স্বপ্নতাড়িত যাবে একা
স্বপ্নতাড়িত চলে দ্রুত।
অবকাশ গ্রহের পাশে অপেক্ষমান বাঘ-রোদ
ভীত উড্ডয়নের কলতান বাতাসে ধ্বনিত।
লতা-গুল্মময় তাঁর চলা। বৃক্ষে তাঁর পুঁতে রাখা আয়ু।
স্বপ্নতাড়িত যাবে একা।
চন্দ্রাহত রাতে ভাসে, সফেদ নৌকায় তাঁর পাড়ি
অন্তরীক্ষ ঘুরে আবহাওয়ামণ্ডল জুড়ে তীব্র শুভ্রতা,
স্বপ্নতাড়িত আছে ঘুমে।
এই গৃহে বনবাসে রাত্রিদিন একা
পরম ঘুমের আগে নরোম মোমের পাশে
ক্ষণকাল জাগা
স্বপ্নতাড়িত তাই ঘুমে।
বাড়ি
স্বপ্নঈর্ষিত দূরে তারাদের গোলগাল খাড়ি
শোয়ানো লতার তলে তালুচিহ্ন ছাদে
একবার নুয়েছিল ও বীথিকা সমভাষ্য ফাঁদে
বালু-হৃদি, পারস্পর্যহীন তার পাড়ি।
সে কোন মদির লাস্য দিকবলিত সারি
সেজান তুলির ছাঁচ গ্রীলঠাসা ঘুমে
এসেছিল অতিকায় বীর্যস্তম্ভ চুমে
নিতুই নীরব ঘর, নিস্তরঙ্গ আড়ি।
ফণীমনসার বোন, গহ্বরে ঢলে পড়ে দ্বারী
পোর্টিকো ছেয়ে যায় গুমরানো প্রেতে
অহিকূলে কে জাগো হে ছিন্নমস্তা রাতে
প্রিয় বারান্দা ঘুরে আসে মেহগনি নারী।
ঊষার অতল হাতে পূণর্বার হেসে ওঠে পারী
বল্কল সরাও প্রভু, অলকচূর্ণসহ বাড়ি।
রাখি
দ্বিগলয়ে দেখা, সন্ধ্যা ফুঁড়ে আসা
আলোগুলোর আছাড়িÑপিছাড়ি, চেটোয় বসে কাঁদা
মুছতে গেলাম সরালো নদীর রেখা
অন্ধকারে গন্ধমাতম খেলা?
হেসেছে এক ঝাঁক আর পরাল বাঁজপোষাক
সম্বিতে নেই উদোম জলে ভাসা
তোর চেখের কোণে কালির আঁচড়
ঘাঘড়া খুলে নাইতে গেলি দিকবিদিশার পাশা।
কেমন করে এসেছিলি আকাশে তরপূন?
ঊর্ধ্বমাতাল, বিম্বশিখা, জলেরই কিংখাব।
নিমগ্নে নয়, ভর সকালেই সহস্র পাঁক
দিক পাতা তোর পত্রবরণ গা ঢেকে দিক
ঊর্মিমালার ভেতর তরী, সন্ধ্যাকাশের ভুস করে হুস
কালিমাখানো গায়ের ভেতর, তেম্নি করেই দিগ¦লয়ে মেশা।
বুঝিনা ঈশ্বর!
কলঘরে কলরব মুখরিত পথঘাট
অদ্ভুত প্রান্তরে এসে দেখি অজস্র চামেলী
সুনন্দ জলের মীড় স্রোতবত ঢলে পড়ে
জেগে ওঠে অসহ প্রতীতি, বায়ুবেগে যাই
দেখি, এ রটনা বাতাসে সওয়ার।
টানটান প্রান্তরের পিঠে
নীল নক্ষত্রপুঞ্জ মঞ্জুরিত সাদা
মর্মের জলসিড়ি ঈশানে ব্যাকুল
সেজদার ঢঙ্গে ভেঙ্গে পড়ে।
আমি তো পেয়েছি তার অনন্য পরাগ
ঈর্ষিত ঈষদুষ্ণ জল
পরাণ কল্লোল ঘিরে নবনীতা ঢল
প্রান্তরে রেখেছে এক ভোজ।
একা সে অহঙ্কারে উঠে যায় বিবিধ প্রস্তাবে
রটে যায় বিভিন্ন পৃষ্ঠায়
ডানা মুড়ে ফিরে আসে হাওয়ায়…
পূর্ণিমার পর্দা খুলে প্রতিভাত ভূমি
বুদ্ধুদের মতো ফোটে প্রসন্ন চামেলী
মাঠের সহাস্য হাতে হাওয়ায় উড়িয়ে তার বেণী
পথঘাট মুখরিত, বালিকারা কলঘরে কলরব করে।
মৎস্য শিকার
আনো, তুলে ফেল শয্যার উপর
রাইশস্য, দূরাভাস্যে ইতর নিকারী
উদোম মাছের গাত্রে ঘুম ঢলে পড়ে
পদ্মায় কিংবা ডিভানের কোলে
স্রোতও রূপালী, ঘুর্ণিময় জল ও জয়িতা।
ঋতুর স্বপ্নবোনা কোন এক কৃষাণীর তেজে
স্বচ্ছল ভরে ওঠে মাঠ, মাঠের দুন্দুভি
বাজায় ঊরুর বাদ্য, স্তনের অসহ বৈরীতা।
কোন জলে ভেসেছিল সবিস্তার ঝাঁক?
পাখপাখালীর শীষ, শীর্ষ জুড়ে পাল ও আঁচল
বাতাসের ঢেউ নৃত্য, মঞ্চময় নদীর আবেগ
সম্পূর্ণ শরীরে নামে, থাবাময়, স্বসহ উড়ায়।
তাহারা উড়াল দিল, দুলিয়া ভুলিয়া গেল মেথর পাড়ায়।
কামরুল হাসান

জন্ম ২২ ডিসেম্বর, ১৯৬১, শরীয়তপুরে। তিনি মূলত কবি। অনুবাদক, প্রাবন্ধিক ও ভ্রমণ গদ্যকার হিসেবেও খ্যাত। আছে নানা দেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা।
ভারতের বিশ্বখ্যাত খড়গপুর আইআইটি থেকে এ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ স্নাতক শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে এমবিএ সমাপ্ত করেন। এছাড়াও স্নাতকোত্তর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন যুক্তরাজ্যের ব্রাডফোর্ড ও এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। কামরুল হাসান শিক্ষকতা করছেন ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে। কামরুল হাসান দু’হাতে লেখেন। এপর্যন্ত ১৪ টি কাব্যগ্রন্থ, ১ টি ছোটগল্প, ১টি প্রবন্ধ, ৪টি ভ্রমণ গ্রন্থ, ২ টি অনুবাদ কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া সমীর রায় চৌধুরী ও তুষার গায়েনের সাথে পোস্টমর্ডান বাংলা পোয়েট্রি ২০০৩ সম্পাদনা করেছেন।
