জুনান নাশিত: পশ্চিমে হেলান দেয়া গদ্য: শিল্প ও অনুভবের নান্দনিক নির্মাণ

কবি ফেরদৌস নাহারের ‘পশ্চিমে হেলান দেয়া গদ্য’ বইটি ২০১৯ সালে দ্বিতীয়বার প্রকাশিত হয় অনুপ্রাণন থেকে। প্রথম প্রকাশ ২০১২ সালে। দ্বিতীয়বার প্রকাশের পরই বইটি আমার হাতে আসে। বইটি পড়তে পড়তে ভাবছিলাম এতো গভীর সৃজনী গদ্য,এতো অনুভব, এতো শিল্পীসত্তা, এতো জীবনদর্শনের প্রকাশ যে কতো নিটোল আর মসৃণ হতে পারে সেটা জানাই হতো না এটি না পড়লে।

আশির দশকের কবি ফেরদৌস নাহার কবিতায় তার নিজস্ব আসনটি যথেষ্ট পোক্ত করেছেন সন্দেহ নেই। পাশাপাশি গদ্যেও তিনি নিভৃতে একাšত্ম নিজস্ব স্বর নির্মাণ করেছেন। চিত্রকলা, চলচ্চিত্র ও কবিতাকে কেন্দ্র করে ফেরদৌসের ভাবনার ভুবন কতো যে ঐশ্বর্যময় তার অনন্য ধারণা এ বই থেকে পাওয়া যায়।

বইটি তার চূড়ান্ত শিল্পদর্শনের নান্দনিক প্রকাশ। পশ্চিমের শিল্প ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিতির অভিজ্ঞতাকে নিজের দেশ, ভাষা, স্মৃতি ও সত্তার সঙ্গে মিলিয়ে ফেরদৌস নাহার এখানে নির্মাণ করেছেন এক নিজস্ব গদ্যভুবন। সেই ভুবনে শিল্প শুধু দেখার বিষয় নয়। শিল্প হয়ে ওঠে স্মরণ, অনুভব ও নিজের সঙ্গে নতুন করে কথোপকথনের উপলক্ষ।

বইটি তিনটি পর্বে বিন্যস্ত। ‘চিত্রকলায়’, ‘চলচ্চিত্রে’ ও ‘কবিতায়’। এ তিনপর্বে মোট আটটি গদ্যে লেখক কখনো শিল্পীর সৃষ্টির সামনে দাঁড়িয়ে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন, কখনো চলচ্চিত্রের ভেতর দিয়ে মানবিক পৃথিবীর সংকটকে দেখেছেন। আবার কখনো প্রিয় কবি ও কবিতার সঙ্গে নিজের সম্পর্কের বুনোট চমৎকার আবেগীয় ঢঙে উন্মোচন করেছেন।

তিনি সমালোচকের দূরত্বে দাঁড়িয়ে শিল্পকে বিশ্লেষণ করেননি। কবির অনুভূতি দিয়ে শিল্পকে দেখেছেন। বোঝার চেষ্টা করেছেন। শিল্পীসত্তা কেন্দ্রিক তার একান্ত উপলদ্ধি নির্মেদ গদ্যে প্রকাশ করেছেন। তবে ভাষা নির্মেদ হলেও পরিমিত ও সুস্মিত কাব্যিক আবেগ বইটিকে করেছে হৃদয়গ্রাহী ও পাঠনন্দিত।

‘পশ্চিমে হেলান দেয়া গদ্য’ হলো একজন বাঙালি কবির পশ্চিমে বসে পশ্চিমের শিল্পকে দেখা। আবার সেই শিল্পের আয়নায় নিজের মানুষ, দেশ, স্মৃতি ও প্রিয় কবিদের নতুন করে তুলে ধরা। তাই এটি ডায়াস্পোরিক বা প্রবাসী দৃষ্টির শিল্পিত অনুভূতির সঙ্গে দেশীয় শিল্প অভিজ্ঞতার পুনর্নির্মাণও বটে।

এটি মূলত একজন কবির অন্য শিল্পের দিকে তাকানোর নিজস্ব শৈলীর প্রকাশ। পশ্চিমের শিল্প সংস্কৃতির সঙ্গে একজন বাঙালি কবির ব্যক্তিগত সংলাপ, স্মৃতি, মুগ্ধতা, আবিষ্কার এবং পূর্ব-পশ্চিমের সাংস্কৃতিক দূরত্ব অতিক্রমের এক অভিনব ও কাব্যিক গদ্যভাষা। আর এখানেই বইটির স্বাতন্ত্র্য। বলা যায় অনন্যতাও।

বইটির ‘চিত্রকলায়’ পর্বে সালভাদর দালিকে নিয়ে লেখা ‘সুদূর অর্কেস্ট্রা: সালভাদর দালি’তে চিত্রশিল্পের সঙ্গে কবির অনুভূতির এক বিশেষ সংযোগ লক্ষ্যণীয়। দালির শিল্পকে নিছক শিল্প ইতিহাসের তথ্য দিয়ে বিচার না করে লেখক তাকে দেখেছেন একজন কবির সংবেদনশীল চোখে। ফলে চিত্রকর্মের দৃশ্যমানতার পাশাপাশি তার অন্তর্গত বিস্ময়, স্বপ্ন ও কল্পনার জগতও পাঠকের সামনে উন্মুক্ত হয়েছে।

আর বইটির প্রথম এবং সবচেয়ে বিস্তৃত আকর্ষণও এ লেখাটি। এটি কেবল সালভাদর দালির জীবনী বা শিল্পকর্মের পরিচিতি নয়, বরং একটি শিল্প প্রদর্শনী দেখার অভিজ্ঞতাকে অনুভবের তুলিতে সাজিয়ে তোলা।

ফেরদৌস নাহার লন্ডনের টেমস নদীর পাড়ে বিখ্যাত কাউন্টি হলে দ্যা দালি ইউনিভার্স প্রদর্শনীতে গিয়ে সালভাদর দালির শিল্পের মুখোমুখি হন। তাঁর বর্ণনায় প্রদর্শনীতে প্রবেশ, গ্যালারির পরিবেশ, দালির আলোকচিত্র, ভাস্কর্য, চিত্রকর্মসহ সবকিছু একসঙ্গে এসে একটি দৃশ্যমান জগৎ তৈরি করে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তিনি শুধু দালির শিল্প সম্পর্কে বলেন না বরং পাঠককেও নিজের সঙ্গে প্রদর্শনীতে নিয়ে যান এবং ঘুরিয়ে আনেন।

যেমন, ক্যামেরা দিয়ে ছবি তোলা নিষেধ থাকায় তিনি নিজের চোখ ও নোটবইয়ের ওপর নির্ভর করেন। ছোট্ট এই ঘটনাটিও তাঁর গদ্যের প্রকৃতি বুঝতে সাহায্য করে। তিনি তথ্যের প্রতিবেদন তৈরি করেন না। তিনি একজন দর্শক শিল্পী। তাই দেখা জিনিসটি তাঁর কাছে কেবল তথ্য নয়, অনুভব।

এখানে ফেরদৌস নাহারের নিজের কবিসত্তাও সক্রিয় হয়ে ওঠে। দালির পরাবাস্তব শিল্পকে তিনি নিছক শিল্প ইতিহাসের ভাষায় যুক্ত না করে স্বপ্ন, কল্পনা, শরীর, পুরাণ, সময় ও অবচেতনতার ভেতর দিয়ে অনুভব করেন। এটি যেন এক আন্তঃশিল্পীয় পাঠ যা দেখার অনুভবকে শিল্প করে তোলে।

