মাসুদ খান-এর গানের লিরিক: পর্ব-২

গীতি ৫. বহুকাল পরে তীর্থ বসেছে দূরে আলো জ্বলে আজ ওই দ্যাখো ওই উজ্জ্বল রূপপুরে ।। মন যেতে চায়, আহা কীভাবে যে যাই! ঠিকানা জানি না, পথও চিনি না, হায় শেষ নৌকাটি সেও গেছে ছেড়ে কোথায় যে কোন্ দূরে! আলো জ্বলে আজ ওই দ্যাখো ওই …

নিসর্গ সিরিজ ২

শিবলী সাদিক ল্যান্ডস্কেপ সৌন্দর্য যে এক প্রকার আয়না আগে বুঝি নাই, জলে ঢোলকলমির কাব্য পাঠ করে আমি ক্রমে অন্ধ হয়ে পড়ি। বুঝতে পারছি পাতার আড়ালে সব গান যে লুকিয়ে রাখে জলপিপি, ফলে ল্যান্ডস্কেপ করা সম্ভবই নয়। পাতা বুঝতে গেলে গান আর তার অদৃশ্য রং তো …

কবিতা: যেভাবে বৃষ্টির বন্ধু মেঘের নিকট নিরুপায় আশ্রয় প্রার্থনা করল

জহির হাসান   আমার বন্ধু আমায় কেন তবু বৃষ্টি বলে ডাকে আমার ঘরের জানলা দিয়া তাকাই বহুত দূর তাহার চোখে আমি একটা পচা কুমড়া ফুল তাহার চোখে এই মহল্লার একটা ভিজা কুকুর রাস্তার উপর মুরগি খোজে কে গো দিনের বেলা আপনা ঘরে পোষা মুরগা থুইয়া …

ধা রা বা হি ক আত্মজীবনী: মায়াপারাবার (পর্ব-২)

পাপড়ি রহমান আব্বাকে নিয়ে ভিন্ন হতে চাই রোজের গরুর দুধ আমাকে বেশ ভরসা দিত। বাসায় আর কোনো খাবার না থাক দুধটা যে থাকবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত ছিলাম।অথচ দুধের যে দাম দিতে হয়-মাস কাবারে আব্বাকে এক থোক টাকা গুনতে হয়, এ নিয়ে কিন্তু আমার ভাবনা হয়নি!বা …

শামসেত তাবরেজীর দুটি কবিতা

নীল নদের তীরে আয় দেখে যা না কোবাল্ট ব্লু-এর উচ্ছ্বাস কোজাগরী এই রাত্রে, একে অপরের দায় নিয়ে এক নিঃশ্বাস বুভোয়াঁ এবং সার্ত্রে। কোমলে রেখাবে মিশেছে যেখানে চুম্বন অস্তিবাদের শর্তে, নাকি বৃথা গেল যুক্তির এ-আলিঙ্গন পশ্চিম খোড়া গর্তে। পিঙ্গল ঢেউয়ে কখনো সাদার সংস্কার কায়রো লভিল টংকা, …

মাসুদ খান-এর গানের লিরিক: পর্ব-১

গীতি ১. দেহখানা এই দেহ নয় ঠিক, শুধু সন্দেহ, ঘোর নেশা আজব ভাণ্ড, কীর্তিকাণ্ড, ভাণ্ডটা খুব পর-ঘেঁষা ।। আগুনকে বশ করছে পবন পবনকে বশ করে কোন্ জন? তরলে বায়ুর শাসন মণিতে আয়ুর আসন, অন্বেষা… আজব ভাণ্ড, কীর্তিকাণ্ড, ভাণ্ডটা খুব পর-ঘেঁষা ।। মাটি ও লবণ, দুজনেই …

ধা রা বা হি ক আত্মজীবনী: মায়াপারাবার

পাপড়ি রহমান  পর্ব-১ মলিনও হয়েছে ঘুমে চোখের কাজল রাতের অন্ধকার ছিল তুমুল। আর ছিল উষ্ণতা। মাঘের শীতে নরম লেপের তলায় যে উষ্ণতা থাকে,তেমন উষ্ণতা। এই উষ্ণতা আমি চিনেছিলাম আব্বার দুটি হাত থেকে। তাঁর হাত ও বুক জুড়ে ছিল উপচে ওঠা স্নেহ। আমার একেবার ধোঁয়া ধোঁয়া …

ধা রা বা হি ক উ প ন্যা স: কালের নায়ক (পর্ব-২)

পর্ব-১ গাজী তানজিয়া হেদায়েত আলী কি ভেবেছিলেন কে জানে! তিনি ছেলেকে হিন্দু হোস্টেলে ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নিলেন। তার কথার ওপর কথা বলার সাহস বাড়িতে কারো নাই, তাই ছফা একদিন ভোর বেলা তল্পি-তল্পা সহ বাবার হাত ধরে স্কুলের হিন্দু হোস্টেলে পৌঁছে গেল। এদিকে বাড়িতে সবাই হতাশ। …

কবিতা: তাবরেজীর সাথে একটি বিকেল

নান্নু মাহবুব   বেলতলার রাস্তায় বেরিয়েই তাবরেজীর সাথে দেখা। গাঢ় হলদে ছাপা শার্ট গায়ে তাবরেজীও দেখি বিকেলে হাঁটতে বেরিয়েছেন। আমি তাঁকে ধরে আমাদের বাড়ি নিয়ে আসি। আমাদের বাড়িটা অন্ধকার-অন্ধকার, খাট-টেবিল বাচ্চা-কাচ্চা কাপড়-চোপড় হৈচৈ’এ ঠাসা। তাবরেজী অর্ধেক-করে-কাটা মিষ্টির একটা মুখে দেন। স্বপ্নাকে বলি তাবরেজীকে সে চেনে …

বিনয় ভেসে গেছে কুমারগাঙে

মাসুদা ভাট্টি   বিনয় মজুমদারের সঙ্গে পরিচয় হয় একটি ছোট্ট চিরকূটের মাধ্যমে, যাতে লেখা ছিল: “একটি উজ্জ্বল মাছ একবার উড়ে দৃশ্যত সুনীল কিন্তু প্রকৃত প্রস্তাবে স্বচ্ছ জলে পুনরায় ডুবে গেলো – এই স্মিত দৃশ্য দেখে নিয়ে বেদনার গাঢ় রসে আপক্ক রক্তিম হ’লো ফল …” এই …

নিসর্গ সিরিজ ১

শিবলী সাদিক   বিদূষকের কথা বৃষ্টির পরে এখন সব শান্ত হয়ে এল, গাছের থেকে সুন্দর নেমে এল। জানি সব নাচ দেখা হয়ে গেছে, শাড়ির গোপন ভাঁজ দেখে কবি চলে গেছে। তাহলে সুন্দর কী দেখাবে? মঞ্চের বাইরে কী কিছু ঘটবে? বিদূষক হেসে বলে- নাচ দেখা শেষ, …

ঈভলিনের শহর ও অন্যান্য সম্পর্কগুলি

আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ   জগিং সোনার পাতা গুঁড়িয়ে দেবার মুহূর্তে পৃথিবীতে জলের ধারণা হলো। সেই ভরসায় তোমার চোখ থেকে চুলে তাকালাম। এই প্রথম উড়তে উড়তে নাম না-জানা পাহাড়ে পাখি হয়ে আছো। মেঘ থেকে মেঘে ঠোঁট দিয়ে খুঁচিয়ে জড়ো করে রাখছো বরফ হয়ে থাকা জলগুলি।   …

ধা রা বা হি ক উ প ন্যা স: কালের নায়ক (পর্ব-১)

গাজী তানজিয়া Scattering unbeholden Its aerial hue – P.B. Shelley ছড়িয়ে আছে না দেখা তার বায়বীয় রঙ। – পি. বি. শেলী   ১ বারুইয়ার বাড়ির কাচারীঘরে মুখ কালো করে বসে আছেন কালী মন্দিরের প্রধান পুরোহিত। তাকে দেখে ঠিক বোঝা যাচ্ছে না তিনি অভিযুক্ত না কি …

তমিজ উদদীন লোদীর কবিতা

বালিকারা ফিরবেনা এখানে বালিকারা ফিরেনি এখানে ধোঁয়া-গন্ধে আচ্ছন্ন তারা আর ফিরবেনা কখনো। ধোঁয়ার আড়ালে আগুন ক্রমশ লেলিহান শিখাসহ বলকে উঠছে দেখো; তারও আগে বালিকারা দেখেছে চাঁদ ডুবে গেছে আ্যশশ্যাওড়া-ঢালা জলে। বালিকারা দেখেছে নীল আতংকের রূপ- অন্ধ কারাবাস। হাইমেন ছুঁয়েছে বল্লম– অনিচ্ছুক যৌনতার ত্রাস। বালিকারা দৌড়চ্ছে …

আমার পরী, রাজপুত্র তোমার

মঈন চৌধুরী ফেসবুকে আমার ১৮ বছর বয়সে লেখা একটি কবিতা পোস্ট করেছিলাম। কবিতাটির শিরোনাম ছিল–“এ কেমন ভালবাশা ?” প্রমা নামের একটি মেয়ের উল্লেখ ছিল কবিতার শেষ স্তবকে। শেষ স্তবকটি ছিল: প্রমা, তুমি কেমন ভালবাস? অন্তরে বাস ফুলের সুবাস প্রকাশ করনিতো জীবন আঁকার তুলি ধরে রঙ …

