পাঁচটি কবিতা


আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ

 

ছুটি ১

রোদে শুকানো পাজামা
গলে পড়ছে প্রজাপতি
গন্ধমুকুরের কাচ আরো পয়দা আরো এলাহী।
হলুদ গোলাপি মিলে আরো রঙধনু
তীর তীর
শিকারপাখি শীতব্রিজ করে কুয়াশা
কেয়াকাহিনী ঝুলছে বনের ভেতরে বনশা।

স্কুল থেকে গোগুলে শাদানীল বাদামি পায়রা
মেয়েরা গোপনে মঙ্গল রাখছে পালকের নিচে
তাই দেখে মা করার ছেলেরা
কুল ফেরানির মায়া মাখে এই নিম্নপলি বালিশায়
তরমুজ খুলছে লাল রঙের খাবারগুলি।

ঘন্টা পড়ছে কুলি করে কোলে তুলছে
শেষ মালবাহী ট্রেন।
গুলি ফোটাতে বাংকার থেকে বাংকারে
হাড় দিয়ে চিঠি লিখছে সৈনিক।
আর আমার কৈ তলার কৈ সাঁতরাতে সাঁতরাতে
স্টেশনে সকাল আটটা!
যেদিকে তাকাই সেদিকেই দালির মাননীয় ঘড়ি।

 

ছুটি ২

গাড়ি ফেলে চলে এসেছি। কলরাক্ষসের পেটে কতো
বিকেল বলির গল্প কতো খুলি কতো পাহারাদার!
পাহাড় থেকে পাহাড়ে
এই হিচককীয়



তোমাকে নাইবা বল্লাম।
সামনে আরো কুয়াশা
আরো ডুবে বাঁচার জলবল্কল
কুচ ভরে নিয়ে এসেছি তার কালাকস্তুরি পানি।

এইসব হত্যাকাণ্ড পোড়া নাড়িভুঁড়ি ফেলে দেবো
তার কথা তোমাকেই বলি।
ছুটি যার কপালে থাকে সেতো গাড়ি কারখানা যায়
আর খরগোশ মারার নিশানা করে।
আমি ছুটি নিয়ে কাজ করি পলাশী ও পানিপথে
ভাইকে খুঁজি। তার মমিধরা বল হাতে
স্কুলের মাঠে যাই। আর
ক্রমশ এক গোমর – মা পাওয়ার কবরখানা
গজিয়ে ওঠে বিছানার নিচে।

 

পৃথিবী

মরে যাবার মুর্হূতে আবারো তাকাই
বালির ফুল কাচের নৌকা আশা দেয় মনে
চোরা চাঁদফল জ্যোৎস্না হারিয়ে যাওয়া সাইকেল
                         ইশারা দিয়ে তুলছে গ্রামে।
বল হাতে দৌড়াচ্ছে নবীন – তার ভুলে যাওয়া মাঠে
তোমার শালিখ তোমার দুটি হলুদ। 
ময়ূরজড়ানো সিংহাসনও চোখের ভেতর
                        পথহারা জনকের আগমন শুনছি
কাছে ডাকছি বাতাসে বসছি
পাহাড়ের নৈশ পড়ে থাকে নিঝুম পথিকে।
উড়ালে কেউ নাম নেয় আমারও
মাথায় দেয় শাদা গোলাপের ভায়োলিন
অঙ্গে অঙ্গে পালক ভরার মৌসুম 
                         মেঘ ধরে ওড়ে শাদা মেঘপাখি।
নতুন পাতার মাদলে গান হচ্ছে, নৃত্যও
মাটিচাপা করোটি ফুল হয়ে ফিরছে গাছে।

 

হাসপাতাল

শিশুর চেয়ে শিশুর মাকেই দেখছি
রাতের এই গন্ধতমাল উড়ে আসে কালোর বাতাসে
হঠাৎ চোরাবাঁক ঘাড়ে ময়ূর নাকি কবুতর
এমন আরো পাখি আরো শিকারির ছায়া
গোল হয়ে ঢুকছে কাচ ভেঙে খণ্ড আলোধাতুতে।

