বিষামৃতে মাখাজোখা

রওশন আরা মুক্তা পুতুলজন্ম আমাকে পুতুল পেয়েছিলে, তাই না? ফর্সা গোলাপি মুখ আর ছাগ-শিশুর মতো দাঁত। কোনো কোনো দিন প্যান্ট থাকত না ফ্রকের নিচে। তোমার বুকে উঠে বসত পুতুল। জিহ্বায় কামড় দিয়ে বলতে, আল্লাহ! নেংতু কেন? তোমার সামনের দু’দাঁতের মাঝে ফাঁক আছে, গালে টোল পড়ে। …

দীপক চাইবাসায় কবে এসেছিল মনে আছে

সমীর রায়চৌধুরী বিটুর যখন প্যারাটাইফয়েড হয়েছিল ঠিক তার পরে, সেদিন মধুটোলার বাড়িতে গরুটার কালো বাছুর হয়েছিল প্রেসিডেন্সি কলেজের ড্রাগ খাওয়া ছেলেমেয়েগুলো ফিরে যাবার পরের রবিবার– কদিন পরেই ছিল রাসযাত্রা– সন্দীপনদার বউ ভাইয়ার হাতে বাবার জন্য মাছ পাঠিয়েছিল বাহাদুরনীর কাছে এক গ্লাস দুধ চেয়েছিল– জানেন তো …

দীর্ঘ কবিতা: স্মৃতিলেখা

আর্যনীল মুখোপাধ্যায়   ছবি: ছায়াছবির স্থির চিত্র ব্যক্তিগত অ্যালবাম– আর্যনীল মুখোপাধ্যায়   যেখানে এক অবলোকন ধরা পড়েছে আর এক দেখায়     কেউ দেখছিলো সেই অবলোকন      পেছন থেকে ক্যামেরাবাস্তবের মনশ্চক্ষু  দিয়ে আর সেইটেই আমি দেখছি               সেই দেখা সেটাই আমি দেখাই                            আমার তিন নম্বর চেতনা দিয়ে আপনতার অজর অকৃত্রিম …

দীর্ঘ কবিতা: ভেকপুরাণ অথবা জনগণতান্ত্রিক ইস্তেহার

শামসেত তাবরেজী Since human nature is the true community of men, those who produce thereby affirm their nature, human community, and social being which, rather than an abstract, general power in opposition to the isolated individual, is the being each individual, his own activity, his …

দীর্ঘ কবিতা: বিনয়মঙ্গল

অংকুর সাহা ১১ ডিসেম্বর ২০০৬ প্রত্যূষে আমার ঘরে                অজস্র রাশিতে ঝরে অঘ্রানের মেঘবৃষ্টিমালা– কন্যারে ছাড়িয়া স্কুলে              পর্জন্য ধারায় দুলে কর্মস্থলে গমনের পালা। আপিসে চেয়ারে বসি                আন্তর্জালেতে পশি আচম্বিতে দুঃসংবাদ আসে- অকালে ডাকিল বান                  বিনয়ের তিরোধান শিমুলপুরে নিজস্ব আবাসে। এ দুঃখ কোথায় রাখি?                শোকগাথা গায় পাখি চরাচরে বিষণ্ণতা ছায়– কাব্যে ও …

দীর্ঘ কবিতা: এ কার হৃদয়ের কাজল গলে যায়

কামরুজ্জামান কামু আমাকে হত্যার তিমির আয়োজন চলছে। উন্মাদ কাতেল তলোয়ার উঁচিয়ে হুঙ্কার দিচ্ছে। রক্তের কণিকা-পানকারী পশুরা উল্লাসে চাটছে ব্যক্তিকে ব্যক্তি-নির্যাস, ব্যক্তি-কল্পনা, ব্যক্তি-ছন্দের প্রস্ফুটন। যেন ফুলের বিকাশের মুহূর্তকে আজ শোণিতে ভরে দিতে সীমার প্রস্তুত। ধারালো তলোয়ারে ঝিলিক-মারা রোদ ঠিকরে পড়ে ওই। এখানে এই নিচে কণ্ঠনালীটার পাশে …

ভালবাসার উৎসব

একটি হাইপার রিয়াল পদ্যনাটিকা মলয় রায়চৌধুরী   পরিদৃশ্য: পায়রোটেকনিকে তোলা রঙিন ঝড় ( গাঢ় লাল, কমলা, হলুদ, সবুজ, নীল, বেগুনি এবং গোলাপি । রঙগুলো প্রতিটি নারীর ভাবকল্প। ) সাত রঙের ঝোড়ো আলো (যে-রসায়নে আলো গড়ে উঠেছে: লিথিয়াম ক্লোরাইড, ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড, সোডিয়াম ক্লোরাইড, কপার সালফেট, কপার …

