তিনটি কবিতা


কল্যাণী রমা

বরফে আগুন জ্বেলে, বরফে আগুন জ্বলে

তোমার আলেক্সান্দ্রিয়া
বরফে আগুন জ্বেলে
দাউ দাউ পুড়ে যায়
পুড়ে যায় ঘর।
বরফে আগুন জ্বেলে
বরফে আগুন জ্বলে
বরফে আগুন জ্বলে।

ঘন্টা বাজে না কোথাও। মন্দিরে দরোজা বন্ধ। তবু
শরীরে গাভীর ডাক। গোয়ালিনী। স্তন কাঁপে। ভোর হ’লে নেশা।
হলুদ তেকিলা জ্বলে, পোড়ে, পোড়ায়। নাভির রক্তে মারগারিটা।
পোড়ায় নারীরা। যায়, আসে, চলে যায়। পোড়ায় অতৃপ্ত আত্মা।
আলেয়ার আলো তুমি। আলো দাও। প্রেম দাও।
কোলে এস, কোলে বসো। দাও, দাও, আরো দাও। ভরে দাও। চুমু দাও। ছুঁয়ে দাও।
সবাই তোমার রাধা।

পোড়া বই, পোড়া পাতা, পোড়া আগুন, পোড়া ফাগুন
জ্বলে। চোখে বরফের জল জ্বেলে। জ্বলে।
জ্বলন্ত বরফে দাউ দাউ একা। তবু একা। তোমার আলেক্সান্দ্রিয়া।

৪/২/২০১২

আকাশে গ্রেকল ওড়ে

তোমার শরীরে
আমার ছেলেবেলার গন্ধ
হারানো বকুলফুল
আলো নিভিয়ে জ্যোৎ‌স্না
দেখা রাত
ধিকিধিকি জ্বলা তারা।
আকাশে গ্রেকল ওড়ে
আমিও উড়ে যাব, তারারা নিভে যাবে।

৫/২/২০১২

 

আমিই তোমার শেষ ভাসিলিসা

সুন্দরী ব্যাঙ রাজকুমারী
সব তোমার পথেই পড়ে
উইলো গাছের শাঁস তোমার পাপের মত শাদা
ঊরুসন্ধিতে নতুন জল, কাজল ডাগর চোখ।
শরীরে ঘোড়ার রক্ত
তোমার বনের মাশরুমে নেশা।

তবু আমি যে ভেবেছি
ভালোবাসা মানে
তোমাকে জড়িয়ে সাগরে হেঁটে যাওয়া।
ভালোবাসা মানে
বাজপাখির পালক পাহাড়ে খুঁজে পাওয়া।

পিছনে ফির না, কুমার, রুপার রাজ্য জ্বলে।
পিছনে ফির না, কুমার, সোনার রাজ্য জ্বলে।
পিছনে ফির না, কুমার, হীরার রাজ্য জ্বলে।

আমি জলরঙ
আমি ধোঁয়াফুল
আমার আঙ্গিনা ভরা
সোনালি কদম গাছ, ভেজা বার্চবন
ফেলে আসা ছেলেবেলা
হারানো কানের দুল।

সামনে যেও না, কুমার, হীরার রাজ্য জ্বলে।
সামনে যেও না, কুমার, সোনার রাজ্য জ্বলে।
সামনে যেও না, কুমার, রুপার রাজ্য জ্বলে।

ঈর্ষা শিখিনি কুমার
বল, কাজল পরব চোখে?
আজো, তুমি শুধু ছুঁয়ে দিলে
আমার শরীর
বৃষ্টিভেজা স্প্রুসগাছ।

 

৫/২/২০১২

 

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *