অনুবাদ কবিতা: মাতাল তরণি

অনুবাদ: আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ   অসাড় নদীর ভেতরে ঢুবে যাওয়ার সময় আমি আর টের পাইনি আমাকে টানছে কোনো বাঁধন উজ্জল লাল চামড়া নিয়ে গেছে বণিকদের লক্ষ্যে রঙিন কাঠের খুঁটিতে গেঁথে তাদের নগ্ন। আমি উদাসীন আমার নাবিকদের প্রতি যারা বহন করছিল ফ্লেমিশ গম বা ইংলিশ তুলো …

শিবলি সাদিকের কবিতা

কন্যার সাথে খেলা আমার শিশুকন্যার সাথে খেলার নেশায় সাত তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরি, শহরের মেট্রো, বাস, বাতিস্তম্ভ— সকলেই জানে শিশুকন্যাটিই শুধু এসবের খবর রাখে না আমাদের খেলার নিয়ম খুব ঠিক করা নাই, তবে হামাগুড়ি দিয়ে শুরু হলে সবচেয়ে মজা হয়, কারণ হামাগুড়ি দিয়ে এমন সব সুর …

দুটি কবিতা

মজনু শাহ   ঘুঘু ঘুঘুদের ডাক শোনামাত্র আমার মাথা শয়তানি চিন্তায় ভরে ওঠে। তুমিও কম বজ্জাত নও, বাজিয়ে দিয়েছ হেমঘণ্টা। কাকাবাবু, আমার কথায় কি আর মৃত তারাগুলো ঝরবে? সাদা রঙ সম্পর্কে গত ছ-সাত বছর প্রায় কিছুই ভাবি নি, রাত্রির আকাশ এখনো নিরক্ষর। সাদা মাকড়শার সঙ্গে …

চারটি কবিতা

সিদ্ধার্থ হক স্বপ্নের জলপান সুগভীর তৃষ্ণা নিয়ে ঘুমিয়ে পড়লে জলপান স্বপ্নে দেখা দেয়। তৃষ্ণা মেটে না তাতে, ঘুম ভেঙ্গে যায়, বেদনায় জলের সকল পাত্র, কেন যেন, অস্পষ্ট নিদ্রায়। যাকে তুমি ছুঁতে চাও স্বপ্ন মধ্যে জলাধার ভেবে ছোঁয়া মাত্র সে-ই দ্রুত অনির্দিষ্ট হয়ে ভেঙ্গে যায় শূন্য …

তিনটি কবিতা

গৌতম চৌধুরী স্পর্শ আসল জাদু— স্পর্শ করায় স্পর্শে ভীষণ রোমাঞ্চ, তাও আড়াল থেকে শিউরে ওঠা বাতাস পাঠায় অপস্মৃতি তার মানে ভয় তেপান্তরের দিকহারানো মাঝদরিয়ার তরঙ্গপথ বজ্রপাতে বিলকুল জল খাক হয়েছে পাঁজর দাঁড়া পুড়তে পুড়তে এখন ধুধু অনন্ত খাদ জোসনা অব্দি ঠিকরে কালো অদ্ভুতুড়ে মহানিমের দীঘল …

যশোধরা রায়চৌধুরীর কবিতা

অন্তর্জলী যাত্রা   ক্রমশ সমস্ত দেহ থেকে জল কাটতে কাটতে মেয়ের হাত পা মাথা সব জলের তলায় তুই শশা নাকি তরমুজ গরমে গলে যেতে লাগলি টাটকা সবুজ পাতাঢাকা বাঁধাকপির মত যাকে তুই চিনতিস বেজায় কম বয়সে আর যার আক্কেল বলতে কিছু ছিল না বলে সবার …

চারটি কবিতা

দারা মাহমুদ স্মৃতিঘর   খোলস ছাড়তে ছাড়তে সে ছুটে যায় দিন আর রাত্রির টানেল বরাবর তার পিছনে ধাওয়া করে তারই ছেড়ে আসা মুখোশগুলো একদিন যাদেরকে নায়িকা ভেবে প্রবল বিভোর ছিল আজ তারা প্রেত হয়ে মেলে ধরে দাঁতের করাত পৃথিবীর এসব বীভৎস ইমেজ থেকে দূরে— কোনো …

পাঁচটি কবিতা

পিয়াস মজিদ       তোমার গিলোটিনে একটানা চব্বিশ বছর ক্রমাগত গোধূলিপাত। সন্ধ্যালহরিও বেঁকেচুরে যায়। সে থেকে থেকে দেখে নিঝুম নদীগুলো দাউ দাউ অগ্নিতে আত্মহত্যা করে। তৃষ্ণার মওসুমে সুরভির কাননে শুধু গরম পানির ঝরনা। লাইটপোস্টে ঘনীভূত অন্ধকারমালা। তারপর বনভূমির সবুজ মোহর এবং কালো কোয়েলিয়া সাথে …

