নিটশের মেটাফর ও ভাষাচিন্তা

এইখানে নিটশের ভাষা নিয়া দার্শনিক প্রস্তাব আলোচনা করার কোশেশ করতেছি। নিটশের মেটাফর নিয়া আলাপ প্লেটোর থিওরি অব আইডিয়জরে খারিজ করার একটা প্রকল্প বলা চলে। প্লেটোর জগৎভাবনা আগে সংক্ষেপে জানা দরকার। প্লেটোর মতে শুধু ভাবেরই সত্যিকার অস্তিত্ব আছে। পরিবর্তনশীল জগতে আমরা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়া না জানিতে পারি। তা আমাদের জ্ঞানে অভিগম্য ন! ভাবই এটারনাল, আর সব ক্ষণস্থায়ী— জ্বরার, পরিবর্তনের অধীন স্থায়ী কোনো রূপ নাই। পরজগতে পরমরূপে এই জগতের সকল ফরম বিরাজ করতেছে। এই জগৎ হইতেছে সেই পরম জগতের একটা বড়জোর নকল বা ফটোকপি। ফটোকপির অরিজিনালের কভু হদিস না হয়। এ জগতে যা কিছু সুন্দর তা শুধুই সুন্দর হই উঠে তখনই যখন তারে আমরা আমাদের সেই ভাবজগতের অক্ষয় চিরসুন্দরের ধারণার লগে তুলনা টানি। ফলে আমাদের সুন্দরের ধারণা তা সদা আপেক্ষিকই রহিয়া যায়। অনুরূপ আমাদের ন্যায়জ্ঞান সেই পরমের ন্যায়জ্ঞানের সহিত তুলনীয় বলিয়াই আমাদের ন্যায়জ্ঞানের অবস্থান আছে। মোটকথা প্লেটোর মতে এ আমাদের অনুভূতিতে প্রত্যক্ষ জগৎ ’সত্য’ ন। উচ্চতর সেই জগতের ভিতরই সত্যের আবাস বা তখ্ত। প্রেমিজে বলা ভালো যে নিটশে একাধারে ধর্ম, বিজ্ঞান, বুর্জোয়া মানি-ফেটিশিজমরে আক্রমণ করছেন। নিটশে চৈতন্যের চাইতে অস্তিত্ব, যুক্তির আগে ইচ্ছাশক্তি আর আদিমতার আহ্বানরে আপন করি নিছেন।

নিটশের ’সত্য’ বিষয়ে ভাষণ

সত্য বিষয়ে আমাদের একটা অনাদিভাব কাজ করে। সত্য বিষয়ে আমাদের কিছু সংস্কার পোষণ করি। সত্য যা পরিবর্তনের অধীন ন। সত্য সদা সামান্য রূপে হাজির থাকে। আর তা আমাদের ব্যক্তিগত অনুভূতি নিরপেক্ষ। সত্য সদা আমাদের অভিজ্ঞতা-পূর্ব জিনিস। সর্বকালে সর্বস্থানে সত্যের চেহারা একই। সত্য যেন বা অবজেকটিভ। সত্য ব্যক্তির মূল্যবোধ মুক্ত এক দশা।

নিটশের মতে সত্যের সাথে মূল্যবোধ বা ভ্যালুজ এর সংযোগ আছে। সত্য নিজেই ভ্যালুজ। সত্যের সহিত মেটাফরের তলে তলে বিশাল সখীভাব আছে। কারণ সত্য নিজেই মেটাফর।

মেটাফরের ভিতর উপস্থাপিত জগৎ এ জগতরে বস্তুগত রূপরে হাজির করে না। যেমন ধরা যাক, শেকসপিয়র তার নাটকে কইতেছেন, জগৎ এক বিশাল রঙ্গমঞ্চ, আমরা সবাই সেথা তুচ্ছ নট-নটী! জগৎ বস্তুগতভাবে দেখলে কোনোভাবেই মঞ্চ ন, কিন্তু কল্পনা ভাবের জায়গা থাকি তা মঞ্চই বটে! এইরূপে পরিস্থিতি বা বস্তুর বাড়ায়ে বা কমায়ে মানবিকীকরণের মধ্যে ফেলায় ভাষায় অলংকার। ভাষার ভিতর মেটাফর এই কাজই করে।

