টোমাস ট্রান্সট্রোমারের কবিতা

অনুবাদ: জুয়েল মাজহার আবহ চিত্র পিঠে মরীচিকার ডানা।–এই নিয়ে অক্টোবরের সাগর তুলছে তার ঠাণ্ডা ঝলক নৌকা-দৌড়ের সেই ঝিমধরা স্মৃতিকে উসকে দেবার মতো অবশিষ্ট কিছু আর নেই গ্রামের উপরে হলুদাভা আর ওই ধ্বনিপুঞ্জ ধীরে উড়ে যায় কুকুরের ঘেউ এক গূঢ়লিপি আঁকা আছে বাগানের উপরে হাওয়ায় গাছকে …

কাব্যনাটক: পদস্খলনের পর

যোবায়ের শাওন দরজা খোলা ও বন্ধ হওয়ার মতো শব্দ হতে থাকবে। কিছু শ্লোগান ভেসে আসবে। জিকিরের মতো শব্দ শ্লোগানের শব্দ ছাপিয়ে যাবে। যে কোনো খেলায় সমর্থকরা যেমন চিৎকার করে তেমন শব্দ সব ছাপিয়ে প্রকট হবে। আবার’ দরজা খোলা ও বন্ধ হওয়ার মতো শব্দ হতে থাকবে। …

দুটি কবিতা

সাখাওয়াত টিপু মায়াবি খোলস কে কোন দিকে যাবেন ঋতু বদলাতে বদলাতে তুমি মরতে মরতে যেন কচি কচি পাতা ফোটে কে কে আসিবেন খেতে লিঙ্গ দোলাতে দোলাতে আর তুমি উরু ফাক করে কাটিতেছ ফর্সা তরমুজ যদি নাই আসো তবে হবে অশেষ নাগাদ কারণ দুনিয়ার সবাই ভাগতে …

আঁরি মিশোর কবিতা

বাংলা রূপান্তর: নান্নু মাহবুব [কবি, লেখক, চিত্রকর আঁরি মিশোর জন্ম ১৮৯৯ সালের ২৪ মে বেলজিয়ামের নামিউর শহরে। ১৯ অক্টোবর, ১৯৮৪ সালে প্যারিসে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থগুলির মধ্যে রয়েছে আ  বারবারিয়ান ইন এশিয়া; ডার্কনেস মূভস; মিজরেবল মিরাকল; আ ডিসটান্স; বাই সারপ্রাইজ । প্লুম আঁরি …

সমুদ্র বিষয়ক তিনটি কবিতা

মোশতাক আহমদ ভেবেছিলাম এ এক রোমাঞ্চের চড়ুইভাতি, ছেলেখেলা উড়িয়ে দেয়ার মুড়ি-মুড়কি, তেজপাতা আদতে শেকড়িত, এইবারে বদলে নিলাম ডানা ভাজা ভাজা করলাম পর্বতমালা, সিন্ধু কলংকের খোঁজে পাড়ি দিলাম চাঁদে ভিজিয়েছে সে আমাকে আহিতাগ্নি-জোছনায় সোমরস-হলাহল আনে নি মত্ততা দিয়েছে পরিয়ে ধীবর-মগ্নতার মুকুট বৈরী যানজট কালো ধোঁয়া মানুষের …

তিনটি কবিতা

পরিতোষ হালদার একাকী খনিজ ভুলে গেছি সব। কোন হাতে পাত্র রাখি কোন হাতে সোনার গোলক। ঘনকুয়াশার বনে হাঁটতে হাঁটতে ফিরে গেছে আমার সকাল। তিস্তা-বেগবতী-নিলাক্ষী কত শত নদীর নামে তোমারে ডাকতে গিয়ে প্রাণের শ্রাবণে কখন যে হয়ে গেছি জল। রূপালী শস্যের টানে সাঁই সাঁই উড়ে আসে …

কয়েকটি কবিতা

আলতাফ হোসেন ইউথ্যানাসিয়া ইউথ্যানাসিয়া এসে ঘুরঘুর করল ঘুরঘুর করল একদিন যেমনটা করেছিল কোকানোভা বালগেরিয়ার খসরু-র ফিল্মোৎসবে একদাসমাজতন্ত্রে তুমিও বাসিনী? কোমলাঙ্গ আপেলরঙ আনতনয়না ঘুম জড়িয়ে ধরবে কি ঘর্ঘর ঘর্ঘর শব্দ। ট্রাক থেকে নেমে এল মার্সি কিলিং   প্রত্যেক রাতকে প্রত্যেক রাতকে ভাবি শেষ রাত কুকুররা ডাকছে …

