আমিরুল আলম খানের অনুবাদ: দ্য আন্ডারগ্রাউন্ড রেলরোড

নর্থ ক্যারোলাইনা

সামের বাড়িটা পুড়িয়ে দেবার পরের দিন। তবে কোরা সময় ঠিক করতে পারছে না।

মোমবাতিগুলো সে হারিয়ে ফেলেছে। গায়ের উপর একটা নেংটি ইঁদুর নেচে বেড়াতে শুরু করলে কোরার ঘুম ভেঙে গেল। ঘুমের ঝোঁকটা একটু সামলে নিয়ে প্লাটফর্মের জঞ্জাল হাতড়ে হাতড়ে হামাগুড়ি দিয়ে সে প্লাটফর্মে এলো। কতক্ষণ হলো? র‌্যান্ডেলের তুলো মাপার পাল্লায় হিসেব করে অনুমান করাই ভাল। খিদে আর ভয় এক সঙ্গে চেপে ধরেছে তাকে। ক্রমেই আশা ক্ষীণ হয়ে আসছে। কতক্ষণ এভাবে কাটাব তা না ভেবে ভুলে যাওয়াই বরং ভাল।

এখন মোমবাতিগুলোই তার বেশি দরকার। এই বন্দিদশায় জিনিসগুলো খুঁজে পেতে দরকার আলো। তার জানা আছে, প্লাটফর্মটা লম্বায় ২৮ কদম আর রেলের পাটি থেকে প্লাটফর্মের দেয়াল সাড়ে পাঁচ কদম দূরে।  উপরে উঠতে ছাব্বিশটা ধাপ পেরোতে হয়। নামার সময় ট্রাপডোরে তার হাত পড়েছিল। তখন সেটা সামান্য গরম ছিল। সিঁড়ির কোন ধাঁপে জামা দেয়ালে ঘেষে যায় সেটা সে ভালই জানে। ওটা অষ্টম ধাপ। তার চেয়ে সরু হচ্ছে পনেরোতম ধাপ। অসাবধান হলেই চামড়া ছিলে যাবে। প্লাটফর্মের এক কোণায় একটা ঝাড়– দেখে সেটাকে অন্ধের ষষ্টি বানিয়ে সে নিচে নেমেছিল। ঠিক একইভাবে পালানোর রাতে সিজার পানি মেপে মেপে বিল পার হয়েছিল। এখন সে এতই ক্লান্ত যে এখন এসব খোঁজাখুঁজির সামর্থ্য তার নেই।

এখান থেকে বেরতেই হবে। এই দীর্ঘ সময় ধরে তার মনে হানা দিচ্ছিল জাদুঘরের সেইসব ভয়ংকর দৃশ্য। সিজারকে নিয়ে কিছু লোক হুল্লোড় করছে। গোলাম পাকড়াওকারীদের গাড়ির মেঝেয় এখন সে গড়াগড়ি খাচ্ছে। তাকে বেদম পেটানো হয়েছে। র‌্যান্ডেলে পৌঁছাতে এখনও অর্ধেক পথ বাকি। সেখানেই আসল শাস্তি পাবে সে। দয়ালু সাম এখন জেলখানায়। তার গায়ে আলকাতরা লেপে দেয়া হয়েছে। তাতে জড়িয়ে দিয়েছে পাখির পাখনা। মেরে হাড়গোড় গুড়ো করে দিয়েছে। তার কাছে গোপন রেলরোড সম্পর্কে জানতে জিজ্ঞাসাবাদে এসবই করেছে র‌্যান্ডেলের ভাড়াটে গুন্ডারা। এখন সে বেহুঁশ পড়ে আছে। …

ঘুম ভাঙলে সে দেখে তার সারা শরীর রক্তাক্ত। ঘুমের মধ্যে নানান দুঃস্বপ্ন দেখেছে। সেসব খুবই ভয়ংকর দুঃস্বপ্ন। একটা দাসবহনকারী জাহাজে সে কাঁচের জানালার পাশ দিয়ে একবার আসছে, আবার ফিরে যাচ্ছে। জাহাজে ধওে আনা আফ্রিকান। তাদের দাস বানাতে আমেরিকা নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বন্দরে অনুকূল বাতাসের জন্য জাহাজখানা অপেক্ষা করছে। নিচের ডকে গাদাগাদি করে বেঁধে রাখা হয়েছে ধরে আনা গোলামদের। তারা সব হাউমাউ কওে কাঁদছে। পরের জানালার পাশে মিস লুসি একটা খামখোলা ছুরি দিয়ে কোরার পেট চিরছে। আর তার পেটের ভেতর থেকে পিলপিল করে বেরিয়ে আসছে একপাল কালো মাকড়সা। ভয়াবহ সব দুঃস্বপ্ন বারবারই তার স্মৃতিপটে ভেসে উঠছে। র‌্যান্ডেলের সেইসব ভয়ংকর দৃশ্য, ধূমঘরের পিছনে তাকে যে বলাৎকার করেছিল সে সব দৃশ্য। তারপর র‌্যান্ডেলের হাসপাতালে শক্ত করে ধরে থাকা নার্স আর সেলাইয়ের দৃশ্য। প্লাটফর্মের এই নির্জন কারাগারের মতো বন্দি কোরার চোখে যখনই একটু ঘুমের ভাব আসে কোথা থেকে হাজির হয় একপাল ছারপোকা আর ইঁদুরছানা। তারা এসে এমন কামড় আর উৎপাত শুরু করে যে ঘুম পালায়। টুটে যায় তার স্বপ্ন-দুঃস্বপ্ন।

পেট খিদেয় মোচড় দিচ্ছে। এর আগেও সে অনেকবার না-খেয়ে থেকেছে। র‌্যান্ডেলে থাকতে প্রায়ই এমন হত। শাস্তি দিতে কনেলি প্রায়ই তাদের রেশন বন্ধ করে দিত। আর তখন না-খেয়ে থাকা ছাড়া উপায় থাকত না। কিন্তু তুলোর খামারে কাজ করিয়ে নিতে আবার খেতে দিতে বাধ্য হত। তাই সেসব না-খেয়ে থাকা হত স্বল্পস্থায়ী। এখানে এখন সে জানেই না কখন এক টুকরো খাবার জুটবে। ট্রেনটা দেরিতে আসার কথা ছিল। যে রাতে সাম তাকে ব্যাড ব্লাড সম্পর্কে বলেছিল সেদিন থেকে আরও দুদিন পরে ট্রেন আসার কথা। তখনও সামের বাড়িটা ছিল।  সে হিসেবে ট্রেনটা চলে আসার কথা। দেরির কোন কারণ সে জানে না। কিন্তু এটা বোঝে, দেরিতে ট্রেন আসা মানে কোথাও কোন ঝক্কি-ঝামেলা ছিল। এমনও হতে পারে, এ লাইনটা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সব কিছুই জানাজানি হয়ে গেছে। তাই সব বাতিল। কেউ আসতে পারবে না। সে এত দুর্বল যে পরের স্টেশন পর্যন্ত হেঁটে যাবার কোন সামর্থ্য তার নেই। তাছাড়া এই ভীষণ অন্ধকারে অজানা পথে সে যাবেই বা কী করে? কোনদিকে কত দূরে পরের স্টেশন তাও সে জানে না। একাকী এই নির্জন অন্ধকারে কোথায় কোন দুর্ভোগ আছে তাই বা কে জানে?

সিজার। সুস্থ এবং আগের মত ছুটতে পারলে সিজার এবং সে এতদিনে কোন মুক্ত এলাকায় পৌঁছে যেত। তারা কী জানত কোন ইতর কাউলা সামান্য এনামের লোভে সাউথ ক্যারোলাইনায় এমন করে তাদের জীবনে সর্বনাশ করে দেবে? একটা রাজ্য পেরোতে পারলেই তারা মুক্তির পূর্ণ আনন্দ উপভোগ করতে পারত। কিন্তু দুই ইতর গোলাম তাদেরই স্বজাতিকে সামান্য এনামের লোভে ধরিয়ে দিল! তখনও তারা দক্ষিণে আর দানবটা তার ক্ষিপ্রগতিতে ছুটছিল। দুনিয়াদারিতে এটাই একমাত্র শেখার যে, একবার হাত-পা শৃঙ্খলমুক্ত করতে পারলে ভাঙা শেকলের দিকে ফিরে না তাকানোই উচিত। দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় নতুন শেকল তৈরি হচ্ছে এ শুধুই রূপ বদল এখানকার নয়া আদলে তৈরি। কিন্তু শেকলের ধর্ম যে অন্যকে বেঁধে রাখা সে ধর্মই সেও পালন করছে। আসলেই তারা খুব বেশি দূরে আসতে পারেনি।

