কবিতা: ফটোগ্রাফার


জহির হাসান

পার হয়ে তৃষ্ণা ও তাপের শাসন
আর যত ওড়াউড়ি অমল বৃষ্টির লোভে লোভে
এতদূর এসে কাক ও কোকিল, কাঠগোলাপে,
হয়েছে হাঁপানি উহাদের ঘেয়ো প্রাণে।
বিকেল আকাশে নেই মেঘের হুঙ্কার
ও বৃষ্টিগাছের শুকনো খয়েরি ফলের
নৈঃশব্দের ঝুলে থাকা সহ্য হয়নি কাহার–
ফটোগ্রাফার মেয়েটি তুলছে ছবি!
ওর পিছু পিছু দূর ট্রেনে চড়ে গাজীপুর এসে
মেয়েটির দিকে লোভী কাউয়ার মতন
আল মাহমুদপ্রায়
তাকায়ে রয়েছি যেন আমি কামনা লিপ্সার কবি
যেন আমি অবিলম্বে
মোঘলাই পরোটার মতো ফুলে উঠেছি উৎফুল্লে
দেখতেছে চোখে ও নয়নে
গাছে ঝুলে থাকা জোড়া আম কিশোরীস্তনের মতো
টেবিল পাতানো ফ্লেক্সি লোডের দোকান থেকে
কিছুটা কাছের থেকে
কামনা কাম্যের রেললাইন থেকে মোবাইলেই
ছবি তুললাম মেয়েটির
নীল জিন্সপ্যান্ট পরা বিকাশ পর্বের উত্তল নিতম্ব-আসমান
মুহূর্তেই আমারে তাহার নীলারং করে ফ্যালে
মম নকশিকাঁথার বেবাক বিস্ময় উষ্টা খাইল কিসে!
আহা আজ তাহা কাহার অধীন
আমার দুচোখ তোমা ভৃত্য আমি আমি তোমা নীল
নীল জিন্সপ্যান্ট তাহার সৈকতে
তুমি অস্তমিত হবে কিছুক্ষণ পরে
মোর লোভী চোখ
সেই কথা জানো না তো তুমি!
নীল জিন্সপ্যান্ট তুমি
আমার নয়নে
ঢেলে দুই রাশি অন্ধকার
চলে যাবে ট্রেনে সঙ্গে ঝোলা ছেলেটির সাথে
হয়তো রংপুর কিংবা নাটোরের দিকে–
প্রেম দূরে চলে যাওয়া মানে বুড়ারূপে
ক্ষণকাল শিশু হয়ে থাকা–
অন্য কোনো আকাশের আরও আরও হেফাজতে চলে যাওয়া–
ও ফটোগ্রাফির মেয়ে
র-ঙ-পু-র-গামী
আপাতত মোর পক্ষ থেকে খুব ক্ষণস্থায়ী

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *