[
ভারতীয় কবি, লেখক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অশ্বিনী কুমার মুম্বাইয়ের টাটা ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল সায়েন্সেস (টিআইএসএস)-এর একজন জনপ্রিয় ও পরিচিত অধ্যাপক। গীতল ও বিধ্বংসী লেখার শৈলীর জন্য বিখ্যাত এই কবির কবিতা বিভিন্ন ভারতীয় ও বিদেশী ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যসংকলনের মধ্যে রয়েছে “বানারাস অ্যান্ড দ্য আদার”, “মাই গ্র্যান্ডফাদার্স ইমাজিনারি টাইপরাইটার”, “ম্যাপ অফ মেমোরিজ” এবং হাঙ্গেরিয়ান ভাষায় অনূদিত “আলফাবেটস আর্কিটেকচার”।
ধ্রুপদী ভারতীয় উপন্যাসের অনুবাদ প্রসারে তিনি ইন্ডিয়ান নভেলস কালেক্টিভ প্রতিষ্ঠার সাথে যুক্ত এবং দ্য হিন্দু, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও আউটলুক ইন্ডিয়া-র মতো শীর্ষস্থানীয় প্রকাশনার নিয়মিত কলামিস্ট। তাছাড়া, তিনি ‘রিভারস গোয়িং হোম’ এবং ‘সেন্ট অফ রেইন: রিমেম্বারিং জয়ন্ত মহাপাত্র’-এর মতো প্রধান প্রধান কাব্য সংকলন সম্পাদনা করার পাশাপাশি ‘কমিউনিটি ওয়ারিয়র্স’ এবং ‘পাওয়ার শিফটস অ্যান্ড গ্লোবাল গভর্নেন্স’ নামক গুরুত্বপূর্ণ বইও রচনা করেছেন। তাঁর ‘Mother’s Tongue’, এবং ‘Tagore’s Wife’ কবিতা দু’টি অনুবাদ করেছেন কবি নভেরা হোসেন।]
মায়ের ভাষা
তারা এলো
প্রার্থনারত মাকে খুঁজে পেলো
পুরানো শিব মন্দিরে
আর মায়ের আঙ্গুল, ঠোঁট, কান,
চোখের পাতা কেটে নিয়ে
মেতে উঠলো পৈশাচিক ভোজে
এসব দেখে
আমার অনূঢ়া বোনেরা লাশ হয়ে পড়ে রইলো
তাদের কর্তিত মুন্ডু তোয়ালেতে মুড়িয়ে
পবিত্র ঝর্ণার জলে ধুয়ে
কলেজের ব্যাগে যত্নে তুলে রাখলাম
যখন তারা আবার ফিরে এলো,
সেখানে কেউ ছিল না, না শিশু , না নারী,
ছিল না এক কণা খাবারও অবশিষ্ট
তারা ক্ষুধার্ত ছিল
আমি তাদের মায়ের জিহ্বার ঠান্ডা এবং আঠালো অংশ খেতে দিয়ে
ভাষাহীন হয়ে গেলাম
ঠাকুরের স্ত্রী
আমরা দু’জনে মিলে লোনা জল বানাই
তার স্বাদ নেই জিহ্বায় হিমায়িত প্রজাপতির রক্ত
তোমার সাথে স্বপ্ন দেখি লাল-সূর্য-স্নাত স্টকহোমের রাত্রির,
কাঁপি প্রাচীন বৃক্ষের বাকলের চোখে।
যখন আমরা দু’জনে মিলে ধূসর শৈশবের স্কুলের চুম্বন আস্বাদন করি
সুস্বাদু বক্ররেখাগুলি, কামাতুর ঠোঁট,
জন্ম, জীবন এবং মৃত্যুর অগাধ আনন্দের ছায়ায় বদলে যায় ।
চাইনিজ আসবাবপত্রে ভরা সুগন্ধি ঘরে
ছদ্মবেশহীন, নগ্ন পুরাণ গন্ধমাখা অতীতকে খুঁজে পাই ,
ভ্রমণের মসৃণতাকে বুনি
আর আমার নামের প্রতিধ্বনি শুনতে পাই।
হারলেম স্ট্রিটে,
ঘরের দরজা খুলে দেখি আদিম দেবতারা
টিপ্পি-টিপি-টে, টিপ্পি-টিপ্পি-টে খেলছে
এবং ভবঘুরেদের তামাকের রসায়নের পাঠ দেই ।
আমি তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে
ছেড়া সূর্যমুখিফুলের কংকাল কুড়াই
অট্টালিকার ছায়ায় নাচি, কাঁদি, কাশি।
আমি জানি
যদি তোমাকে নিয়ে আরও স্বপ্ন দেখি
তুমি হবে মরুভূমির বন
ভালোবাসার নতুন ভাষা।
নভেরা হোসেন
![]()
জন্ম ২০ সেপ্টেম্বর ১৯৭৫, মাদারীপুর শহরে নানাবাড়িতে। শৈশব হতেই ঢাকায় বেড়ে ওঠা। তিনি নৃবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর করেছেন জাহাঙ্গিরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা হতে। লিটল ম্যাগাজিনে লেখা শুরু করেছেন ২০০০ সালের পর থেকে। তিনি লিটল ম্যাগাজিন, ওয়েব ম্যাগাজিন, জার্নাল ও দৈনিক পত্রিকায় লেখেন। বিশেষত কবিতা, গল্প ও নৃবৈজ্ঞানিক বিষয়ে।
প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ: হারানো দোকান এল দরাদো (জনান্তিক, ফেব্রুয়ারি, ২০০৯); একজন আঙুল শুধু হেঁটে বেড়ায় (সংবেদ, ফেব্রুয়ারি, ২০১০); আর কারনেশন ফুটলো থরে থরে ( শুদ্ধস্বর ২০১৩); একটু একটু করে বোবা হয়ে যাচ্ছ তুমি ( অ্যডর্ন পাবলিকেশন, ফেব্রুয়ারি, ২০১৫); বারুদ লোবানের গন্ধ ; জলে ডোবা চাঁদ ( ২০২০ জানুয়ারী , কলকাতা বইমেলা ) ঐহিক প্রকাশনী। এছাড়া পিয়াস মজিদের সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেছেন নির্বাচিত কবিতা: শামীম কবীর (অ্যডর্ন পাবলিকেশন, ফেব্রুয়ারি, ২০১০)।
প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ : পেন্ডুলাম ও শিশুর দোলনা (শুদ্ধস্বর, ফেব্রুয়ারি ২০১১); জৌলুসী বেওয়া ( দেশ পাবলিকেশন্স, ২০১৬)। তিনি কিছুদিন নৃবিজ্ঞান বিষয়ে শিক্ষকতা করেছেন এবং কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে গবেষণা কাজের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন।
ইমেল : [email protected]
