সেলিম জাহান: কনে দেখা আলো

নদীর পাড় ধরে হেঁটে বাড়ী ফিরছিলাম। পড়ন্ত বিকেল, পূর্বী নদীতে মোলায়েম রোদের খেলা ছোট ছোট ঢেউয়ের মাথায়। হঠাৎ করে দৃষ্টি ছড়িয়ে গেল নদী ছাড়িয়ে ওপারে ম্যানহ্যাটনের হর্ম্যরাজির ওপরে। আহা, ভারী নরম ‘কনে দেখা আলো’ র আভা ছড়িয়ে আছে সেখানে। সঙ্গে সঙ্গে মনে পড়ে গেল বহুদিন আগে প্রয়াত আমার পিতামহীর কথা, যিনি প্রথম আমাকে কনে দেখা আলোর কথা শিখিয়েছিলেন এবং দেখিয়েছিলেন।

‘ছেলেপক্ষ মেয়ে দেখতে আসলে, মেয়েকে এমন জায়গায় বসানো হত, যেখানে শেষ বিকেলের নরম মোমের মত আলো তার মুখের ওপর এসে পড়ে’, আশ্চর্য মৃদু মমতাময় গলায় ব্যাখ্যা করেছিলেন তিনি বালক দৌহিত্রের কাছে। ‘আর সে রোদের আভায় মেয়ের মুখটি অদ্ভুত মায়াময় হয়ে উঠত’, একটু উদাস স্বরে বলেছিলেন তিনি – হয়তো তাঁর নিজের কুমারী বয়সের কথা ভেবে। মুগ্ধ হয়েছিলাম পিতামহীর কথায় – কিন্তু জেদ ধরেছিলাম ঐ আলো দেখানোর জন্য। দেখিয়েছিলেন তিনি এক পড়ন্ত বিকেলে।

আমরা মুখামুখি বসে গল্প করছিলাম বাড়ীর বারান্দায় বসে। একসময় একেবারে এলিয়ে পড়া রোদের আলো এসে পড়ল তাঁর মুখে। সেই মুহূর্তে আমার বৃদ্ধা জরাগ্রস্ত পিতামহীকে কি যে সুন্দর লাগছিল। আমার মুগ্ধতা লক্ষ্য করে তিনি একটু মুখ টিপে হাসলেন। তারপর ঠাট্টা করে আমাকে বললেন, ‘কনে দেখা আলোয় কনে তো দেখলে, ভাই। পছন্দ হয়? বিয়ে করবে আমাকে?’ বালক আমি – ভারী লজ্জা পেলাম। কিন্তু তারপর আমার কৈশোরে কত যে কনে দেখা আলোয় কত যে কনে দেখা প্রত্যক্ষ করেছি কত ভাবে কত ঘটনায়।

একদিন শোনা গেল আমাদের দু’বাড়ী পরে নাজমা আপাকে দেখতে আসছে এক ছেলেপক্ষ। আমার মা রীতিমত উত্তেজিত। তাঁকে নাজমা আপার মা’কে সাহায্য করতে হবে – আমাদের দু’টো পরিবার খুবই ঘনিষ্ঠ। পাড়ায় আমাদের বয়সী ছেলেদের কাছে নাজমা আপা খুবই প্রিয় বড় বোন। ভারী নরম স্বভাবের নাজমা আপা আমাদের সব আবদার মেটান, কখনো বকেন না এবং সদা হাস্যময়ী।

নির্দিষ্ট দিনে বিকেলে উপস্থিত হলাম নাজমা আপাদের বাড়ীতে। চারদিকে সদা ব্যস্ত ভাব, একটা চাপা উত্তেজনা, পাড়ার অনেকেই এসেছেন। একতলায় খাবার ঘরে উঁকি দিলাম। মহিলার ব্যস্তভাবে খাবার সাজাচ্ছেন। আমার মা’ও আছেন তারমধ্যে। টেবিলে নানান সুখাদ্য সাজানো। তারমধ্যে সিঙ্গারাও আছে – আমার প্রিয় জিনিস। খাবলা মেরে একটা তুলে নিয়েই দে দৌড় দোতলায় – পেছনে সম্মিলিত কণ্ঠে ‘হায় হায়’ রব!

দোতালার কোনার দিকের ঘরটায় লোকের ভিড় দেখেই বুঝলাম যে ওখানেই নাজমা আপাকে সাজানো হচ্ছে। ঘরের মধ্যে উঁকি দিয়ে দেখি নাজমা আপার সাজানো শেষ – বসে আছেন রানীর মতো। আমার দিকে চোখ পড়তেই ইশারায় কাছে ডাকলেন। কানের কাছে মুখ এনে লাজুক স্বরে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কেমন লাগছে রে আমাকে?’ ওঁর দিকে না তাকিয়েই বললাম, ‘খুব সুন্দর।’ ‘এবার একটা টাকা দাও’, দাবী আমার। ‘কেন রে’? , অবাক গলায় জিজ্ঞেস করলেন নাজমা আপা। ‘এই যে তোমাকে সুন্দর বললাম’, অর্থ আয়ের সোজা পথটা আমি খোলসা করি। হেসে ফেললেন নাজমা আপা। তারপর মিষ্টি করে বললেন, ‘এখন তো আমার কাছে নেই রে। সবকিছু শেষ হলে সন্ধ্যার পরে এসে নিস, লক্ষ্মী ভাই আমার’। ঘাড় হেলিয়ে এক লাফে ঘরের বাইরে।

কতক্ষণ পরেই নিচে ছেলেপক্ষের লোকজন এসে গেলেন। তারমধ্যে একজন শুঁটকো মতন লোকটাকে আমার মোটেও পছন্দ হল না – হাতে আবার একটা বাঁশের ডাঁটের ছাতা। খাবার-দাবার এসে গেল। তারপর মেয়ে দেখানোর পালা। নাজমা আপাকে এনে বসানো হল। একটু পরেই অভ্রান্তভাবে পশ্চিমের জানালা দিয়ে শেষ বিকেলের কনে দেখা আলো নাজমা আপার মুখে এসে পড়ল। কি যে সুন্দর লাগছিল নাজমা আপাকে – এক রূপসী রাজকন্যার মতো। বুঝলাম, কিছুক্ষণ আগে না দেখেই নাজমা আপাকে যে সুন্দর বলেছিলাম, তা’তে কোন ভুল নেই। নাজমা আপা তার চেয়েও সুন্দর।

হঠাৎ শুনি, সেই শুঁটকো লোকটি রাজ্যের আবোল-তাবোল প্রশ্ন করছে নাজমা আপাকে – যেন পরীক্ষা নিচ্ছে। ভারী বিরক্ত লাগল। বের হয়ে দেখি, দেয়ালে সেই বাঁশের ডাঁটার সেই ছাতাটি দেয়ালে হেলান দেয়া। তারপর আর ভাবতে হল না। হাঁটু বাঁকা করে ছাতাটি ধরে একটু চাপ – মট করে একটা শব্দ হল। ব্যস, হৃষ্টচিত্তে বেরিয়ে এলাম।

সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে দেখি মা ভীষণ খুশী – নাজমা আপাকে ছেলে পক্ষের পছন্দ হয়েছে – বিষয়ের তারিখও পাকা হয়েছে। তবে ছেলে পক্ষ বহু কিছু দাবী করেছে। ‘মেয়ে বিয়ে দিতে হলে তো দিতেই হবে’, আমার মা’য়ের অভিমত। আমি বুঝতে পারলাম না কেন – মেয়ের জন্য কি ছেলেকে কিনতে হচ্ছে? তা’হলে ‘পছন্দ হয়েছে’ কথাটির মানে কি? কেমন যেন একটা ভারী মন নিয়ে ঘরে ঢুকতেই দেখি – আমার পড়ার টেবিলের ওপর পাঁচ টাকার একটি নোট একটি ছোট নুড়ি চাপা দেয়া। কেন জানি হঠাৎ চোখ ছাপিয়ে জল এলো। পরের বছর বাচ্চা হ’তে গিয়ে নাজমা আপা আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। কিন্তু এখনও যখন নাজমা আপার কথা মনে হয়, তখনই ঐ কনে দেখা আলোয় দেখা নাজমা আপার রাজকন্যার মত ছবিটিই ভেসে ওঠে।

রাস্তার মুখের ডানদিকের ছিল আমার সহপাঠী রাখালদের বাড়ী। লতু’দি রাখালের বড় বোন – ভারী ভালোবাসেন আমাকে, একেবারে রাখালের মতোই। মনে আছে, ভাইফোঁটার দিন রাখালের পাশে আমাকেও বসান। মাথার ওপর মঙ্গল প্রদীপ আর ধান-দূর্বার ডালা ঘুরিয়ে নেন, মুখে উচ্চারণ করেন ‘ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা, যমের দুয়ারে পড়ল কাঁটা’। তখন মনে হত, পৃথিবীর কোন অমঙ্গলই আমাকে স্পর্শ করতে পারবে না। আমি লতু’দিকে প্রণাম করতে গেলে দু’হাত দিয়ে ধরে ফেলেন। ভারী নরম গলায় বলেন, ‘ থাক, থাক, বড় হও ভাই’। খুবই লক্ষ্মী মেয়ে ছিলেন আমার লতু’দি। পাড়ার ছেলে-বুড়ো নির্বিশেষে সবাই লতু’দিকে ভালবাসতেন ওর নরম স্বভাবের জন্য।

পাড়ার সবাই বলত, লতু’দি দেখতে ভালো না, গায়ের রং ময়লা, মানুষটা ছোটখাটো। বিয়ে দিতে মা-বাবার প্রাণান্তকর অবস্থা হবে। তার ওপর রাখালদের অবস্থা ভালো নয়। ছেলেপক্ষের পণের মোটা টাকার খাঁই লতু’দির বাবা নরেশ কাকা কি করে মেটাবেন। আমি দু:খ পেতাম কথাটা ভেবে – দু:খ পেতেন আমার মা’বাবাও – নরেশ কাকাকে বাবা খুব স্নেহ করতেন একেবারে অনুজের মত আর রাখালের মা মনীষা মাসীমা ছিলেন মা’র ঘনিষ্ঠ বন্ধু।

লতু’দিকে দেখতে ছেলে পক্ষ আসে।দেখে – কনে দেখা আলোয় কিংবা না দেখা আলোয়। ভালো-মন্দ খেয়ে যায়। ‘পরে জানাব’ বলে যায়, কিন্তু কিছুই জানায় না। পুরো ব্যাপারটি তখন এমন হয়েছে যে কেউ এ নিয়ে আর মাথা ঘুমায় না। ইতিমধ্যে মনীষা মাসীমা লতু’দির মুখে দুধের সর মাখেন, কাঁচা হলুদের রস খাওয়ান, রোদে বেরুতে দেন না মেয়েকে – যদি মেয়ের রং ফর্সা হয়। পাড়ার সবাই মনে মনে প্রার্থনা করেন যাতে লতু’দির একটি পাত্র জোটে।

শেষ পর্যন্ত এক পাত্রপক্ষের লতু’দির ব্যাপারে বেশ কিছুটা উৎসাহ দেখা গেল। শোনা গেল তারা আগামী শুক্রবার লতু’দিকে দেখতে আসবে। ঐ দিন সকালেই মা চলে গেলেন রাখালদের বাড়ীতে মনীষা মাসীমাকে সাহায্য করতে। বাবা রইলেন নরেশ কাকার সঙ্গে।রাখাল আর আমার উত্তেজনা দেখে কে?