আক্ষরিকভাবে জাগতিক যে বস্তুর বর্ণনা মেটাফরে করা হয় তা দুরকমের সত্যরে হাজির করে। একটা শক্তিশালী সত্য আরেকটি দুর্বল সত্য। আক্ষরিক ভাবে বর্ণিত বস্তু নিরপেক্ষ ও বস্তুগত সত্যরে হাজির করে। মেটাফরের প্রয়োগে বর্ণনায় আরেকটি সত্য উৎপাদিত হয় যা সাবজেকটিভ সত্যরে হাজির করে। কারণ তাতে মানবিক আকাক্সক্ষা বা বাসনা বা কল্পনার সংযোগ ঘটে। নিটশের মতে, আক্ষরিক বা খাঁটি সত্য তথা অবজেকটিভ বর্ণনার অধীন যে বস্তু তার সত্য মেটাফরের সত্যরে ভাড়ায়ে যাইতে পারে না। কারণ সত্য নিজেই একটা মেটাফর।

নিটশের ধারণায় এইভাবে মানবিক অভিজ্ঞতার অধীন বা মানবিকীকরণের আওতায় জগতের ’সত্য’ অবস্থা তুলি ধরতে স্থান, কাল, সংখ্যা প্রভৃতি মেটাফর জগতের উপর প্রয়োগ করি যাতে আমরা চিন্তা করতে পারি। ফলে আমরা তখন জগতের সকল নামের ফুলরে শুধু ’ফুল’ নামে ডাকা শুরু করি। ফলে মেটাফরে যে ঘটনাটা ঘটানো হয় তা হইল ভিন্ন বস্তুর অভেদসাধন। যা মূলত ভাষার ভিতর ঘটে। ভাষায় মেটাফরের কারণেই অধিবিদ্যাগত ঘটনা একটানা ঘটতেই থাকে। পিওর সত্য এইভাবে জগতের বাইরেই রহিয়া যায়, পরমের অধীন, তা সদা ট্যান্সসেন্ডডেন্টাল বা পরা জগতের বাস্তবতা।

সত্য ও অসত্য

আমাদের ভিতর কে সত্যরে খোঁজে? কে সত্যের খরিদ্দার। সেই সত্যকাঙ্ক্ষী ইচ্ছার সহিত সাক্ষাতের লাগি কতকাল অপেক্ষা করছি। তারপর উত্তর পাইছি সেই ইচ্ছার মূল্যের। আমরা চাই সত্য। বাজারে সত্যের এত মূল্য কেন? সবাই সত্যরে খোঁজে। অসত্যরে কেউ না চায় জ্ঞাতে কী অজ্ঞাতে! আমাদের ভিতর এই প্রতীতি কাজ করে গভীর তলে তলে ’সত্য’ ’ভাল’ ও ’অকৃত্রিম’ এইসব শব্দ বিশুদ্ধ ও মৌলিক মূল্যবোধবোধক ধারণা দেয়। অপরপক্ষে ’মিথ্যা’, ’শয়তান’ ও ’নকল’ বাইনারি বিপরীত আকারে দুর্নীতির প্রতীতিরূপে হাজির থাকে। সত্য ও মিথ্যার বিভাজন হইতেই মূল্যবোধের জন্ম হয়। মিথ্যার বিচারের মাধ্যমে সত্য লাভের আকাঙ্ক্ষা প্রতিষ্ঠিত হইতে পারত। কিন্তু দার্শনিকরা সত্য-মিথ্যার ইল্যুশন আগেই তৈয়ার করি রাখছেন। সত্য-মিথ্যা বিচারপূর্ব ঘটনা যেন।

সত্য যে আমরা তৈয়ার করিয়া থাকি তা আমরা সত্যের জন্মের গোড়ার কথা আমরা হামেশাই ভুলিয়া থাকি। দুর্ভাগ্যবশত ঐসব সত্যরে অন্ধবিশ্বাসের মতো অনড় বিশ্বাসে পরিণত করি। নিটশে প্রস্তাব করছেন ভবিষ্যতে এইসব অনড় বিশ্বাসের উর্ধ্বে উঠি অসত্যরে জীবনের একটা শর্ত রূপে স্বীকৃতি দেওয়া— তাতে সত্য পয়দা হইবে। আর তাতে ঐসব অনড় সত্যের বিপরীতে আমাদের উইল টু  ট্রুথ আকাঙ্ক্ষার পরিবর্তন আসিবে। ফলে সত্য-মিথ্যার পরপারে আমরা নৌকা বাইয়া নদী তরাই যাইবো বটে!

সত্যের মূল কোথায়

নিটশের মতে মানুষের বুদ্ধিমত্তার মধ্যে সবচাইতে শক্তিশালী জিনিসটা হইলো মানুষের কোনো কিছুরে লুকায়ে ফেলার ক্ষমতা (dissimulation)। যে জিনিসটা মানুষের সত্যের প্রতি যে আাকাক্সক্ষা তার প্রতিও নাই। লুকায়ে ফেলার টুলসগুলা যারে আমরা বলতে পারি ভান, প্রতারণা, চোগলখুরি, মিথ্যাচার, মুখোশধারণ ইত্যাদি ইত্যাদি। এই চাতুরি স্বভাবই সমাজ গঠনের মূলে কাজ করে। নিটশের মতে সমাজের শক্তিমানদের দুর্বলরা এইসব চাতুরির মাধ্যমে ম্যানেজ করি চলে। এই প্রক্রিয়ায় তাদের ও সমাজের অস্তিত্ব টিকাই রাখছে। দুর্বলরা কৌশলের আশ্রয় নেয় সদা। সবলরা তাদের পাশবিক শক্তি প্রয়োগ করিই দুর্বলদের উপর টিকি রয়। এইটা ঐতিহাসিকভাবেই চলি আসছে সমাজের সংস্কৃতি আচার-আচরণের ভিতর চাতুরি দুর্বলের ভিতর আত্মীভূত হই গেছে। এই চাতুরি আর্ট হিসাবে স্বীকৃত। প্রাসঙ্গিকভাবে উল্লেখ্য যে, নিটশে কখনও দুর্বলদের পক্ষপাতিত্ব করেন নাই। ’আমি স্বভাগতভাবেই যুদ্ধপরায়ণ। আমি আক্রমণের স্বভাব আমার সহজাত। শত্রæ হই উঠাই শক্তিমানের লক্ষণ। শত্ত্ররু হই উঠাই শক্তিশালী চরিত্রের পূর্বশর্ত। কারণ যুদ্ধংদেহী ভাবখানা শক্তিমানের এখতিয়ার—অন্যদিকে হিংসা ও প্রতিশোধের মনোভাব কেবল দুর্বলগের।ধরা যাক মেয়েদের হিংসাপরায়ণতা তা তাদের দুর্বলতারই লক্ষণ।’ যাহোক, সত্যের প্রতি মানুষের যে আকাঙ্ক্ষা ঐতিহাসিকভাবে মানুষের ভিতর রহিয়াই গেছে। এই আকাক্ষা ’পিওর’ রূপে মানুষের ভিতর কাজ করে। নিটশে জানাইতেছেন যে প্রতারণা ও ভানের বিপরীতেই মানুষের ভিতর এই সত্যাকাঙক্ষা কাজ করতেছে। সমাজ রক্ষার খাতিরেই প্রতারণা, ভান জরুরি হিসাবে কাজ করে। এইসব না থাকলে সমাজ ভাঙি পড়ত। মানুষের এইসব লুকানোর প্রবণতা ভিতর দিয়াই দুর্বল ও সবল যেন গোপন চুক্তির মারফত সমাজরে রক্ষা করি আসতেছে। এই গোপন চুক্তির ভিতরই বৈশ্বিক সত্যের জন্ম হয়। ভালো সমাজে মিথ্যাবাদীরে আলাদা করা হয়। এইভাবে ভাষার নিয়ম ও চিরসত্যের ধারণার সম্ভবনারে চাগায়ে রাখি। সত্যাকাঙক্ষা যে বিমূর্ত জায়গায় রয়, ভাষার বিমূর্ততাও এইভাবে কাজ করে।

