আমিরুল আলম খানের অনুবাদ: দ্য আন্ডারগ্রাউন্ড রেলরোড

পর্ব ১০
দ্য আন্ডারগ্রাউন্ড রেলরোড

সাউথ ক্যারোলাইনা

ক’মাস পরের কথা। শ্যাম স্টেশনের খাতায় তার নাম লেখান বেসি কার্পেন্টার। কোরা এখনও জানে না, জর্জিয়াতে লভির ভাগ্যে শেষমেশ কী ঘটেছিল। অন্ধকারে টানেলের মধ্যে বক্সকারটা অচিরেই কবরে পরিণত হল। ইঞ্জিনিয়ারের কেবিনে সামান্য একটু আলোর ছিটে দেখা যায়। প্রচণ্ড ঝাঁকুনিতে ভীষণ ভয় করছে কোরার। সে আস্টেপিস্টে সিজারের গলা জড়িয়ে ধরে খড়ের গাঁদায় ঠেঁস দিয়ে কোন রকমে বসে থাকার চেষ্টা করছে। সিজারের বুকের উঠানামা সে টের পাচ্ছে। আর তার মাঝেই সে খুঁজে পেতে চাচ্ছে একটু আশ্রয়।

ট্রেনের গতি এবার কমছে। ঝট করে উঠে বসে সিজার। তাদের বিশ্বাস হচ্ছিল না। পাকড়াও হবার ভয় কিছুটা কমে এলো। এক এক কদম এগিয়ে চলা। তারপরই আবার অনিশ্চিত পথে যাত্রা। ঘরভর্তি শেকল, অন্ধকার টানেল, ভাঙাচোরা বক্সকারে চড়ে উদ্ভট গন্তব্যে পাতা রেলরোড।

“ঘরে অত শেকল দেকে আমার খুব ভয় হইল। মনে করিলাম, ফ্লেচা আর টেরেন আসলে আমাদের ধরিয়ে দেবার তালে আচে,” কোরা বলে।
প্রথম থেকেই যা যা ঘটেছে তা কোন সিনেমার গল্পকেও হার মানাবে।

পরের দুটো স্টেশন প্রথমটার মতই। এখানে অবশ্য বেঞ্চ নয়, পাতা রয়েছে একটা টেবিল আর ক’টা চেয়ার। দরজায় দুটো লণ্ঠন ঝুলছে। সিঁড়ির কাছে একটা ঝুড়ি রাখা।
ইঞ্জিনিয়ার সাহেব তাদের বক্সকার থেকে বের করে আনলেন। লম্বা মানুষটার কাঁধ অবধি লম্বা চুল। মুখের ঘাম মুছতে মুছতে তিনি যেই না কথা বলতে গেছেন অমনি শুরু হল তার প্রচণ্ড কাঁশি। কাঁশতে কাঁশতে তার জান যাবার জোগাড়। স্বাভাবিক হতে তার বেশ কিছু সময় লাগল।

“এটুকুই আমার কাজ, বুঝলে” তাদের থামিয়ে তিনি ধন্যবাদের জবাব দিলেন। বয়লারে কয়লা ভরে যেন গাড়িটা ছুটতে পারে। যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দাও। ব্যাস। তিনি ইঞ্জিনে চড়ে বসলেন। তারপর বললেন, “এখানে অপেক্ষা কর। ওরা এসে তোমাদের নিয়ে যাবে।” এরপরই ভোঁস ভোঁস শব্দ করতে করতে আর রাশ রাশ ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে গাড়িটা চলে গেল।

একটা ঝুড়িতে তাদের জন্য কিছু খাবার। তাতে রয়েছে রুটি, অর্ধেক মুরগির রোস্ট, পানি আর এক বোতল বিয়ার। ভীষণ খিদে পেয়েছে তাদের। তাই দু’জনই খাবারের উপর হামলে পড়ল। গোগ্রাসে সব চেটেপুটে খেয়ে নিল। সিঁড়ির গোঁড়ায় তারা হেলান দিয়ে বসে রইল তাদের পরবর্তী যাত্রার অপেক্ষায়। গোপন এই রেলরোডের কেউ একজন তাদের নিতে আসবেন।

বছর পঁচিশেকের এক  শ্বেতাঙ্গ শ্যাম। চলনে বলনে অন্যদের চেয়ে একেবারে আলাদা। যেমন মজবুত তার দেহের গড়ন, তেমনি হাসিখুসি মানুষটা। পরনে ট্রাউজার আর গায়ে একটা লাল শার্ট। সেটা যে কতকাল ধোয়া হয় নি তা কেউ জানে না। হাতের ঘষায় ঘষায় মাথার তুলো-ওঠা পাগড়িটা শেষের দিকে দুমড়ে মুচড়ে গেছে। স্টেশন এজেন্ট লোকটা এসেই তাদের সাথে হাত মিলিয়ে বললেন, “দারুণ, ভাই। তোমরা ঠিকঠাক পৌঁছে গেছ।”