ইউ জী কৃষ্ণমূর্তির সাথে কথোপকথন: ৯

ইউ. জী. কৃষ্ণমূর্তির সাথে কথোপকথন: ১ ।। ইউ. জী. কৃষ্ণমূর্তির সাথে কথোপকথন: ২ ।। ইউ. জী. কৃষ্ণমূর্তির সাথে কথোপকথন: ৩ ।। ইউ. জী. কৃষ্ণমূর্তির সাথে কথোপকথন: ৪।। ইউ. জী. কৃষ্ণমূর্তির সাথে কথোপকথন: ৫ ।। ইউ.জী. কৃষ্ণমূর্তির সাথে কথোপকথন: ৬ ।। ইউ.জী. কৃষ্ণমূর্তির সাথে কথোপকথন: ৭ ।। …

গোলাম কিবরিয়া পিনু’র কবিতা

ভ্রমণকালে   ভ্রমণকালে ভূখণ্ড আরো খণ্ড খণ্ড অনুভবে আসে, চিরহরিৎ মিঠেপাতার বৃক্ষ সবুজের ঘাসে। অন্ধকার ঢাকা গুপ্তস্থান সেইখানে বিদ্যুতের গান, বৈদ্যুতিক গোলযোগ নেই–শুধু বিদ্যুৎ চমকায়। গরম কেতলি ধরার বস্ত্রখণ্ড নাই তরুগুল্মাবৃত ছায়ামগ্ন উপত্যকা খুঁজে পাই। ভ্রমণসৃজনে শীতকাল ও মেরুঅঞ্চল মৌন বুনোফল নিয়ে বিজুবনে গৃহকাতরতা গৌণ। …

সহসাই খুলে গেল

অদিতি ফাল্গুনী   ক. সহসাই খুলে গেল নিরুদ্ধ অর্গল এই গোপন জানালা প্রকাশিত হল নভোনীল অন্তরীক্ষ; মহাবিশ্ব সংবাদ… বলো, কীভাবে জেনেছিলে লুপ্ত অভিপ্রায়? জেনেছিলে মোহন পাতার ঝড়… আমার লুকনো বেদনা সেসকল হারানো স্বরলিপি… যা কিছু মাটির গভীরে পুঁতে রেখেছিল এই ভীরু মেয়ে তোমারই জন্য… সেই …

‘শামসুর রাহমানের কোনো বন্ধু ছিল না যারা ছিল তারা সবাই স্তাবক’

সাক্ষাৎকার: আবদুল মান্নান সৈয়দ _____________________ ৫ সেপ্টম্বর ছিল আব্দুল মান্নান সৈয়দের মৃত্যুবার্ষিকী। একাধারে কবি-প্রাবন্ধিক ও গল্পকার তিনি। সকল শাখাতেই সমান পারদর্শী। প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘জন্মান্ধ কবিতাগুচ্ছ’ প্রকাশের মধ্য দিয়েই পাঠকমহলে জানান দিয়ে রাখেন, এদেশের সাহিত্যে তিনি একটা পাকাপাকি আসন গড়তেই এসেছেন। এরপর তাঁর প্রবন্ধগ্রন্থ ‘শুদ্ধতম কবি’, দেশের …

মান্নান সৈয়দের গল্প: সাপ-ব্যাঙই মুখ্য নয়

মাজুল হাসান কোনো এক জায়গায় আব্দুল মান্নান সৈয়দ বলেছিলেন: আধুনিকতা নয়; পশ্চিমবঙ্গের দাদাবাবুরা আমাদের এপারেরর গল্পে সাপ-ব্যাঙ-কুঁচে দেখতে চান। জানি না কোন খেদ থেকে এসব বলেছিলেন মান্নান সৈয়দ তবে একথা নিশ্চিত তার অনেক গল্পই পূর্ববঙ্গের সেই গদবাঁধা বুনো, আদিমতা ও লতা-পাতা ভরা (আনস্মার্ট! গেঁয়ো) বর্ণনার …

শিবলি সাদিকের দীর্ঘ কবিতা

পদ্মপুকুর   ১ যদি পদ্মপুকুরে নামতে পারি তুলে নেব সব রং আর বর্ণলিপি পদ্ম হয়ে তাবৎ বিকাশ সেথা জ্বলে তার রং আর রূপ তাই এত অপরূপ দেশ-কাল জলে থর থর কাঁপে শোভায় মরণ হলে এই ঘাটে স্তব্ধ হয়ে অন্ধ হয়ে সব বাক্য ধরে বাকহীন হয়ে …

