দুই বেলা
ছোটবেলায় সবকিছুই বিদেশ-বিদেশ লাগত।
বড় হতে হতে সবকিছু স্বদেশ হয়ে উঠল।
দুপুরবেলা তিতির আসত সময় কাটাতে।
দোতলার ঘরে বসে আমরা সময় কাটাতাম।
আমি জানতাম না সে সুখেন ডাক্তারের বাসা হয়ে আসত।
আমি জানতাম না তার শরীরে গোপন রক্তের দাগ
লেগে থাকত।
আমি বড়জোর তার হাত স্পর্শ করেছি বারদুয়েক।
কখনো আর কিছু ইচ্ছে হয়নি।
তখন একটি হলুদ ছাতার স্বপ্ন দেখতাম প্রতিদিন।
শূন্যে ভেসে ভেসে সেই হলুদ ছাতাটা প্রতিদিন উঁকি দিত
আমার জানালায়।
ছোটবেলায় সবকিছুই বিদেশ-বিদেশ লাগত।
ডাকসু নির্বাচন
টিএসসির সামনের রাস্তায় বৃষ্টির জলে একটা
এয়ারমেইল খাম পড়ে আছে, ছেঁড়া, ভেজা, দলিত।
কোনো একদিন ঝকঝকে নতুন মেঘের মতো ছিলো।
আজ সেটা রাস্তায় নোংরা পড়ে আছে।
দূরে একটা গলিত চিঠি পড়ে আছে।
চিঠিটা কি ওই এয়ারমেইলের ভেতরেই ছিলো কোনো
এককালে? সুগোপন মিহি রুমালের মতো, শাদা?
আজ দূরে পড়ে আছে।
অক্ষরগুলো ভেজা, ততোধিক গলিত।
তিনটি কমলালেবু
তিনটি কমলালেবুর সাথে কথা বলি বহুক্ষণ…
তাদেরকে বর্ষবিদায়ের কথা বলি,
নতুন বর্ষ আগমনের কথা বলি,
কী আনন্দ কী আনন্দ বলে শোরগোল তুলি।
একটি জানালায় নিরন্তর ঝড় বয়ে যায়।
চারদিকে সবুজ পাতারা আরো গাঢ় হয়ে ওঠে।
কমলালেবুরা কিছুই বলে না।
কমলা রঙের নৈঃশব্দ্যের ভেতরে তারা
কেবলই হাসতে থাকে।
…………