সত্য, বিস্মরণ, মেটাফর ও ভাষা

ভুলি যাওয়া একটা আশির্বাদ। আমরা যদি ভুলতে না জানতাম ভাষা প্রায় সম্ভব হইত! ভাষা যেভাবে কাজ করে বিস্মরণ তাতে বিশাল ভূমিকা রাখে। আরোহ পদ্ধতিতে বস্তুসমূহের সাধারণ ধারণায় আমরা পৌঁছাই। বেলি, গোলাপ, চামেলি, মোরগফুলরে আমরা এক নামে ‘ফুল’ কয়ে ডাক দিই। মূলত ফুল বলি কিছু কি আছে? আছে শুধু বিশেষ বিশেষ কিছু নামপদের ফুল। যখন আমরা শুধু ফুল কই আমরা তবু ঐ ফুলের ধারণায় যেন পৌঁছাই যাই। আর তা সম্ভব হয় বিশেষ বিশেষ নামপদের ফুলরে ভুলার মাধ্যমে। এইভাবে বিশেষরে ভুলি আমরা সামান্য তথা পরমের সহিত সংসার পাতি। ভুলের ভিতর সকল ফুল মনে হয় হাজির থাকে। আসলে কি রয়? এই প্রশ্ন করা যায় অনায়াসে। ষোল’শ গোপিনী কি রাধাই? তাতে কেন রাধার বাধা? আর যদি গোপিনী প্রেমে কৃষ্ণ মজে তাতে রাধারই কেন এত অভিমান? এইখানে রাধার বিস্মরণ কাজ করে না। সে ভাষার ভিতর যে বিস্মরণ কাজ করে তা তার ভিতর কাজ করে না। তাতেই তার ভিতর অভিমান জমে। রাধার জগৎ ভাষাতে এবে প্রণীত হয় নাই। প্রকৃতির যে জগৎ তা ভাষার ভিতর রিপ্রেজেন্টেশন বটে।
আমাদের চেতনায় আমাদের ইন্দ্রিয় নির্মিত যে জগৎ, বহির্জগৎ নিয়া যে ধারণাজ্ঞান তৈয়ার করে তাই ফেনোমেনাল জগৎ। যেইখানে ব্যক্তি বা সাবজেক্ট নিজেই সে জ্ঞানের অংশ। অপরপক্ষে, ইন্দ্রিয়নিরপেক্ষ বস্তুবিষয়ে যে জ্ঞান তা মানবঅধিগম্য ন। কিন্তু মানুষ তাতে বিশ্বাসের মাধ্যমে পৌঁছায়। দর্শনে যাকে আদি কারণরূপে (পিওর ট্রুথ) বর্ণনা করা হয়। আমাদের ভিতর যে ফেনোমেনাল জগৎ কাজ করে তার পশ্চাতে কাজ করে নিওমেনাল তথা ইন্দ্রিয়নিরপেক্ষ পিওর সত্যজগৎ। এই দুজগৎ ভাষার ভিতর শব্দে অনুদিত রিপ্রেজেন্টেশনে কাজ করে। নিটশে ভাষার এই চিন্তারে বাতিল করি দেন। তিনি জানান দেন যে কোনো আদি কারণ বা পিওর ট্রুথ তথা কোনো ট্র্যানসেন্ডেন্টাল বা পরাজগৎ কারণ আমাদের ফেনোমেনাল জগতরে সাজাইতে ও অর্থ প্রদানে সাহায্য করে না। শব্দরা বিমানবিকীকৃত সত্যরে তুলি ধরে না। বরং শব্দ ইমেজ, সাউন্ডরে কপি করে, অনুবাদ করে মাত্র। মেটাফর ভাষাপূর্ব পিওর কোনো বাস্তবতারে হাজির করে না। আর আমাদের চিন্তা-ভাবনার পিছনে যে ‘আমি’র অস্তিত্ব তা নিটশে অস্বীকার করছেন এইভাবে: আমি নামক কেহ ভাবে না, ভাবনা যখন চায় তখনই সে আসে—আমি যখন ভাবি, ভাবনা তখন আসে না। ব্যক্তি ’আমি’ কখনই চিন্তা পূর্বশর্ত নন।’ অর্থাৎ তার মতে চিন্তার পূর্বশর্তরূপে সাবজেক্ট-এর বালাই নাই। আমরা দেখার ও শোনার সংক্ষেপিত হই আমাদের ভিতর যে যৌথ বাস্তবতা তৈয়ার করে তা মেটাফরের, তারেই আমরা জগৎ নামে ডাকি। আর ঐ জগতরেই পুনব্যাখ্যা করি আমাদের আদর্শ সত্য ও ভ্যালু দিয়া। মোট কথা নিরপেক্ষ বস্তুসত্তা  স্নায়ুতন্ত্রে ইমেজ হয় তারপর তা সাউন্ড হয় স্মৃতি আর চিন্তার মিশ্রণে। ভাষা বিশেষরে ভুলায়ে ভালায়ে রাখে তুলি ধরে সাধারণ কিছুরে সদা। আর এইটা কাজ করে ধারণা তৈয়ারের মধ্য দিয়া। ভাষা শেষ বিচারে মানবিকীকরণকৃত এক উৎপাদন।

সত্য ইল্যুশন আমরা ভুলেই গেছি। মেটাফর হারাই ফেলছে ইন্দ্রিয়বোধ। নিটশে সত্য ও মেটাফর নিয়া কইতেছে যেন কোনো মুদ্রা তার উপর দেওয়া ছাপ আজ মুছি গেছে ব্যবহারের জীর্ণতায়, সে এখন যে একমাত্র ধাতব কিছু, তা আর মুদ্রা ন!

