আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ-এর তিনটি কবিতা

রিডিং গ্লাস ১

সমুদ্র লাগছে চোখে জল কাচ জল মণি
কালো পর্দা সরে গিয়ে পুরোটাই নীল
এইবার নারী হচ্ছে না কথাও বলছে না
চুপ করে কেউ পাথর সরিয়ে ধরছে চাঁদ।
সবুকিছু শুনতে পাচ্ছি মুখ মুখোশ হত্যাজমজ
তাদের ফেলে দিয়ে ধীরে ঘরের সামনে
আলপথের সূর্য তার ডিগবাজি পাতালরশ্মি।
ক্ষেত করে আসছে জয়নব
পাশে লম্বা ছায়া ভাত ও হাড়ি
পায়ের কাছ থেকে ঘুঙুর রাক্ষসছায়া খুলে পড়ছে।
তাই দেখে দেখে বনের বিজন পাখিতে বিভোর
জলকবুতরের নিচে জয়নব রাগিনী ফুল।

যে নিদ্রা ঘুমায় নি যে ক্লান্তি শোয় নি
সেও আসলো গাড়ির বনেটের খোলা নিয়ে
একে একে খুলে দিলো বিছানা ও ছাউনি।
সবকিছু শুনতে পাচ্ছি এই জনসংঘ এই শিকারি
রথের মালিক নুয়ে পড়া গোলাপের রক্ত
ভাষণ দিতে দিতে যে মালা নেবে
তার হাড় থেকে ঝরে পড়া লালসাখনি সবকিছু।

২৮/০২/২০১১

রিডিং গ্লাস ২

কাছে যে বসে আছে তাকে দেখছি
চাঁদবালি গুঁড়ো মদ্যমদিরা ভিজে উঠছে হাতে
ঘাড়ের কুচফুল চিমনি ফুলে ওঠা বেবীপ্রতিমা।
তাই দেখে দেখে মাকড়সা বন থেকে আসছে
মুখে লিঙ্গ মুখে শীতদিনের আগুন।
তাকে সরাও
পাথর সরিয়ে বাঁক নাও নদী ও কাঞ্চনে
যেখানে আড়াল তার কালো থেকে উড়ালের জয়।
এই ঘন কৃষ্ণ পতাকা উড়ছে তোমারই।

এতোদিন এগুলো কিছুই দেখি নি
শুধু দূরে কারো গাছ হয়ে যাওয়া আসা দেখছি
দেয়াল কীটবেড়ালের স্কুল মালিগন্ধ এসব।
এখন এই মাংসবালি দেখে গজিয়ে উঠছে পা
মই বেয়ে বেয়ে আসছে পথ খুলছে জানালা ঝুলছে।
তার ভেতরে রৌদ্র যে এতো হলুদ মা হতে জানে
জানাই ছিলো না। তার আঙুল ধরে তোমার ঠোঁটে
দস্যুপাখি ঠোকর দিই। ঈগল ।

০২/০৩/২০১১

রিডিং গ্লাস ৩

সব কিছুই দেখতে পাচ্ছি
একটু একটু করে আলগা হচ্ছে জামা ও জীবাস্ম
তার পাশ দিয়ে বাচ্চাঅক্ষর জোড়াগাছ আলাদা সরে গিয়ে
সূর্যের দিকে ছায়া রাখছে।
গ্রামগুলোও ঘাসের মাথায় এসে একটি কুয়াশাসবুজ
কাচচেয়ার থেকে নেমে ছায়াগুলো নরম মাটি।
সৌরবাতির ঘোড়াগুলি একে একে বহন করছে তাকে
চোখ থেকে রঙ শুষে শুইয়ে রাখছে সমুদ্রকফিনে
কারো পায়ের জামরুল প্রথম সুলেখা দেখছি জলে।
জল ছেড়ে ভেসে উঠছে দরোজাটা
দেখতে পাচ্ছি তার ভেতর দিয়ে
গলে আসছে ঘাড় আঙুল চিকন চর্বি লালনীল পাপড়ি।

বাঁশবাগান কবরের কাঠ সব কিছু গাছ হয়ে
যেমন হলুদ কমলাটা ঝাপসা ধুসর একটা জাহাজ না বেড়াল
তেমন অনেকটাই সমুদ্রফেনার বিভাস এখন পার্পেল চাদর।
মাঝখানে একটা আপেল তার বুকে ছুরি ছবি যেমন।
শব্দ গুলোও মই পাচ্ছে সিঁড়ি ধরে ধরে
সাপ হয়ে আমার মাথামুণ্ডু ঝাপটে শীত চাইছে।
কাছে শুয়ে থাকা ভাঁজ করা পেট পেরিয়ে
একটি ঝুলে পড়া সাঁকো দেখতে পাচ্ছি ঠিক।

১৮/০২/২০১১

Facebook Comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।