কবিতা: যেভাবে বৃষ্টির বন্ধু মেঘের নিকট নিরুপায় আশ্রয় প্রার্থনা করল


জহির হাসান

 

আমার বন্ধু আমায় কেন তবু বৃষ্টি বলে ডাকে
আমার ঘরের জানলা দিয়া তাকাই বহুত দূর
তাহার চোখে আমি একটা পচা কুমড়া ফুল
তাহার চোখে এই মহল্লার একটা ভিজা কুকুর
রাস্তার উপর মুরগি খোজে কে গো
দিনের বেলা আপনা ঘরে পোষা মুরগা থুইয়া
মেঘের মধ্যে খোয়ায় যেসব উড়াজাহাজ
আমি তাদের শোকে কান্দি বৃষ্টি দিনে ভুল সুরায় নামাজ পড়ি
সালাম ফিরাই দেখি দেয়াল বেয়ে গড়ায় পড়ে পানি
বামে দেখি জার্সি গরুর ওলান বেয়ে পড়ছে জল
আমার বন্ধুর সোন্দর মুখখান কোন ক্লাসে পড়ে বল
গলির মোড়ে ভিজছে একখান পুরানা হুইল চেয়ার
আমি তার উপর বসি গিয়া, ভিজি, বাজার সেলুনে
কারা যেন হিন্দিগান শোনায় ফিরি ফ্রি–
আমার ঘাড় ব্যথা বাড়ে
ভাতশালিকটা আমার দিকে চায়– কী যে খায়–
কী যেন কী ভাবে ধূলা– নষ্টে যাওয়া পুরানা ফ্রিজগুলা–
ভাবতে থাকি না ভাবিবার মতো–
বৃষ্টি আসে বন্ধু আসে আমায় ঘিরা ঘিরা
আমি যে দিকে যাই বৃষ্টি আমার পিছে পিছে–
বৃষ্টিরে ধরার উপায় কোনো নাই–
খেলনা নৌকার পানি সেচে কারা–
তোদের আমি চিনি, ভাই?
বলতে পার’স বৃষ্টির শিকড় কোথায়?

ভিজতে ভিজতে যাই_
বলি, ও দুলাল রিপোর্টার
আমারে ধরে একখান একখান ফিচার লেখ না–
এক যে ছিল জীবিত এক লোক সেই লোকটা
যেদিকে যায় বৃষ্টি তারে প্যাচদি প্যাচদি ধরে–

দেখতে দেখতে পার হয়ে যাই
ভিডিও দোকান–
দেখি ঐখানে টিভিতে দেখি কী একখান–
ভাসুরের ছেলের সহিত প্রেম দেখাচ্ছে নাটকে–
ভাসুর আবার অন্যদিকে প্রেম করতেছে বৃষ্টি নামের
আরেক মেয়ের লগে, চোখে চোখে–

এদিকে আমার আসে ঘুম–
স্বপ্নে দেখি আমি পেটে বাচ্চা এসে গেছে–
তার নাম রাখি আমি মেঘ–
যেই ঘুম ভাঙে, দেখি–
তেরছা ঢঙ্গে বাচ্চাখানা আকাশে উড়তেছে!

আমি তজবি পড়ি মনে মনে–
বৃষ্টি বাড়ে বাইরে বাহিরে–
আমি জিকির যেইনা বন্ধ করি
বৃষ্টি থামে ধীরে–

জানি না আমার বিদেশ কোথায় রয়–
দেখি রোগীর সাথে আর নাই ভয়
রোগও কবরে যাচ্ছে নামি
মরে যাওয়া শিল্পীটা টিভিতে
গাইছে গান থামি থামি
গোরস্থানে ইশকুল মাঠে
বৃষ্টি হচ্ছে নাচি নাচি নাই তার দায়
আমার বিদেশ কোথায় কোথায় বয়ে যায়–
ভাবছি ঘোরে বিদেশ আসিছি বুঝি আবার–
আরে এতো দেখি ঠাটারি বাজার–
আমার ঘোর কাটে না এবার বরষায়–
কী হইলো দেখি কি–
সকল যে ছিল শূন্য বোতল যারা
ফিরে ফিরে আসে
আপনা মদের কাছে–
মৌলভী সুরমা চোখে যেইরূপ ফিরে আসে
তার কিতাবের পাশে!