বইটির দ্বিতীয় পর্বে রয়েছে চলচ্চিত্র নিয়ে তিনটি লেখা। চলচ্চিত্রে কবি ফেরদৌস নাহারের আগ্রহ কেবল গল্পে নয়। তিনি চলচ্চিত্রকে দেখেন মানুষ, সমাজ, রাজনীতি, সংস্কৃতি এবং অ¯িত্মত্বের প্রশ্ন হিসেবে। সিনেমা তার কাছে মানবিকতা ও সমাজবা¯ত্মবতা পাঠের মাধ্যম। ‘চেরি ব্লোসম্‌স্’, ‘লেমন ট্রি’ এবং ‘মায়া ডেরেন’কে নিয়ে লেখা গদ্যগুলোতে চলচ্চিত্রের কাহিনি বা নির্মাণশৈলীর পাশাপাশি উঠে এসেছে আগ্রাসন, মানবিক সংকট, শিল্পের স্বাধীনতা এবং বিকল্প চলচ্চিত্র চিন্তার নানা দিক। বিশেষ করে মায়া ডেরেনকে নিয়ে লেখাটি চলচ্চিত্রের প্রচলিত ধারার বাইরে একজন শিল্পীর সৃজনশীল অভিযাত্রাকে সামনে আনে।

তিনটি লেখার শেষটি  মায়া ডেরেনকে নিয়ে। লেখাটি ভিন্নভাবে গুরুত্বের দাবি রাখে এ কারণে যে তিনি বাংলা ভাষার পাঠকের কাছে একজন আভাঁ-গার্দ চলচ্চিত্রকারকে পরিচিত করে তুলেছেন। আভাঁ গার্দ শব্দটির জন্ম ফরাসি ভাষায়। যার অর্থ, গতানুগতিক ভিড় থেকে এগিয়ে থাকা। নিজের সময় থেকে এগিয়ে থাকা। এ ধারার চলচ্চিত্রকাররা বিকল্প ধারার নিরীক্ষামূলক চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। ফলে বইটি কেবল আর ব্যক্তিগত রুচির প্রকাশ থাকে না। ভিন্নধারার সাংস্কৃতিক পরিচয়কে সামনে নিয়ে আসার কাজটিও করা হয়ে যায়। ফেরদৌস কেবল মূলধারার পরিচিত শিল্পীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে চাননি।  যে শিল্পী প্রচলিত কাঠামো ভেঙেছেন, নতুন ভাষা তৈরি করেছেন, তার দিকে আকর্ষণ তার বেশি। মায়া ডেরেন এখানে শুধু একজন চলচ্চিত্রকার নন। তিনি লেখকের কাছে শিল্পে স্বাধীনতার প্রতীকও বটে।

বইটির তৃতীয় ও শেষ পর্বে আছে চারটি লেখা। প্রথমেই রয়েছে ‘কালো ঘোড়া এবং সবুজ লোরকা’। স্পেনের কবি ফেদেরিকো গার্সিয়া লোরকা এমন একজন কবি যাঁর সঙ্গে ফেরদৌস নাহারের আদৌ সরাসরি সাক্ষাৎ হয়নি ঠিকই। কিন্তু লেখকের সাথে এ কবির এমন একটি সম্পর্ক তৈরি হয় যেখানে সময়ের ও ভূগোলের দূরত্ব অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যায়। মাঝখানে সংযোগসূত্র হয়ে ওঠে কেবল কবিতা।

দালিকে নিয়ে লেখাতেও লোরকার উপস্থিতি আসে। দালি, লুই বুনুয়েল ও লোরকার সম্পর্কের শিল্প ইতিহাসও সেখানে আলোচিত হয়েছে।

আসলে বইটির বিভিন্ন প্রবন্ধ আলাদা আলাদা দ্বীপ নয়। এক শিল্পী থেকে অন্য শিল্পী, এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যম সবকিছু একটি সাংস্কৃতিক প্রবাহের মতো পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত।

এরপর আসে রনা ব্লুমের প্রসঙ্গ ‘আটলান্টিক পারের নিবিড় কবিতা: রনা বক্লুমু’ এ শিরোনামে। শিরোনামটি লক্ষ্য করার মতো। আটলান্টিক পারের নিবিড় কবিতা। আটলান্টিক এখানে শুধু একটি সমুদ্র নয়। দুই ভূগোলের মাঝখানের দূরত্বের প্রতীক। কিন্তু কবিতা সেই দূরত্ব কমিয়ে দেয়। ভাষা আলাদা হতে পারে, ভূগোল আলাদা হতে পারে, সংস্কৃতি আলাদা হতে পারে, কিন্তু কবিতার অভিজ্ঞতা মানুষকে একটি অভিন্ন অনুভবের জায়গায় নিয়ে যেতে পারে। তাই বইটি কেবল পশ্চিমের শিল্প নিয়ে লেখা নয় বরং বিভিন্ন সংস্কৃতির মধ্যে সংযোগসূত্র তৈরির প্রচেষ্টাও।

