নাহার তৃণা: আষাঢ়ে গপ্পো

১. আষাঢ়ের প্রথম দিন থেকেই আকাশের মুখ ভার। সকাল থেকে একটানা বৃষ্টি হয়ে চলেছে। থামাথামির নাম নেই। এমন বৃষ্টি মাথায় করে কে আসবে চা খেতে! মোড়ের চায়ের দোকানি কদম আলী শেষমেশ একটা বড়সড় দীর্ঘশ্বাস ফেলে চুলা নিভিয়ে কেতলিটা নামিয়ে রাখল। ঠিক তখনই ঘটনাটা ঘটল। আকাশ …

শকুন্তলা চৌধুরী: অবলাকান্তের বিশ্ব ‘দর্শন’ পর্ব-৩

অবলাকান্ত কলম ধরিয়া লিখিলেন,  “পাঠকগণ, আজিকে আমরা ‘বিশ্বায়ন’ লইয়া আলোচনা করিব। আমার বাটির সম্মুখের বহুতল ফ্ল্যাটবাড়িটির বাসিন্দা মিত্রসাহেব — যাঁহার সহিত আমি কচিৎ কদাচিৎ পাড়ার পার্কে মিলিত হইয়া থাকি এবং মিলনকালে যিনি আমাকে কৃপাদৃষ্টিপূর্বক বহুবিধ জ্ঞান প্রদান করিয়া থাকেন — তিনি এই বিষয়ে সম্যক জ্ঞানপ্রাপ্ত …

কচি রেজার গল্প: আঙুলে হরিণের ঘ্রাণ

চারপাশে বেঁচে থাকার শব্দ। রাস্তায় মানুষের কোলাহল। ভিখিরির হাত। রিকশার জ্যাম। নিরন্তর জীবনসংগ্রাম। এইসব পেরিয়ে রোজ কলেজ যায় সে। একটি কলেজের শিক্ষিকা হিমিকা। মানুষের ইতিহাস শ্রেণিসংগ্রামের ইতিহাস। সমাজবিজ্ঞানের ছাত্রী হিমিকা তা জানে। মাঝে মাঝেই মনে পড়ে উন্মাতাল ভার্সিটি জীবন। মিছিলের দিন। মিছিল-মিটিংয়ে ভরপুর সময়গুলো আজ …

আয়নামহল – মোশতাক আহমদ

“আট কুঠুরী নয় দরজা আঁটা মধ্যে মধ্যে ঝরকা কাঁটা। তার উপরে সদর কোঠা আয়নামহল তায়।“ আমার ঘরে কোনো আয়না রাখিনি। কে আগ বাড়িয়ে নিজের মুখোমুখি হতে চায় বলুন! আয়নায় নিজেকে দেখতে পেলেই নিজের কাছে কত জবাবদিহিতা বেড়ে যেত। বিধাতার মতো নির্ভার থাকা যেত না এমন। …

তিনটি অণুগল্প ফরিদুর রহমান

অতীতের সাথে বাবা মারা গেছেন কুড়ি বছর আগে। পুরো এক বছর বিছানায় পড়ে থেকে চলে যাবার দিন তিনেক আগে একদিন কাছে ডেকে বলেছিলেন, ‘সুমন, বাড়িটা যেনো বিক্রি করে দিস না বাবা।’ ‘এ সব কথা বলার সময় এখন নয়। তা ছাড়া বাবা, তোমার রেখে যাওয়া এই …

মিলেনা ফেইস মগ: এইচ বি রিতা

বজ্রসহ দুই ঘণ্টা ধরে বৃষ্টির ঝুমঝুম আওয়াজ বধির করে দিচ্ছিল সোফিয়াকে। এমন বৃষ্টি দেখে কোন কৃষক হয়তো এই মুহূর্তে খুশি মনে গাইতেন, ‘আয় বৃষ্টি ঝেঁপে ধান দেব মেপে!’ কিন্তু সোফিয়া কম্বলে শরীরটা পেঁচিয়ে চুপ করে শুয়ে আছে। ভাবছে, যাকে সে কয়দিন আগে ধাক্কা মেরে ফেলে …

শকুন্তলা চৌধুরীর গল্প: অবলাকান্তের ‘মুখ’ দর্শন

অবলাকান্ত কাঠগড়ায় উঠিয়াই কহিলেন — “আমি ‘মুখবই’ খেলিব না। হুজুর, ‘মুখবই’ খেলা বন্ধ হউক। নতুবা, খেলার নিয়ম বদল হউক। ‘মুখবই’তে ‘ভালো লাগিয়াছে’ বলিবার বা অন্য কিছু লিখিবার জায়গাটা তুলিয়া দেওয়া হউক।” উকিল বলিলেন — “‘মুখবই’ লইয়া হুজুর কিছু করিতে পারিবেন না। উহা একটি খেলা যাহা …

