আমিরুল আলম খানের অনুবাদ: দ্য আন্ডারগ্রাউন্ড রেলরোড

দ্য আন্ডারগ্রাউন্ড রেলরোড

সাউথ ক্যারোলাইনা

মিস হ্যান্ডলারের হৃদয়খানি দেবীর মত উদার। বুড়োটা না পারে গুছিয়ে কথা বলতে, না জানে লিখতে। কিন্তু মিস হ্যান্ডলার কখনও তার প্রতি সামান্য অপ্রসন্ন হন না। আশা ছাড়েন নি তিনি। শনিবারের সকালে পড়–য়ায় গম গম করে স্কুলটা। ছুটি হয়ে গেছে। পড়ুয়ারা সবাই চলে গেছে। তখনও বুড়োটা সেদিনের পড়াটা আয়ত্ব করার চেষ্টা করছে। কোরার সামনে বসা দুটো মেয়ে বুড়োটার এই দশা দেখে একে অপরের দিকে তাকিয়ে হাসাহাসি করছে।

এক রাশ হতাশা নিয়ে কোরা স্কুলে এলো। হাওয়ার্ডের বক্তৃতার মাথামুণ্ড কিছুই সে বুঝতে পারছে না। এক ভুলে যাওয়া আফ্রিকান উচ্চারণে দাসদের ভাষায় কী যে বলে কেউ বোঝে না। ছোটবেলায় সে তার মায়ের কাছে শুনেছে, খামারের গোলামরা এমন দো-আঁশলা ঢঙে কথা বলে। আফ্রিকার নানা প্রান্ত থেকে লোক ধরে ধরে জাহাজ ভরে আনা হয়। একেক অঞ্চলের ভাষা আর কথা বলার ঢং একেক রকম। জাহাজে তোলার পর জাহাজীদের প্রথম কাজ হলো শেকলে বাঁধা লোকদের মুখের বুলি বদলে ফেলা। সাদা খালাসিরা বেদম পিটিয়ে তাদের বুলি বদলে দেয়। উদ্দেশ্য, তাদের আসল পরিচয় মুছে ফেলা। যেন সমগোত্রীয় লোকেরা একজোট হয়ে হাঙ্গামা না বাঁধাতে পারে সে জন্যই এ ব্যবস্থা। সমুদ্রে মাসের পর মাস চলে বুলি ভোলানোর নির্মম খেলা। “সোনার মত দামী বস্তু হল মুখের বুলি,” মেবেল বলত, “সেটাই ভুলিয়ে দাও।”

তার মা বা নানীর কাল এখন নেই। হাওয়ার্ড “আমি” শব্দটা এত সংক্ষেপে বলে যে তা শোনায় যেন “’ম”। আর এটা শিখতেই নষ্ট হয় অনেক সময়। এক ঝটকায় শাঁ শাঁ শব্দে দরজা বন্ধ করে দিয়ে তিনি চকটা রাখলেন। এরপর বললেন, “আমরা এখানে যা যা করছি, সবই বেআইনি। পলাতকদের পড়ানোর জন্য আমার জরিমানা হতে পারে ১০০ ডলার। আর তোমাদের প্রত্যেকের শাস্তি ৩৯ বেত। আইনে তাই লেখা। আর তোমাদের যিনি দেখভাল করছেন তার জন্য শাস্তি আরও কঠিন।” কোরার চোখের দিকে তাকিয়ে রইলেন তিনি। বয়সে কোরার চেয়ে একটু বড় হলেও তিনি একজন অসহায় নিগ্রো শিশুর মত তাকিয়ে রইলেন। “শূন্য থেকে শুরু করা বেশ কঠিন। ক’হপ্তাহ আগে তোমাদের অবস্থাও ছিল হাওয়ার্ডের মতই। ধৈর্য ধর। সব ঠিক হয়ে যাবে। একটু সময় তো লাগবে।”
তিনি পড়ুয়াদের ছুটি দিয়ে দিলেন। কোরা ঝটপট তার জিনিসপত্র গুছিয়ে নিয়ে সবার আগে ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে চায়। হাওয়ার্ড জামার হাতায় চোখ মুছল।
মেয়েদের ডরমিটরির দক্ষিণ দিকে স্কুলটা। আরও গুরুত্বপূর্ণ নানা কাজে, যেমন, স্বাস্থ্যবিষয়ক নানা কাজ আর মেয়েলি সমস্যা সমাধানে স্কুলের হলরুম ব্যবহার করা হয়। স্কুলের সামনে কালোদের জন্য একটা সবুজ মাঠ। রাতে সামাজিকতা শিক্ষার সময় ছেলেদের ডরমিটরি থেকে আসা একদল বাদক ঢাক পেটাচ্ছে।

এমন ভর্ৎসনা তাদের পাওনা বটে। কালোদের উন্নতির জন্য সাউথ ক্যারোলাইনায় বিশেষ ধরনের মমত্ববোধ কাজ করে। প্লাটফর্মে শ্যাম আগেই কোরাকে সে কথা বলেছেন। কোরা অনেকবারই নানাভাবে তা অনুভব করেছে। কালোদের শিক্ষিত করে তুলতে এখানে বিশেষ যতœ নেয়া হয়। র‌্যান্ডেলে কনেলি একবার একজনের চোখ উপড়ে নিয়েছিল। অপরাধ, সে কিছু পড়তে চেয়েছিল। জীবন দিতে হয়েছে জ্যাকবকে। গোলামদের জন্য পড়তে চাওয়ার চেয়ে বড় অপরাধ আর কিছু নেই। শুধু পড়তে চাওয়া অপরাধে এই গোলামকে খুন হতে হয়।
“চোখ খুলতে চাস নে, কোরা। জ্যাকবের মত অবস্থা হবে। মরবি। না খেয়ে মরবি, বুজিচিস?” কনেলি কোরাকে সাবধান করেছিল।

র‌্যান্ডেল খামার এখন অতীত। কোরা সেখান থেকে পালিয়ে এসেছে। অনেক দূরে।
বর্ণপরিচয়ের একটা পাতা বাতাসে উড়ে গেল। কোরা সে পাতাটা আনতে পিছন পিছন ছুটল। এবার হাত থেকে বইটাই পড়ে গিয়ে বাকি পৃষ্ঠাগুলো ছড়িয়ে গেল। পুরনো বই। তার আগে অন্য কেউ বইটা ব্যবহার করত। সে সময়ই ছিঁড়ে থাকবে। মেইজির চেয়ে কম বয়সী একটা মেয়ে একই বর্ণপরিচয় পড়ছে। তার হাতে নতুন বই। চমৎকার শক্তপোক্ত বাঁধাই করা। কালোদের শিক্ষিত করে তোলার সব আয়োজন এখানে আছে, সব চেষ্টাই করা হচ্ছে। অথচ শুধু বইয়ের দিকে তাকালেই শাস্তি অবধারিত ছিল র‌্যান্ডেলে।

মা নিশ্চয়ই গর্ব করতেন। যেমন লভির মা অন্তত দিন দেড়েক এই ভেবে গর্ব করেছিল যে তার মেয়ে পালিয়ে গেছে। কুড়িয়ে এনে কোরা পাতাটা বইতে সেঁটে দিল। তারপর র‌্যান্ডেল খামারের স্মৃতি ভুলে বাস্তবে ফিরে এলো। তাতে মনের কষ্ট বেশ লাঘব হল তার। একটু স্বস্তিবোধ করছে এখন। তবে নানাভাবে পুরাতন দিনের স্মৃতি ভেসে উঠছে মনের পর্দায়। হৃদয়ের গভীরে লুকিয়ে থাকা কষ্ট ইচ্ছে করলেই ভোলা যায় না।

মার কথা মনে পড়ে। ডরমিটরিতে আসার তিন সপ্তাহ পর একদিন মিস লুসির অফিসের দরজায় হাজির হয় কোরা। দরজায় টোকা দিয়ে ভিতরে যাবার অনুমতি চাইল। সরকারি নথিতে যদি পালিয়ে আসা সব কৃষ্ণাঙ্গের নাম থাকে, তাহলে নিশ্চয়ই সেখানে তার মার নামও থাকবে। কোরা ভাবে। পালানোর পর মেবেলের জীবন দুঃস্বপ্নে ভরা। হতে পারে, অন্য পলাতকদের মত তার মাও একজন মুক্ত নারী হিসেবে সাউথ ক্যারোলাইনায় এসেছিল।

মিস লুসি তখন ১৮ নম্বরের কমন রুমের নীচে একটা ঘরে কাজে ব্যস্ত। কোরার বিশ্বাস হচ্ছিল না। তবু সেখানে দাঁড়িয়ে রইল। মিস লুসি তাকে ভিতরে যেতে বললেন। অফিসটা ফাইল কেবিনে ঠাঁসা। ঢোকার রাস্তাটাও এত সরু যে, প্রোক্টরকে বেশ কষ্টই করতে হয়। তারপরও নানা ধরনের প্রাকৃতিক ছবি দিয়ে সাজিয়ে নেয়া হয়েছে ঘরটা। অতিরিক্ত একটা চেয়ার রাখার জায়গাটুকুও নেই। যারা দেখা করতে আসেন তাদের দাঁড়িয়ে থেকেই কাজ সারতে হয়। তাতে অবশ্য তারা দ্রুতই এ ঘর থেকে চলে যেতে উদগ্রীব থাকে।
চশমার উপর দিয়ে তাকিয়ে মিস লুসি কোরাকে তার মায়ের নাম জানতে চাইল।
“মেবেল র‌্যান্ডেল।”
“তোমার নাম কার্পেন্টার।”
“আমার বাবার নাম। আমার মা র‌্যান্ডেল।”
“ও, তাই হবে।”
একটা কেবিনেটের সামনে দাঁড়িয়ে ভেতরের ঈষৎ নীলচে কাগজ ঘাঁটতে লাগলেন লুসি। কোরা যেমন অনুমান করেছে সে মোতাবেক তিনি খুঁজতে থাকলেন। মিস লুসি তাকে বলেছেন, সে সম্ভবত চৌরাস্তার কাছের বোর্ডিং হাউসে প্রোক্টরদের সাথে ছিল। কোরা অনুমান করতে চেষ্টা করছিল, রোববারে যখন ডরমিটরিতে কোন কাজ থাকত না তখন এঁ সময় কাটে কীভাবে? ? তবে কি তিনিও কোন যুবকের সাথেই নানা জায়গা ঘুরে এখানে এসেছিলেন? নাহলে, এই সাউথ ক্যারোলাইনাতে একজন  শ্বেতাঙ্গিনী এমন কাজে যুক্ত হলেন কী করে? কোরা এখন বেশ সাহসী। তবু, স্কুল না থাকলে সে ডরমিটরির আশেপাশেই থাকে. দূরে কোথাও যায় না। পয়লা পয়লা এমন সাবধান থাকাই ভাল। মিস লুসি একের পর অনেকগুলো ড্রয়ার খুলে খুলে দেখলেন। কিন্তু কিছুই মিলল না।