তিনি আরও কিছু খাবার নিয়ে হাজির। ভাঙা টেবিলটায় তারা খেতে বসলে শ্যাম বলা শুরু করলেন, “এখন তোমরা জর্জিয়া থেকে বহু দূরে। দক্ষিণে সাউথ ক্যারোলাইনার লোকজন কালোদের প্রতি সত্যিই খুব দরদী। পরের যাত্রার জন্য একটু অপেক্ষা করতে হবে। তবে এখানে তোমরা ষোলোআনা নিরাপদ।”
“কত দূরে?” সিজার জানতে চায়

“সেটা বলা যাবে না। গোপন। এমন অনেকেই আশেপাশে আছে। তাদের জড়ো করতে হবে। খবরাখবর পাওয়া কঠিন। গোপন এই রেলরোড ঈশ্বরের তৈরি; ম্যানেজ করা খুবই কষ্টের।” তিনি লক্ষ্য করলেন, তারা দুজনে পরম তৃপ্তির সাথে সব খাবারই খেয়ে শেষ করে ফেলেছে। “কে জানে, হয়ত তোমরা এখানেই থেকে যেতে চাইবে। সাউথ ক্যারোলাইনা আসলেই খুব সুন্দর। এত সুন্দর জায়গা তোমরা আগে দেখ নি।”

শ্যাম উপরে গিয়ে কিছু জামাকাপড় আর ছোট এক পিঁপে পানি নিয়ে নিচে নামল। “গোছল কর আগে”, খুব তাজিমের সাথে তিনি বললেন। একজন নারীর আব্রুর প্রতি সম্মান জানাতে তিনি গিয়ে সিঁড়ির ওপারে বসলেন। সিজার কোরাকে পয়লা গোছল সেরে নিতে বলল। তারপর সেও গিয়ে শ্যামের পাশে বসে পড়ল। প্রকাশ্যে একেবারে কাপড় খুলে ফেলা কোরা জীবনে নতুন কিছু নয়। কিন্তু তার আব্রুর জন্য সিজারের এই ভূমিকা তাকে মুগ্ধ করল। কোরা পয়লা মুখ ধুয়ে নিল। সারা গায়ে নোংরা, বিকট গন্ধ বেরচ্ছে গা দিয়ে। কাপড়টা কচলে কচলে ধুল। ধোয়ার সময় কালো কুটকুটে ময়লা বেরল অনেক। পরতে দেয়া নতুন কাপড় নিগ্রোদের মত নয়। সুতির জামা। গায়ের সাথে দারুণ মানিয়েছে। নরম তুলতুলে। এখন নিজেকে খুব সাফসুতরো লাগছে। মনটা আনন্দে নেচে উঠল। খুব সাদামাটা পোশাক। হালকা নীল রঙের ওপর দাগ টানা টানা। এমন চমৎকার পোশাক আগে কখনও পরে নি কোরা।
সিজারের গোছল শেষ হবার পর শ্যাম তাদের কিছু কাগজ দিলেন।
“নাম ভুল লেখা আছে,” সিজার কাগজ পড়ে বলল।
“তোমরা পালিয়ে এসেছ। এখন তোমাদের নতুন এই নাম হবে। লেখা নাম দুটো আর কাহিনী মুখস্থ করে নাও। ”

শুধু পলাতকই নয়, তারা হয়ত খুনিও। গোপন রেলে চড়ে কোরা ছেলেটার কথা প্রায় ভুলেই গিয়েছিল। সিজার মিটমিট করে চেয়ে রইল। সেও একই কথা ভাবছে। শ্যামকে সব খুলে বলল কোরা।

স্টেশন এজেন্ট সব শুনলেন, কিন্তু কোন মন্তব্য করলেন না। লভির ভাগ্য নিয়ে তাকে উদ্বিগ্ন মনে হল। “জানি না, তোমাদের সাথীর কপালে কী ঘটেছে। এমন ঘটনার কথা শুনি নি। ছোড়াটা বেঁচে থাকলেও অবস্থার কোন হেরফের হবে না। কাজেই নতুন নামেই পরিচিত হও এখানে। ”
“কাগজে লেখা, আমরা এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সম্পত্তি!” সিজার জানতে চাইল।
“জাস্ট টেকনিক্যালিটি। ওসব ভেব না,” শ্যাম বললেন।

এখানে এখন শ্বেতাঙ্গদের ছড়াছড়ি। খবরের কাগজগুলো বলছে, নিউইয়র্ক থেকে প্রচুর লোক এখন সাউথ ক্যারোলাইনায় আসছে। বাইরে থেকে আসা মুক্ত নারীপুরুষের এত ভীড় এখানে আগে দেখা যায় নি। কালোদের মধ্যে অনেকেই এসেছে পালিয়ে; কতজন তা খবরের কাজগগুলো গোপন রাখে। তার কারণ আছে। এদের অনেককেই সরকার নিলামে কিনে মুক্ত করেছে। এজেন্টরাই বেশির ভাগ দাস নিলামে কিনে নেয় যাতে তারা মুক্ত হতে পারে। অনেক শ্বেতাঙ্গ যারা আর খামার চালাতে চায় না, তারাও তাদের গোলামদের বেচে দেয়। বেশির ভাগ গোলামই এভাবে মুক্তি পায়। এসব খামার মালিকরা এখন গ্রামে থাকতে চায় না। তারা নাগরিক জীবন পছন্দ করে। তাদের জন্য সরকার নানা সুবিধা ঘোষণা করেছে। বড় বড় শহর গড়ে তোলার জন্য বন্ধকী ব্যবস্থায় প্রচুর ঋণের ব্যবস্থা করেছে ব্যাংকগুলো। নতুন নতুন ঘরবাড়ি উঠছে। নানান ধরনের কর রেয়াত দিচ্ছে সরকার। দেশ একটা দারুণ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যারা এতকাল খামার চালাত তারা পুরনো ঐতিহ্য ভেঙে বেরিয়ে আসতে চেষ্টা করছে। পরিবার নিয়ে তাদের নানা নতুন পরিকল্পনা। সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন নতুন চিন্তা সবার।
“আর গোলামদের জন্যি?” কোরা জানতে চায়। লোনটোনের কথা তার মাথায় ঢুকল না। তবে বুঝল, এখানে মানুষ বেচাকেনা হয়।

“তারা খাবার পায়, কাজ পায়। ঘর পায়। ইচ্ছেমত আসতে পারে, চলেও যেতে পারে। পছন্দমত বিয়ে করতে পারে। সন্তানদের কেউ কেড়ে নিতে পারে না। ভাল কাজ পায়; গোলামী না। শিগগির তুমি এসব দেখতে পাবে,” শ্যাম তাকে বুঝায়।

একটা বাক্সে দলিলপত্তর রাখা আছে। সিজার সেটা অনুমান করে। সেই দলিলে সব লেখা আছে। গ্রিফিন বিল্ডিং-এর এক অফিস থেকে এসব কাগজপত্র বানানো হয়।
“তোমরা তৈরি?” শ্যাম জিজ্ঞেস করেন।

তারা একে অপরের দিকে তাকায়। শ্যাম হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলেন, “মাই লেডি।”
কোরা না হেসে পারল না। তারা এবার দিনের আলোয় একসাথে বেরিয়ে পড়ল।

সরকার বেসি কার্পেন্টার এবং ক্রিশ্চিয়ান মার্কসনকে কিনেছে উত্তর ক্যারোলাইনার একটা দেউলিয়া হয়ে যাওয়া খামার মালিকের কাছ থেকে। কাগজে তাই লেখা হয়েছে। শ্যাম তাদের শহর চেনাতে নিয়ে গেলেন। তিনি নিজে দু’মাইল দূরে একটা বাড়িতে থাকেন। তার দাদা বাড়িটা বানিয়েছিলেন। মেইন স্ট্রিটে একটা তামার দোকান ছিল তাদের। বাবা-মা মারা যাবার পর শ্যাম দোকান বন্ধ করে নিজের মত জীবন শুরু করে। তিনি এখন ড্রিপ্ট নামের এক সেলুনে কাজ করেন। জায়গাটা তার এক বন্ধুর। এবং এখানকার পরিবেশ শ্যামের ভীষণ পছন্দ। খুব কাছ থেকে মানুষের জীবন দেখার এক অনাস্বাদিত আনন্দে তার মন ভরে থাকে। এই শহরেই কত মানুষ মদ খেয়ে মাতলামি করে। আর শ্যাম দুঃখী মানুষের সেবায় দিন কাটান। নিজের পছন্দমত কাজের সময় বেছে নেন। এটাই তার বড় সম্পদ। লাম্বলির মতই তার গুদামের নীচে রয়েছে গোপন স্টেশন।