অনুবাদ কবিতা:রেইনার মারিয়া রীল্কের ৩টি কবিতা

অনুবাদ: ওয়ারিসুল আবিদ পূর্বাভাষ আমি পতাকার মত— উন্মুক্ত আর বিশাল স্থান দ্বারা বেষ্টিত, অনুভব করতে থাকি দূর-আগত বাতাসের— আর তারই মাঝে অবশ্যম্ভাবী বসবাসের; যখন অন্য সব কিছু নিজেতে নির্বাক: দরোজাগুলো নিঃশব্দে বন্ধ, চিমনিগুলোতে বিরাজমান নিস্তব্ধতা; জানালাগুলো স্থির, আর ধূলার আস্তরণ ভারি ও গহ্বরের মত কৃষ্ণকায়। …

দুটি কবিতা

আলতাফ হোসেন   ধারাবর্ণন   ধ্বংসের মধ্য দিয়ে যাত্রা উনি আরামসে বলেন আর উট উড়ে যায় সপ্তম শতক থেকে একুশের অন্তিম অবধি এই দ্রুত, এই ধীর, এই মধ্য লয়ে রোদ কিংবা ছায়া আজ অচেনা-যে কেউ তা বলেনি প্রিয় গায়ত্রীর গান সমাপ্ত হতেই স্বর সমবেত : …

স্মৃতিলেখা

আর্যনীল মুখোপাধ্যায় জীবন ও কবিতার মধ্যে একটুকরো কালক্ষয় আছে যাকে কিছুতেই মানা যায় না অথচ বিদ্যুৎ ও বাজ কিন্তু মেনে নিয়েছে বৃত্তকে আমি বাদ দিয়েছি কবিতার যে চোঙা তার দুধার খোলা যে মলিন পানি আসে যায় তার মালিন্যতা প্রধান নয় স্রোতে ভাসা নয় শুধু যাওয়া …

দুটি কবিতা

মাসুদ খান দীক্ষা পথ চলতে আলো লাগে। আমি অন্ধ, আমার লাগে না কিছু। আমি বাঁশপাতার লণ্ঠন হালকা দোলাতে দোলাতে চলে যাব চীনে, জেনমঠে কিংবা চীন-চীনান্ত পেরিয়ে আরো দূরের ভূগোলে,,, ফুলে-ফুলে উথলে-ওঠা স্নিগ্ধ চেরিগাছে মৌমাছির গুঞ্জন শুনব নিষ্ঠ শ্রাবকের মতো, দেশনার ফাঁকে ফাঁকে। মন পড়ে রইবে …

আদুনিস-এর কবিতার গদ্যানুবাদ

মলয় রায়চৌধুরী   বিশ্বাসঘাতকতা হে রাজদ্রোহের স্বর্গসুখ হে বিশ্ব যা আমার পদচিহ্ন জুড়ে— হে প্রাচীন মৃতদেহ— হে জগত যার প্রতি আমি বিশ্বাসঘাতকতা করেছি আর আজও করে চলেছি আমি সেই ডুবন্ত মানুষ যার চোখের পাতা প্রার্থনা জানায় জলের গর্জনের প্রতি। আর আমি সেই ঈশ্বর যে অপরাধের …

ডব্লু বি ইয়েটস-এর তিনটি কবিতা

অনুবাদ: সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ সৃষ্টিপূর্ব চোখের পাপড়ি যদি আরও গাঢ় আঁকি আর চোখেদের ক’রে তুলি উজ্জ্বল আর ঠোঁট-দু’টি করি লাল-টুকটুকে, কিংবা প্রতিটি আয়নাকে বলি, ‘বল্ আমাকে কেমন দেখাচ্ছে আজ’; জেনো নয় সেটা নিজ-চেহারার অনুরাগে : আমি তো খুঁজছি যে-মুখ আমার ছিল এই বিশ্বটি সৃষ্টি হবার …

কোবায়াশি ইস্সার হাইকু: ১

অনুবাদ: নান্নু মাহবুব [কোবায়াশি ইস্সা (১৭৬৩-১৮২৮) জাপানের এদো আমলের (১৬০০-১৮৬৮) বিখ্যাত হাইকু কবি। কমবেশি কুড়ি হাজার হাইকু তিনি সৃষ্টি করেছিলেন। হাইকুতে সাধারণত পাশাপাশি স্থাপিত দু’টি আপাত দূরান্বয়ী চিত্রকল্পের ফিউসনে একটি তৃতীয়, অভাবনীয় চিত্রকল্পের সৃষ্টি হয়। অনুক্ত অংশই হাইকুর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অংশ। দু’শো বছর আগের জাপানে …

