নাহার তৃণার নভেলা: অদ্বৈত পারাবার- পর্ব-১

পর্ব-১

ঘর ভরা শূন্যতার মাঝখানে, অন্যমনস্কভাবে সেভেনের ক্লাস টিচার খাদিজা খানমকে বসে থাকতে দেখে পিওন কামরুল অবাক হয়। ক্লাসের ব্যাপারে ভীষণ নিয়মনিষ্ঠ খাদিজা ম্যাডাম। অথচ ঘন্টা পড়ার দশ মিনিট চলে গেলেও ম্যাডাম ক্লাসে না গিয়ে এখনও টিচার্স রুমেই বসে আছেন। বড়ো ভালো মানুষ এই খাদিজা ম্যাডাম। ওদের মতো কর্মচারীদের কেউ তেমন গুরুত্বই দেয় না। অথচ ম্যাডাম তাদের সঙ্গে কত আন্তরিক। বিপদে আপদে মানুষটার উপর নির্ভর করে ওদের নিরাশ হতে হয়নি কখনো। স্কুলের পিয়ন, দারোয়ান, আয়া সবার প্রিয়পাত্র খাদিজা ম্যাডাম। ম্যাডামের শরীর কী ভালো নাই? চিন্তাটা মাথায় আসা মাত্রই এগিয়ে যায় কামরুল।

– মেডামের শরীরটা কি যুতের লাগে না? ঘন্টা পড়ছে অনেকক্ষণ হয়। কিলাসের বিচ্ছুগুলান চিল্লাপাল্লা শুরু করলে তো বিপদ। পিনছিপাল মেডামরে গিয়া বলবো, আপনার শরীর ভালা লাগে না?

কামরুলের তড়বড় করে বলে যাওয়া কথা, ভাবনার স্তর ছিঁড়ে খাদিজা খানমকে একটানে বাস্তবে ফিরিয়ে আনে। রুমের চারপাশে চোখ বুলিয়ে তিনি লজ্জিত হন, সহকর্মীরা সবাই যে যার ক্লাসে চলে গেছেন।

– এই, না না, শরীর ঠিক আছে। প্রিন্সিপাল ম্যাডাম কে কিছু জানাতে হবে না তোমার…
দ্রুত খাতাপত্র গুছিয়ে, কামরুলের উদ্দেশ্যে বিব্রত একটুকরো হাসি রেখে ক্লাসের দিকে রওনা দেন তিনি।

টিফিনের পর ফোরের বাংলা ক্লাস তার। ক্লাসে গিয়ে দেখেন ছাত্রীরা যে যার খাতায় আঁকিবুকিতে মগ্ন। ক্লাস মনিটর টুম্পা চোখে মুখে ভীষণ দায়িত্বশীল ভাব নিয়ে তাদের তদারকি করছে। ক্লাসে টিচারের অনুপস্হিতির সুযোগে হুটোপুটি করে অন্য ক্লাসের বিরক্তি না ঘটিয়ে, শান্ত থাকার এ উদ্ভাবনটা খাদিজা খানমের। ক্লাস ফোরের মতো একটা ক্লাসে, তার শেখানো বুদ্ধির প্রয়োগ দেখে বাচ্চাগুলোর প্রতি মমতায় মনটা ভরে যায় খাদিজা খানমের। এমন সুশৃঙ্খল বাচ্চাদের ভালো না বেসে থাকা সম্ভব! ওদের সুন্দর আচরণের জন্য ব্যক্তিগত উদ্যোগে একটু আধটু পুরস্কারের ব্যবস্হা করলে সেটা নাকি আদিখ্যেতা!

টিফিন পিরিওডে তাকে ডেকে নিয়ে গিয়ে প্রিন্সিপাল ম্যাডামের মিষ্টি মিষ্টি কথার ফোটানো হুলের বিষ খাদিজা খানমের শরীর-মন থেকে হঠাৎই উবে যায়। ক্লাসের মেয়েগুলো ততক্ষণে আঁকাআঁকি ফেলে দাঁড়িয়ে গেছে। প্রিয় টিচারকে দেখার আনন্দ ঝিলিক দেয় ওদের চোখেমুখে। ভীষণ এক ভালোলাগা নিয়ে খাদিজা খানম মেয়েদের বসতে বলেন হাত ইশারায়। টুম্পার মাথায় হাত বুলিয়ে তাকে তার জায়গায় পাঠিয়ে দেন।