এদিকে সাহিত্যিক সম্পর্কের সঙ্গে ব্যক্তিগত ইতিহাস তৈরির অনবদ্য দলিল কেতকী কুশারী ডাইসনকে নিয়ে লেখাটি। প্রসঙ্গত বলতে হয়, কেতকী কুশারী অতিসম্প্রতি প্রয়াত হয়েছেন। তাই তাকে নিয়ে লেখা পুনরায় দেখতে গিয়ে স্মৃতিময় পাঠের যন্ত্রণায়  আক্রান্ত হতে হচ্ছিল ভীষণ।

বইটিতে ২০০৫ সালের নভেম্বরে টরন্টো ইউনিভার্সিটির নিউ কলেজ আয়োজিত রবীন্দ্র্র উৎসবে কেতকী কুশারী ডাইসনের সঙ্গে ফেরদৌস নাহারের সাক্ষাতের গল্প পাওয়া যায়। যে গল্পে উঠে আসে সাহিত্যিক অনুষঙ্গের পাশাপাশি অকৃত্রিম জীবনবোধ।

একজন লেখকের কাব্যবোধ, চিন্তা, ব্যক্তিগত আচরণ, স্মৃতি সব মিলিয়ে তৈরি হয় তাঁর একটি পূর্ণাঙ্গ মানবিক প্রতিকৃতি।

বইটির সব শেষ বিষয় কবি শামসুর রাহমান। শিরোনাম ‘শামসুর রাহমান: হৃদয়ে যাঁর পৃথিবীর আলো’। এটি বইটির অন্যতম আবেগঘন অধ্যায়। এখানে শামসুর রাহমান শুধু বাংলাদেশের একজন প্রধান কবি নন। তিনি লেখকের কাছে ‘রাহমান ভাই’ একজন আপন মানুষ।

ফেরদৌস নাহার শামসুর রাহমানকে দূরের কবি সুলভ কোনো স্মারক চরিত্র বানান না। তিনি স্মৃতি, সম্পর্ক, ভালোবাসা ও শোকের মধ্য দিয়ে তাঁকে দেখেন। এখানে গদ্য ধীরে ধীরে স্মৃতিগদ্যে পরিণত হয়। আর এ গদ্যে ফুটে ওঠে এক কবির প্রতি আরেক কবির অকৃত্রিম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার চিত্র।

ফেরদৌস নাহারের গদ্যের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য কাব্যিকতা এবং দৃশ্যের পর দৃশ্য নির্মাণ। তিনি তথ্য দেন, কিন্তু তথ্যের সঙ্গে সঙ্গে দৃশ্য নির্মাণ করেন। শিল্পীর পরিচয় বয়ানের পাশাপাশি নিজের অনুভূতিরও ব্যাখ্যাতা তিনি।

তিনি যখন কোনো জায়গার বর্ণনা দেন তখন সেই জায়গাকে শুধু ভূগোল হিসেবে দেখেন না। তার মধ্যে মেজাজ, স্মৃতি ও আবহ তৈরি করেন। তৈরি করেন চিত্রময়তা। লেখা পড়তে পড়তে মনে হবে তিনি শব্দ দিয়ে ছবি আঁকছেন।তার লেখায় রয়েছে অনুভূতির ঘনত্ব। তথ্যের চেয়ে অনুভব অনেক সময় বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। লেখায় তিনি দৃশ্য থেকে ভাবনার উত্তরণ ঘটান। একটি চলচ্চিত্রের দৃশ্য থেকে তিনি হঠাৎ মানবিক, নৈতিক কিংবা অস্তিত্ববাদী প্রশ্নে চলে যান।

‘পশ্চিমে হেলান দেয়া গদ্য’ আসলে একটি আত্মপরিচয় বিশ্লেষণেরও বই। একজন মানুষ যখন নিজের দেশ ও সংস্কৃতি থেকে দূরে গিয়ে অন্য সংস্কৃতির মুখোমুখি হন, তখন শুধু নতুন পৃথিবী আবিষ্কার করেন না। নিজেকেও নতুন করে আবিষ্কার করেন। এই বইতে পশ্চিমের শিল্পীদের নিয়ে যতটা বলা হয়েছে, তার পাশাপাশি লেখকের নিজের শিল্পীসত্তাও ততটাই প্রকাশিত হয়েছে।

দালিকে দেখে আমরা দালির সঙ্গে পরিচিত হই। একই সঙ্গে বুঝতে পারি ফেরদৌস নাহার কীভাবে শিল্পকে দেখেন। লোরকাকে পড়ে আমরা লোরকাকে জানতে পারি। একই সঙ্গে বুঝি একজন বাঙালি কবির কাছে লোরকা কি এবং কতোটুকু। বইটি যতটা শিল্পবিষয়ক, তার চেয়েও বেশি শিল্পীসত্তাবিষয়ক। এটি পশ্চিমা শিল্প জগতের ছবিকে আমরা লেখকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আয়নায় দেখি।

বইটি কেবল পশ্চিমকে দেখার দলিল নয়। মূলত দেখার মাধ্যমে আত্মউন্মোচন ঘটানো। বলা যায় নিজেকেই নতুন করে দেখা।

পশ্চিমে হেলান দেয়া গদ্য একজন বাঙালি কবির চোখে পশ্চিমের শিল্পের স্বরূপ কি তা জানা ও বোঝার প্রয়াস। একইসাথে সেই পাঠের ভেতর দিয়ে নিজের শিল্পীসত্তাকে আবিষ্কারের অনবদ্য এক মানসভ্রমণও।

 

জুনান নাশিত

জুনান নাশিত কবিতা, প্রবন্ধ ও শিশুসাহিত্যে বহুমাত্রিক সৃষ্টিশীলতার মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান নির্মাণ করে চলেছেন।

কবি হিসেবে তাঁর আত্মপ্রকাশ নব্বই দশকের মাঝামাঝি সময়ে। জুনানের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘কুমারী পাথর’ দৈনিক প্রথম আলোর নির্বাচিত সেরা দশ গ্রন্থের তালিকায় স্থান করে নেয়।

স্কুলজীবন থেকেই তাঁর লেখালেখির শুরু। ক্লাস নাইন থেকে কবিতার প্রতি তিনি পুরোপুরি মগ্ন হয়ে পড়েন। তবে তারও আগে ছড়ার জগতে ছিল তাঁর বিচরণ। মূলত কবিতা লিখলেও প্রবন্ধের প্রতিও তাঁর রয়েছে গভীর আগ্রহ। প্রকাশিত হয়েছে একাধিক প্রবন্ধ ও সম্পাদিত গ্রন্থ। ছোটদের জন্যও তিনি লিখেছেন ছড়া, গল্প ও উপন্যাস। এ পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ১৬টি।
জুনান নাশিত অর্থনীতি বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তাঁর জন্ম কুমিল্লায়। বর্তমানে বসবাস ঢাকায়।
সাহিত্যের পাশাপাশি সাংবাদিকতাও তাঁর পেশাগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তিনি বর্তমানে জাতীয় বার্তা সংস্থা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থায় (বাসস) উপ-প্রধান বার্তা সম্পাদক হিসেবে কর্মরত।

পুরস্কার ও সম্মাননা
• মহাত্মা গান্ধী স্বর্ণ স্মারক — ২০১৬
• মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন সাহিত্য পুরস্কার — ২০২৩
• হিউম্যান রাইটস এওয়ার্ড ২০২৬

Facebook Comments

One comment

  1. Pingback: শুভ জন্মদিন, প্রিয় কবি ফেরদৌস নাহার - সাহিত্য ক্যাফে

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to Top