শূন্যকুঞ্জ শ্যামচন্দ্র নাহি রে… এক অন্য গাঁথা : বৈশাখী নার্গিস

বৈশাখী নার্গিস ১ সখী হে, আজ যাইব মোহি…ঘর গুরুজন ডর না মানব, বচন চুকাব নাহি। কিন্তু যাবটা কোথায়। চোখ বন্ধ করে ডুবে ছিলাম এক অন্য জগতে। রাত নেমে গেছে বোধহয় এতক্ষণে। হ্যাঁ রাত, আমার সব কিছুর আশ্রয় রাত। এখানেই কাঁদতে পারি আমি মন খুলে, কথা …

মাধু: অভ্র ঘোষাল

অভ্র ঘোষাল বড়ো ঝামেলায় পড়েছে দীপেশ। সে সকাল ন’টায় অফিসের জন‌্য রওয়ানা হয়। তার একটু পরেই বেরুতে হয় তার স্ত্রী মেঘবালা-কে। তাড়াতাড়ি হয়ে গেলে মেঘবালা অনেকদিন তার সঙ্গেই বেরোয়। দুজনে এক রিক্সায় চেপে বাসস্টপে যায়। তারপর দুজনে দু-দিকে। কারণ, মেঘবালার স্কুলের উল্টোদিকে দীপেশের অফিস। তা …

ড্যাফোডিলস্: শকুন্তলা চৌধুরী                           

শকুন্তলা চৌধুরী স্নান সেরে এসে, সোফায় গা এলিয়ে দিল মেধা। আজকের দিনটা ছিল খুব লম্বা। থিসিস প্রায় শেষ হওয়ার মুখে, তাই নাওয়া-খাওয়ার সময় নেই এখন ওর। সকালে ব্রেকফাস্ট করেই ইউনিভার্সিটিতে চলে গিয়েছিল, লাঞ্চব্যাগে একটা আপেল আর পিনাটবাটার স্যাণ্ডউইচ ভরে নিয়ে। নিজের অফিসে বসে একমনে কম্প্যুটারে …

উষ্ণ হয়ে উঠি: দিলশাদ চৌধুরী 

ফোন বেজেই যাচ্ছে, বেজেই যাচ্ছে। কতক্ষণ আগে ঘুমিয়েছিলাম মনে পড়ছেনা। ঘুমের মধ্যেই টের পাচ্ছি, বুঝতে পারছি যে পুরো বিছানা কাঁপিয়ে ফোন বাজছে, কিন্তু কিছুতেই জেগে উঠতে পারছিনা। যদিও শুরুতে বুঝতে পারিনি। শুরুতে দেখছিলাম নানাবাড়ির পুকুরের ধার ঘেঁষে হাঁটছি, ছোট ছোট ডালিম গাছ লাগানো অনেকগুলো। ডালিমের …

সুধাংশু শেখর বিশ্বাসের রম্য গল্প: ছাতু

অবশেষে ছাতুর মাহাত্ম্য যথাযথভাবেই উপলব্ধি করলেন রশিদ সাহেব। বুঝলেন প্রোটিন আর ভিটামিন এর জন্যে ভূট্টার ছাতুর কোন বিকল্প নেই। রশিদ সাহেব ছাপোষা কেরাণি। আসলে টাইপিষ্ট। কাজ করেন ফুড গোডাউনে। সারাদিন কেটে যায় নানা ধরণের চিঠিপত্র টাইপ করে। ফুড অফিসে বাড়তি ইনকামের অলিগলি অনেক। সেসব অলিগলি …

কামরুল হাসানের ছোট গল্প: বিপরীত যাত্রায়

সবশেষে এলে যা হয়, অত্যন্ত তাড়াহুড়া করে প্রায় লাফ দিযে ঘাট থেকে স্টামারে উঠল সরল। ডেক জুড়ে যাত্রীরা ঢালাও বিছানা পেতেছে, কোথাও সম্ভাবনা দেখল না সে। হাতের ব্যাগটা এতক্ষণ ভারী ঠেকেনি, জায়গা না পেয়ে ঠেকল। ইন্টার-ক্লাশগুলোর মাঝে দিয়ে সরল যাচ্ছিল প্রায় নিচের দিকে তাকিয়ে। তখন …

মঈনুস সুলতানের গল্প: চিত্রকর শাহ দারা ও তাজমহলের সূচিকর্ম

কামরাটি আকার আয়তনে সুপরিসর, তবে ভোরবিহানের তুমুল আলোয়ও আধোন্ধকার হয়ে আছে। দারা জং ধরে যাওয়া ছিটকিনি টেনে জানালার একটি পাল্লা খোলার চেষ্টা করে। ক্যাচম্যাচ আওয়াজে বিরক্ত হয়ে অতঃপর সে টেনে ভারি পর্দাটি সরায়। এক রাশ আলো গলে এসে মৃদুভাবে ঝলসে দেয় ড্রেসিং টেবিলের আয়না। তাতে …