বিকেলে ছেলেপক্ষ এলো। আমাদের পাড়ার সংহতি আর লতু’দির প্রতি সমর্থন দেখাতে অনেকেই এসেছেন লতু’দিদের বাসায়। বয়স্করা লতু’দির গুণগান গাইছেন পাত্রপক্ষের কাছে। লতু’দিকে সাজিয়ে গুছিয়ে নিয়ে আসা হল ছেলে পক্ষের সামনে। লতু’দি বসার একটু পরে হঠাৎ করে এক ফালি কনে দেখা আলো ঝিলিক দিয়ে উঠল লতু’দির মুখে। আমার মনে হল, এ এক মঙ্গল চিহ্ন – এবার লতু’দি শ্বশুর বাড়ী যাবেই।

আনন্দিত মনে নাচতে নাচতে বেরিয়ে পড়লাম খেলার মাঠের দিকে। সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে দেখি মা-বাবা দু’জনেরই খুশীর গলা। যা ভেবেছিলাম তাই, পছন্দ হয়েছে লতু’দিকে ছেলেপক্ষের। কথা দিয়ে গেছেন তাঁরা। সঙ্গে সঙ্গে এক দৌড়ে লতু’দিদের বাসায়। ঢুকতেই লতু’দির সঙ্গে দেখা। দেখতে পেয়েই ছুটে এসে জড়িয়ে ধরলেন, কপালে চুমু দিলেন। ‘ও সবে হবে না। মিষ্টি খাওয়াও’।

পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন মাসীমা। হেসে ফেললেন – কিন্তু টের পাচ্ছিলাম একটা চাপা গর্ব ফেটে পড়ছে তাঁর ফর্সা মুখে। খাবার ঘরে গিয়ে একটা পুরো মিষ্টি আমার হাতে তুলে দিলেন লতু’দি। আমি তার থেকে অর্ধেকটা ভেঙে লতু’দিকে খাইয়ে দিলাম। হঠাৎ দেখি টলটলে জলে ভরে উঠেছে লতু’দির বড় বড় দু’চোখ। আমি আস্তে আস্তে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে এলাম।

এরপর বেশ ক’দিন কেটে গেছে। একদিন স্কুল থেকে ফিরে দেখি বাড়ীর আবহাওয়া বেশ থমথমে। মা’র মুখ ভার, বাবার মুখ শুকনো। ছেলেপক্ষ কথা ভেঙ্গে দিয়েছে লতু’দির সঙ্গে বিয়ের। শোনা গেল, আরও বেশী পণের টাকা পেয়ে তারা অন্য জায়গায় ছেলের বিয়ে ঠিক করেছে। রাগে, দু:খে, অপমানে আমার গা চিড়বিড় করতে লাগল। ছেলে কেনার প্রতিযোগিতায় দরিদ্র নরেশ কাকা হেরে গেলেন। লতু’দির জন্য এক অজানা কষ্টে ভরে গেল মনটা।

এত মানসিক চাপ লতু’দি নিতে পারলেন না। এর কিছুদিন পরেই তার মাথার গোলমাল দেখা দিল। রাস্তার ধারের জানালার কাছে সারাদিন দাঁড়িয়ে থাকেন, আর যেই যায় পথ দিয়ে, তাকেই জিজ্ঞেস করেন, ‘আমাকে বিয়ে করবে? আমি খুব ভালো মেয়ে।’ মনটা কেমন যেন করে ওঠে একটা অজানা কষ্টে। লতু’দির ওখানে আর যাই না। কি বলব গিয়ে? রাখালও আমাকে এড়িয়ে চলে।

একদিন বিকেলে বাড়ী ফিরে বাবা বললেন, ‘লতুর অবস্থা বাড়াবাড়ি। ঘরে আর রাখা যাচ্ছেনা। কাল ভোরে ওকে একটা উন্মাদ আশ্রমে দিয়ে আসা হবে। নরেশ সব ব্যবস্থা করে এসেছে।’ বাবার কণ্ঠ বেদনার্ত। মা চোখ মুছছেন বারবার। সারারাত ঘুমুতে পারলাম না।