ফেরদৌস নাহার-এর তিনটি কবিতা

জাদুর বাক্সে ঘর সারাদিন জ্বর জ্বর   জাদুর বাক্স হাতে হেঁটে যায়,কে যায়? মানুষের অদ্ভুত দুটি পা হেঁটে যায়, বাক্সে যায় তার সাথে ধুলোর সংসার। কত কবি নিয়েছে বিদায় পৃথিবীর কোলাহলে কত কবি করেছে অভিমান তাদের খবর আছে জাদুর বাক্সে ভরা গুচ্ছগুচ্ছ অযুথ সংবাদ… জন্মান্তর ঘুরে …

কবিতা: ব্লেডলিখিত সত্তাচিহ্ন

শুভ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ১ চিরকাল ডিসেম্বরতাড়িত আমি ফেলে এসেছি ধারালো সুরের মধ্যে মাথা ও নির্ধারণ কোথায় সনেট থাকে? শান্তিপূর্ণ  দূরত্ব ভাষার শরীরে কি আমাদের বসবাস ছিল? রাস্তা জড়িয়ে যায় বালিকার ধূসর ফিতে ইশকুল ফেরত মাথা নামিয়ে রেখেছে এপাড়া তোর ছিল কোনওদিন? এই গলি আশ্রয়প্রবণ শক্ত ভিত …

কবিতা: এক স্লাইস ঈদ

শামীম আজাদ   নতুনজামাটা নামাতেই হ্যাঙ্গারের হাড়ে হাড়ে কি নরম হাসি দিনতো গিয়াছে দূর্বার আমার তরকারি হাতে তখনো ঈদের সুগন্ধী সেমাই প্লেটে প্লেটে ফটোগ্রাফ দরজা দাঁড়িয়ে একা খিল খিল পা থেকে প্লাস্টিক এক দুই পাঁচ জোড়ায় জোড়ায় গ্লাসে গ্লাসে সহস্র সুষ্রুসা এন্টাসিড বিকেলে ব্রা ভরা …

মলয় রায়চৌধুরীর প্রহসন: ভরসন্ধ্যা

[একটি কদমগাছ ছেয়ে আছে ফুলে ; গাছটির চারিপাশে উবু হয়ে বসে উনত্রিশজন বুড়োবুড়ি আর জনা ছয় যুবক-যুবতী । সকলেই তারা ওপরে তাকিয়ে আছে কদম গাছের পানে ; বোঝা যায় তারা অপেক্ষা করছে গাছটির অন্ধকার থেকে একজন অতিমানুষের আগমন । লোকগুলো এসেছে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এ-আশায় …

মঈন চৌধুরীর কবিতা

যতিচিহ্নের সুখ সত্য ও মিথ্যাকে খুঁজে একদিন চিহ্নকে পাওয়া গেল, যতিচিহ্ন, সমস্ত সমস্যার সমাধান। তারপর নৈশব্দের আলোড়নে জেগে ওঠে দ্বীপ, জল গড়িয়ে মিশে যায় সমুদ্রমহলে। ওখানে শব্দহীন মাছ, লাল রঙের সবুজ শ্যাওলা, বেগুনি রঙের হলুদাভ নীল আর তারপর আলোও নেই অন্ধকারও নেই। দেশকালহীন এই ক্লীব …

নাহার মনিকার কবিতা

সকলি আয়ান ঘোষ, কেউ কেউ রাধা ১ ছিটমহলের বুকে মধুভাণ্ড নিয়ে নদী কথা বলে ওঠে চোখের সামনে ভাসে মমীদের শরীরের বাঁক। তোমাকেও অমাবস্যা পাক, অন্ধকারে নদীকে জড়াও পানিপোকা হয়ে নেমে যাও, রত হও মূর্ছা যাও স্নানের বিরহে। পানির শরীরে গুজে প্রলম্বিত কাঁধ তারপর জেগে ওঠো …

জুয়েল মাজহার-এর কবিতা

রুবিকন   আমার সামনে এক রুবিকন, পুলসিরাত, ভয়ানক ক্রুর অমানিশা এর সামনে একা আমি; কিস্তিহীন, নিরশ্ব, রসদহীন পিগমিদের চেয়ে ছোটো আমি! আর আমার ভাঙা হাড়, থ্যাঁতলানো খর্বকায় দেহের ভেতরে যতো রক্ত-পিত্ত-কফ-থুথু-বীর্য-লালা সবই অসীম বরফে-হিমে গ্রানিটের মতো ক্রমে হতেছে জমাট; আর ওই থেকে-থেকে ফুঁসন্ত ব্লিজার্ড এক, …

Back to Top