– ক্লাস, তোমাদের ব্যবহারে আমি খুউব খুশি! আজ পড়াশোনা বাদ। কে কী আঁকলে নিয়ে এসো, দেখি। আঁকা দেখে তোমাদের একটা মজার গল্প শোনাবো, পুরস্কার হিসেবে।

নিজেদের আচরণের কাঙ্খিত প্রশংসায়, মেয়েদের সম্মিলিত আনন্দ ধ্বনিতে নিস্তরঙ্গ নদীতে ঢেউ ওঠার মতো ক্লাস জুড়ে যেন ঢেউ ওঠে। সে ঢেউ ক্লাসের সীমানা পেরিয়ে হয়ত আছড়ে পড়েছিল পাশের ক্লাসের অংকের টিচার নার্গিস মাহজাবীনের কানে। তিনি যেন এমন একটা কিছুর অপেক্ষাতেই ছিলেন এতক্ষণ। ওপাশের ক্লাস থেকে ছিটকে আসা উচ্ছ্বাসের শব্দে তার ক্লাসে বিঘ্ন ঘটছে, এমন ছুতোয় ত্বরিত মাহজাবীনকে উদ্বিগ্ন মুখে ক্লাস ফোরে উদয় হতে দেখা যায়। তাকে দেখে মেয়েগুলোর আনন্দিত চোখেমুখে হঠাৎ করে কড়া পাকের সন্দেশ গলায় আটকে যাবার মতো অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ে। দম দেয়া পুতুলের মতো সবগুলো মেয়ে দাঁড়িয়ে যায় নিঃশব্দে। সেসব তোয়াক্কা না করে হন্তদন্ত মাহজাবীন, খাদিজার প্রায় কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিস করেন।

– আহ আপা! আপনাকে নিয়ে আর পারা গেলো না দেখি। আজই না প্রিন্সিপাল ম্যাডাম বাঁদরদের আদর দিয়ে মাথায় না তোলার উপদেশ দিলেন আপনাকে। ভুলে গেলেন?

মাহজাবীনকে এভাবে উড়ে আসতে দেখে খাদিজা অবাক না হলেও প্রচণ্ড বিরক্ত হন। হাত ইশারায় শুকনো মুখে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েগুলোকে বসতে বলে, মাহজাবীনের চেয়েও খাদে গলা নামান খাদিজা,
– প্রিন্সিপাল ম্যাডামের রুমে উপস্হিত না থেকেও আমাকে দেয়া উপদেশ মনে রাখবার দায়িত্ব যখন আপনি নিয়েছেন, তখন সে কষ্টে আমার না গেলেও তো চলে যায়- ঠিক না? তাছাড়া আপনার ক্লাসে বাঁদরের তৈলাক্ত বাঁশে ওঠা-নামার হিসাব নিকাশে, আমি যখন নাক গলাতে যাইনা, তখন আপনারও কী উচিত নয় আমাকে আমার মতো ক্লাস নেবার স্বাধীনতা দেয়া? রেগে গেলে খাদিজা খানম আপনি সম্বোধন করেন।