গাজী তানজিয়ার গল্প: বীজ

মাথায় হাত রেখেই ফজু বুঝতে পারে যে তার মাথায় একটা গাছ গজিয়ে গেছে। সে তখন কপালে হাত দিয়ে বসে পড়ে। ‘হায় আল্লা, শ্যাষ পর্যন্ত এই হাল হইল!’ তার বুঝতে বাকি থাকে না যে এই গাছ গজানোর পেছনে কার হাত আছে। সে আক্কেলকে সমানে শাপ-শাপান্ত করতে …

শকুন্তলা চৌধুরীর ছোটগল্প: স্মৃতিমাসী

সবাই ওনাকে স্মৃতিমাসী বলেই ডাকতো চিরকাল — ঋতু, ঋজু, বৃষ্টি এবং তাদের মা-বাবারাও। সবারই তিনি স্মৃতিমাসী। আসলে ঋতু-ঋজুর দিম্মা, যিনি হচ্ছেন বৃষ্টির ঠাম্মা, তাঁর সম্পর্কে মামাতো বোন হন্ স্মৃতিমাসী। কিন্তু বয়সে তিনি ঋতুর মায়ের চেয়ে সামান্যই বড়ো। অতএব ঋতুদের প্রজন্ম তাঁকে দিদিমা-ঠাকুমা না ডেকে, ‘মাসী’ …

সুধাংশু শেখর বিশ্বাস ভ্রমণ গল্প: হরিণ সংঘাত

আমার ফোনটা ডিস্টার্ব দিতে শুরু করেছিল দেশে থাকতেই। আমেরিকা এসে সাউন্ড গেল পুরোপুরি অফ হয়ে। তবুও ফেলে দিতে পারি না, কি এক মায়ার বাঁধনে আটকে থাকি ফোনটার সাথে। আসলে নিজের পয়সায় আইফোন কেনার সামর্থ আমার নেই। ফোনটা উপহার দিয়েছিল আমার এক প্রাণের বন্ধু। সুপ্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী …

কানামাছি: নাহার তৃণা

১ সুমনের বিস্ফোরিত চোখজোড়ার পলকহীন দৃষ্টি সহ্য করতে পারেনা মুরাদ। সরে গিয়ে জানালার সামনে দাঁড়ায়। বেশি সময় নাই ওদের হাতে। সুমনের বাবা থানা পুলিশের হুমকী নিশ্চয়ই খামোখাই দেয়নি। এই জায়গার খোঁজ পাওয়ার আগেই দ্রুত তাদের সরে পড়া চাই। আপাতত গা ঢাকা দিতে হবে কিছুদিনের জন্য। …

কামরুল হাসানের ছোটগল্প: মধ্যবিত্ত বারান্দা

আলতোভাবে ঘুম থেকে স্বপ্নটা ছুটে যায়। বনের তৃণকার্পেট ছেড়ে পলায়নপর হরিণের পায়ের মতোই যেন ছুটে পালালো। আচ্ছন্ন ভাবটা বজায় রেখেই জামিল স্বপ্নটা পুনর্বার ফেরত পাওয়ার লোভে পাপড়িগুলো জোড় লাগিয়ে চোখ বুজে ফেলে। পায় না, কিছুতেই জোড় লাগে না ভাঙা কাচের মতো স্বপ্নের আয়নাটা। অনেক সময়ে …

আনোয়ারা সৈয়দ হকের গল্প: নিশিগন্ধা

গহিন এই অরণ্যে কেউ প্রবেশ করতে সাহস পায় না, শুধু মেজবাহ ছাড়া। তার সাহস বনে বাদারে অক্ষত দেহে ঘুরে বেড়াবার জন্যে বিখ্যাত হয়ে আছে সেই বহুদিন। অরণ্য না বলে জঙ্গল বলাই উচিৎ। এই এলাকায় এরকম জঙ্গল আর নেই বললেই চলে। জঙ্গলের মালিকানা মেজবাহর বাপ দাদার। …

কনকলতা কথকতা: খাতুনে জান্নাত

ফেঞ্চুগঞ্জ থেকে সিলেটমুখী রেলগাড়িতে উঠছে একটি পরিবার। বিশাল সদস্য বহর। দুটো ট্রাঙ্ক, চারটে ব্যাগ, দুটো বস্তা দুজন কুলিসহ সদস্য এগার। ঢাকা থেকে ‘সিলেট এক্সপ্রেস’ আসতেই হুড়াহুড়ি করে পিতার দু-হাতে দুই ছেলে। মায়ের জড়ানো এক হাতের কোলে ছয় মাসের ফুটফুটে ছোট ছেলেটি বড় বড় চোখ ও …