নিবিড় ঘন আঁধারে সে নিজের হাতখানা দেখতে না পারলেও মনের চোখে সে দেখছে সিজারকে। বারবারই সিজার তার স্মৃতিপটে ভেসে উঠছে।  ড্রিপ্টে সামের সাথে দেখা করতে পারার আগেই ফ্যাক্টরি স্টেশনে সিজার ধরা পড়ে যায়। মেইন স্ট্রিট ধরে সে আর মেগ হাত ধরাধরি করে আসছিল। সেখান থেকেই ষণ্ডারা তাকে জোর করে ধরে তুলে নিয়ে যায়। মেগ চিৎকার করলে তারা ধাক্কা মেরে তাকে রাস্তার পাশে ফেলে দেয়। সাথে মেগ না থেকে যদি সে থাকত তাহলে তাদের দুজনকেই তারা একসাথে ধরে নিয়ে যেত; একসাথেই তাদের বন্দি করে রাখত। তখন তাদের হয়ত এমন দুটো আলাদা কারাগারে বন্দি হয়ে থাকতে হত না। দুই হাতে হাঁটু মুড়ে তার মধ্যে মাথা গুঁজে বসে রইল কোরা। শেষ তক সে সিজারকে একাকি বানিয়ে দিল! এখন সেও একেবারে এতিম, কেউ নেই কোরার দেখভাল করার। সব দিক থেকে সে একা, নিঃসঙ্গ! ক’বছর আগে সে মানুষের সমাজ থেকে থেকে নিজেকে আলাদা করে ফেলেছিল। এখন আর সেখানে ফেরার পথ খোলা নেই।

মাটি কাঁপে। দেরিতে আসা ট্রেনে যত না কেঁপে ওঠে মাটি, তার চেয়ে বেশি কাঁপন সে অনুভব করে অর্থহীন জীবনের, কঠিন বাস্তবতার। সে এক পথহারা পাখি; আপন বলে এ সংসারে তার কেউ নেই।

বাঁক নিতেই ট্রেনের আলো দেখা গেল। কোরা চুল গুছিয়ে নিল। এই বন্দি জীবন শুরুর পর থেকে সে আর চুল গোছায়নি। একটা বাতি হাতে নিয়ে সে ডানে-বামে দুলাতে শুরু করল যাতে ইঞ্জিনিয়ারের চোখে পড়ে।

ট্রেনটা স্টেশন ছাড়িয়ে দ্রুত চলে গেল।

হতাশায় সে মুষড়ে পড়ল। হাউহাউ করে কেঁদে ফেলল। কেঁদেই চলেছে। হঠাৎ আবার ট্রেনের শব্দ তার কানে গেল। ট্রেনটা থেমেছে। কিছুক্ষণ পর আবার পিছিয়ে আসছে। ফিরে এসে স্টেশনে দাঁড়াল।

ইঞ্জিনিয়ার বারবার ক্ষমা চাইতে থাকল। “আমার সাথে রুটি আছে, খেতে আপত্তি না থাকলে খেতে পারেন।” সে রুটিটা নিয়ে খেয়ে নিল।

“আপনার তো এখানে থাকার কথা নয়।” চশমা ঠিক করতে করতে অল্পবয়েসী ইঞ্জিনিয়ার বললেন। বয়স কিছুতেই পনেরো বছরের বেশি হবে না চটপটে এ কিশোরের।

“দেখ, আমি কেমন নোংরার মধ্যে আছি। বুঝতে পার?”

“মা জননী, ওসব বলবেন না। আপনি তো আমার মা। প্যান্টের পকেটে হাত ঢুকিয়ে কথা বলছে শে^তাঙ্গ ছেলেটা। কোরার মনে হল ঠিক যেন এমন একটা ছেলেকেই সে টাউন স্কয়ারে খেলা করতে দেখেছে। নিজের সাদা চামড়া নিয়ে তার কোন মাথাব্যথা নেই। এমন কাজে জড়িত হওয়াতে তাই অবাক হবার কিছু নেই। কীভাবে সে এই ট্রেন চালনায় যুক্ত হয় সে এক অন্য কাহিনি। তবে এখন তা নিয়ে আমাদের মাথা না ঘামালেও চলবে।

“জর্জিয়া স্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে” মাথার নীল রঙের ক্যাপটা ঠিক করতে করতে সে জানাল। এখান থেকে আমাদের দূরে থাকার কথা। পাকড়াওকারীরা আশেপাশেই আছে। তারা হয়ত আমাদের উপস্থিতি টেরও পেয়ে থাকবে। এ কথা বলেই সে ইঞ্জিনে চড়ে বসল। “এখানে আমার থামার কথা নয়। তাই আমি এক্সপ্রেস চালাচ্ছিলাম।” সে তক্ষুনি এ জায়গা ছেড়ে যেতে চাইল।

কোরা কিছুই ঠিক করতে পারছে না। সে শেষবারের মত সিঁড়িগুলোর দিকে তাকাল। সে এক অনাহুত  প্যাসেঞ্জোর। কেবিনের দিকে  হাঁটতে শুরু করল কোরা।

“এখান থেকে তুমি উপরে চড়তে পারবে না। এটাই নিয়ম।”

“আপনি চাচ্চেন আমি ওইটার ’পর চড়ি, তাই তো?”

“মিস, সব প্যাসেঞ্জারকেই কোচে চড়ে যেতে হয়। সেটাই নিয়ম। এ নিয়ম কড়াকড়িভাবে মানতে হয়।”

একটা ফ্লাটকারকে কোচ বলা মানে কোচ শব্দটারই অপব্যবহার করা। সাউথ ক্যারোলাইনায় কোরা এ রকম বক্সকার দেখেছে। কিন্তু এর ভিতটা একটু আলাদা ধরনের। কাঠের পাটাতনগুলো নিচের দিকে নামানো। তার চারচাশে না আছে কোন দেয়াল, না কোন ছাদ। কোরা তাতেই চড়ে বসল। ইঞ্জিন চালু করার সময় জোরে একটা ধাক্কা খেল। ঘাঁড় বাঁকিয়ে দারুণ উৎসাহে সে তার প্যাসেঞ্জারের দিকে হাত নাড়ল।

এখানে এলামেলোভাবে বিছানো আছে খড়কুটো, সাপের মত এঁকেবেকে পড়ে আছে দড়াড়ড়ি। ফ্লাটকারের মাঝামাঝি কোরা বসেছে। মাজা পর্যন্ত তিন পর্দা খড়ে ঢেকে সে আর দু পর্দা খড়ের গাদায় হেলান দিয়ে লুকিয়ে থাকল। তারপর ভাল করে নিজেকে বেঁধে নিল যাতে ধাক্কা সামলাতে পারে।

টানেলের ভেতর দিয়ে ট্রেন এগিয়ে চলল। উত্তরদিকে। ইঞ্জিনিয়ার সতর্ক করে বলল, “সব ঠিকঠাক তো?”  একেবারে সাদাসিদে ছেলেটা। কোরা বুঝল, অফিসের আদেশ তাকে অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলতে হয়। পিছন ফিরে তাকিয়ে কোরা দেখছে এখানে এই মাটির নিচে যেখানে সে লুকিয়ে ছিল সে জায়গাটা ধীরে ধীরে অন্ধকারে হারিয়ে যাচ্ছে। কোরা ভাবছে, সে-ই এ স্টেশনের শেষ যাত্রী! এখান থেকে হয়ত আর কোন কালে মুক্তি আকাঙ্খী কেউ ট্রেন পাবে না।

সাউথ ক্যারোলাইনায় পালিয়ে যাবার সময় ট্রেনের প্রবল ঝাঁকুনির মধ্যেও কোরা সিজারের কোলে মাথা রেখে ঘুমিয়ে নিয়েছিল। কিন্তু এবার সে একটুও ঘুমুতে পারেনি। বক্সকারের তুলনায় এই কথিত কোচ একবারে রদ্দি আর এত ঝাঁকুনি যে ঘুমের প্রশ্নই ওঠে না। মাঝে মাঝে ঝাঁকুনি সামলাতে তার  শ্বাস নেওয়াই কষ্টকর হয়ে পড়ছিল। বেপরোয়া চালনোয় ট্রেনটা অনেক বেশি গতিতে ছুটছে, আর ঝাঁকুনিও লাগছে অনেক বেশি জোরে জোরে। বাঁক নেবার সময় কখনও কখনও ফ্লাটকারটা লাফিয়ে লাফিয়ে উঠছে। তখন পাটাতনে বসে থাকা রীতিমত কষ্টের। সে এক নরকযন্ত্রণা। কোরা যখন জাদুঘরে কাজ করত তখন সাগরের ঢেউয়ে জাহাজ কেমন উলোটপালোট দোলে তা দেখেছে। এ ট্রেনে কোচের অবস্থাও অনেকটা সে রকম।  কোন রকমেই যখন সামলানো যাচ্ছে না তখন শক্ত করে মেঝে খামচে ধরে সে উপুড় হয়ে শুয়ে রইল।

“খুব কষ্ট হচ্ছে?” পিছন ফিরে সে কোরার কাছে জানতে চাইল। তখনও তারা টানেলের মধ্যে। স্টেশন এখনও দেখা যাচ্ছে না।

কপালের ঘাম আর কালিঝুলি মুছে সে কোরাকে বলল, “আমরা প্রায় অর্ধেক পথ এসেছি। কিন্তু পা দুটো একটু মেলে নেওয়া দরকার। আড়ষ্ট হয়ে যাচ্ছে।” এ কথা বলে বয়লারের একটু দূরে সে শুয়ে পড়ল।

এতক্ষণেও কোরা জানতে চায়নি যে, তারা কোথায় যাচ্ছে।  (চলবে)

 

আমিরুল আলম খান 

জন্ম যশোর জেলার ভারতীয় সীমান্তলগ্ন শিববাস গ্রামে ১৩৫৮ বঙ্গাব্দের ১৫ই অগ্রহায়ণ।
পড়েছেন এবং পড়িয়েছেন ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য। এরপর মাধ্যমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণে যুক্ত থেকেছেন। যশোর শিক্ষা বোর্ডে প্রথমে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পরে চেয়ারম্যান ছিলেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি অপেশাদার সাংবাদিকতায় যুক্ত গত পাঁচ দশক ধরে। ইংরেজি দৈনিকে নিউ নেশান-এ প্রায় এক দশক সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করেন। দৈনিক ইত্তেফাক, প্রথম আলো, সমকাল, বণিক বার্তায় কলাম লেখেন।

গ্রামীণ পাঠাগার আন্দোলনে যুক্ত হয়ে বাংলাদেশে গ্রামোন্নয়নের নতুন মডেল ডিহি ইউনিয়ন পাবলিক লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করেন। দেশের প্রাচীনতম এবং বৃহত্তম গণপাঠাগার যশোর পাবলিক লাইব্রেরির সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

শিক্ষা, ভাষা, প্রকৃতি, কৃষি, বাস্তুসংস্থানবিদ্যায় আগ্রহী। এসব নিয়েই তার বই: বাঙলার ফল, অরণ্যের পদাবলী, পারুলের সন্ধানে, কপোতাক্ষ-মধুমতীর তীর থেকে, বিপর্যস্ত ভৈরব অববাহিকা, পারুল বিতর্ক, বাংলাদেশের শিক্ষার স্বরূপ সন্ধান এবং বিদ্যাবাণিজ্যের রাজনৈতিক-অর্থনীতি।

তাঁর অনুবাদগ্রন্থ: আফ্রিকান-আমেরিকান উপন্যাস দি স্লেভ গার্ল। হ্যারিয়েট অ্যান জেকব রচিত এই আত্মজৈবনিক উপন্যাসটি বোস্টন থেকে প্রকাশিত হয় ইনসিডেন্টস ইন দ্য লাইফ অব এ স্লেভ গার্ল শিরোনামে, ১৮৬১ সালে।

 

Facebook Comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।