তার রাগটা টের পেয়ে আর প্রশ্নের জবাবে পাল্টা যৌক্তিক প্রশ্নে থতমত খেয়ে যান গণিতে তুখোড় মাহজাবীন। উত্তেজনার বশে মাঝে মধ্যেই মাহজাবীনের মনের বিষ বাইরে ছড়িয়ে বেড়িয়ে পড়ে। জীবন অঙ্কের বাস্তবতায় ভুলভাল চাল দিয়ে বসেন। বহুবার হয়েছে এমনটা। কেন যে আগ বাড়িয়ে মেয়েটা তার প্রতিটি কাজে বাগড়া দিতে চায়, খাদিজা খানমের কাছে সেটি এক রহস্য বিশেষ। অথচ এক সময় মাহজাবীন তাকে বিশেষ পছন্দ করতো। ওর সব বিষয়ে খাদিজা খানমের সংশ্লিষ্টতা কামনা করতো। সাংসারিক নানা ঝুট ঝামেলা, স্বামীর সাথে বনিবনা না হওয়া নিয়ে খিটমিট ইত্যাদি অভিযোগ জানাতো, পরামর্শ চাইতো। ওর বিয়ে, সন্তানের জন্ম সবেতেই খাদিজা খানমের সরব অংশগ্রহণ ছিল। মাহজাবীনের অনেক গোপন ব্যথার নীরব সঙ্গী তিনি। কী এমন ঘটলো যে তিনি মেয়েটার চোখের বালি হয়ে উঠলেন! রহস্যের গিঁটটা যে খোলার চেষ্টা করেন নি তা নয়; কিন্তু ব্যর্থ হয়েছেন। মেয়েটা উল্টো তাকে প্রচ্ছন্নভাবে অপমানজনক কথা শুনিয়েছে। ওর একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপারগুলো সম্পর্কে খাদিজা খানম ওয়াকিবহাল, এই বিষয়টা হয়ত মাহজাবীন কে কোনো কারণে এখন পোড়ায়। তিনি তার গোপন বিষয় জেনে গেছেন, সেই দুর্বলতা ঢাকতেই কী মাহজাবীন তার সাথে এমন আচরণ করে? এসব ক্ষেত্রে খাদিজা খানম যে অন্ধ কূয়ার মতো, এত বছরে সেটা বুঝতে না পারাটা দুঃখজনক। তবে মেয়েটি তার সাথে যতই বিরূপ ব্যবহার করুক না কেন, খাদিজা সেসব মনের ভেতর পুষে রাখেন না। যেনতেন ভাবে পাল্টা শোধ তোলা তার স্বভাবে নেই। ছোটো বোন হিসেবে দেখতেন যাকে, তার রহস্যজনক ব্যবহার যখন মাত্রা হারায়, সেটা খাদিজা কে ভীষণ বিরক্ত করে। কোনো ক্লাসের বাচ্চাদের মধ্যে তিনি নিজের মতো করে ছোটোখাটো পুরস্কারের ব্যবস্হা নিলেই মাহজাবীনের গায়ে কেউ যেন বিছুটি পাতা ঘঁষে দেয়। খাদিজা খানমের বিরুদ্ধে তখন পুরনো কাসুন্দি ঘেঁটে গন্ধ ছড়াতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে মেয়েটা। স্কুলের পিয়ন-দারোয়ানদের প্রতি তাঁর আন্তরিক ব্যবহার নিয়েও মাহজাবীনের গাত্রদাহ আছে।

এসব নিয়ে আগের প্রিন্সিপালের সাথে দেন-দরবারে তেমন সুবিধা করে ওঠতে পারেনি। ছাত্রীদের উৎসাহিত করার বিষয়ে খাদিজা খানমের আন্তরিকতার প্রতি পূর্ববর্তী প্রিন্সিপালের আকণ্ঠ সমর্থন ছিল। এক বছর হলো তিনি অবসর নিয়েছেন। তার জায়গায় আসা নতুন প্রিন্সিপাল মাহজাবীনদের কান পড়ায় যে বেশ কাবু, সেটা তিনি প্রায় তার আচার আচরণে প্রকাশ করে ফেলেন।

এই স্কুলের টিচারদের একটা অংশের গোষ্ঠীবদ্ধ ভাবে তার বিপক্ষে যাওয়া প্রায় নিয়মের পর্যায়ে চলে গেছে। নার্গিস মাহজাবীন এখন সে দলের নেত্রী। নানান ছুতোনাতায় খাদিজা খানমের প্রায় সব কাজেই তারা বিরোধিতা করে। অনেক সময়ই তাদের ব্যক্তিগত ঈর্ষা- গোয়ার্তুমির বলি হতে হয় নিরীহ ছাত্রীদের। গত বছর যেমন একটু উঁচু ক্লাসের ছাত্রীদের সঙ্গে মোবাইল ফোন রাখা নিয়ে বির্তক উস্কে দিয়েছিল তাদের এই গোয়ার্তুমি। কারণ আর কিছুই নয়, যেহেতু শুরু থেকেই খাদিজা খানমসহ গুটি কয়েক টিচার ইস্যুটার সপক্ষে ছিলেন। মাহজাবীনেরা তখন ইচ্ছাকৃত ভাবে তার বিপক্ষে অবস্হান নিয়েছিল।