হারিয়ে যাওয়া পালকের ঝাপটা নীল নীল বরফ
চাঁদের চেহারায় অভিযান হয়ে ফিরছে
পা খাড়া ঘন হয়ে উঠছে নাক নাকের ফণি
শরীরের ঝিলমিল ঝিমলা কদলী ভেলা
পড়ে যাওয়া মাঝি এসে মাছগান শেখাচ্ছে।
তাই দেখে দেখে
নিহত হচ্ছে ঘোড়া ও সহিস
এই পালাবদল এই শিশু বরণের চাঁদ
চাঁদের নাম ঠিকানা লুকিয়ে থাকা সেয়ানা অতিথি
এসব কথা এখন নাইবা বল্লাম।
শুধু বাহু ধরে নেমে যাওয়া গোলাপের গন্ধ লাল
তার দিকে পাশ ফেরানো শব্দটাও লালে লাল
আপেলকাটা পথই দেখলাম হাসপাতালে।

 

শেষ নীল

নীলের দিকে যেতে যেতে আমারই নীলবল
গড়িয়ে গড়িয়ে স্কুলে দৌড়ানো পালানো নীলছায়া।
মেয়েটা ঘর ছেড়ে দাঁড়ায় দেয়ালে নীলপোকা চাদর
আমার মায়ের মুখটাও তাই যখন আমাকে দেখতে চাইল
শাদা একটা কাপড়ের সাঁকো থেকে নীলমায়া।
রিকশার হুড খুলে পায়ের কাছে বেড়াল গা ঘেঁষে
ঘুড়ি হয়ে নীলমেঘ।
তার বরফ ধরে প্রতিবেশীর আঙুল
নীলগান হারমোনিয়াম। এ সবই ফাঁদ পেতে পাতার 
আড়ালে হা করা নীলযোনি।
ধীরে ধীরে মাধ্যম খুলে দিচ্ছে তোমার ব্রাজিঙ্গেল
পাজামা ভাবতে ভাবতে হঠাৎ নীল নীলমাছ সমুদ্র ।
জিপার খুলে রাতে নীল বন্যঘোড়া ট্রা ট্রা করে দৌড়াচ্ছে অন্ধ
স্বপ্নের ভেতর নিয়ে যাও নীল ট্রেন ঘুরতে ঘুরতে এক খুনি গাছ
শেকড়বাকড় ঠেলে নীলহাড় মাংস ছড়িয়ে দিচ্ছে বিছানায়।

Facebook Comments

3 Comments:

  1. ওবায়দুল্লাহর কবিতায় শব্দ ও বাক্য বিরচন এবং তার অর্থ-অনর্থের ভেতর সব ছাপিয়ে ওঠা এক যাদুমগ্ন প্লাবিতা আমাকে ভাবায় – মনস্থির করতে পারি না, কিন্তু মুগ্ধ হই, ভালো লাগে; জানি তা আশ্চর্য নিজস্বতায় ফুটে ওঠে। বেশ কিছু শব্দ যেমন: বালিশায়, জলবস্কল, কলরাক্ষস, কালাকস্তরী এবং একটি পংক্তি: মাটিচাপা করোটি ফুল হয়ে ফিরছে গাছে … ভাবাচ্ছে আমাকে !

  2. prothomei khoma chaichi duti karone: 1. deri kore comment korchi, Obayed bhai. 2. bangla font niye amar computer a shomossha ache tai English okkhore likhchi.

    dhongsho ar jeebon jara aj ongshidar ebong jara ongsho hoyeche shobbhotay amader – shei shob obhiggotar prantogulo mishe jacche bastober arek matray. dekhar bhetor arek dekha, shobdo biporjoyer hashi ar onibarjo mounir bishonnota niye prothom kobita ti daralo. kintu tarpor o priyo shobuj fol ke kothin hotey na dite chawar arti te jol e bolkol hoye jay. besh.

    Prithibee, Hashpatal ar Shesh Neel kobita gulo oshadharon shob onubhutir kotha bole. akekti shotta onno tir shathe elomelo joriye jacche ar alada shur o shoundorjo jagiye amader uter dicche jeno. koto jeebonto hoye smriti o onubhutir bastob dhore theke mishe jete thake akekti bastob onnotir majhe – bileen hoye amader ja dey ta shoundorjo ar mukti.

    shubheccha, Obayed bhai.

  3. Abu Sayeed Obaidullah

    many thanks, Tanvir.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *