নিসর্গ সিরিজ ২

শিবলী সাদিক ল্যান্ডস্কেপ সৌন্দর্য যে এক প্রকার আয়না আগে বুঝি নাই, জলে ঢোলকলমির কাব্য পাঠ করে আমি ক্রমে অন্ধ হয়ে পড়ি। বুঝতে পারছি পাতার আড়ালে সব গান যে লুকিয়ে রাখে জলপিপি, ফলে ল্যান্ডস্কেপ করা সম্ভবই নয়। পাতা বুঝতে গেলে গান আর তার অদৃশ্য রং তো …

কবিতা: যেভাবে বৃষ্টির বন্ধু মেঘের নিকট নিরুপায় আশ্রয় প্রার্থনা করল

জহির হাসান   আমার বন্ধু আমায় কেন তবু বৃষ্টি বলে ডাকে আমার ঘরের জানলা দিয়া তাকাই বহুত দূর তাহার চোখে আমি একটা পচা কুমড়া ফুল তাহার চোখে এই মহল্লার একটা ভিজা কুকুর রাস্তার উপর মুরগি খোজে কে গো দিনের বেলা আপনা ঘরে পোষা মুরগা থুইয়া …

শামসেত তাবরেজীর দুটি কবিতা

নীল নদের তীরে আয় দেখে যা না কোবাল্ট ব্লু-এর উচ্ছ্বাস কোজাগরী এই রাত্রে, একে অপরের দায় নিয়ে এক নিঃশ্বাস বুভোয়াঁ এবং সার্ত্রে। কোমলে রেখাবে মিশেছে যেখানে চুম্বন অস্তিবাদের শর্তে, নাকি বৃথা গেল যুক্তির এ-আলিঙ্গন পশ্চিম খোড়া গর্তে। পিঙ্গল ঢেউয়ে কখনো সাদার সংস্কার কায়রো লভিল টংকা, …

মাসুদ খান-এর গানের লিরিক: পর্ব-১

গীতি ১. দেহখানা এই দেহ নয় ঠিক, শুধু সন্দেহ, ঘোর নেশা আজব ভাণ্ড, কীর্তিকাণ্ড, ভাণ্ডটা খুব পর-ঘেঁষা ।। আগুনকে বশ করছে পবন পবনকে বশ করে কোন্ জন? তরলে বায়ুর শাসন মণিতে আয়ুর আসন, অন্বেষা… আজব ভাণ্ড, কীর্তিকাণ্ড, ভাণ্ডটা খুব পর-ঘেঁষা ।। মাটি ও লবণ, দুজনেই …

কবিতা: তাবরেজীর সাথে একটি বিকেল

নান্নু মাহবুব   বেলতলার রাস্তায় বেরিয়েই তাবরেজীর সাথে দেখা। গাঢ় হলদে ছাপা শার্ট গায়ে তাবরেজীও দেখি বিকেলে হাঁটতে বেরিয়েছেন। আমি তাঁকে ধরে আমাদের বাড়ি নিয়ে আসি। আমাদের বাড়িটা অন্ধকার-অন্ধকার, খাট-টেবিল বাচ্চা-কাচ্চা কাপড়-চোপড় হৈচৈ’এ ঠাসা। তাবরেজী অর্ধেক-করে-কাটা মিষ্টির একটা মুখে দেন। স্বপ্নাকে বলি তাবরেজীকে সে চেনে …

নিসর্গ সিরিজ ১

শিবলী সাদিক   বিদূষকের কথা বৃষ্টির পরে এখন সব শান্ত হয়ে এল, গাছের থেকে সুন্দর নেমে এল। জানি সব নাচ দেখা হয়ে গেছে, শাড়ির গোপন ভাঁজ দেখে কবি চলে গেছে। তাহলে সুন্দর কী দেখাবে? মঞ্চের বাইরে কী কিছু ঘটবে? বিদূষক হেসে বলে- নাচ দেখা শেষ, …

ঈভলিনের শহর ও অন্যান্য সম্পর্কগুলি

আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ   জগিং সোনার পাতা গুঁড়িয়ে দেবার মুহূর্তে পৃথিবীতে জলের ধারণা হলো। সেই ভরসায় তোমার চোখ থেকে চুলে তাকালাম। এই প্রথম উড়তে উড়তে নাম না-জানা পাহাড়ে পাখি হয়ে আছো। মেঘ থেকে মেঘে ঠোঁট দিয়ে খুঁচিয়ে জড়ো করে রাখছো বরফ হয়ে থাকা জলগুলি।   …

তমিজ উদদীন লোদীর কবিতা

বালিকারা ফিরবেনা এখানে বালিকারা ফিরেনি এখানে ধোঁয়া-গন্ধে আচ্ছন্ন তারা আর ফিরবেনা কখনো। ধোঁয়ার আড়ালে আগুন ক্রমশ লেলিহান শিখাসহ বলকে উঠছে দেখো; তারও আগে বালিকারা দেখেছে চাঁদ ডুবে গেছে আ্যশশ্যাওড়া-ঢালা জলে। বালিকারা দেখেছে নীল আতংকের রূপ- অন্ধ কারাবাস। হাইমেন ছুঁয়েছে বল্লম– অনিচ্ছুক যৌনতার ত্রাস। বালিকারা দৌড়চ্ছে …

গোলাম কিবরিয়া পিনু’র কবিতা

ভ্রমণকালে   ভ্রমণকালে ভূখণ্ড আরো খণ্ড খণ্ড অনুভবে আসে, চিরহরিৎ মিঠেপাতার বৃক্ষ সবুজের ঘাসে। অন্ধকার ঢাকা গুপ্তস্থান সেইখানে বিদ্যুতের গান, বৈদ্যুতিক গোলযোগ নেই–শুধু বিদ্যুৎ চমকায়। গরম কেতলি ধরার বস্ত্রখণ্ড নাই তরুগুল্মাবৃত ছায়ামগ্ন উপত্যকা খুঁজে পাই। ভ্রমণসৃজনে শীতকাল ও মেরুঅঞ্চল মৌন বুনোফল নিয়ে বিজুবনে গৃহকাতরতা গৌণ। …

সহসাই খুলে গেল

অদিতি ফাল্গুনী   ক. সহসাই খুলে গেল নিরুদ্ধ অর্গল এই গোপন জানালা প্রকাশিত হল নভোনীল অন্তরীক্ষ; মহাবিশ্ব সংবাদ… বলো, কীভাবে জেনেছিলে লুপ্ত অভিপ্রায়? জেনেছিলে মোহন পাতার ঝড়… আমার লুকনো বেদনা সেসকল হারানো স্বরলিপি… যা কিছু মাটির গভীরে পুঁতে রেখেছিল এই ভীরু মেয়ে তোমারই জন্য… সেই …

শিবলি সাদিকের দীর্ঘ কবিতা

পদ্মপুকুর   ১ যদি পদ্মপুকুরে নামতে পারি তুলে নেব সব রং আর বর্ণলিপি পদ্ম হয়ে তাবৎ বিকাশ সেথা জ্বলে তার রং আর রূপ তাই এত অপরূপ দেশ-কাল জলে থর থর কাঁপে শোভায় মরণ হলে এই ঘাটে স্তব্ধ হয়ে অন্ধ হয়ে সব বাক্য ধরে বাকহীন হয়ে …

ফেরদৌস নাহার-এর তিনটি কবিতা

জাদুর বাক্সে ঘর সারাদিন জ্বর জ্বর   জাদুর বাক্স হাতে হেঁটে যায়,কে যায়? মানুষের অদ্ভুত দুটি পা হেঁটে যায়, বাক্সে যায় তার সাথে ধুলোর সংসার। কত কবি নিয়েছে বিদায় পৃথিবীর কোলাহলে কত কবি করেছে অভিমান তাদের খবর আছে জাদুর বাক্সে ভরা গুচ্ছগুচ্ছ অযুথ সংবাদ… জন্মান্তর ঘুরে …

কবিতা: ব্লেডলিখিত সত্তাচিহ্ন

শুভ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ১ চিরকাল ডিসেম্বরতাড়িত আমি ফেলে এসেছি ধারালো সুরের মধ্যে মাথা ও নির্ধারণ কোথায় সনেট থাকে? শান্তিপূর্ণ  দূরত্ব ভাষার শরীরে কি আমাদের বসবাস ছিল? রাস্তা জড়িয়ে যায় বালিকার ধূসর ফিতে ইশকুল ফেরত মাথা নামিয়ে রেখেছে এপাড়া তোর ছিল কোনওদিন? এই গলি আশ্রয়প্রবণ শক্ত ভিত …

কবিতা: এক স্লাইস ঈদ

শামীম আজাদ   নতুনজামাটা নামাতেই হ্যাঙ্গারের হাড়ে হাড়ে কি নরম হাসি দিনতো গিয়াছে দূর্বার আমার তরকারি হাতে তখনো ঈদের সুগন্ধী সেমাই প্লেটে প্লেটে ফটোগ্রাফ দরজা দাঁড়িয়ে একা খিল খিল পা থেকে প্লাস্টিক এক দুই পাঁচ জোড়ায় জোড়ায় গ্লাসে গ্লাসে সহস্র সুষ্রুসা এন্টাসিড বিকেলে ব্রা ভরা …

মলয় রায়চৌধুরীর প্রহসন: ভরসন্ধ্যা

[একটি কদমগাছ ছেয়ে আছে ফুলে ; গাছটির চারিপাশে উবু হয়ে বসে উনত্রিশজন বুড়োবুড়ি আর জনা ছয় যুবক-যুবতী । সকলেই তারা ওপরে তাকিয়ে আছে কদম গাছের পানে ; বোঝা যায় তারা অপেক্ষা করছে গাছটির অন্ধকার থেকে একজন অতিমানুষের আগমন । লোকগুলো এসেছে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এ-আশায় …

মঈন চৌধুরীর কবিতা

যতিচিহ্নের সুখ সত্য ও মিথ্যাকে খুঁজে একদিন চিহ্নকে পাওয়া গেল, যতিচিহ্ন, সমস্ত সমস্যার সমাধান। তারপর নৈশব্দের আলোড়নে জেগে ওঠে দ্বীপ, জল গড়িয়ে মিশে যায় সমুদ্রমহলে। ওখানে শব্দহীন মাছ, লাল রঙের সবুজ শ্যাওলা, বেগুনি রঙের হলুদাভ নীল আর তারপর আলোও নেই অন্ধকারও নেই। দেশকালহীন এই ক্লীব …

নাহার মনিকার কবিতা

সকলি আয়ান ঘোষ, কেউ কেউ রাধা ১ ছিটমহলের বুকে মধুভাণ্ড নিয়ে নদী কথা বলে ওঠে চোখের সামনে ভাসে মমীদের শরীরের বাঁক। তোমাকেও অমাবস্যা পাক, অন্ধকারে নদীকে জড়াও পানিপোকা হয়ে নেমে যাও, রত হও মূর্ছা যাও স্নানের বিরহে। পানির শরীরে গুজে প্রলম্বিত কাঁধ তারপর জেগে ওঠো …

জুয়েল মাজহার-এর কবিতা

রুবিকন   আমার সামনে এক রুবিকন, পুলসিরাত, ভয়ানক ক্রুর অমানিশা এর সামনে একা আমি; কিস্তিহীন, নিরশ্ব, রসদহীন পিগমিদের চেয়ে ছোটো আমি! আর আমার ভাঙা হাড়, থ্যাঁতলানো খর্বকায় দেহের ভেতরে যতো রক্ত-পিত্ত-কফ-থুথু-বীর্য-লালা সবই অসীম বরফে-হিমে গ্রানিটের মতো ক্রমে হতেছে জমাট; আর ওই থেকে-থেকে ফুঁসন্ত ব্লিজার্ড এক, …

সপ্তর্ষি বিশ্বাস-এর একগুচ্ছ কবিতা

প্রতিশ্রুত পাথরের গা’য়ে কথা ছিল ফোটাবো গোলাপ – আজ দেখি পাথরে পাথরে শ্যাওলা ও সময়ের দাগ …           প্রতিশ্রুতির পাথরগুলো প্রতিশ্রুতির পাথর গুলো পথের পাশে ছড়িয়ে রেখে নিদ্রাবিহীন নদীর ধারে ঘুমিয়ে ছিলাম কাল সারারাত… ঘুমন্ত সেই রাত্রি জুড়ে বুকের নরম মাংস …

কিছু কবিতা

আলতাফ হোসেন ১ এখন পরীক্ষায় কী হবে সাপখোপ হয়তো বেরবে যা টক্সিক,তাই তো নিদান হাসিমুখে আজ  ফিরে যান ঘাসমাটি না বলে এনেছে একদিন ওই দূর, দূর ফেরার, অচিন ২ রোদ, রিক্সার কথা ভাই বলে যাও পাহাড়টার ওপারে গেলেই শুধু হাওয়া হয়তো সেই পাখিখেকো গাছটিই এসে …

পাতাবাহার অন্ধকার

পাপড়ি রহমান মেঘ থইথই আকাশ, পাশে হাওয়া মেঘের ভেতর মেঘ হয়ে তার যাওয়া থমকে যেত, চমকে যেত মৃদু তনুর ভেতর ছাই হওয়া মন ধু ধু কিছুই সে আর পায় না যেন খুঁজে তৃণের পানে হাত বাড়ালেই বোঝে সবুজ সবুজ ঘাসের ডগা যত পলক ফেলেই দুঃখ …

দারা মাহমুদের একগুচ্ছ কবিতা

দারা মাহমুদ   প্রেম মানুষ নিজের থুতু নিজে খায় পেটের ভেতর তা আবার জারক রসের কাজ করে তবে থুতু একবার মুখ থেকে বেরিয়ে গেলেই তা আর খাওয়া যায় না   পুরুষ পাথর পুরুষ পাথর বালি দিয়ে তৈরি নারীর টোকায় ভেঙে যায় একথা অভিললনা মৌনি যেমন …

পাঁচটি কবিতা

সুবীর সরকার ঘুঙুর যে কোনো রাস্তায় যাও দেখবে মরণপণ লড়াই। নদীর ধারে কুড়িয়ে পাওয়া পাথর নদীতেই ছুঁড়ে দিচ্ছি রাত জাগি,টোকা মেরে শীত সরাই সেতুতে ওঠার আগে অবস্থান বদল আর ভ্রু-সন্ধির ঘাম ঘুমের ভিতর আর ঘুঙুরের মতো বাজছে বিদ্রুপের সিটি। কিছু কলঙ্ক লেপে দাও, নিচু হয়ে …

কবিতা:গরম জামা

শামীম আজাদ নদী ও নক্ষত্র পেঁচিয়ে পাথর কাঠিতে উন্মাদের মতো উল বুনে চলেছি নখ থেকে নকশা উঠে আসছে নতুন নতুন স্তবকে স্তবকে পড়ে যাচ্ছে শেয়ারবাজার, মনপোড়া নদী, টিপাইমুখ, শৈশবের ফেনী ও ফণিকাকা, জয়দা জামালপুর, পাড়ভাঙা মনু নদীর মাটি ও সজিনার ঘ্রাণ। উগল মাছের মতো ঘাই …

পাচটি কবিতা

স্নেহাশিস পাল গুপ্ত   মধুভ্রমরের তুলিতে পদ্মদিঘি কেঁপে-কেঁপে ওঠে। কোনও এক আরব-নর্তকীর নেশাতুর মুদ্রার মতো – কিঞ্চিত ঘাসে ঢাকা – ভাঙা পাড়ের সরু রাস্তাটা রূপকথা-রঙা ভোরের পেটে ঢুকে গেছে … তাল-বট-কৃষ্ণচূড়া-ছাতিম-শিরীষ-অর্জুন : মোহমুগ্ধ দর্শক; থ হয়ে দাঁড়িয়ে, চোখে রাত-জাগার অমৃতক্লান্তি একটু দূরেই মীরার মন্দির, তার …

একগুচ্ছ কবিতা

মাজুল হাসান জলাতঙ্ক নগর সন্ত্রস্ত করতে একটা পাগলা কুকুরই যথেষ্ট—এই কথা জানে না নগর-পুলিশের পুরোধা ব্যক্তি অথচ কৃষ্ণচূড়ার লাল দেখে অনবরত হুইসেল বাজছে দৌড়ে আসছে দমকলগাড়ি জোড় ছাড়িয়ে সঙ্গমকে পোরা হচ্ছে ১৪ শিকের ভেতর… আমি ভাই ঘরেলু মানুষ; ভাদ্রমাসে রাস্তায় মা-বোন নিয়ে বেরুতে ভয় পাই। …

কবিতার গ্রাফগদ্য

ফকির ইলিয়াস নৃত্যবান্ধব নদী ও নামগুলোর এক্সিট নৃত্যবান্ধব নদীর মুখ দেখে শুরু হয় আমার যাত্রা। এর আগে যারা চিনেছে দূরের পথ, তাদের ধূসর ছবি দেখে আমি থামিয়ে দিই প্লটযুদ্ধ। মাটির প্রয়োজন কমে যাবার পর আমারও মন ছুঁতে চেয়েছে কেবলই শূন্য আকাশের ভিত। আর খোপের জীবন …

Back to Top