রবীন্দ্রনাথের জন্মের দেড়শো বছর স্মরণ: বাংলা ভাষা

মাসুদ খান

[তাঁর হাতে গড়া এই আধুনিক বাংলা ভাষা। একে আরো বিকশিত করে তুলবেন, আরো উৎকর্ষের দিকে নিয়ে যাবেন ভবিষ্যতের প্রতিভাগণ—এ ছিল তাঁর আশা ও বিশ্বাস। তিনি জানতেন-ভাষা বহতা নদীর মতো। বহমানতা আর বদলে বদলে যাওয়ার মধ্যেই নিহিত এর শক্তি ও সম্ভাবনা।… রবীন্দ্রনাথ, সেই মহোচ্চ প্রতিভার উদ্দেশে নিবেদিত আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস…]

 

১.
নীল নীলিমার নীল
রৌদ্রঝিলমিল
বটবৃক্ষের ছায়া
মায়ের মুখের মায়া
বনের অম্লজান
অভিকর্ষের টান
দলকলসের মৌ
মাঠের সবুজ ঢেউ
জ্যোৎস্নারাতের সুর
বেদনা-মধুর
কালবোশেখির ক্রোধ
কমলা-পাকা রোদ
মেঘের বরাভয়
ঘুঘু-ডাকের লয়
পাখির কলগান
পাগলাঝোরার তান
বৃষ্টিপাতের যতি
ইচ্ছামতীর গতি
শিশুর চোখের হাসি
সোনার ধান্যরাশি–
জিনিয়ে ছিনিয়ে সব
গড়ছো অবয়ব
বাংলা এ-ভাষার
আমার বাংলা মা-র।

২.
কাল-শকটে চ’ড়ে
অনেক কাল ধ’রে
গ্রহান্তর ঘুরে
বহু জন্ম পরে
আসবো যখন ফিরে
পুনর্ভবার তীরে
চোখ মেলবো ভয়ে
দেখবো অবাক হয়ে–
বদলে গেছে খুব
মায়ের, ভাষার রূপ।
ভাববো কিছুক্ষণ–
কেই-বা সেইজন,
কোন-সে কবির তেজে
নতুন সাজে সেজে
জ্বালিয়ে নতুন আশা
এলো বাংলাভাষা
সুর-স্বর-ভাব যত
পাল্টে অবিরত!
কোন-সে বর্তিকায়
কোন আলো-আভায়
এমন জ্যোতির্মতী
হলেন সরস্বতী!

Facebook Comments

One Comment

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।