“এই ডরমিটরিতে যারা থাকে শুধু তাদের রেকর্ডই এখানে রাখা হয়। তবে সারা রাজ্যে আমাদের অফিস আছে। গ্রিফিন বিল্ডিং-এ রাখা মূল রেকর্ড খুঁজে দেখতে হবে।”
মিস লুসি কোরাকে মন দিয়ে লেখাপড়া করতে বললেন। সেটাই আসল দরকার। কেবল লেখাপড়া শিখেই কৃষ্ণাঙ্গরা বড় হতে পারে। অন্তত যাদের তেমন প্রতিভা আছে। এবার নিজের কাজে ডুবে গেলেন তিনি।

মাকে নিয়ে হঠাৎই মেতে উঠেছে কোরা। মা র‌্যান্ডেল থেকে পালাবার পর কোরা তাকে নিয়ে খুব যে ভেবেছে তা কিন্তু নয়। বরং খুব কমই তাকে স্মরণ করেছে। কিন্তু সাউথ ক্যারোলাইনায় এসে তার উপলব্ধি জন্মাল আসলে সে মাকে ভুলে থাকতে চেয়েছে দুঃখকাতর হয়ে নয়, বরং এক ধরনের তীব্র ক্রোধে। মাকে আসলে সে ঘৃণাই করেছে। আজাদ দুনিয়ার স্বাদ পেয়ে এখন সে উপলব্ধি করল, মা তাকে নিজের সুখের জন্য মেয়েকে দোজকে ফেলে এসেছিল। একটা বাচ্চা মেয়ে। তাকে সাথে নিলে মার পালিয়ে আসা অনেক কঠিন হত। কিন্তু সে তো ছোট্টটি ছিল না। যে মেয়ে তুলো তুলতে পারে, সে মেয়ে নিশ্চয়ই মার পিছু পিছু দৌঁড়াতে পারত। র‌্যান্ডেলে সে মারাও যেতে পারত যদি সিজার তাকে নিয়ে পালিয়ে না আসত। মরে না গেলেও তাকে সইতে হত অকথ্য নির্যাতন আর অপমান।

ট্রেন যখন টানেলের ভেতর দিয়ে ছুটছিল কেবল তখনই কোরা সিজারের কাছে জানতে চায়, সে কেন তাকে সঙ্গে নিয়ে এলো। সিজারের সোজা জবাব, “জানতাম, তুই পারবি।”
ঘৃণা জন্মেছিল মায়ের উপর। মাঁচার উপর সে পাশের শোয়া মেয়েদের কত রাতে শুধু লাথিয়েছে তার শুমার নেই। নির্ঘুম রাত কেটেছে। কিছুই ভাল লাগত না। নিউ অরলিয়ান্সে যাওয়ার তুলো বোঝাই গাড়িতে উঠে পড়ত গোপনে। কখনও বা ওভারসিয়ারকে ঘুষ দিয়ে। রাস্তার ঝাঁকুনিতে গিয়ে পড়েছে রাস্তার খানা-খন্দে। রক্তাক্ত হয়েছে। তবু পাগলামী থামে নি। উ™£ান্ত হয়ে দা হাতে নিয়ে চলে যেত বিলের দিকে। এভাবে সারা রাত না ঘুমিয়ে কাটিয়েছে। যাহোক, একদিন তার বুঝ এলো। এভাবে নয়। এসবই দুঃস্বপ্নেরর মত। এভাবে উড়ন্ত ঘুরে বেড়ানো মানে মরে যাওয়া।

