কামরুল হাসানের পাঁচটি কবিতা

স্বপ্নতাড়িত যাবে একা স্বপ্নতাড়িত চলে দ্রুত। অবকাশ গ্রহের পাশে অপেক্ষমান বাঘ-রোদ ভীত উড্ডয়নের কলতান বাতাসে ধ্বনিত। লতা-গুল্মময় তাঁর চলা। বৃক্ষে তাঁর পুঁতে রাখা আয়ু। স্বপ্নতাড়িত যাবে একা। চন্দ্রাহত রাতে ভাসে, সফেদ নৌকায় তাঁর পাড়ি অন্তরীক্ষ ঘুরে আবহাওয়ামণ্ডল জুড়ে তীব্র শুভ্রতা, স্বপ্নতাড়িত আছে ঘুমে। এই গৃহে …

কামরুল হাসানের পাঁচটি কবিতা

অশ্ব আমার আস্তাবলে অশ্ব আমার আস্তাবলে হাঁটছি তোমার শ্যামসুন্দর পথটি বেয়ে। আমার পিতৃভিটে পূর্বাকাশে মেধা এখন মগজে নেই দুই চাতালে অশ্ব আমার আস্তাবলে। বনস্থলির শিরদাঁড়া সেই যেমন দাঁড়ায় বনমোরগের ঘাড় তেজী ঐ জলের সখ্যে নিরহস্যে দ্বিধা টলে অশ্ব আমার আস্তাবলে। পূর্বপুরুষ যেতেন জিতে দক্ষতাতার রুক্ষ …

কামরুল হাসানের দীর্ঘ কবিতা: বাঘ ও হরিণী উপাখ্যান

বয়স হলে বাঘের হরিণপ্রীতি খুব কমে যায়, বাঘ আর শিকারে কি সেভাবে তাকায়? যেভাবে দেখতো যৌবনে হরিণীর চকচকে দেহ হরিণী গাত্রের রেখা বাঘমনে জাগাত বিদ্রোহ! এখন বয়সকালে বাঘ বসে কেবল ঝিমোয় চারপাশে কত যে বর্ণ নিয়ে হরিণ সেঁধোয়; বাঘ আর পারে না তাকাতে কমে গেছে …

কামরুল হাসানের পাঁচটি কবিতা

শামুক বাড়ি শামুরবাড়িতে বো-কাট্টা ঘুড়ির মতো চক্কর খায় মেঘ, কেনো তরুণী মেঘের দোপাট্টা খুলে গিয়ে আটকে যায় দূরান্তে গ্রামের নিশানা উঁচুমাথা গাছের চূড়োয়; বৃষ্টি হয় বিধবার একপলক স্বামীশোকের মতো। এই গ্রামে ধন্বন্তরী, আহা, খাল ছিল কোমরের বিছা রূপালি ঝিলিক তার ঐ পাড়ে অন্যমন্ত্র চরের সিথানে …

জীবনানন্দ দাশের হাওয়ার রাত: কামরুল হাসান

হাওয়ার রাত’ কবিতাটি কবি জীবনানন্দ দাশের তৃতীয় ও বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ বনলতা সেন’-এর অন্তর্ভূক্ত। নক্ষত্রখচিত জ্বলজ্বলে এক রাতের অসামান্য নৈসর্গিক পটভূমিতে তিনি নির্মাণ করেন ততোধিক অসামান্য কবিতাটি। রাত যে কেবল তারকাখচিত তা নয়, নয় কেবল প্রবল হাওয়ার রাত, সে রাতের বিশাল ক্যানভাসে বর্তমানের নক্ষত্রনিচয় শুধু নয়, …

কামরুল হাসানের ছোট গল্প: বিপরীত যাত্রায়

সবশেষে এলে যা হয়, অত্যন্ত তাড়াহুড়া করে প্রায় লাফ দিযে ঘাট থেকে স্টামারে উঠল সরল। ডেক জুড়ে যাত্রীরা ঢালাও বিছানা পেতেছে, কোথাও সম্ভাবনা দেখল না সে। হাতের ব্যাগটা এতক্ষণ ভারী ঠেকেনি, জায়গা না পেয়ে ঠেকল। ইন্টার-ক্লাশগুলোর মাঝে দিয়ে সরল যাচ্ছিল প্রায় নিচের দিকে তাকিয়ে। তখন …

কামরুল হাসানের ছোটগল্প: মধ্যবিত্ত বারান্দা

আলতোভাবে ঘুম থেকে স্বপ্নটা ছুটে যায়। বনের তৃণকার্পেট ছেড়ে পলায়নপর হরিণের পায়ের মতোই যেন ছুটে পালালো। আচ্ছন্ন ভাবটা বজায় রেখেই জামিল স্বপ্নটা পুনর্বার ফেরত পাওয়ার লোভে পাপড়িগুলো জোড় লাগিয়ে চোখ বুজে ফেলে। পায় না, কিছুতেই জোড় লাগে না ভাঙা কাচের মতো স্বপ্নের আয়নাটা। অনেক সময়ে …

গ্রাম সিরিজ: কামরুল হাসান

১ আমার জন্ম গ্রামে, প্রাকৃতিক প্রসবের পর নান্দনিক বৃক্ষরাজি গ্রামশোভা প্রভূত বাড়াল, অনেক দূরের নদী পাড় ভেঙ্গে নিকটস্থ হল আলো-ছায়ার তীরে রাত্রিদিন জোয়ারের স্বর । পৃথিবীর যাত্রা প্রাগৈতিহাসিক গ্রামের সজল বুঝি গ্রাম উঠে যাবে নক্ষত্রের বিম্বিত ভেলায়, বুঝি গ্রাম নৃত্যরত মেঘেদের ময়ূরী মেলায় ঘনবর্ষণে অবাক …