তিনটি কবিতা

কল্যাণী রমা বরফে আগুন জ্বেলে, বরফে আগুন জ্বলে তোমার আলেক্সান্দ্রিয়া বরফে আগুন জ্বেলে দাউ দাউ পুড়ে যায় পুড়ে যায় ঘর। বরফে আগুন জ্বেলে বরফে আগুন জ্বলে বরফে আগুন জ্বলে। ঘন্টা বাজে না কোথাও। মন্দিরে দরোজা বন্ধ। তবু শরীরে গাভীর ডাক। গোয়ালিনী। স্তন কাঁপে। ভোর হ’লে …

একগুচ্ছ কবিতা

মোশতাক আহমদ ধারাবাহিক মুঠোফোন ১. কথা ছিল যাব হাঁটতে হাঁটতে সহসা এসে গেল সড়কের বাঁক যে যার বিবরে ফেরার দিন এ যাত্রা হলো না যাওয়া তারামণ্ডলে যাওয়াই হলো না আর ২. রুমালিয়া ছরা এখন আর নেই সে জলের ধারা নামটুকু বয়ে চলে রুমালিয়া ছরা ৩. …

মাসুদ খান-এর একগুচ্ছ কবিতা

    ডাকাতি সাহাদের বাড়িতে ডাকাত পড়েছে। মাথায় মারণকল ঠেকিয়ে বাড়ির লোকজনদের বেঁধে রেখে ডাকাতি করছে ডাকাতের দল। এরই মধ্যে কোনো এক ফাঁকে সাহাদের আদর-কাড়া হোঁদলকুতকুতে ছোট্ট ছেলেটি আতঙ্কিত হয়ে হামাগুড়ি দিয়ে এসে উঠে পড়েছে ভীষণদর্শন এক ডাকাতের কোলে। আঙুল চুষতে চুষতে ঘুমিয়েও পড়েছে একসময়। …

শিবলি সাদিক-এর কবিতা – ১

চল মন নদীর কিনারে যত মাঠ আছে, তার কাছে চল মন পশু আর পতঙ্গের কাছে কিছু দিন ঘুরে আসা যাক বায়ুসেবনের পর নতুন ভাষায় সব পুরাতন কথা ভাবা যেতে পারে, মনে হতে পারে সভ্যতার সব ছেড়ে মাছ আর পাখিদের সাথে ভাগ করে নিই এ জীবন …

আলতাফ হোসেন-এর দুটি কবিতা

১ পোক করেছে আশফোক তুমিও তাকে করো পোক আসমানে একটি তৈরি হয়েছে ঝোপ তাতে দুনিয়াকে সেলাম করব না লাথ মারব গান বাজছে লাল লাল বাচ্চা সৈন্যদের এনে এনে জড়ো করছে কখন যে মাঠ গজিয়েছে এভাবে করলে হবে না এখানে ভারী কিছু না-শোনা কিছু শব্দ আনো …

বিমানযাত্রীর চতুর্দশপদী

অংকুর সাহা ১ কোমরবন্ধনী বেঁধে বসে আছি সংকীর্ণ আসনে শুধু সামীপ্যের জন্য দক্ষিণী, অচেনা ব্যক্তিটিকে বন্ধু বলে মনেহয়— যেন কত কাল ধরে চিনি; অন্যধারে গৃহিনী সে মগ্ন, নিমজ্জিত মেনুকার্ডে হিন্দু মিল বলে দিলে ভাল হত, দ্যাখো কী সুন্দর পোলাও এর গন্ধ ভাসে শীতাতপ-নির্ভীক বাতাসে— খুব …

শিবলি সাদিক-এর কবিতা

গাছ ১ গাছকে সম্পূর্ণ দেখা কখনো সম্ভব নয় দৃশ্যের আড়ালে আরো দৃশ্য, গান থেকে যায় কেউ কেউ বলেন অনেক যাদুঘর, প্রত্নযুগ আছে সূর্যের চুম্বন, ঝড়, জলোচ্ছ্বাস, ঘোড়ার কংকাল রং, রেখা দিয়ে আঁকা সবুজ রহস্যময় ক্যানভাসে সময় তো হারায় না, তার নথিপত্র বাতাসে পাতায় দোলে সব …

সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ-এর কবিতা

পেন্টিমেন্টো ১ ব্রহ্মপুত্র-পাড়ে আমরা দেখেছি তোমারে, আমরা জন্মভয়ে খুলি নি দেরাজ, তুমি কাশে-কাশে এমনি ঘুরেছ গোল্ডফিশ, তুমি আমাদের দেখা-ও দ্যাখ নি, আমাদের অন্তর্বর্তী সরকার দাঁড়িয়ে ছিল প্ল্যাটফর্মে ট্রেনের মতো, তারও সময় ছিল না আরও দু’দণ্ড দাঁড়িয়ে দেখবে পাতালাভিমুখী সে-মেরাজ, এবং কাশগুলি যেন আস্তে-আস্তে মেপলের পাতা …

তুচ্ছপুচ্ছ ভাবনা গুচ্ছ-২

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল ০৪/১০/১১ অন্ধ হলেই ভালো হতো, দেখতে হতো না, দেখতে দেখতে দৃষ্টি পাথর! বোবা হলেই ভালো হতো, বলতে বলতে ভাষা শেষ। কালা হলেই ভালো হতো, শুনতে হতো না শুনতে শুনতে সঙ্গীতও অসহ্য!   ০৫/১০/১১ আকাশও একা। একাতিত্বের আনন্দই আলাদা, অতুলনীয় নিঃসঙ্গতায় নিজেকে পাবে …

তিনটি কবিতা

শামীম হোসেন তারা নেই, তারকাও নেই কোথায় গিয়েছে তারা— এত তর্জন-গর্জন, হম্বি-তম্বি গিনিপিগ- ইঁদুর; মরাডালে ঝুলন্ত বাদুড়— ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশের প্রাণ! শূন্যতার দড়ি বেঁধে ঝুলছে তাদের ভাঁড়ার… অথচ ফেরাও চোখ দেখো সেই— তারা নেই, তারকাও নেই!   ভিন্নপট ফুর্তি জেগেছে মনে— গাছের পাতা, পাখিরা কি …

একগুচ্ছ কবিতা

রওশন আরা মুক্তা অপেক্ষায় ওসব যা ছিল জোয়ার জোয়ার— তা কী ছুঁয়েছে আস্তিক মরণ ? তা কী আর আসে না মখমল-ব্যথা হয়ে? আর কী চাপে না রক্তে দুর্নিবার্য তেষ্টা নিয়ে? ওসব যা ছিলো জোয়ার জোয়ার— তা কী শীতল ঘুম পোহাচ্ছে তোমার নির্লিপ্ত ঠোঁটে? নাকি সব …

সাখাওয়াত টিপুর কবিতা

নন্দনতত্ত্ব ১ নম্বর এহা এহা নহে নাকি এহা যাহা তাহা এহা তাহা যাহা এহা উহা যাহা উহা উহা তাহা যাহা ইহা এহা তাহা উহা এহা নহে যাহা তারে নারে নারে তারে তাড়া খায় এহা ইহাই এহা নড়ে উহা ধরে মনোরম সুন্দরম্ ১/১/২০১২

রাকীব হাসান-এর কবিতা

আশ্চর্য প্যাকেট স্বপ্ন ছায়া হলে ছায়াতে মন নাই, দৃশ্যময় দেহ চাই; অঙ্গ সর্বাঙ্গ ওজন করো রোদ্দুর বাটা কাঁচা হলুদের রঙসহ— আষাঢ়ের জলকৃষ্ণ ঘন মেঘ ওজন করো, তুমুল বর্ষার ব্যাঙের ছাতা আর রবীন্দ্রসঙ্গীত ওজন করো। ওজন করো রন্ধনকালে আঙুলের ঝালে আহারের ভর্তা-বিলাস; ওজন করো বৃষ্টিশাসিত শরতের …

সমীর রায়চৌধুরীর কবিতা

এই কবিতার সম্ভাব্য শিরোনাম লোমশ মুনির গল্প চিত্রলেখার সখীসংবাদ বাণরাজার মেয়ের রূপকথা বিষ্ণুপুরাণের আনলিমিটেড সেক্সস্টোরি সেভেন ও ক্লকের অ্যাড স্নিপেট একটি উদারবাদী কবিতা ‘সেভেন-ও-ক্লক’-এ ঠিক সাতসকালে নিয়মিত দাড়িকামানোর কথা অবশ্য সেভেন-ও-ক্লক কি জানে কেন ঊষা সাতরকমের মুশকিল এই যে চলে আসতে পারে ঊষা-ফ্যান কিংবা ঊষা …