শকুন্তলা চৌধুরীর গল্প: একদা গৃহকোণে

চিঠিটা আরেকবার ভালো করে পড়লো তিতির। ছোট্ট চিঠি। মামা লিখেছে—‘মায়ের শরীরটা ভালো যাচ্ছেনা, যদি খুকু একবার তিতিরকে নিয়ে আসতে পারে তো ভালো হয়।’ তারপর অন্যান্য কথা— ওখানে সবাই কেমন…আশাকরি সকলের শরীর ভালো আছে…ইত্যাদি ইত্যাদি। ‘খুকু’ মানে তিতিরের মা, যে চিঠিটা পেয়েই সবচেয়ে খারাপ সম্ভাবনাটা ভেবে …

আনোয়ারা সৈয়দ হকের গল্প: সংকট

যে ঘরটার ভেতরে সে বসে আছে সেখানে আর কেউ নেই। পশ্চিম পাকিস্তানে নন কমিশন্ড একজন ফ্লাইট সার্জেন্ট এসে তাকে সেখানে যত্ন করে বসিয়েছে। সে নিজে একজন এয়ারফোর্সের বাঙালি অফিসার। আদতে একজন ডাক্তার। ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট র‍্যাংক। আজ তার নিজের মেডিক্যাল স্কোয়াড্রনে ঢুকতেই ওপর থেকে একটা ফোন …

পলি শাহীনা: লাল জামার ঘ্রাণ

ঈদ সমাগত। ঈদ এলে বারবার ঘুরে ঘুরে মনে পড়ে পেছনের দিনগুলো। ছোটবেলায় ঈদের আনন্দ শুরু হতো প্রথম রোজার দিন থেকেই। রমজান মাস শুরু হওয়ার কয়েকদিন পর স্কুল বন্ধ হয়ে যেত। সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠতে হতো না। স্কুলের পড়া থাকতো না। শৃঙ্খলবিহীন সেসব দিনগুলোতে ঈদের …

সুধাংশু শেখর বিশ্বাসের রম্য স্মৃতিগল্প: মুরগির রান

মুরগির মাংস আমার যে খুব প্রিয় তা নয়। তবে আমাদের ছোটবেলায় হিন্দু বাড়িতে মুরগির মাংস খাওয়ার চল ছিল না। ছিল সামাজিক নিষেধাজ্ঞা। নিষিদ্ধ জিনিসে কৌতুহল বেশি। সে কারণেই মনে হয় মুরগির মাংসের প্রতি অতিমাত্রায় আগ্রহ ছিল আমাদের ভাইবোনদের। আর সেটা যদি হোত মুরগির রান মানে …

বাবলী হকের রম্যগদ্য: সলিটারি থেকে মিলিটারি – ৪র্থ পর্ব

যশুরে বিলাস ডিসেম্বর মাস শুরু হতেই ক্যান্টনমেন্টে একটা যুদ্ধ যুদ্ধ আবহ তৈরি হয়! না। বিজয়ের মাস বলে নয়। এই সাজসাজ রবের কারণ হল ‘উইন্টার কালেক্টিভ ট্রেনিং’ এর প্রস্তুতি পর্ব। আমি যেটাকে বলি ‘শীতকালীন যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা’। প্রস্তুতি পর্ব চলতে থাকে সারা বছর। দুই-তিন মাস আগে …

আনোয়ারা সৈয়দ হকের গল্প: গলাসি

কীর্তনখোলা নদীর ধারে দাঁড়িয়ে যখন বন্ধুদের সঙ্গে আলাপ করছিলাম, তখন তার সঙ্গে দেখা। এতদিন শুধু সে ছিল ফেসবুকে। তারপর একটা বিচিত্রানুষ্ঠানে যখন বরিশাল যাই, তখন সে এসে আমার সঙ্গে দেখা করল। তাও জাহাজে ওঠার আগে আগে। তাকে চোখে দেখা মাত্র আমার শরীরে প্রচণ্ড এক কম্পন …

অনুগল্প: অভিশাপ

সকালের ঘড়ির কাঁটা গড়াতে গড়াতে দশটা ছুঁতেই নড়েচড়ে বসলাম। বাইরে ঝাঁ চকচকে রোদ। সুখিয়াকে ডাক দিয়ে প্রস্তত হতে নির্দেশ দিয়ে চায়ের কাপে শেষ চুমুক দিয়ে আরাম চেয়ার ছেড়ে উঠে পড়লাম। শামীম বাংলো থেকে বেরোবার সময় বারবার সতর্ক করে গেছে। কিন্তু এতো আমার নতুন নয়। শিকারের …

Back to Top