সেলিম জাহানের মুক্তগদ্য: মনে আছে তো?

‘মনে আছে তো’? সারা মুখে হাসির ঝিলিক তুলে সে জিজ্ঞেস করে। মুখের সে কমনীয়তা কবে চলে গেছে। চোখের নীচে কালি, একটু ঘোলাটে চোখের সাগর-নীল মণি, গালের হাড় উঠে এসেছে বিশ্রীভাবে, …

মৌসুমী ব্যানার্জীর ছোটগল্প: ক্যাকটাস

তখন সবে চাকরি পেয়েছি। গা থেকে ছাত্র ছাত্র গন্ধটা একদমই যায়নি। যে বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীন অধ্যাপিকা হিসেবে যোগ দিয়েছিলাম, সেখানকার প্রবীণ এক অধ্যাপক তার বাড়িতে নেমন্তন্ন করলেন। উপলক্ষ্য বাড়ির হাউস ওয়ার্মিং …

মোশতাক আহমদের মুক্তগদ্য: পৃথক পালঙ্ক

দৈনিক বাংলার মোড়। শীতকালের বেলা দশটা। রাস্তাঘাট এখনো নরোম, মায়াময়, ফাঁকা ফাঁকা। বিচিত্রা অফিসের তিন তলার সম্পাদকের অফিসে ঢুকলেন ইকবাল হাসান। গোসল করে এসেছেন, কিন্তু তাতেও সারা রাতের ধকল লুকানো …

কবি মুনিরা চৌধুরী: আত্মবিম্বে প্ৰতিবিম্বিত মুনিরামায়া

যে কালখণ্ডে বসে আমি কবিতা লিখছি, সেই কালেরই একজন কবি ও তার কবিতার সাথে আমার পরিচয় ঘটেছে তার বিস্ময়কর মৃত্যুর পর। প্রাকৃতিক মৃত্যু সে নয়, স্বেচ্ছামৃত্যু, যে উৎস থেকে জীবনের …

আমিরুল আলম খানের অনুবাদ: দ্য আন্ডারগ্রাউন্ড রেলরোড

নর্থ ক্যারোলাইনা  ২ লাম্বলির খামারের নিচে গোপন রেলওয়ে স্টেশনটি সুনির্বাচিত নানা রঙের পাথরের সংমিশ্রণে সাজানো গোছানো। সামের স্টেশনের দেয়াল ছিল কাঠখণ্ড দিয়ে ঢাকা। চমৎকার চমৎকার সব বোল্ডার কেটে কেটে সাজানো …

আবদুর রবের একগুচ্ছ কবিতা

স্বপ্ন ধরা যে সিদ্ধান্তগুলি তুমি নিয়েছিলে ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায় তারাই তোমাকে মহান করেছে অথবা কোনো নিষ্ঠুর ভিলেন দোষী কিংবা নির্দোষ প্রেমিক অথবা খুনি তবু তারাই তোমাকে পৌঁছে দিয়েছে এখানে। এগিয়ে …

পাপড়ি রহমানের স্মৃতিগদ্য: সুরমাসায়র

কলি ফুটিতে চাহে, ফোটে না মরে লাজে, মরে ত্রাসে আগেই বলেছি আম্মার খুব বাছবিচার ছিল অন্যদের সাথে মেলামেশার ব্যাপারে। যাকে হয়তো শাদা চোখে উন্নাসিকতাই বলা যায়। আমি যেমন হরেদরে সবার …

দাঁড়ানো সময়ের মাঝামাঝি: সম্পর্কের জাল ও ক্ষমতায়নের প্রশ্ন-উত্তর পর্বে নারীর নৈঃসঙ্গ্য, উত্তরণ

সূত্র সমাচার পাঠ্য বইয়ের পাতায় শিশুকালে আমরা সেই যে পড়েছি মানুষ সামাজিক জীব আর সমাজ মানুষকে নানাভাবে নির্মাণ করে, তার বহুবিধ মানে বেড়ে উঠতে উঠতে নানা ধাপে উপলব্ধি করি আমরা। …

পাভেল চৌধুরীর গল্প: সুচিত্রা সেন

১ হুকো স্যারকে (হুমায়ূন কবির, অধ্যাপক বাংলা বিভাগ) আমরা পছন্দ করতাম না। আবার তাকে উপেক্ষা করাও সম্ভব ছিল না। লম্বা দশাসই স্বাস্থ্যবান মানুষ, গায়ের রঙ কালো, মাথাভর্তি কালোচুল, শিক্ষক না …

ফেরদৌস নাহারের কবিতা: নদী, অখণ্ড রক্ত-স্রোতধারা

নদীবন্দনা আমি পুবদেশের, দুহাতে বাজাই নদীদের করতালি যেতে যেতে চিরদিন গড়িয়ে পড়ি তাহাদের বুকে পদ্মা একটা তল্লাট উড়ানো ঝড়, প্রকৃতির নামে ভাড়াটে কেউ এখানেই লুকিয়েছে, তার গন্ধ এখন পদ্মার জোয়ার …