পাঁচটি কবিতা

ফেরদৌস নাহার ১ আপনপর তোমাকে আমার নিজের মনে হয় না। সব আপন যেমন নিজস্ব নয়, ঠিক সেরকম তুমি কেউ দরজায় কড়া নাড়ো, ভুল করে নাম মনে রাখ মাঝে মাঝে শাসনে বিদায় দাও, আপ্রাণ স্বপ্নে তোমার মনের দেশ ঘোলাটে স্রোতের টানে একা, হিজিবিজি কথা টানা অর্থহীন …

পাবলো নেরুদার কবিতা

দ্য বুক অব কোয়েশ্চেনস থেকে কিছু কবিতা অনুবাদ: রায়হান রাইন ৪. স্বর্গে কতগুলো গীর্জা আছে? হাঙর কেন বেশরম সমুদ্রমোহিনীদের আক্রমণ করে না? ধোঁয়া কি কথা বলে মেঘেদের সঙ্গে? এটা কি সত্য যে আমাদের বাসনা সিক্ত হবে শিশিরে? ৩৯. তুমি কি সমুদ্রের হাসিতেও বিপদ টের পাও …

দুটি কবিতা

তমিজ উদ্‌দীন লোদী   মৃত্যু শুয়ে থাকে “Death is the unescapable reality, the one thing any man may be sure of; the only security…” Hemingway নিষ্প্রদীপ করা এক রাত্রির মমতায় আমরা গোল হয়ে বসে আছি মাঝখানে মৃত্যু শুয়ে আছে সারারাত টিউবলের শব্দ, ঝনঝন শেকলের শব্দ, শব্দ …

দুটি কবিতা

মিতুল দত্ত ডাবল্ রোল প্রয়োজন ডেকে নিয়ে গেছে তাকে খালপাড়ে, ক্যালেন্ডার উল্টে যাওয়া রাতে ছেনালিতে ঢাকা মুখ সে আর তোমার কাছে দেখাবে না তুমি তার অসুখের পাশে বসে থাকো ততক্ষণ, বিড়ি খাও প্রতিধ্বনি ফিরে এলে ধ্বনি ঠিক ভালো হয়ে যাবে   প্রেম অকিঞ্চিৎ, কোথায় তোর …

সুবর্ণভূমিতে পরিচয়সংকট

মোশতাক আহমদ নিরীহ সোয়াসদি ককটেল হাতে চাও প্রায়া নদীর কাছাকাছি ডিজিটাল শহরের বিদেশিনী, শোনো: অনুবাদে হারিয়ে যায় সর্বাত্মক পরিচয়পত্র; তুমি মোর পাও নাই পরিচয় আকাশরেলের অচেনা যাত্রী রোবটিক জলপাই সুন্দরী— পাও নাই পাও নাই পরিচয় লক্ষ ধানের দেশে বৃষ্টি নামে পাহাড়ি প্রদেশে জেসমিন চায়ের দরাজ …

দুটি কবিতা

আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ   মেলার মুখ ভিড়ের মধ্যে এক লাল ষাঁড় গুঁতো দিচ্ছে। তার শিং থেকে পিতলের ঘণ্টি বনাঞ্চলের মাটি গুড় গুড় করে ছড়িয়ে দিচ্ছে বাসকলতা পোড়ো জমির বনসাই। দূরে সরে যাচ্ছে না মানুষ। নরম কাধের মাংস ধরে গলাতে মালা পরিয়ে দিচ্ছে ছোটো ছেলেমেয়েদের দল। …

তিনটি কবিতা

নভেরা হোসেন নেলী   রাতের সিম্ফনি ১. দৃশ্যগুলো বদলে যাচ্ছে একটার পর একটা টয়োটা গাড়ি, জি করোলার মসৃণতা মিলিয়ে যেতেই গাল থেকে ঝুলেপড়া মাংসপিণ্ড আধহাত দূরত্বে দাঁড়িয়ে, চোখাচোখি হতেই চোখ সরিয়ে নাও তুমি আঠারো শতকীয় নাগরিক ছাপ চোখে-মুখে, নির্মমতা নয় সকালের একরাশ অধৈর্য তিরতির কাঁপতে …

স্ফটিক-মই

কাজী মাজেদ নওয়াজ স্ফটিক-মই বেয়ে নেমে আসছে নীল রুমাল নামছে আর ভাসছে ভাসছে আর নামছে, কাছেই রংধনুসাঁকো উড়ে উড়ে রোদের দুপুর কেবলি কাঁপছে— অচেনা ফুলে, না-দেখা রঙে তালগাছের নিঃসঙ্গ এক ছায়া— ধীরে ধীরে আব্রু হয়ে ঢেকে দিচ্ছে নগ্ন চোখ, চোখের অন্তর, আর জন্মমুহূর্তের ভর, তবু …

Back to Top