প্লেসমেন্ট অফিসের কাছে দাঁড়িয়ে শ্যাম তাদের কোনদিকে যেতে হবে তা বুঝিয়ে বললেন। “যদি পথ হারিয়ে ফেল, তাহলে ওই উঁচু বিল্ডিংটা বরাবর চলে যাবে। সেখানে গিয়ে ডানে মোড় নিলেই মেইন স্ট্রিট।” খবরাখবর নিয়ে তিনি নিজেই তাদের সাথে আবার যোগাযোগ করবেন।

সিজার আর কোরা ধুলোওড়া রাস্তা ধরে শহরের দিকে চলল। তাদের বিশ্বাস হচ্ছে না। কিছুদূর গিয়ে একটা বাঁক। তারপর জঙ্গল। একটা কালো গাড়োয়ান ছেলে তাদের দিকে অদ্ভূত ভঙ্গিতে টুপি খুলে সালাম দিল। কিন্তু তারা নির্বিকার। এই বয়সেই গাড়ি চালাচ্ছে ছোকরাটা! ছেলেটা চলে যাবার পর তারা হেসে উঠল। এবার কোরা ঘাঁড় সোজা করে, মাথা উঁচু করে হাটতে শুরু করল। এখন মুক্ত মানুষের মত বুক উঁচু করে চলাফেরা রপ্ত করছে তারা।

কয়েক মাসেই কোরা আদব-কেতা বেশ রপ্ত করে ফেলল। যতœ করে লেখাপড়া করতে লাগল। হাতের লেখা ভাল করা আর ভাল বক্তৃতা করা শিখছে এখন। মিস মেইজির সাথে কথা হবার পর নিজের ট্রাংক থেকে বর্ণপরিচয়ের বইগুলো বের করল। অন্য মেয়েরা যখন একে অপরকে “শুভরাত্রি” বলে বিদায় জানাত তখন কোরা বর্ণপরিচয় শিখত। লিখতে লিখতে হাত ব্যথা হয়ে গেলে আলো নিভিয়ে ঘুমিয়ে যেত। এখন সে মুদি দোকানে গোটা গোটা অক্ষরে নিজের নাম ‘বেসি’ লিখে সই করতে পারে।

এখন সে সবচেয়ে নরম বিছানায় ঘুমায়। কিন্তু এটাই তার জীবনের সবচেয়ে নরম বিছানা। (চলবে)

 

আমিরুল আলম খান 

জন্ম যশোর জেলার ভারতীয় সীমান্তলগ্ন শিববাস গ্রামে ১৩৫৮ বঙ্গাব্দের ১৫ই অগ্রহায়ণ।
পড়েছেন এবং পড়িয়েছেন ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য। এরপর মাধ্যমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণে যুক্ত থেকেছেন। যশোর শিক্ষা বোর্ডে প্রথমে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পরে চেয়ারম্যান ছিলেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি অপেশাদার সাংবাদিকতায় যুক্ত গত পাঁচ দশক ধরে। ইংরেজি দৈনিকে নিউ নেশান-এ প্রায় এক দশক সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করেন। দৈনিক ইত্তেফাক, প্রথম আলো, সমকাল, বণিক বার্তায় কলাম লেখেন।

গ্রামীণ পাঠাগার আন্দোলনে যুক্ত হয়ে বাংলাদেশে গ্রামোন্নয়নের নতুন মডেল ডিহি ইউনিয়ন পাবলিক লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করেন। দেশের প্রাচীনতম এবং বৃহত্তম গণপাঠাগার যশোর পাবলিক লাইব্রেরির সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

শিক্ষা, ভাষা, প্রকৃতি, কৃষি, বাস্তুসংস্থানবিদ্যায় আগ্রহী। এসব নিয়েই তার বই: বাঙলার ফল, অরণ্যের পদাবলী, পারুলের সন্ধানে, কপোতাক্ষ-মধুমতীর তীর থেকে, বিপর্যস্ত ভৈরব অববাহিকা, পারুল বিতর্ক, বাংলাদেশের শিক্ষার স্বরূপ সন্ধান এবং বিদ্যাবাণিজ্যের রাজনৈতিক-অর্থনীতি।

তাঁর অনুবাদগ্রন্থ: আফ্রিকান-আমেরিকান উপন্যাস দি স্লেভ গার্ল। হ্যারিয়েট অ্যান জেকব রচিত এই আত্মজৈবনিক উপন্যাসটি বোস্টন থেকে প্রকাশিত হয় ইনসিডেন্টস ইন দ্য লাইফ অব এ স্লেভ গার্ল শিরোনামে, ১৮৬১ সালে।

Facebook Comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।