কিছুই জানে না মা পালিয়ে কোথায় গেছে। যাবার আগে মেবেল এমন কোন জমিয়েও রেখে যায় নি যা দিয়ে কোরা তার মুক্তি কিনতে পারে। যদিও র‌্যান্ডেল মুক্তির টাকা পেলেও তাকে মুক্ত করত না। কিন্তু মার তো একটা কর্তব্য ছিল! মিস লুসি বোধহয় কোন ফাইলেই তার মার নাম খুঁজে পান নি। যদি তিনি খুঁজে পেতেন নিশ্চয়ই তিনি উপরে এসে কোরার দরজার কড়া নাড়তেন।
“কেমন আছ, বেসি?”
এবিগেল নামের এক মেয়ে তাকে জিজ্ঞেস করল। সে ৬ নম্বরে থাকে। মাঝেমধ্যে রাতের খাবারের সময় এখানে আসে। মন্টোগোমারি স্ট্রিটের যে সব মেয়ে কাজ করতে আসে তাদের সাথে তার বেশ ভাব। ঘেসো মাঠের মাঝামাঝি কোরা একাকী দাঁড়িয়ে ছিল। “ভাল আছি,” বলে কোরা তার নিজের ডরমিটরিতে ফিরে গেল। তার এখন মন শক্ত করতে হবে।
মাস্কটা তেরচাভাবে পরলেও কোরা বেসি কার্পেটারের ছদ্মনামে বেশ মানিয়ে নিয়েছে। লুসির প্রশ্নে জবাবে কী কী বলতে হবে সে তা মনে মনে ঠিক করে নিল। প্রথম দিন প্লেসমেন্ট অফিস সামান্য কিছু জিজ্ঞাসা করেছিল। নবাগতদের ঘরে বা মাঠে কাজ করতে হয়। প্রায় সব কাজই গৃহস্থালির। নবাগতাদের ধৈর্য সহকারে শিখিয়ে পড়িয়ে নিতে মালকিনদেও পরামর্শ দেয়া হয়।
ডাক্তারী পরীক্ষা তাকে বেশ বিব্রত করল। এমন কিছু জিজ্ঞেস করে নি অবশ্য। কিন্তু ডাক্তারের ঘরে নানা রকম যন্ত্রপাতি দেখে মনে পড়ছিল র‌্যান্ডেলের সেই সব নির্যাতক যন্ত্রপাতির কথা। তাই ভয় হল কোরার।

গ্রিফিন বিল্ডিং-এর দশ তলায় ডাক্তারের অফিস। চলন্ত সিঁড়িতে ওঠার ভয় এখন অনেকটাই কেটে গেছে। অনেকটা পথ করিডোর দিয়ে গিয়ে সে দেখল সারি সারি চেয়ারে আরও অনেকে বসে আছে। নারী-পুরুষ সবাই পরীক্ষার জন্য অপেক্ষা করছে। ধবধবে সাদা পোশাক পরা এক নার্স এসে তালিকা দেখে নাম ডাকছে। সে অনুযায়ী কোরা গিয়ে মেয়েদের সারিতে বসল। সবার মধ্যে একটা অজানা ভয় ভয় ভাব। একে অপরের সাথে তারা এসব নিয়েই টুকটাক কথাও বলছে। এই প্রথম তারা কোন ডাক্তারের কাছে এসেছে। ভয় সে জন্যই। র‌্যান্ডেলে একেবারে মরণাপন্ন হবার আগে কখনও ডাক্তার ডাকা হয় না। শুধু কাদাপানির পথে আসার জন্য ফি গ্রহণ ছাড়া তখন আর ডাক্তারের করার কিছুই থাকে না।

তার ডাক পড়ল। পরীক্ষাঘরের জনালা দিয়ে চোখ মেলে কোরা শহরের দৃশ্য দেখতে পেল। মাইলের পর মাইল গাছপালায় ঢাকা শহর আর গ্রামের এ দৃশ্য তাকে মুগ্ধ করল। লোকটা সত্যিই একটা বেহেস্তখানা বানিয়েছে! কোরা ভাবে। এমন সুন্দর দৃশ্য দেখে দেখে সে দিন পার করে দিতে পারে। কিন্তু তার চিন্তায় ছেদ পড়ল। ডাক পড়ল তার। ডাক্তারের ঘরে যাবার। ডাক্তার ক্যাম্বেল খুবই নামজাদা চিকিৎসক। সাদা কোট গায়ে নিতান্ত ভদ্রলোক। স্বাস্থ্য বিষয়ক সাধারণ তথ্যগুলো তিনি জিজ্ঞেস করলেন এবং একজন নার্স তা হালকা নীল একটা কার্ডে সেসব তথ্য লিখে নিলেন। তার গোত্র পরিচয়, আগে কি কি অসুখ করেছে সে সব। হার্ট, ফুসফুসে কোন সমস্যা অনুভব করে কি না সে সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। সাউথ ক্যারোলাইনায় পৌঁছানোর আগে তার তীব্র মাথা ব্যথার কথা সে জানাল।

বুদ্ধিমত্তার পরীক্ষাটাও বেশ সংক্ষেপে শেষ হল। কয়েকটা কাঠের সেট আর কিছু কুইজের মাধ্যমে হল সে পরীক্ষা। এবার তার শারীরিক পরীক্ষার পালা। ডাক্তার ক্যাম্বেল তার দুই হাত উল্টেপাল্টে দেখলেন। হাত দুটো বেশ নরম। কিন্তু বোঝা যায় মাঠে কঠোর পরিশ্রমের কাজ করেছে। আঙুলে চাবুক মারার ফলে ঘায়ের দাগ আছে। সারা গায়ে নির্মম চাবুকের অনেকগুলো দাগ তখনও দগদগ করছে। যন্ত্র দিয়ে তার গোপনাঙ্গ পরীক্ষা করলেন ডাক্তার। এটা বেশ যন্ত্রণাদায়ক। কোরা লজ্জা পাচ্ছিল। ডাক্তার সাহেব যতই স্বাভাবিকভাকে পরীক্ষা করুন, কোরা বেশ অস্বস্তিবোধ করল। ডাক্তারের সওয়ালের জবাবে কোরা তার বলাৎকারের ঘটনা জানায়। ডাক্তার নার্সকে এসব নথিতে লিখে রাখতে বললেন। সে কখনও মা হতে পারবে কি না সে সম্পর্কে ডাক্তারের ধারণাও লিখে রাখতে বললেন।
কাছের একটা ট্রেতে অনেকগুলো যন্ত্রপাতি রাখা। তার মধ্য থেকে সুঁচলো একটা সিরিঞ্জ নিয়ে ডাক্তার সাহেব তার রক্ত নেবার কথা জানাল। কোরা রীতিমত ভড়কে গেল এবার।
“নক্ত কেন্?”
“রক্ত পরীক্ষা করে রোগের অনেক কিছু জানা যায়। কী রোগ, কীভাবে ছড়ায় সে সব।” নার্স কোরার হাতটা শক্ত করে ধরল। আর ডাক্তার তার হাতে সুঁই ফুটিয়ে দিলেন। কোরা আঁ! উ!ঁ করে উঠল। এর আগে সে এমন শব্দ শুনছিল। এখন বুঝল তার কারণ। হলে এখন শুধুই পুরুষরা বসে আছে। মেয়েদের পরীক্ষা শেষ।