ভোর না হ’তেই লতু’দিদের বাসায় গেলাম। বাইরে ট্যাক্সি দাঁড়িয়ে। ভেতর থেকে লতু’দিকে ধরে ধরে নিয়ে এলেন নরেশ কাকা আর বাবা। একদিকে দাঁড়িয়ে আছেন মনীষা মাসীমা আর মা। রাখাল কোথাও নেই। সুন্দর একটা ডিমের কুসুম রংয়ের সিল্কের শাড়ী পরনে। গলায় হাল্কা একটা হার, হাতে দু’ গাছি বালা, কপালে কুমকুমের টিপ। কি যে সুন্দর লাগছিল।

‘কনে দেখা আলো’ নয়, ভোরের মোলায়েম আলো এসে পড়েছিল লতু’দির মুখে। আমার কাছে মনে হচ্ছিল, স্বর্গচ্যূত এক অপ্সরা যেন। আমাকে দেখে হাতের ইশারায় ডাকলেন। কাছে যেতেই লাজরাঙ্গা মুখটা আমার কানের কাছে এনে বললেন, ‘শ্বশুর বাড়ীতে যাচ্ছি রে। তুই আমাকে দেখতে আসবি না?’ নরেশ কাকা ওকে ধরে গাড়ীতে তুললেন – গাড়ী ছেড়ে দিল। পেছনে উড়ে এলো একরাশ ধুলো।

এরপর বহুদিন কেটে গেছে। পিতামহীর কাছে শেখা ‘কনে দেখা আলো’ আমাকে আর আন্দোলিত করে না, বাল্যে যা করেছিল। আজ হঠাৎ করে পূর্বী নদীর ওপারের ইমারতগুলোর ওপর ঐ আলো দেখে মনটা কেমন যেন হয়ে গেল। সব ছাপিয়ে দু’টো কথাই কেবল মনের মধ্যে উথলে উঠছিল- ‘আমাকে কেমন দেখাচ্ছে রে?’ এবং ‘তুই আমাকে দেখতে আসবি না?’ ঐ টুকুই, আর কিছু নয়।

 

সেলিম জাহান

 

সেলিম জাহান ভূতপূর্ব পরিচালক মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন দপ্তর এবং দারিদ্র্য বিমোচন বিভাগ, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচী নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র

ড: সেলিম জাহান একজন অর্থনীতিবিদ ও লেখক। কর্মজীবনে বছর দু’য়েক আগে জাতিসংঘের মানব উন্নয়ন প্রতিবেদনের পরিচালক ও মূখ্য লেখক হিসেবে অবসর গ্রহন করেছেন।তার আগে তিনি জাতিসংঘের দারিদ্র্য বিমোচন বিভাগের পরিচালক পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। ১৯৯২ সালে জাতিসংঘে যেগদানের আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন দীর্ঘ ২৫ বছর। উপদেষ্টা ও পরামর্শক হিসেবে কাজ করছেন বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন, বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্হাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে।

ড: জাহান লেখালেখি করছেন গত চার দশক ধরে। আশির দশকে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা এ সাময়িকীতে নিয়মিত লিখেছেন। রেডিও ও টেলিভিশনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জননন্দিত উপস্হাপক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ১৯৯১-৯২ সালে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির মহাসচিব ছিলেন।ইংরেজী ও বাংলায় তাঁর প্রকাশিত গ্রণ্হের সংখ্যা এত ডজন এবং প্রকাশিত প্রবন্ধের সংখ্যা দেড় শতাধিক। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্হ: বেলা-অবেলার কথা, স্বল্প কথার গল্প, পরানের অতল গহিণে, শার্সিতে স্বদেশের মুখ, অর্থনীতি-কড়চা, বাংলাদেশের রাজনৈতিক-অর্থনীতি, Overcoming Human Poverty, Freedom for Choice, Development and Deprivation.

Facebook Comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।