আরব্য উপনিবেশে

খালেদ হামিদী জবান আরবি না, অথচ মুসলিম! কেন!! এ প্রশ্নেই উপনিবেশিতের অমোচনীয় গ্লানি এখনো স্মৃতি থেকে স্বদেশে বয়ে আনি। আরব মনিবের চকিত গর্জন অবিস্মরণীয় হলেও গে এরাব ক্লাবের নানামুখ শিশ্ন-নিতম্বপ্রধান হাসি ছুঁড়ে খুলেই ওয়ালেট রিয়াল দেখাতেই আমার রিরংসা পেরোয় প্রভুত্ব। তাতেও লাভ কই? জেব্রা ক্রসিংয়েও …

নৌকা বিষয়ক একগুচ্ছ কবিতা

শিবলি সাদিক নৌকা-১ তারার আলোর নিচে নৌকার ছইয়ে শুয়ে মনে হল এই সন্ধ্যা ততটা নিকটবর্তী নয়, যেমন নিকটবর্তী নয় নরম তারকারা। নদীজলে তারকাদের ভাষা নেচে ঢেউয়ে ঢেউয়ে উপচায়, আর ক্রমে গ্রাস করে লোকালয়। ভাবি, এই আক্রমণে, এই নাচঘরে রাতভর বসে আমি দেখতে পাব কি অমাজল, …

বালিঘড়ি

মিতুল দত্ত এক. পরিত্রাণহীন ট্রেনে আমাদের ছোট্ট জানাশোনা শেষ হয়ে এল দ্রুত, রুক্ষতাসর্বস্ব দেশ মেলে ধরলো জবুথবু নদী হাওয়া উড়ে গেল মৃদু উড়ে গেল রঙিন কাঁচুলি ছোট স্টেশনের নাম, যাতায়াতে পড়ে রইল শুধু দুই. কোথাও মাজার নেই, দু’পাশে ছড়ানো শুধু বালি তবু যেন ছায়া কেউ …

মাছরাঙা পাখির সফর

সেলিম রেজা নিউটন সুস্মিতা চক্রবর্তী: ওগো চক্রযান, তোমার চাকায় মম প্রাণ   এক। দূরের থেকে দূরের দিকে এখনো তুই কোথায় বটে বেঁচে আছিস দু-এক ফালি- এখনো তাই কামিনী ফোটে, গন্ধে ভরে তোমার ডালি। এখনো চাঁদ নিখোঁজ হলে হারায়ে তারে মেঘের রঙে খুঁজতে থাকো বিরহানলে তৃষ্ণাবারি …

ও মাইয়া মোঁরে…

শামসেত তাবরেজী লে হালুয়া, তকদির আমার গণতন্ত্রময় আর বটে লোহার গরমে অভিজ্ঞান বসন্ত হয়েছে ছেঁড়া স্ট্র্যাপস চপ্পলের তবু হাঁটা হল ৮-১০কিমি যেখানে ধনচের ফুল ইয়ে মাখছিল সংগঠনের মুখে এবং আমরাও একবার…, যেহেতু শিক্ষা হয় দেখে, ভালবেসে লে হালুয়া, কত ভোট এলোগেলো কত মস্তানির বারুদ উড়ল …

প্রার্থনা: মুখতার মাইএর জন্যে

অংকুর সাহা তোমার ছিল দুখের সংসার সূর্য-রাগী, আগুনভরা তেজ; তোমার পায়ে পাথুরে রুখো মাটি কান্না, ঘাম, খিদের সংশ্লেষ। সমাজ তোমার আদতে পুরুষালি, রমণী হীন, দ্বিতীয় শ্রেণী, পণ্য; হেঁসেল, আঁতুড়, প্রহার, সহবাস সমতা কবে আসবে তোমার জন্যে। গ্রামের উঠোন, গেরস্থালি, ঘর কৃষিকর্ম দুপর বেলায় মাঠে; তালাক …

দুটি কবিতা

তালাশ তালুকদার তরমুজের কর্মকাণ্ড ঐ টাট্টুঘোড়ারা এমনই সৃষ্টিছাড়া শ্লেটে রসাত্মক বাক্য লেখে। অবসরে হাবিলদারের মতো অনাত্মীয় গন্ধ পেলে দূর দূর করে তাড়িয়ে বেড়ায়! তবুও কেমন সুখী ওরা বেডরুমে কাঁচা কাপড় সরিয়ে ষ্পষ্ট জবাফুল; পাকা পেঁপের মতন দু’পায়ের ফাঁকে ভর করে থাকে। যেন অনায়াস ঝর্ণা; নিম্নমুখী …