নভেরা হোসেনের কবিতা

ধূলিযুদ্ধ সিংহের গর্জন ছেড়ে কোথায় লুকাও তুমি ধূলিযুদ্ধের নায়ক— গোপনীয়তার গোপন কুঠুরিতে ঘুমঘোরে— কাপালিক যাদুকন্যা নিমেষে হারিয়ে দেয় তোমাকে আজ শ্রাবণের মেঘময় দিনে ঢেকে যাও ঢেকে যাও ধূলোর আস্তরণে   তমিস্রা ম্রিয়মান দিনের গহ্বরে বেয়ত্রিচ দন্তহীন নারী এক। শলাকাদণ্ড জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যায় জ্বলে …

ঈশিতা ভাদুড়ীর কবিতা

জেনারেশন গ্যাপ আমরা যেমন ভাব বিনিময় করেছি অনেক রুলটানা কাগজ আর কাঠপেন্সিলে আজকে কিশোর আজকে তরুণ ভাবে না সেসব। আমরা লিখেছি বসন্তে ফোটা প্রথম ফুল আর, জ্যোৎস্না-রঙ স্নিগ্ধ আকাশ আমরা লিখেছি বৃষ্টিপাতে মধ্যদুপুর আমরা লিখেছি কাঠপেন্সিলে একে অন্যকে নদীর ঢেউ আর মেঘলা রাতের কথা রুলটানা …

অধুনান্তিক

সমীর রায়চৌধুরী যারা আস্ত রসগোল্লা একবারে মুখে পুরে দেয় আর যারা ছোটো করে ভেঙে থেমে থেমে খায় অথবা চারটে দিলে এক-আধখানা শেষমেষ এঁটো প্লেটে ফেলে রাখে সেই সব আচরণের সামাজিক অবস্হান নিয়ে ভাবতে পারেন রোঁলা বার্থ তিনি বঙ্গ-সংস্কৃতির রসগোল্লার সঙ্গে পর্তুগিজ অভিযাত্রীদের মিষ্টান্নপ্রীতির খুঁটিনাটি সূত্রগুলি …

গৌতম চৌধুরীর দুটি কবিতা

নিশিব্যাধ বিরান প্রান্তরটুকু পার হয়ে গেলে হয়তো পাওয়া যাবে মৃদু জনপদ বাচ্চাদের চ্যাঁয়্যাঁ ভ্যাঁয়্যাঁ, বেলুন ফাটার শব্দ, গড়গড়িয়ে ছুটে যাওয়া চাকা খাঁচার ময়নার মুখে দু’চারটে অশ্লীল শব্দ, গাভীগন্ধে উন্মত্ত বলদ সম্ভাবনা অগণন, শতরঞ্জ ছকে যেন সারি সারি কলসি মুখঢাকা বাদশাই মোহর? সাপ? কুটকুটে আলকাতরা? মদ? …

কৃষ্ণভাবিনী, রমাবাঈ ও সুতপাদির জন্য

চৈতালী চট্টোপাধ্যায় আগুনের বেড়া চারপাশে সে-আগুন পার হয়ে আসে পুরুষবন্ধুরা দলে দলে ভালোবাসে, খুব ভালোবাসে (তারা সব সোনার অঙ্গুরি বাঁকা হোক, কলঙ্ক ধরে না) সেই ঘর, ডাইনির ঘর আধখানা কুয়াশায় ঢাকা সেইখানে লোহার কটাহে পুড়ে যায় প্রথাভাঙ্গা ডানা দু-একটি কী করে যে বাঁচে ওরা পাখি …

মাসুদ খান-এর একগুচ্ছ ছড়া

  নদীতে আগুন ধ’রে… নদীতে আগুন ধ’রে মাছ পুড়ে যায় নদীপোড়া গন্ধে তো ঘরে টেকা দায়! মাছরাঙা বক-চিল সেই ঘ্রাণ পায় চিলাহাটি থেকে চিল চিলমারি ধায়। নদী কোথা! এ যে নদ! ব্রহ্মের পুত্র আগ লাগে এই নদে! কী-বা সেই সূত্র? ভোঁদড়ে ধরেছে পোড়া শোল টাটকিনি …

অনুবাদ কবিতা: পাগলা

মূল:খলিল জিব্রান অনুবাদ: কৌশিক ভাদুড়ী উনবিংশ শতকের শেষ ভাগ থেকে বিংশ শতকের প্রথম ভাগ পর্যন্ত যে আরব কবি আধুনিক আরব দুনিয়াতে প্রথম মুক্তচেতনার অভিযাত্রী তিনি খলিল জিব্রান। পুরো নাম আরবি উচ্চারণে ‘ খলিল জুবরান’। ১৯১৮-এ ওনার ম্যাডম্যান কবিতাটি আমেরিকায় প্রকাশিত হয়। কবিতাটি বাংলায় অনুবাদ করার …

Back to Top