সেটাই তার গ্রিফিন বিল্ডিং-এর দশ তলায় শেষ যাওয়া। নতুন হাসপাতাল তৈরির কাজ শেষ হলে মিসেস এন্ডারসন একদিন তাকে বলেন, সরকারি ডাক্তাররা এখন থেকে এই হাসপাতালে রোগী চিকিৎসা করবেন। মিঃ এন্ডারসন আরও বললেন, খালি ঘরগুলো নতুন করে ভাড়া দেবার কাজও প্রায় শেষ। এন্ডারসন পরিবারের ডাক্তার সাহেব মেইন স্ট্রিটে চোখের ডাক্তারের উপরের তলায় বসেন। ঘরের বাইরে খোলা আলো-হাওয়ায় থেকে আর ওষুধ খেয়ে কোরা বেশ সুস্থ এখন।

কোরা শনিবার রাতের খাবার শেষে সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য তৈরি হচ্ছে। নীল জামাটা পরে নিল কোরা। দোকানে এটাই ছিল তার সবচেয়ে পছন্দের। সে যথাসম্ভব কম খরচ করল। এখানে এত শস্তা দেখে কোরা অবাক হল। এক সপ্তাহর মুজুরির সমান দাম পড়ল তার এ জামাটার। অন্যরা অবশ্য মাসের পুরো মুজুরিই খরচা কওে ফেলল। কিন্তু কোরা খুব হিসেবি মেয়ে। সে জানে টাকা বাঁচানো খুব দরকার। সে জানে এখানে তার রোজগার থেকে থাকা-খাওয়া, ডরমিটরির ভাড়া, পড়া আর অন্যান্য খরচ মেটাতে হবে। তাই যতটা কম খরচা করা যায় ততই ভাল। জামাটা অবশ্য তার খুব দরকার ছিল। তাই না কিনে উপায় ছিল না। আর রোজ রোজ তো জামা কিনতে হবে না। এটাতে অনেক দিন চালিয়ে নিতে পারব। নিজেকে বোঝায় কোরা।

সন্ধ্যায় তারা আনন্দে মেতে উঠবে। মেয়েরা সবাই উৎসুক। কোরাও। দ্রæত সাজগোজ সেরে নেয় সে। সেখানে হয়ত সিজারের দেখা মিলতে পারে।

যে বেঞ্চে বসে গানবাজনা শুনবে সেখানে সিজার বসে আছে। সে জানে কোরা নাচবে না। জর্জিয়ার তুলনায় এখানে সিজারকে যেন বেশ বয়েসী মনে হচ্ছে। সন্ধ্যার পোশাকে সিজারকে চিনতে কোরার কোনই অসুবিধা হয় নি। শেষ দেখার পর থেকে সিজার মুখে গোঁফ রেখেছে।

ফুল দিয়ে কোরাকে শুভেচ্ছা জানাল। কোরা খুব খুশি। কোরার পোশাকেরও খুব তারিফ করল সে। দারুণ মানিয়েছে। এখানে আসার এক মাস পর একদিন সিজার কোরাকে আদর করে চুমু দিতে চেয়েছিল। কোরা কিছুই না বোঝার ভান করে। একদিন হয়ত সে আদর করে চুমু দেবে। কবে তা সে ঠিক জানে না। কিন্তু সে এমনটাই ভাবে।
“ওদের চিনি,” সিজোর বলল। তাদের থেকে একটু দূরে বসা দুজনকে দেখিয়ে সিজার বলল, “এরা হয়ত জর্জ বা ওয়েসলির চেয়ে ভাল।”

দিন গড়ানোর সাথে সাথে কোরা বা সিজার জনসমক্ষে র‌্যান্ডেলের কথা কম তোলে। কে কোথা থেকে কী শুনে ফেলবে কে জানে। প্লান্টেশন মানে প্লান্টেশন। সেখানে কে কার দুঃখ কষ্ট নিয়ে ভাবে? নিজের কষ্টটাই সবাই বড় করে দেখে। যদিও সবাই সেখানে নানা নির্যাতনের শিকার হয়। আন্ডারগ্রাউন্ড রেলরোড নিয়ে তাদের কথাবার্তা গানের উচ্চ শব্দে হারিয়ে গেল। তারা যে গান শুনছে না তা কী শিল্পীরা লক্ষ্য করছে? তারা কি কিছু মনে করবে? কেনই বা করবে? কোরা এসব ভাবে। এখানে এরা মুক্তির গান গাইছে। এর চেয়ে আনন্দের আর কিছু নেই। দাসগাঁওয়ে থাকতে তারা এসব ভাবতেও পারত না। মুক্তির এ আনন্দ তারা প্রাণ ভরে উপভোগ করে এখন।

প্রোক্টরগণ কালো নারী-পুরুষের মধ্যে হার্দিক সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। দাসত্ব তাদের যেসব মানবিক মূল্যবোধকে ধসিয়ে দিয়েছিল তা পুনরুদ্ধারে আন্তরিকতার সাথে পরামর্শ দেয়। এই নাচ, এই গান, এই একসাথে মিলে খাওয়াদাওয়া সব মিলিয়ে তাদের মধ্যে মানবিকতার পুনরুজ্জীবন ঘটে। অন্তর থেকে দুঃখের জগদ্দল পাথর নেমে যায়। নাচগান হয়ে ওঠে সঞ্জীবনী সুধা। আত্মা শান্তিতে ভরে যায়। এই আনন্দোৎসব কোরা এবং সিজারের জীবনেও অনাবিল আনন্দ সঞ্চার করে।

শহরের বাইরে একটা ফ্যাক্টরিতে সিজার কাজ করে। তার ছুটির দিন কোরার সাথে প্রায়ই মিলে যায়। কাজটা তার বশ পছন্দের। ফি সপ্তায় একটা না একটা মেশিন এসেম্বল করা হচ্ছেই। এগুলো অবশ্য অর্ডারের ওপর নির্ভর করে। কনভেয়ার বেল্টে সকলেই নিজ নিজ দায়িতব পালন করে। যার যেটুকু কাজ শুধু সেটুকু। কনভেয়ার বেল্টের শুরু যেখানে সেখানে নিচে রাখা থাকে কিছু যন্ত্রাংশ শুধু। কিন্তু শেষ যেখানে সেখানে আস্ত একটা বস্তু তৈরি হয়ে বেরোয়। সবাই মিলে একটা বস্তু তৈরি করাটা খুবই মজার আর আনন্দের। এখানে কাজের ধরন একেবারে র‌্যান্ডেলের বিপরীত।

একঘেয়ে হলেও কাজটা বিরক্তিকর মনে হয় না। খুব যে পরিশ্রমের কাজ তাও না। একঘেয়ে হলেও নতুন কিছু তৈরি করায় আনন্দ আছে। ম্যানেজার এবং ফোরম্যান যারা আছেন তারা শ্রম আইন মোতাবেক কাজগুলো কয়েকটি শিফটে ভাগ করে দেন। তাতে লম্বা বিশ্রামের সুযোগ মেলে। সহকর্মীরা খুবই ভাল। অনেকে এখনও প্লান্টেশনের দুঃসহ কষ্টের কথা ভুলতে পারে নি। মনের ক্ষত সহজে যায় না। দুঃসহ স্মৃতি সহজে মুছে ফেলা যায় না। তবে এখানে আত্মবিশ^াসী হয়ে উঠছে তারা। রোজই উন্নতি হচ্ছে তাদের। জীবনে নতুন এক সম্ভাবনার স্বপ্ন দেখছে তারা।

পালিয়া আসা গোলামরা খোঁজ খবর রাখে। মেইজির একটা দাঁত গেছে। কারখানায় এ সপ্তায় যে নতুন রেল ইঞ্জিনটা তৈরি হল সেটা কি আন্ডারগ্রাউন্ড রেলরোডে চলাচল করবে? দোকানে জিনিসের দাম আবার বেড়ে গেছে। সিজোরের মনে এমন প্রশ্ন। কোরার অবশ্য এসব নিয়ে মাথাব্যথা নেই।
“শ্যাম ক্যামন আছে রে?” কোরা জানতে চায়। সিজারের পক্ষে স্টেশন ম্যানেজারের সাথে দেখা করা সহজ।
“আগের মতনই। হাসিখুশি। ওর তো খুশি হতি কিচু লাগে না। ফুর্তিবাজ। সরাইখানার এক গেঁয়োভূত নাকি তারে কি দিচে, তাই খুশিতি ডগমগ।”
“আর উরা?”
উরুতে হাত দুটো রেখে সিজার বলল, “একটা টেরেন শিগগির আসবেনে রে। আমরা যাতি পারি।” এমন করে বলল যেন সে কোরার ইচ্ছেটা ভালই জানে।
“না রে, পরের টা।”
“ঠিক আচে, পরের টা।”
এর মধ্যে তিনবার ট্রেন গেছে। নতুন যারা এসেছে তাদের নিয়ে করণীয় ঠিক করতে পারছে না। তাদের কি তাড়াতাড়ি এখান থেকে সরিয়ে নেয়া উচিত, না কি অপেক্ষা করা ভাল, সাউথ ক্যারোলাইনা থেকে কী খবর আসে তার জন্য? এ ক’দিনে তারা কাজ করে কিছু পয়সাপাতি পেয়েছে। ভাল খাবার জুটেছে। শরীরের ওজন বেড়েছে কয়েক পাউন্ড। খামারের কষ্ট নেই এখানে। কিন্তু কোরা আর সিজারের মধ্যে তরজা থামছে না। কোরা চায় তাদের অন্যত্র পাঠাক। সিজার ভাবে এখানেই বরাত খুলবে। শ্যাম তার জন্মস্থান সাউথ ক্যারোলাইনা নিয়ে গর্ব করে। এখানকার জনবর্ণ বদলে যাচ্ছে। সাউথ ক্যারোলাইনার এই দ্রæত বদলে যাওয়া তিনি লক্ষ্য করছেন। তিনি জানেন না, সংকর জনবর্ণ নিয়ে এই পরীক্ষা নিরীক্ষার ফল কী দাঁড়াবে। সরকারের মনোভাবও স্পষ্ট নয়। কিছুটা সন্দেহ দানা বাঁধছে তার মনে। তবু শ্যাম আশাবাদী। যারা নতুন এসেছে তারা এখানেই আছে। হয়ত পরে যে আসবে সেও থাকবে।

