আরব্য উপনিবেশে


খালেদ হামিদী

জবান আরবি না, অথচ মুসলিম!
কেন!! এ প্রশ্নেই উপনিবেশিতের
অমোচনীয় গ্লানি এখনো স্মৃতি থেকে
স্বদেশে বয়ে আনি। আরব মনিবের
চকিত গর্জন অবিস্মরণীয়
হলেও গে এরাব ক্লাবের নানামুখ
শিশ্ন-নিতম্বপ্রধান হাসি ছুঁড়ে
খুলেই ওয়ালেট রিয়াল দেখাতেই
আমার রিরংসা পেরোয় প্রভুত্ব।
তাতেও লাভ কই? জেব্রা ক্রসিংয়েও
কখনো শকটের আলতো ধাক্কায়
বাঙালি পুরুষের মূল্য কমাতেই
সফেদ পোশাকের নরের দঙ্গল
সচল বিলকুল, ট্রাফিক সিগন্যাল
না মেনে, দাম্মাম কি আল খোবারে।
এর চে’ ঢের ভালো মিনারহীন এক
বেহাত মন্দিরে, স্মৃতির কল্পিত
চিত্রপটে আজো, নানান দেবপূজা
কি নমঃশূদ্রের সীমিত অর্চনা।


এসব ভাবনার প্রেক্ষাপটে তবে
আরেক রাম এসে রাবণ ভেবে মোরে
রাজ্য শাসনের পুছবে রীতিনীতি?
মহৎ নই অতো, আসলে মজদুর।
নিয়ত মৃত্যুর আহত প্রাক্কালে
আমিও দশাননে কহি কি একা তবে:
মর্ত্য থেকে দূর স্বর্গতক সিঁড়ি
পারিনি নির্মিতে, যেমন চাহিয়াছি
আকুল মনেপ্রাণে, বেঁচেও প্রতিকূলে!

০৬ নভেম্বর ২০১১
চট্টগ্রাম

সেলুন ও কয়েদখানা

ঘন জেদ্দায়, সবুজ-নিবিড় কি আল খোবারে এক
সেলুনে হঠাৎ আলাপ মাত্র ‘বাংলাদেশের
মানুষ মিষ্টি এবং সহনশীল’ উচ্চারি মজদুর আমাকেও
সম্মান এনে দেন যে ফিলিস্তিনি
বিস্মৃত-নাম হলেও আরববিদ্বেষ তাঁর
আজো পথ হাঁটে সঙ্গে আমার, স্বদেশেও কোন্ ত্রাসের উপনিবেশে?
পিতার দোকানে অপেক্ষমান খদ্দেররূপ তাঁরই সে-আসন থেকে
সোয়া যুগ আগেকার পরিচয় অনন্ততক বহমান।
পুংসন্দেহ সম্ভব রেখে নিজ রিরংসা উস্কে দিতেও বুঝি
মধ্যে কেবল নরসুন্দর খোদ দোকানির ব্লেডে শ্মশ্রু ত্যাগ।
অথচ শিরশ্ছেদের অনতি আগেও জানেনি আমারই স্বদেশী যুবা
কয়েদখানায় নিজেরই মাথার চুল হারানোর কারণ কিংবা পরিণাম!

১০-১১ নভেম্বর ২০১১
চট্টগ্রাম

বেদুইন সমাচার

সভ্যতার পথে-প্রান্তে, সব সমুদ্রের কূলে অবিরাম মুসাফির
আজো, বেদুইন আমি। শাহরিক বৈভবের সেই বিরুদ্ধ জাগৃতি
নিছক নৈতিকতায় কিভাবে পর্যাবসান মেনে
মোর পূর্বমাতাপিতাদের ফের ঠেলে দেয় অশ্রুর উপত্যকায়
না বুঝে বাংলায় এসে জ্বেলে আছি মরুর পিদিম।
সহোদরও বদলে গেলে শীর্ষারোহী হয়ে,
আমিই অভিন্ন, বংশপরম্পরায়।
দেশে দেশে কার একই ক্ষমতার বিবিধ সংস্কৃতি
বোধের অগম্য তবে মোদের, মাবুদ?
জিজ্ঞাসার ঢের দূরে মরুঝড়ে ধাবমান দাড়িঅলা ছাগগুচ্ছকে
জানালে সালাম কেউ, এদিকে জননী কেন
অন্ধকারে ঘোর কৃষ্ণ জলের কিনারে
আমারই পিতার গোর খোঁজেন একাকী?
কিন্তু রুদ্র জনকের আকস্মিক স্মৃতির ধমকে
মায়ের অস্তিত্বময় সফেদ প্রার্থনা থেকে স্খলিত তসবিহর
অসংখ্য জ্বলজ্বলে জুঁই ভেসে যায় অনাগত শিশুরও দোলনায়।

২৮-২৯ জানুয়ারি  ২০১১
চট্টগ্রাম

ফিলিস্তিনি, ফিলিস্তিনি

ফিলিস্তিনি, ফিলিস্তিনি, অদৃশ্য অথচ সঙ্গে-চলা,
আরবের সেই এক সেলুনে একবারই পরিচিত,
বিস্মৃত চেহারা-নাম, তবুও অজরামর,
বিবৃতি পরাস্ত-করা মৌলিক আত্মীয় হে আমার,
নিয়মানুবর্তিতার স্বনির্মিত সাংসারিক কারাগার ভেঙে
বেরুতে চাইলেও কেন টেনে আনে কেউ একই সঙ্গে
চাকরিময়, সৃজনশীল, সন্ধ্যা থেকে মধ্য কিংবা ভোররাত অবধি
আড্ডা, ঝগড়া, কৌমার্য ও আকণ্ঠ মদিরাময় আমারই অসংখ্য,
অতিক্রান্ত, উন্মাতাল দিবস, রজনী?
স্বদেশে উদ্বাস্তুদের দেখেও ডিঙিয়ে যারা
আমাকে বিলকুল আজ অনারব মানসজাত জেনে
ডাকিছে কাফের, মুরতাদ, বোহেমিয়ান
টের পাবে তারা কবে অথবা কখন
নিয়ত পাথর, অস্ত্র হাতে না তুলেও আমি প্যালেস্টিনিয়ান!

১২ নভেম্বর ২০১১
চট্টগ্রাম

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *