত্ত, কবি আনসার উল হক তেমনটি জানিয়েছিলেন। কবি কাজল চক্রবর্ত্তী, ড. সত‍্যপ্রিয় মুখোপাধ‍্যায়ের সাথেও কথা হয়েছিল একসঙ্গে আসব। আমার কাছে মনে হয়েছিল কলকাতা থেকে দুর্গাপুর যাওয়ার চাইতে বনগাঁ থেকে বর্ধমান যাওয়াটা সহজ হবে। ভাবতে থাকি, এভাবে আসাটা বোধ হয় ভুল হয়েছে।

এরপর আরেক হোটেলে ঢুকি। সেখানে পরিচয় দিলে একজন জানান, তাঁর জন্মস্থান খুলনায়। ত্রিশ বছর ধরে ভারতে আছেন। তিনি যেন আমাকে করুণা করেন। আয়োজকদের সাথে কথা বলতে দিয়ে থাকবার ব‍্যবস্থা করে দেন। রুমে ঢুকে লাগেজ রেখে এক গ্লাস পানি পান করে হোটেলের তিন তলার ব‍্যালকনিতে এসে দাঁড়াই। তারপর একটি সিগারেট ধরাই। সিগারেট জ্বলতে থাকে, আমিও জ্বলতে থাকি। আমার বুকের ভেতর বিদ্ধ হতে থাকে লক্ষ লক্ষ মাইল ব‍্যাপী কাঁটাতার। রক্তাক্ত সাতচল্লিশ। মনে পড়ে কবিতা সিংহের একটি কবিতার কথা। জানি না, কবি কোন প্রেক্ষাপটে এই কবিতা লিখেছিলেন! তবে আমার জন‍্য আজ এটি খুবই প্রাসঙ্গিক। তিনি লিখেছেন:

অপমানের জন‍্য বারবার ডাকেন
ফিরে আসি
আমার অপমানের প্রয়োজন আছে!

অপমানের জন‍্য বারবার ডাকেন
ফিরে আসি
ঝাঁপ খুলে লেলিয়ে দেন কলঙ্কের অজস্র ককুর
আমার কলঙ্কের প্রয়োজন আছে!

আমরা হিন্দু হতে পেরেছি। মুসলিম হতে পেরেছি। এখনও মানুষ হতে পেরেছি কি? আমি জানি না, ভারত থেকে যেসব কবি বাংলাদেশ যান, তাঁদের এমন কোনো অভিজ্ঞতা আছে কিনা !

কবিতায় আমরা মুক্ত অকাশের কথা বলি। কবিতা যদি স্বাধীনতা হয়। আমাদের হীনস্বার্থ, আমাদের সুবিধা চরিতার্থ করার অপকৌশলকে অকবিতা বলতে হয়। এই অকবিতার জালে আমাদেরকে বারবার জড়িয়ে যেতে হয়। আমরা স্বাধীন হয়েছি, কিন্তু লোভের কাছে, সাম্প্রদায়িক শক্তির কাছে, ধর্মান্ধতার কাছে আমরা এখনও পরাধীন।

সেকুলার ভারতে আজ ধর্মীয় উল্লম্ফনের যুগে আবারও আমার প্রিয় কবি মাইকেল মধুসূদনের একটি কবিতার কাছে ফিরে যেতে ইচ্ছে করে। তিনি সুদূর ফ্রান্সের ভার্সাই নগরীতে বসে লিখেছিলেন:

আকাশ-পরশী গিরি দমি গুণ-বলে,
নির্ম্মিল মন্দির যারা সুন্দর ভারতে;
তাদের সন্তান কি হে আমারা সকলে?–
আমরা,– দুর্বল, ক্ষীণ, কুখ‍্যাত জগতে,
পরাধীন, হা বিধাতঃ আবদ্ধ শৃঙ্খলে?–

ব্রিটিশ শাসনের যাঁতাকলে পিষ্ট,পরাধীন জাতির জন‍্য ছিল মধুসূদনের খেদোক্তি। আজও যেন তা কত প্রাসঙ্গিক!

আসুন বিভেদের দেয়াল ভেঙে ফেলি। আগেই বলেছি আমরা কাঁটাতার উপড়ে ফেলতে পারব না। ভেঙে ফেলতে পারব না রাজনৈতিক পিলার। কিন্তু মনের ভেতর লালন করা বিভেদকে, বুকের ভেতর পুতে দেওয়া ধর্মের অনিষ্ট পিলারকে তো আমরা ভাঙতে পারি!

হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতি, আমাদের সৌহার্দ্য-সম্প্রীতির সংস্কৃতি। আমাদের ঈর্ষা আছে, পরশ্রীকারতা আছে। আমাদের হানাহানি, দাঙ্গারও হীনসংস্কৃতি আছে। তারপরও বারবার মাথা উঁচু করে দাঁড়ায় আমাদের ভ্রাতৃত্ববোধ, ভালোবাসা, মানবিক বন্ধন, অসাম্প্রদায়িক চেতনাবোধ। আমরা যারা কবিতা লিখি, ভাষাচর্চা করি, কবিতার শক্তি দিয়ে, কবিতায় অসত‍্য ও অসুন্দরের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী চেতনা দিয়ে সকল নেতিকে আমরা পরাজিত করতে পারি, প্রত‍্যাখ‍্যান করতে পারি। বাংলা কবিতাই পৃথিবীর বুকে আমাদেরকে বাঙালি হিসেবে সগর্বে আত্মপরিচয় তুলে ধরার শক্তি যোগাতে পারে। কবিতা আমাদেরকে সেই নির্ভেজাল সত‍্যের কাছে, সাহসের কাছে, বাঙালিত্বের কাছে নিয়ে যাক।

আমি আগে মানুষ। তারপর আমি বাঙালি। তারপর আমার কবি পরিচয়।বাংলা আমার ভাষা। আমার বর্ণ বাংলা। আমার হৃদয় বাংলা। আমার অস্তিত্বকে কখনও ভাগ করা যায় না। বাংলাদেশ হোক, পশ্চিমবঙ্গ হোক, ত্রিপুরা, ছত্রিশগড়,আসাম হোক, সবই আমার দেশ। টরেন্টো, জ‍্যাকসন হাইটস, ডালাস, লন্ডন সিটি হোক; পৃথিবীর যেখানেই বাংলা ভাষা আছে, বাংলা ভাষা-ভাষী মানুষ আছে সবখানেই আমার বিচরণভূমি। আমার মনের এই অপ্রতিরোধ‍্য ঈগলকে রুখতে পারে কে?

আসামের কবি দিলীপ কান্তি লস্করের কবিতা উচ্চারণের মধ‍্য দিয়ে আমি আমার কথা শেষ করব। তিনি বলেছেন:

“আমি কোত্থেকে এসেছি, তার জবাবে যখন বললাম
করিমগঞ্জ, আসাম
বাংলা ভাষার পঞ্চদশ শহিদের ভূমিতে আমার বাস।
তিনি তখন এক্কেবারে আক্ষরিক অর্থেই
আমাকে ভিমরি খাইয়ে দিয়ে বললেন :
ও! বাংলাদেশ? তাই বলুন! ”

কবির এই কবিতাংশ আমাদেরকে কিসের মেসেজ দেয়?

কবিতা হোক আমাদের আত্মার পরিশুদ্ধি। বাংলা ভাষার টানে, কবিতার অনিবার্য আহবানে আমরা বারবার মিলিত হব। ভালোবাসার অমেয় শক্তিতে আমরা সুদৃঢ় করে তুলব আমাদের পারস্পরিক বন্ধন। যেখানে থাকবে না কোনো সীমান্ত, কাঁটাতার, জাতি-বংশ-শ্রেণির বিভেদ।

জয় হোক কবিতার।
———————————————————————–
* ২০১৪ সালের ২৫ ও ২৬ অক্টোবর ভারতের তিন বাংলা লেখক ফেডারেশনের আমন্ত্রণে বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরে অনুষ্ঠিত দু’দিনের কবি সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করি। সেখানকার মধুসূদন কলেজ মিলনায়তনে উক্ত অনুষ্ঠানে প্রদত্ত আমার ধারণকৃত অভিভাষণের পরিমার্জিত ও প্রাসঙ্গিক অংশ।

 

খসরু পারভেজ

কবি ও গবেষকখসরু পারভেজের জন্ম ২৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬২, যশোর জেলার শেখপুরা গ্রামে। সাহিত্য সাময়িকী ও ছোটকাগজ সম্পাদনা ও মাইকেল মধুসূদন দত্ত বিষয়ে গবেষণায় খ্যাতি অর্জন করেছেন। সংগঠক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন মধুসূদন একাডেমী ও পােয়েট ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ।  

উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: কবিতা- পালকখসা বলাকার আর্তনাদ, নিহত বিভীষিকা, নিরুদ্দেশে, মুক্তিযুদ্ধে কুকুরগুলো, ভালবাসা এসো ভুগোলময়, পুড়ে যায় রৌদ্রগ্রাম, ধর্ষণ মঙ্গলকাব্য, রূপের রিলিক, প্রেমের কবিতা, জেগে ওঠো প্রত্মবেলা, হৃদপুরাণ। গবেষণা: পদ্য: কবিতার ছন্দ, আমাদের শিল্পী এস এম সুলতান, আমাদের বাউল কবি লালন শাহ, এস এম সুলতান, রবীন্দ্র-নজরুল-সুকান্ত।

পুরস্কার ও সম্মাননা : সুকান্ত পদক, মনোজ বসু স্মৃতি পুরস্কার, কণ্ঠশীলন সম্মাননা, বিবেকানন্দ পদক, মধুসূদন সাহিত্য পরিষদ পুরস্কার, জীবনানন্দ গ্রন্থাগার সম্মাননা।

Facebook Comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to Top