পরের জন এসে অল্প কিছু কথাবার্তা শেষে চলেও গেল। কোরা ডরমিটরিতে সবে খাওয়া সেরেছে। সিজার একটা নতুন শার্ট কিনেছিল। সে ভাবছিল নিজের রোজগার দিয়ে ভালই চলছে। আবার কোথাও গিয়ে না নতুন করে না-খেয়ে থাকতে হয়। তৃতীয় ট্রেন এলো গেলো। চতুর্থটাও আসবে।
“ইকেনে থাহাই বুধহয় ভাল হবেনে,” কোরা বলে।

সিজার নীরব। আজকের সামাজিক উৎসবের রাতটা সত্যিই সুন্দর, মনোরম। বাদক দল আজ মন মাতানো সুর তুলে সবাইকে মোহিত করে ফেলেছে। তারা এসেছে নানা খামার থেকে। বাঁশিতে যে সুর তুলছে সে হয়ত এক খামারের, ব্যাঞ্জো বাদক হয়ত অন্য কোন খামারের। প্রতিবারই তারা মোহনীয় সুর তোলে। যে যেখান থেকে এসেছে সেখানকার ঘরানায় বাজায়। আর শ্রোতারাও যে যেখান থেকে এসেছে সেখানকার ঢঙে নেচে নেচে উৎসবের রাতটা মাতিয়ে রাখে। তারা একে অপরের ঢং নকল করে একসাথেও দল বেঁধে নাচে। নাচ শেষে ঠান্ডা বাতাসে শরীর জুড়িয়ে যায়। অনেকেই তখন প্রেমে মাতে। হাসি আর হাততালিতে মুখর হয় সমস্ত পরিবেশ।
“ইকেনেই থাহি রে,” সিজার বলে। সেটাই ঠিক হয়।
মাঝরাতে অনুষ্ঠান শেষ হয়। টুপি খুলে বাদকরা পয়সা সংগ্রহে নেমে পড়ে। কিন্তু শনিবারে কারো হাতেই তেমন পয়সাপাতি নেই। তাই টুপি প্রায় শূন্যই রইল। সিজারকে “বিদায়” বলে কোরা ডরমিটরির পথ ধরল। আর তখনই তার নজরে এলো একটা ঘটনা।
একটা মেয়ে স্কুলের কাছে ঘেসো মাঠের উপর দিয়ে দৌঁড়াচ্ছে। বয়স বিশের কোটায়। হালকা-পাতলা গড়ন। চুলগুলো এলোমেলো বাঁধা। বøাউজটা প্রায় খোলা। আলগা বুক দুটো। মুহূর্তে কোরার র‌্যান্ডেলের কদর্য দিনগুলো মনে পড়ল। এ এক নতুন ধরনের অত্যাচার।
দু’জন মেয়েটাকে জাপটে ধরল। যথাসম্ভব চেষ্টা করল যেন সে পড়ে না যায়। লোকজনের ভীড় জমে গেল। একটা মেয়ে দৌঁড়ে গেল প্রোক্টরকে খবর দিতে। মেয়েটা কাঁদছে আর বলছে, “আমার বাচ্চাদের ওরা জোর করে কেড়ে নিয়ে গেছে।”

লোকজন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখল; কিন্তু কিছ্ইু করল না। খামারে এসব নিত্য ঘটত; এখানেও হরহামেশা ঘটে। এত দূরে এসেও দুর্বৃত্তরা কোলের বাচ্চা চুরি করে পালায়। মায়ের আহাজারিতে চারদিক ভারি হয়ে ওঠে। সবার সয়ে গেছে। সিজার তাকে এমন গল্প বলেছিল। সেটা মনে পড়ল। এতদূরে এসেও অনেকের স্বভাব বদলায় নি। সুযোগ পেলেই এমন অপরাধে লিপ্ত হয় কেউ কেউ।

অনেক ক্ষণ পর সন্তান ছিনতাই হওয়া মায়ের কান্না থামে। তারপর তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হল ডরমিটরির পিছন দিকের একটা ঘরে। নানা কথা বলে যতই সান্ত¡না দেয়া হোক কোরার মনে এ ঘটনা এমন রেখাপাত করল যে অনেক রাত সে আর ঘুমাতে পারেনি। মায়ের বুকফাটা আহাজারি তাকে প্রায় পাগল করে ফেলল। বারবার সে সেই বুকফাটা কান্না শুনতে পায়। নিজেকেই এখন ভুত-পেতনি মনে হয় তার। (চলবে)