কামরুল হাসানের ছোটগল্প: কুকুর

জন্তুটা হাঁটছিল আনমনে, একরোখা সড়কটির উপর এলোমেলো পদক্ষেপে, যেন মাটিতে ছায়ার টুকরো খুঁজে বেড়াচ্ছিল সে। শুকতে শুকতে সন্দেহ বোঝাই পা নিয়ে চলছিল সড়কের উপর পড়ে থাকা পাতায় খসখস একটা শব্দ হচ্ছিল, মৃদু ধুলো উড়ছিল যদিও আবছা আঁধারের ভেতর দেখা যাচ্চিল না কিছুই । একটা জমাট …

প্রেমের পাঁচ পদ্য: কামরুল হাসান

লেক সজীব চোখের মত জল ধরে আছো সম্পন্ন পেয়ালা— মাটির সিক্ত ছাঁচ, ঘাসপাড়ে নকশার বাহারে বুনট হে শহর, তুমি কি মুগ্ধ ঠোঁট? এ পাত্র ধরে আছো চুমুকের তীরে। যেটুকু বিলম্বক্ষণ কেটে যাবে চুম্বনের আগে সেসময় আমাদের বৈকালিক হাঁটা লক্ষ করে। এই জল কাঁপে না কিছুতে …

অঘ্রানের অনুভূতিমালা: অবদমিত আকাঙ্ক্ষার আগুন

যে দুটি কাব্যগ্রন্থের জন্য কবি বিনয় মজুমদার বাংলা কবিতার ভূবনে অমর হয়ে থাকবেন তার একটি  ‘ফিরে এসো, চাকা’; অপরটি ‘অঘ্রানের অনুভূতিমালা’। দুটি কাব্যগ্রন্থ মেজাজে ও প্রকরণে একেবারে আলাদা। নিজের উদ্ভাবিত কাব্যতত্ত্বকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে বিনয় ছয়টি দীর্ঘ কবিতার এই অভূতপূর্ব গ্রন্থটি লিখেন। আশ্চর্য যে রচনার …

কামরুল হাসানের মৃত্যুবিষয়ক দশটি কবিতা

বিলীয়মানতার গান আমি থাকবো না, চামেলীও চলে যাবে বাতাসে কর্পুর, গন্ধ ছিল কি না, এ প্রশ্নে লোকেরা মাতুক সে মাতমও থাকবে না কিছুকাল পর লোকেরা সমস্ত ভোলে, সত্য থাকে প্রত্যেহের প্রভাতের থলি ইলিশে ভরাতে যায় দিন কোমলগান্ধার অজস্র চাঁদমুখ আকাশের ছবি অমলিন। আমি থাকবো না, …

কামরুল হাসানের গল্প: স্বপ্নের প্রদর্শনী

প্যাসিফিক গ্রপের ঝকঝকে অফিসটিতে ঢুকে একেবারে মুগ্ধ হয়ে যায় শামস ইবনে আরিফ। কী চমৎকার ইন্টেরিয়র, ছবির মত সুন্দর সবকিছু। সেক্রেটারিকে নিজের নাম বলে যে সোফাটিতে এসে বসেছে সেটার নরোম শরীরে ডুবে যেতে যেতে ভাবে সঠিক জায়গাতেই সে এসেছে। ইন্টারকমে সেক্রেটারি জানিয়েছিল কেউ একজন দেখা করতে …

কামরুল হাসানের পাঁচটি কবিতা

চিহ্ন তাঁর পদচিহ্ন তাঁর রাস্তা ক্রমে হতেছে রাজপথ পদচিহ্নের শিল্পভার বুকে বিন্যাসে বেণি দুললো দুপুরে হেঁটে যায় মৌন সে একা, মৃদু, তবু সুষমার মুগ্ধ সম্ভার বড় ভার ঠেলে দেয় বিমুগ্ধ বাপাশে বাম ভূখণ্ড জুড়ে জেগে ওঠে সাতলক্ষ চোখ যোজন পিয়াসী তুলে রাখে চিহ্ন তাঁর পদচিহ্ন …

কামরুল হাসানের গুচ্ছ কবিতা

এই নাও দাহ ভেতর কঙ্কাল নেবে? আলোর দহন ঢেউ আলোকিত ভোর কালোর কলঙ্ক গাঁথা তপ্ত বাহুডোর। গুচ্ছ আর পুঞ্জময় বিভক্ত পীরিতি মোমের প্রতিমা শব, প্রসূন প্রতীতি। নেবে? ঐ দীর্ঘ স্বর্ণাভ স্মৃতিতন্তুজাল?   প্রথম পাঠ পাঠ ভুলে থাকি, প্রতিপাঠ ভুল হতে থাকে! সে উদ্ভিন্ন, পাতা থাকে …

কামরুল হাসান: আরও কিছু মৃত্যু

কামরুল হাসান যখন সে ছিল সুদূর চীনে আমরা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন বোধ করিনি। এরপর ইরান তুরান পার হয়ে যখন সে হানা দিল রোম সাম্রাজ্যে, তখনো আমরা উদ্বেগহীন। ইউরোপকে পরাজিত করে সে অতলান্তিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে চলে গেল পরাক্রমশালী আমেরিকায়। আমরা স্বস্তির নিশ্বাস ফেললাম, যাক এ …

Back to Top