ফকির ইলিয়াস- এর কবিতা

গল্পের শিল্পকথা আমার গল্প নিয়ে তুমি যে শিল্পচিত্র আঁকতে চেয়েছিলে তাতে চন্দ্রের কোনো ছবি থাকবে না সেকথা আমি তোমাকে জানিয়েছিলাম। বলেছিলাম, এ আকাশ আমার নয় – তাই তার সমস্ত বৈভব আর আলোর তালুক, আমাদের দূরত্বের ছায়া হয়েই থেকে যাক। প্রদর্শিত ভোরের দক্ষিণে প্রেমের সেতুবন্ধন হোক …

চৈতালী চট্টোপাধ্যায়-এর দুটি কবিতা

কফিশপ তোমার চুমুর পাশে আমার চুমুক অসম্ভব ঠাণ্ডা লাগে,লাগবেই। এক্সট্রা ক্রিমের ছাদে বরফের কুচিগুলি পাখনা উঁচিয়ে দেয় ঠোঁট পাবে বলে। এখানে যৌবন বাঁধা পড়ে আছে। এইখান থেকে যদি এক-পা বাড়াই, আবার বাইফোকাল, আবার বলিরেখাসব, বাসরাস্তার ভিড়ে লাট খেতে-খেতে আবার ঘামের মধ্যে ঘাম, মিশে যাই। তোমার …

টোমাজ ট্রান্সট্রোমার-এর তিনটি কবিতা

অনুবাদ: কল্যাণী রমা অক্টোবর-এ আঁকা ছবি জাহাজ টেনে নেওয়ার ছোট নৌকাটার গায়ে ছোপ ছোপ মরচের দাগ। সমুদ্র থেকে এ-ত দূরে কেন নৌকা? এ যেন ঠাণ্ডার ভিতর এক নিভে যাওয়া বাতি। তবু গাছের গায়ে বুনো রঙ: অন্য পাড়ের হাতছানি। হয়তো কেউ চেয়েছিল, হয়তো কোথাও ভেসে যাবে। …

শিবলি সাদিক-এর একগুচ্ছ কবিতা

স্মৃতি জলাশয়ে মাছ হয়ে তোমার স্মৃতির মধ্যে ডুবে আছি। এইভাবে আজ আমি বেঁচে আছি। ইতিহাসের বাইরে। গাছ বা পাথর হয়ে। যখন প্রথম দেখা আমাদের, তখন মগজে ছিল মাছের কুসুম, শিখি নাই কোনো ভাষা, দেহ ছিল আমাদের সকল যোগাযোগের, বোঝাপড়ার মাধ্যম। পাখিদের ডিমে জায়মান হয়ে, রংধনুর …

কবিতাগুচ্ছ

সৈয়দ তারিক ১. সুরুচিস্নিগ্ধ পোশাকে আবৃত ভেতরে সমূহ নগ্ন উদ্দাম স্রোতে ভাসছিলো মন ওপরে যদিও মগ্ন। নিস্পৃহ ছিলো যদিও আঙুল আত্মায় ছিলো তৃষ্ণা, একবার বলি, ‘নে টেনে দুহাতে,’ একবার বলি,’নিস না।’ ২. এই ভাবি, পা সামনে আগাই এই মনে ভয় চমক দেয় এই বলি, ‘আয় …

আরব বিপ্লবের কবি তামিম আল-বারঘুতি

অনুবাদ: মলয় রায়চৌধুরী [মিশরের তাহরির স্কোয়ারে যাঁর কবিতা বার-বার পঠিত হয়েছে, এবং পরে অন্যান্য আরব দেশগুলোর গণবিপ্লবে যাঁর কবিতা পড়া হয়েছে, তিনি তামিম আল-বারঘুতি। তামিম-এর জন্ম কায়রোতে, ১৯৭৭ সালে। তাঁর বাবা ছিলেন প্যালেস্টিনীয় কবি মুরিদ বারঘুতি এবং মা নামকরা ঔপন্যাসিক মিশরীয় নাগরিক রাদওয়া আশুর। এ-পর্যন্ত …

তেলের ছড়া

সনতোষ বড়ুয়া খেল চলছে খেল ভিন দেশীরা নিচ্ছে কেড়ে বাংলাদেশের তেল । কারা খেলায় খেল ? গদির মায়ায় যারা ফাটায় টেকো মাথায় বেল । জানিস কিছু তুই ? কারা এসে নিচ্ছে কেড়ে গোলাপ- জবা- জুঁই । হায়রে সোনার দেশ যেতে যেতে সব গিয়েছে কোথায় অবশেষ …

রবীন্দ্রনাথের জন্মের দেড়শো বছর স্মরণ: বাংলা ভাষা

মাসুদ খান [তাঁর হাতে গড়া এই আধুনিক বাংলা ভাষা। একে আরো বিকশিত করে তুলবেন, আরো উৎকর্ষের দিকে নিয়ে যাবেন ভবিষ্যতের প্রতিভাগণ—এ ছিল তাঁর আশা ও বিশ্বাস। তিনি জানতেন-ভাষা বহতা নদীর মতো। বহমানতা আর বদলে বদলে যাওয়ার মধ্যেই নিহিত এর শক্তি ও সম্ভাবনা।… রবীন্দ্রনাথ, সেই মহোচ্চ …

পশ্চিমবঙ্গের তিনজন কবি’র কাব্য-সমালোচনা

ইমরুল হাসান ‘পৃথিবীতে আজ আর হয় নাই কোনো ভাত রান্না’ — এই কথা শুইনাই বিনয় মজুমদার কইলেন, ‘ফাইজলামি করো, মিয়া! আর আমারে নিয়া কেন এত টানাটানি? আমি ত নির্বিবাদী, তথাপি গণিতজ্ঞ এবং গায়ত্রীরে ভালবাসি, এবং ভালবাসি বলেই আমি রেললাইনের ধার দিয়া হাঁটি চা’য়ের দোকানে গিয়া …

দুটি কবিতা

রেজাউদ্দিন স্টালিন ভাস্কর্য এমন একটা জায়গায় এসে আরজ আলী দাঁড়িয়েছে সে জায়গাটার নাম দ্বন্দ্ব। জায়গাটা জ্যামিতিক হিসাবে বিন্দু কল্পনায় বৃত্ত । আরজ আলী ইচ্ছে করলে ফিরতে পারে— বাড়ির দিকে। আর না ফিরতে চাইলে দিগন্তের পর দিগন্ত কিংবা নীলের পরে নীল অথবা নদীর পর নদী। এরপর …

মজনু শাহ-এর তিনটি কবিতা

অস্তিত্ব অস্তিত্বের রঙ কী– মাঝে মাঝে ভাবি। যেমন কোনো রাজমহিষীকে দেখি নি কখনো, তবু তার মুখের রঙকাহিনি মনে পড়ে। ঐ হাবা অরণ্যের পাশে, চুম্বকের বিছানাই আমার সব। রাত্রিবেলা, প্রান্তরে, দেখা দেয় মহাজাগতিক ডিম। হারেমের রূপসীরা সেই দিকে দৌড়াতে থাকে। সবাই রঙ পেয়েছে, রসিকতাও। কেবল এই …

অস্পৃশ্য

ইকবাল আজিজ দাঁড়িয়েছিলে সকাল থেকে পথের ধারে– তোমায় কেউ ছোঁয়নি কোন রানী। তুমি একাই টানলে ব্যথার ঘানি তোমায় নিয়ে কেবল কানাকানি। দাঁড়িয়েছিলে সকাল থেকে পথের ধারে পড়েছিলো কি ভূতের ছায়া তোমার ঘাড়ে তোমায় তাই ছোঁয়নি কোন পরী। তারা সবাই চললো তাড়াতাড়ি তারা শধুই দেখলো কালের …

স্মৃতিলেখা

আর্যনীল মুখোপাধ্যায়   কথা বলতে শিখে সে ক্রমশ পারলো বুঝতে পারলো প্রতিনিয়তের এই ভাষা তার ঘ্রাণেন্দ্রিয়ের মাধ্যমে যে তীব্র নিদারুণ বহতা অভিজ্ঞতা জমা হচ্ছে প্রতিদিন তার কথা বলতে পারেনা সেসব কথা বলার মতো লিঙ্গ শেকড় মোচড় বা রেনল্ডস নাম্বার কথার ভাষায় নেই যেখানে রাতের সকল …

সেইসব চেয়ে দেখা: গদ্যপদ্য কোলাজ

ফেরদৌস নাহার আনমনা  হাঁটতে হাঁটতে চলে গিয়েছিলাম বেশ খানিকটা দূরে।  আকাশের খোলা দেয়াল বেয়ে নীলরঙ চুইয়ে পড়ছে। অন্টারিও লেকের জলে তার ছায়া পড়ে পুরো দৃশ্যটাকে একেবারে পার্শিয়ান ব্লু করে দিয়েছে। এই জায়গাটার নাম গিল্ডউড পার্কওয়ে,যার পাশ ঘেষে যেতে যেতে শোনা যায় বয়ে যাওয়া স্রোতস্বিনী লেক …

Back to Top