মেটাফর বিমূর্তকরণে লিপ্ত হয়। সাধারণীকরই তার কাজ। মানুষ প্রাণি অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ কারণ সে ঘোষণা দেয় সে কোনো কিছুরে বিমূর্তরূপ দিতে সক্ষম, ধারণার বৈশ্বিকতা দিতে পারে। অন্য প্রাণি তা করতে সক্ষম হয় না হয়ত আল্লাহ মালুমকারণ তাদের ভাষা নাই। তারা মেটাফরের আশ্রয় লয় না। তারা নিজে সত্য তারা সত্য উৎপাদন করে না। ভাষাই মানুষ ও পশুর সীমানা।

ভাষা নিয়া নিটশের কথন

১.
মারাত্মক বিকৃতির বিনিময়ে বাস্তবতা ধরা হয় ভাষার নিঃশর্ত জালে।
২.
ভাষার গুরুত্ব এই যে এর ভিতর সংস্কৃতির বিবর্তন নিহিত, ভাষার ভিতর এক ভিন্ন জগৎ তৈয়ার করা হয়, অন্য জগতরে পিছু ফেলায়ে, মজবুত এক ভিত্তি ভাষা তৈয়ার করে যাতে জগৎ এর কব্জায় সদা রয়, আর সে রয় সদা সেইখানে প্রভু।
৩.
ভাষার ভিতর যুক্তি যেন সে পুরানা মহিলা প্রতারক এক! আমার মনে হয় আমরা ঈশ্বরের ধারণা রহিত হই না কারণ আমরা ব্যাকরণে বিশ্বাস করি।
৪.
দার্শনিকরা ভাষার জালে ধরা খাই বসি আছে।
৫.
সহস্রাব্দের যত আাধ্যাত্মিক কাজকাম তা ভাষার ভিতর আসি জমছে।
৬.
জগতের সব ভাষাগুলানরে পাশাপাশি রাখলে তাতে দেখবেন যে শব্দগুলন সত্য বিষয়ে তেমন আপত্তি নাই, খাপের খাপ প্রকাশ নাই, তখন দেখবেন মনে হইবে আরে ভাষা তো বেশি না জগতে! কোনো ফলাফল ছাড়াই বস্তু-স্বরূপের প্রকাশ যেন কথকের ভাষারই পুরাই বোধগম্যতার আওতায়।
৭.
এমনকী আমরা আমাদের চিন্তারাশির পুরাটা শব্দে আনতে পারি না।
৮.
আমরা যতই সচেতন থাকি না কেন দার্শনিকতার মিথ ভাষার ভিতরই লুকাই রয়, আর তাা ক্ষণে ক্ষণে প্রাদুর্ভাব ঘটে!

 

জহির হাসান

জহির হাসান। জন্ম ২১ নভেম্বর ১৯৬৯, যশোর জেলার পাইকদিয়া গ্রামে মাতুলালয়ে। শৈশব ও কৈশোর কাটছে যশোর ও ঝিনাইদহের গ্রামে। লেখালেখির শুরু ৭ম শ্রেণি।  প্রথম কবিতা প্রকাশ ১৯৮৪ সালে যশোর থাকি প্রকাশিত  দৈনিক স্ফ’লিঙ্গ পত্রিকায়। আগ্রহ ধর্ম, ভাষা, দর্শন ও চিত্রকলায়।  পড়াশোনা ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে রসায়ন শাস্ত্রে।       
প্রকাশিত কবিতার বই: পাখিগুলো মারো নিজ হৃদয়ের টানে (২০০৩), গোস্তের দোকানে (২০০৭), ওশে ভেজা পেঁচা (২০১০), পাতাবাহারের বৃষ্টিদিন (২০১২), খড়কুটো পাশে (২০১৪), আয়না বিষয়ে মুখবন্ধ(২০১৬),  আম্মার হাঁসগুলি(২০১৭),  বউ কয় দেখি দেখি (২০১৮),  বকুলগাছের নিচে তুমি হাসছিলা(২০১৯), আম্মার আরও হাঁস(২০২০) ও  আমি ও জহির(২০২১)
অনুবাদ : এমে সেজেরের সাক্ষাৎকার ও আধিপত্যবাদ বিরোধী রচনাসংগ্রহ (২০১১) ।
সাক্ষাৎকার পুস্তিকা (কবি উৎপলকুমার বসুর সাক্ষাৎকার) : কথাবার্তা (সপ্তর্ষি প্রকাশন, কলকাতা, ২০০৬)
Facebook Comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।