নাজনীন খলিলের মুক্তগদ্য: সব যাত্রা পূর্বনির্ধারিত নয় ও এই ঘর ভুলানো সুরে

সব যাত্রা পূর্বনির্ধারিত নয় রাত নেমে এলে গাছেরাও হিংস্র হয়ে উঠে। পাতাগুলো ছড়াতে থাকে বিষাক্ত কার্বন-ডাই-অক্সাইড। আমার যে কী হয়! রাত নামলেই ইচ্ছে করে কোন ঝোপালো গাছের গুঁড়িতে হেলান দিয়ে …

আমিরুল আলম খানের অনুবাদ: দ্য আন্ডারগ্রাউন্ড রেলরোড

নর্থ ক্যারোলাইনা সামের বাড়িটা পুড়িয়ে দেবার পরের দিন। তবে কোরা সময় ঠিক করতে পারছে না। মোমবাতিগুলো সে হারিয়ে ফেলেছে। গায়ের উপর একটা নেংটি ইঁদুর নেচে বেড়াতে শুরু করলে কোরার ঘুম …

কাজী গিয়াস আহমেদের পরাবাস্তব কবিতাগুচ্ছ

যা দেখছেন মুখোশ ভেতরে আমি নেই! ৫. ধূধূ মরুভূমি, দূরে পাহাড়ের সারি একটি বর্ধিত হাতের তালু দৃশ্যপটে ঢুকে গেছে তালুর উপর একটি তরতাজা গাছ নিশ্বাস নিচ্ছে উপরে খণ্ডিত ঘন মেঘ …

রুখসানা কাজলের গল্প: করাল দুপুর  

১ জয়ঢাক পেট নিয়ে রোজ আসে নাজলি। এসে বসে থাকে পুড়ে ধ্বসে ধ্বংস হয়ে যাওয়া পোশাক কারখানার সামনে। তেরো দিন আগে জ্বলে পুড়ে খাক হয়ে গেছে কারখানা। স্তুপ স্তুপ ইট, …

কামরুল হাসানের মৃত্যুবিষয়ক দশটি কবিতা

বিলীয়মানতার গান আমি থাকবো না, চামেলীও চলে যাবে বাতাসে কর্পুর, গন্ধ ছিল কি না, এ প্রশ্নে লোকেরা মাতুক সে মাতমও থাকবে না কিছুকাল পর লোকেরা সমস্ত ভোলে, সত্য থাকে প্রত্যেহের …

পাপড়ি রহমানের স্মৃতিগদ্য: সুরমাসায়র

মিষ্টি মুখের দুই কিশোরী সপ্তম শ্রেনীতে উঠে আমি প্রথম বারের মতন ‘সি সেকশনে’ পড়লাম। কীভাবে সেকশন নির্ধারিত হতো সেসব আগেই বলেছি। তবুও ‘সি’ সেকশনে পড়লে মন কেমন কেমন জানি করে …

লুনা রাহনুমার দু’টি অণুগল্প

কন্যার সুখ ইলিশ-পটলে পেট পুজো করে তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলে মতিন। স্বামীকে খাবার দিয়ে রাহেলা নিকটে দাঁড়িয়ে থাকে ঘরের বেড়ায় হেলান দিয়ে। স্বামীর খাওয়া দেখে আর উদাস চোখে কী জানি ভাবে।  …

নাভিদ চৌধুরীর ভ্রমণগদ্য-৫: স্পর্শ, অতঃপর

আমি চমকে নিচে তাকালাম। প্রথমে অন্ধকারে কিছুই দেখা গেল না। কী হতে পারে ? আমি উথালপাথাল জোছনায় আলো হওয়া বৈরুতের কর্নিশে ( সমুদ্রের তীর ঘেঁষে বাঁধানো পথ) একা বসে আছি। …

ধূসর মননের কবি: সিলভিয়া প্লাথ  লেখা ও অনুবাদ: দিলশাদ চৌধুরী 

[“আমি যখন চোখ বন্ধ করি, সমস্ত পৃথিবীর যেন অকালমৃত্যু ঘটে। আবার যখন চোখ তুলে তাকাই, সবাই আবার বেঁচে ওঠে…” কথাগুলো মায়াময় বিষাদের কবি সিলভিয়া প্লাথের। এবছর ২৭ অক্টোবর পালিত হল …

সিংহাসনের ছায়া, এক নিবিড় প্রতিবিম্ব

১. বাংলা কবিতায় নানান আঙ্গিক, উপস্থাপনা, ভাষাশৈলী ও ভাষাকে শাসনের সময় চলছে এখন। বিশ্বকবিতার সাথে পাঠক ও কবিদের ব্যাপক পরিচিতির জোয়ারে এ সময়টাতে বাংলা কবিতাতেও আসছে নতুন নতুন নিরীক্ষার প্রবণতা। …