নাজনীন খলিলের একগুচ্ছ কবিতা

চাঁদ ডুবে গেলে আমাদের একটা ছায়াঘর ছিল- খুব রোদ্দুরের দিনে চুপচাপ পাতাঝরার শব্দ শোনার জন্য তখন আবছা-ম্লান নীহারকণার মতো স্বপ্নেরা উড়ে উড়ে যেতো চারপাশে। আমি রাতকে বলেছি আরও কিছুটা সময় থেমে যেতে ; নীলজোনাকীরা যেটুকু সময় সোনালী আগুন জ্বালিয়ে রাখে মুঠোর ভেতরে। ঝিঁঝিঁপোকারা কথা দিয়েছিল …

নাজনীন খলিলের তিনটি কবিতা

আগুনের পাখি; ফিনিক্স ভস্মস্তূপ থেকে আবার এসেছে উঠে, অবিনশ্বর আগুনের পাখি; ফিনিক্স । প্রতিবন্ধী এক ঈশ্বরকে যূপকাষ্ঠে বলি দেবার পরে যারা সন্ন্যাসীর বাঘছাল দিয়ে বানিয়ে নিয়েছিল ট্রাম্পেট আর সেই প্রচণ্ড ঢাকের শব্দ ছড়িয়ে দিয়েছিল বাতাসের পরতে পরতে তারাও কি পথ ভুলে নেমে গেলো কালো এক …

একগুচ্ছ কবিতা: নাজনীন খলিল

মিউট একটা ঝাপসা রাতের ভেতর জুড়ে বসে আছে আরেকটা কুয়াশা মোড়া রাত। মর্মরের ঘুঙুর বাজার অপেক্ষায় খোলা ছিল একটি জানালা। তখন। যখন আমরা শিখে নিয়েছিলাম অন্ধকারের স্যাঁতসেঁতে আলোয়ানের ভেতর থেকে কিভাবে সবুজ পায়রা ওড়াতে হয়, প্রবল হিমের ভেতরে বেড়ালের ওম মাখা পশমি আমেজ। ঘোর মহুয়া …

নাজনীন খলিলের পাঁচটি কবিতা

অপরিচিত আবার দুইজন মুখোমুখি; তাদের মাঝখানে অপরিচয়ের প্রগাঢ় ছায়া ঝালরের মতো দুলে থাকে। আকস্মিক স্মৃতির ঝাপটায় তৈরি দৃশ্যপট সে কেবল একটা দেজাভ্যু। শুধু একটা কথাই সত্যি বলে মনে হয়; স্পর্শের ভাঁজে ছিল তীব্র আগুন।   নীলকন্ঠ বেহালাবাদক ডানা ঝটপটানোর শব্দ উঠলে বোঝা যায় বুকের মাঝখান …

নাজনীন খলিলের ত্রিমাত্রিক মুক্তগদ্য

পিঞ্জরের পাখি পাখি পেয়েছিল একটি পরিপাটি খাঁচা; উপহার। খাঁজকাটা শিকলসমেত। পরিমিত দানাপানি। কী করে এড়াবে দুরন্ত আকাশের দুর্বার আহ্বান? উড্ডয়নের প্রবলনেশায় পালক খসে গেল; শিকল পেরোনো গেলনা। মানুষ ভালবাসে পাখি । একাত্ম অনুভবে লীন হতে চায়।ভালবাসে! ঈর্ষাও কি? তারা কেবলই চেয়েছে তাদেরও থাকুক পতত্রীর মতো …

নাজনীন খলিলের পাঁচটি কবিতা

যাত্রা কেন এমন ঝাপসা হয়ে আসে চোখ? হয়তো চশমার কাঁচে কিছু জমেছে কুয়াশা। ঠাসবুনটে র‍্যাকস্যাক ভরা জিনিসপত্র। অসাবধানে কোথাও কিছু কি পড়ে রইলো? যাত্রা তো নিশ্চিত ছিল। প্রস্তুতিও।   ক্রস কানেকশন যখন খুলছিল পাতালপুরীর শেষ দরোজাটাও, পালিয়ে এসেছি। সব জানতে নেই— এই কথা জানার পরেও …

নাজনীন খলিলের মুক্তগদ্য: সব যাত্রা পূর্বনির্ধারিত নয় ও এই ঘর ভুলানো সুরে

সব যাত্রা পূর্বনির্ধারিত নয় রাত নেমে এলে গাছেরাও হিংস্র হয়ে উঠে। পাতাগুলো ছড়াতে থাকে বিষাক্ত কার্বন-ডাই-অক্সাইড। আমার যে কী হয়! রাত নামলেই ইচ্ছে করে কোন ঝোপালো গাছের গুঁড়িতে হেলান দিয়ে বসে সারারাত পাতার বাঁশি বাজাই। যেমন বাজাতাম শৈশবের অলস-উদাস দুপুরগুলোতে। বাজাই আর পান করি সোনালি …

নাজনীন খলিলের একগুচ্ছ কবিতা

ইনকগনিটো সবাই সতর্ক খেলছে। চেস, ট্র্যাাম্পকার্ড, হাউজির খেলা। ছায়ার অন্তর্গত ভিন্ন ছায়াবাজির খেল; ইন্দ্রজাল আর ছদ্মবেশের চৌকাঠে পা আটকে যাচ্ছে বারবার। হয়তো— তোমার পিংক বাথটাবের কানাভর্তি স্বচ্ছতার আড়ালে আছে কোন প্রাণঘাতী দাহক; উপুড় অডিকোলনের শিশি ঢাললেই রুদ্ধ হবেনা তার জ্বলনস্বভাব। বিপরীতে— গায়ে ভীতিকর রোঁয়া ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে …

নাজনীন খলিলের একগুচ্ছ কবিতা

মেয়েটা মেয়েটা আসতো মাঝেমধ্যে ছেলেটার খোঁজে। –এমন বললো পুরনো বাড়িওয়ালা। আসতো চোখভরা এক আকাশ মেঘ সাথে করে আচমকা বৃষ্টিতে চৌকাঠ ভিজে যেতো। সেই প্রবল বর্ষণের ভেতরে বিষণ্ণ পা টলোমলো করতে করতে ফিরে যেতো; তার কোন বর্ষাতি ছিলোনা। পুরনো ঠিকানায় রোজ মেয়েটার চিঠি।জমে জমে স্তূপ। স্থান …

Back to Top