স্কুলের ছাত্রীদের নিতে আসা অভিভাবকদের যানজটের দুর্গতি থেকে রক্ষায় ছাত্রীর অবস্হান জেনে নিতে মোবাইলের সাহায্য তো অস্বীকারের উপায় নেই। অনেক ছাত্রীর মা-বাবা দু’জনই হয়ত চাকুরীজীবী। স্কুলে থাকা বাচ্চার খোঁজ খবর নেওয়ার প্রয়োজন তাদের হতেই পারে। তাছাড়া কত রকমের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে দু’পক্ষেই। তখন চাইলেই যেন অভিভাবক-ছাত্রী, একে-অন্যের সাথে যোগাযোগ করে নিতে পারে, তার জন্য স্কুলে মোবাইল আনার পক্ষে ছিলেন খাদিজা খানম। অপব্যবহারের সুযোগ রোধে মোবাইলে শুধুমাত্র ছাত্রী- অভিভাবকের নম্বর ছাড়া আর কোনো নম্বর রাখার অনুমতি দেয়া হবে না। সম্ভব হলে স্পিড লিমিট টু জিতে নামিয়ে ছাত্রীদের ফোন ব্যবহারের অনুমতি দেয়া যেতে পারে। এটা ছিল খাদিজা খানমদের সুপারিশ। কিন্তু মুষ্টিমেয় টিচারের এসব যুক্তি গোষ্ঠীবদ্ধতার গুরুভারে ধোপে টেকেনি। বোর্ড মিটিংয়ে স্কুল কমিটি ছাত্রীদের জন্য মোবাইল আনা নিষিদ্ধ করে।

সে বিষয়ের জের ধরে ভুক্তভোগী অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। স্কুলের স্বাভাবিক পরিবেশ তাতে কিছুদিন বিঘ্নিত হয়। আড়েঠারে অনেকেই আবার এর জন্য হাস্যকর ভাবে খাদিজা খানমদের দায়ী সব্যস্তে উঠে পড়ে নেমেছিল। দীর্ঘ এগারো বছর খাদিজা খানম শহরের নামকরা মেয়েদের এই স্কুলটির শিক্ষকতায় যুক্ত আছেন। তার বিপুল জনপ্রিয়তা, অনেকেরই চক্ষুশূল। তাদের ধারণা, খাদিজা খানম নানা ফন্দি ফিকিরে নিজের জনপ্রিয়তা বজায় রাখেন। ক্লাসে পড়াশোনার বেলায় ঠনঠন। এমন ভিত্তিহীন অভিযোগের বিপরীতে তার ক্লাসের কোনো ছাত্রীর খারাপ ফলাফলের লক্ষণ না থাকার সফলতাও ঠিক হজম হয় না তাদের। ফলে খাদিজা খানমের সবই দূষণীয়। সব বিষয়েই তাদের বিরোধিতা লেগেই থাকে।

শিক্ষক হিসেবে তিনি তার ছাত্রীদের ভালো আচরণ কিংবা ফলাফলে সন্তুষ্ট হয়ে পুরস্কার দিলে সেটা তো দূষণীয় অপরাধ নয়। আর এতে স্কুলের নিয়মনীতির লঙ্ঘনও হয় না। এ নিয়ে কারো সঙ্গে তার কোনো প্রতিযোগিতায়ও নেই। অথচ তার বিরুদ্ধে মাহজাবীনদের মতামত, স্বামী পরিত্যক্তা, সন্তানহীন হিসেবে নিজে তো ঝাড়া হাত-পা। তাদের চাকরি, সংসার সবদিক সামলাতে হয়। নানান বাহানায় গিফ্ট দেয়া, গল্প বলার আসর জমানো, গানের উৎসব করার উটকো খেয়ালিপনায় অন্যদের কেন বাপু বিপদে ফেলা! তাদের কাছেও ছাত্রীরা খাদিজা ম্যাডামের পাগলামি আশা করে। খাদিজা ম্যাডাম বলতে তারা অজ্ঞান। হবে নাই বা কেন! পড়াশোনা না করতে পারলেই তো ছাত্রীদের আনন্দ। কোথায় তাদের কড়া শাসনে রাখা হবে তা না, যত্তসব পাগলামি ওদের নিয়ে।

আজ টিফিন পিরিয়ডে তাকে ডেকে নিয়ে গিয়ে গল্পের ছলে প্রিন্সিপাল ম্যাডাম মাহজাবীনদের মতামতগুলোরই পুনরাবৃত্তি করেছেন মাত্র। সবশেষে প্রতিপক্ষকে কাবু করার পুরনো কৌশল হিসেবে তার দুর্বল জায়গাতে খোঁচা দিতেও ভোলেননি স্বনামধন্য স্কুলের সবচে’ ক্ষমতাশালী চেয়ারে বসে থাকা মানুষটি।

– আপনার ব্যথাটা বুঝি খাদিজা ম্যাডাম। নিজের সন্তান না থাকার শূন্যতা আপনি ওদের মধ্যে দিয়ে ভুলে থাকতে চান। কিন্তু পর কখনও আপন হয় বলুন দেখি! শুধু শুধু আদরে বাঁদর বানানো। আপনি একটা বাচ্চা দত্তক নিলেও কিন্তু পারতেন। একা একজন মানুষ অত বড়ো আলিশান বাড়িটা ভূতের মতো আগলে থাকেন। আপনার কিছু একটা হয়ে গেলে জায়গা-জমি তো বারো ভূতে লুটেপুটে খাবে।

তার ব্যক্তিগত বিষয়ে এতটা নাক গলানোর মতো সম্পর্ক গত এক বছরে প্রিন্সিপালের সাথে মোটেও গড়ে ওঠেনি খাদিজা খানমের। স্কুল বিষয়ে তার উপদেশসমূহের চৌহদ্দিতে নিজের ব্যক্তিগত বিষয়াদি ঢুকে যাচ্ছে দেখে খাদিজা খানম ম্যাডামকে থামিয়ে দেবার জন্য সচকিত হন। স্বভাবসুলভ ঋজুতায় যথাসম্ভব নম্রতা বজায় রেখে বলেন,
– ম্যাডাম এরপর আপনার টিফিনের সময় পেরিয়ে যাবে। আপনি বরং টিফিন সারুন।

ম্যাডামের আর কিছু বলার নেই, নিশ্চিত হয়ে চেয়ার ঠেলে বাইরে বেরিয়ে আসেন খাদিজা খানম। কিছু কিছু ক্ষত আছে, নিদির্ষ্ট সময় পেরিয়ে ক্ষরণের তীব্রতা নিয়ে তার অবস্হান জানান দেয়। প্রিন্সিপাল শেষদিকে তাকে উদ্দেশ্য করে যে কথাগুলো বলেছেন, তখন অতটা বিঁধেনি বুকে। এখন, খোলা করিডোরে দাঁড়িয়ে, মাঠে খেলাধূলায় মত্ত ছোটো ছোটো মেয়েগুলোর দিকে তাকিয়ে বিষণ্নতায় আক্রান্ত হন খাদিজা। বুকের ভেতর পুরনো কান্নার মিহিসুর রিনরিনিয়ে বেজে ওঠে… আনমনা হয়ে পড়েন তিনি। মন্থর পায়ে টিচার্স রুমে গিয়ে বসেন চুপচাপ। পরিচিত পরিবেশ, সব ভুলে নিজের মধ্যে ডুবে যান খাদিজা খানম।

 

নাহার তৃণা

জন্ম ২ আগস্ট ঢাকায়। বর্তমানে আমেরিকার ইলিনয়ে বসবাস। ২০০৮ সালে লেখালেখির জগতে প্রবেশ। দুই বাংলার বিভিন্ন সাহিত্যপত্রিকা এবং ওয়েবজিনে লিখছেন গল্প, প্রবন্ধ, গল্প, অনুবাদ, সাহিত্য সমালোচনা। একুশে গ্রন্থমেলা ২০২০-এ পেন্সিল পাবলিকেশনস প্রতিভা অন্বেষণে তার ‘স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্ট’ সেরা গল্পগ্রন্থ নির্বাচিত হয়। একইবছর অন্বয় প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয় ‘এক ডজন ভিনদেশী গল্প’। নাহার তৃণার প্রকাশিত বই দুটি এখন বইয়ের হাট প্রকাশনায় অ্যামাজন কিন্ডেলেও পাওয়া যাচ্ছে।

Facebook Comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।