 

আমিরুল আলম খান 

জন্ম যশোর জেলার ভারতীয় সীমান্তলগ্ন শিববাস গ্রামে ১৩৫৮ বঙ্গাব্দের ১৫ই অগ্রহায়ণ।
পড়েছেন এবং পড়িয়েছেন ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য। এরপর মাধ্যমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণে যুক্ত থেকেছেন। যশোর শিক্ষা বোর্ডে প্রথমে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পরে চেয়ারম্যান ছিলেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি অপেশাদার সাংবাদিকতায় যুক্ত গত পাঁচ দশক ধরে। ইংরেজি দৈনিকে নিউ নেশান-এ প্রায় এক দশক সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করেন। দৈনিক ইত্তেফাক, প্রথম আলো, সমকাল, বণিক বার্তায় কলাম লেখেন।

গ্রামীণ পাঠাগার আন্দোলনে যুক্ত হয়ে বাংলাদেশে গ্রামোন্নয়নের নতুন মডেল ডিহি ইউনিয়ন পাবলিক লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করেন। দেশের প্রাচীনতম এবং বৃহত্তম গণপাঠাগার যশোর পাবলিক লাইব্রেরির সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

শিক্ষা, ভাষা, প্রকৃতি, কৃষি, বাস্তুসংস্থানবিদ্যায় আগ্রহী। এসব নিয়েই তার বই: বাঙলার ফল, অরণ্যের পদাবলী, পারুলের সন্ধানে, কপোতাক্ষ-মধুমতীর তীর থেকে, বিপর্যস্ত ভৈরব অববাহিকা, পারুল বিতর্ক, বাংলাদেশের শিক্ষার স্বরূপ সন্ধান এবং বিদ্যাবাণিজ্যের রাজনৈতিক-অর্থনীতি।

তাঁর অনুবাদগ্রন্থ: আফ্রিকান-আমেরিকান উপন্যাস দি স্লেভ গার্ল। হ্যারিয়েট অ্যান জেকব রচিত এই আত্মজৈবনিক উপন্যাসটি বোস্টন থেকে প্রকাশিত হয় ইনসিডেন্টস ইন দ্য লাইফ অব এ স্লেভ গার্ল শিরোনামে, ১৮৬১ সালে।

Facebook Comments

3 Comments

  1. নাহার তৃণা

    খুব প্রাঞ্জল অনুবাদের হাত আপনার। সচরাচর অপঠিত গল্প/উপন্যাসের অনুবাদ পড়তে গেলে কাহিনি অজানা থাকায় অনুবাদের সুরে ঠিকঠাক তাল ঠুকতে সমস্যা হয় অনেক সময়। কলসন হোয়াইটহেডের ‘দ্য আন্ডারগ্রাউন্ড রেলরোড’ পড়িনি আমি।
    দনোমনো করে এর আগের পর্বে ঢুকে পড়েছিলাম। মূলত অনুবাদ কেমন হয়েছে সেই কৌতূহলটাই বেশি ছিল।
    খেয়াল করলাম পর্বটা তরতর করে পড়া হয়ে গেল, আর পরের পর্বে কী ঘটে তার জন্য একটা আগ্রহও তৈরি হলো।
    অনুবাদ সাবলীল না হলে এভাবে ‘আন্ডার গ্রাউন্ড রোলরোড’ হয়ত টানতো না আমাকে।
    প্রাণবন্ত অনুবাদের জন্য সাধুবাদ জানাচ্ছি আমিরুল আলম খান ভাই কে। পরের পর্ব পড়বার অপেক্ষায় থাকছি।
    শুভকামনা।

  2. আমিরুল আলম খাব

    ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানাই। অনুবাদ ভাল লাগছে জানতে পেরে খুশি হলাম। আমার সাধ্যমত চেষ্টা করছি অনাবাদে বাংলা বাক্যরীতি অনুসরণের। কতটুকু সফল হচ্ছি সে বিচারের অধিকারী আপনার মত বোদ্ধা পাঠকবৃন্দ।
    আপনাদের ভাল লাগায় আমার দায় আরও বেড়ে গেল। আপনাদের সহানুভূতি, পরামর্শ ও দোয়া প্রার্থনা করি।
    শুভেচ্ছা নিরন্তর।
    আমিরুল আলম খাব

  3. আমিরুল আলম খান

    ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানাই। অনুবাদ ভাল লাগছে জানতে পেরে খুশি হলাম। আমার সাধ্যমত চেষ্টা করছি অনাবাদে বাংলা বাক্যরীতি অনুসরণের। কতটুকু সফল হচ্ছি সে বিচারের অধিকারী আপনার মত বোদ্ধা পাঠকবৃন্দ।
    আপনাদের ভাল লাগায় আমার দায় আরও বেড়ে গেল। আপনাদের সহানুভূতি, পরামর্শ ও দোয়া প্রার্থনা করি।
    শুভেচ্ছা নিরন্তর।
    আমিরুল আলম খান

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।