আমার চাকর কোথা গেল
বৃষ্টি আমারে ধর
তোমা বিনে এই ধড় পড় পড়
বৃষ্টি দিয়ে যার নাম লিখতেছি
সে থাকে মেঘে ও মেঘে
সে কি জ্বালা!
আমারে দেখালো খেলা
আমার চাকরটা দেখি মেঘে উঠে গেছে
আমার চাকর ছিল নাকি?
মেঘের থ্যেইকে সে আমার দিকে চায়
মিটকি মিটকি হাসে
আরে ও কবে কবে এত হাল্কা হইলো
ফলে এততাড়া মেঘের নিকট গেল–
চাকরের লগে প্রেম!
বুঝছি মেঘ, তুমি মোরে করলা চরম অপমান!
মেঘ বলে, না, না, তুমিই আমার জান–
আমি অভিজাত–
তুমি ভুলে গেছ– তুমিই উহারে পাঠায়েছ–
মোরে আগায়ে নেয়ার লাগি!
_আরে, তাইতো তাহারে বলি, সরি,
প্লিজ, মোর ঘোর কিছুতেই ঘুচিতেছে না,
এইবার এই বরষায়!

যুক্তিগুলা হইলো ছাতা_ যারা ভাবছিল তারা কোথা!
আজ ছাতা মাথায় না দিয়া ঘুরছি বৃষ্টিতে বৃষ্টিতে
কদমের ডালে বসি হিংসা করতেছি কারে কারে–
কারা যেন বাসা বদলের পিকআপে মালপত্র
নিয়া ভিজতে ভিজতে যায়–
মেঘের বাড়িতে জন্মনিয়ন্ত্রণ নাই–
মরা কাক হাতে নিয়া কাকেদের লগে ঝগড়া বাধায়– কহে
অন্যদেরে কে যেন বুঝায়– কামটা ঝড়ের, বৃষ্টির নহে!

ঠাডা পড়ে কেবা জ্ঞান হারাইলো এ পাড়ায়!
খোঁজ নিই– কেউ কোথাও কি নাই–
শীলা পড়ে হেড মিসট্রেসের গাড়ির কাচ ভেঙ্গে গেছে

ক্লাস ফোরে পড়া
কোন পুংটা শুনতেছে এই মধ্যদিন অন্ধকারে
মায়েভরা রূপকথা
তার সাথে আমা দেখা করবার মন চায়–
যাক, অভয়দাসলেনের পাশ দিয়া
আরমানিটোলা দিয়া কোন দিকে আমি ফিরতেছি–
কত শ বছর ধরে আমি কারে তাড়া করি ফিরতেছি
কোথায় আমার অবসর!
আজ এই বৃষ্টির ভেতর
তুমি এসে কয়ে যাও তুমি!

ভুলে গেছি শেষ কবে–
আব্বা মোরে হের লেখা
কবিতা করি পড়ান–

আমার মতোন কেবা যায় ছুটে, কে তুই না পাওয়া
–বাদল হাওয়া।

কে পায় আন্ধার, মরা কেতকির গন্ধ
ধানক্ষেত ভরি–
–শ্রাবণমেঘের খেয়াতরী।

কে ভয়ে কুচকে গেছে আমার মতোন শুধুু
–তড়িতচকিত জনপদ বধূ।

কার চিত্তে সুখ নাই মারে হুকি-ঝুকি
–মত্ত দাদুরী, ডাহুকী।

কারা দেখে আমার মতোন মেঘের ভেতর হারানো কাহার বেণী
– উড়ে যাওয়া বলাকার শ্রেণী!

আমি নিরব
একটা অশথ
গাছের তলায় থামি।
দেখি কে যেন আমার মাথার উপর কী আদরে
একটা একটা ভেজা ভেজা
কদমরেণুরে ফেলছে।
আমি ভাবি ঠিক আছে আমি বোধ হয় কদমের তলে বসে
কারও বাঁশি শুনতেছি– ভাবি ঠিক আছে শুনি যতক্ষণ মন চায়।

এ ভরা বাদরে ঐ শূন্য মন্দিরের পাশে
কে যেন ও ঘাটে পিছলে পড়ি আমারে তাকায়।
একটা-দুটো ব্যাঙ
ওটা কোলাই হবে।
হাঁটছে পাতার নিচে
কিন্তু ডাকছে কি সে?

আমায় সবাই ন্যাংটা দেখে
পাগলা ঠাওরায়–

আমার বসন আমার বন্ধু মেঘ নিয়াছে ধার
আমার বন্ধু আমায় করবে পার?

আমার বন্ধু আমায় দেখি বৃষ্টি বলে ডাকে
আমি বলি, মেঘ, তুমি আমারে তোমার কোলের মধ্যে টানি লও!
তোমার আদরে নিরাপদে থাকি আমি!
মেঘ আমায় তুমি ধর মোরে উঠায়ে নাও–
ন্যাংটা পর্নো আমি
সহিতেছে না আর আমারে এ জগৎ!

 

Facebook Comments

One Comment:

  1. অসাধারণ লিখেছেন (যদিও সব বুঝি নাই!)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *