ডব্লু বি ইয়েটস-এর তিনটি কবিতা


অনুবাদ: সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ

সৃষ্টিপূর্ব

চোখের পাপড়ি যদি আরও গাঢ় আঁকি
আর চোখেদের ক’রে তুলি উজ্জ্বল
আর ঠোঁট-দু’টি করি লাল-টুকটুকে,
কিংবা প্রতিটি আয়নাকে বলি, ‘বল্
আমাকে কেমন দেখাচ্ছে আজ’; জেনো
নয় সেটা নিজ-চেহারার অনুরাগে :
আমি তো খুঁজছি যে-মুখ আমার ছিল
এই বিশ্বটি সৃষ্টি হবার আগে।
কী হয়, তাকালে কোনো পুরুষের দিকে,
হয়ও বা যদি সে প্রেমিক আমার, তাও
তখনও আমার রক্ত ঠাণ্ডা যদি,
পাথরের মতো নিথর হৃদয়টাও?
সে কেন আমাকে নিষ্ঠুর ভেবে নেবে,
ভাববে যে আমি ছলনা করেছি তাকে?
আমি তো চেয়েছি সেটা সে ভালবাসুক
যা ছিল বিশ্ব সৃষ্টি হবার আগে।

(Before the World Was Made)

ভোরের দিকে

আমার স্বপ্নের সেটা ছিল কি যমজ, এই নারী
যে-স্বপ্ন আমার পাশে শুয়ে দেখেছিল, পূর্বরাগ
যখন ভোরের ঠাণ্ডা আকাশের পথ দিচ্ছে পাড়ি,
নাকি আমরা একটাই স্বপ্নকে করেছিলাম দু’ভাগ?
আমি তো ভেবেছি শুধু : ‘বেন বালবেন-এর
পিঠের উপরে বওয়া ঝরনা, আমি জানি
আমার বাল্যের কাছে সবচেয়ে সে দামি;
দেশ থেকে দেশান্তরে ঘুরে বেড়াতামও যদি আমি
জানি না কোনোই দৃশ্য ধারেকাছে আসত কীনা এর।’
আর স্মৃতি বহুগুণে বাড়িয়েছে ফের
আমার আবাল্য এই ভালবাসাখানি।
বাচ্চার মতোই আমি ছুঁতেও পারতাম, এও যদি
না-জানতাম, যে আমার আঙুল যা ছোঁবে
তা ঠাণ্ডা পাথর আর পানি। আমি ফেটে পড়ি ক্ষোভে,
অভিযোগ পৌঁছে যায় ঈশ্বরের আসন-অবধি
কেননা রাজত্বে তার এ-জঘন্য আইন আছে জারি :
যা-কিছুই ভালবেসে হয়তো জান দিয়ে ফেলতে পারি
তা-সবই ছোঁয়ার পক্ষে বেধড়ক ভারি।
দেখেছি আমার স্বপ্ন আমি ভোর-রাতে,
নাসারন্ধ্রে হিমানীর ব’য়ে-আনা জলকণা জমে।
কিন্তু যে-আরেকজন শুয়ে আছে সাথে
সে তখনই দেখেছিল তিক্ততর ঘুমে
আর্থারের অনবদ্য পুরুষ-হরিণ,
সমুন্নত সে-শ্বেতহরিণ, আহা, লাফাতে-লাফাতে
পর্বতের খাড়া-খাড়া চূড়াগুলি ছাড়িয়ে উড্ডীন।

(Towards Break of Day)

দীর্ঘ নীরবতা-শেষে

দীর্ঘ নীরবতা-শেষে ফের কথা; আরে সত্যিই তো,
সকল প্রেমিকই যদি হয় ছেড়ে গেছে নয় ম’রে,
ঢুকেছে পিশুন শিখা পিদিমের ছায়ার ভিতরে,
পিশুন রাতের মুখ কালো এক কাফনে আবৃত,
মোক্ষম সময় এটা গেয়ে যেতে ইনিয়ে-বিনিয়ে
শিল্প আর সঙ্গীতের বড়-বড় বিষয়াদি নিয়ে :
শরীরের জরা, সে-ই জ্ঞান; আমরা যখন জোয়ান
দু’জন দু’জনকে ভালবেসে গেছি নিতান্ত নাদান।

( After Long Silence)

 

Facebook Comments

3 Comments:

  1. Bah!

  2. Chamakar onubad! Ortho, bhab ar chhanda sob miliye onektai mul kobita-r swad pelam

  3. সাগুফতা শারমীন

    সুব্রতদা, তোমার ডিকিনসনের সেই ‘প্রমত্ত রাত প্রমত্ত রাত’ কবিতাটা দাও না। অনেকদিন পড়িনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *