টনি হোগল্যান্ড এর কবিতা

টনি হোগল্যান্ড [যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কালের কবি টনি হোগল্যান্ড এর পুরো নাম এন্থনি হোগল্যান্ড। জন্ম ১৯৫৩ সালে নর্থ কেরোলাইনা অঙ্গরাজ্যে। তাঁর পিতা ছিলেন সেনাবাহিনীর ডাক্তার, সে সুবাদে শৈশবে কবি বেড়ে উঠেন হাওয়াই দ্বীপ, টেক্সাস, আলাবামা ও ইথিওপিয়ায়। তারুণ্যে ইউনিভারসিটি অব আরিজোনা থেকে ফাইন আর্টসে মাস্টার্স করেন। …

ফিরোজ শাহের একগুচ্ছ কবিতা

বনপুকুর পুকুর পাড়ি দিচ্ছে ঝাঁকেঝাঁকে শোল মাছের পোনা পাড়ে উঠে এলেই গাছ হয়ে যাচ্ছে বনপুকুরে শুকনো পাতা শুনাচ্ছে নীল রঙের মাছসংগীত।   জামগাছ জামগাছে ধরে আছে গোল গোল অন্ধকার টুপটুপ ঝরে পড়লে রাত আসে পুকুরে মাছেদের ঘুম পাড়িয়ে উড়ে যায় জামগাছ।   নখ ব্লেডে নখ …

সাবেরা তাবাসসুমের পাঁচটি কবিতা

বহু দিন পরে এ শহরে রাত ক’রে একা এ শহর জেগে থাকে কাঁকড়-ভাতে কোনো মতে ধুঁকে ধুঁকে তোমার-আমার মতো ঘুমখেকো মিনমিনে নয় মাছের কাঁটার আশা, সাথে প্রভু-ভৃত্যের ভয় ক্লান্তি-জরা দূর হতে ক্রমশ বিষাদ নেড়ে আসে সারা রাত থোকা থোকা আলোর সংকেত ভাসে শব্দে অ-সুর ভ’রে …

মারুফ বরকতের গুচ্ছ কবিতা

চিঠি ৪১ কুয়ার ডুবুরি শুধু নই আমি আরো ভালো জানি মাটি কাটা প্রতিবার ডুবে আমি দমে দমে পাতাল সুরঙ্গ আসি কেটে উপরে সাজানো থাকে গ্রাম, সিথানে- পাতালে আমি একে একে ফাঁদ পেতে গেছি- নিমগাছে এসে গেছে ফুল জানি আমি একদিন শেষ হবে উপরের ঘুরখোপ, প্রথা …

রওশন হাসানের একগুচ্ছ কবিতা

অণুজীবকাল দিনের প্রারম্ভে সকাল বেজে ওঠে মুহুর্মুহু জানালা কেঁপে ওঠে নিজস্ব দিনলিপিতে জনশূন্য স্ট্রীট, অ্যাভেন্যু, কফিনের যান ক্ষিপ্র গতিতে তীব্র সাইরেন বাজিয়ে এম্বুলেন্সগুলো কিছুক্ষণ পর পর জানান দেয় জরুরী অসুস্থতা পৃথিবীর আকাশে নবঋতুর আগমন চুইয়ে চুইয়ে জল ঝরছে বসন্তের কচি পাতায় বৃক্ষ-পাখিদের আতঙ্কহীন দিন অবাধ …

জহির হাসানের একগুচ্ছ কবিতা

চিত্রকর্ম: জহির হাসান জহিরের বিলাপ-১ যে পাতা উড়ার পর পাখি নাম ধার পাইলো ঘরে ফেরার পর তারে পাতা নামে ফের ডাকতে রাজি হইলো না আমাদের কাচারিঘরের কাছে দেবদারু গাছখান! সেই পাখি সেই পাতা ধূলা হওয়ার প্রতিযোগিতায় নামি গেলে চিল্লাই চিল্লাই কইতে শুরু করি দিই: কে …

তৌহীদা ইয়াকুবের গুচ্ছকবিতা 

আমাদের যৌথ দিন প্রায়ই আমাদের যৌথদিন অসুখে পড়ে তুমি সুস্থ আয়ুর ধারনা নিয়ে জানালায় রোদ-হাওয়ার তাবিজ ঝুলিয়ে রাখো। আমাদের সুখী পারিবারিক পটভূমি দূর বন্ধুর কাছে দুর্বোধ্য ঠেকে। কতটা কুয়াশা জড়ানো অন্ধকার আর অন্ধকার জড়ানো উৎসবে ঝালোরে কেটে গেছে রাত জাগা বাজেয়াপ্ত বাসর। এইসব গল্প পৃথিবীতে …

মালেক মুস্তাকিমের জল বিষয়ক ৭ টি কবিতা: জলের এপিটাফ

স্মৃতির দূরবীন সব স্মৃতিকে ঘুম পাড়িয়ে আজ শিকারে যাব- যাওয়ার কথা উঠলেই সিঁড়িতে পায়ের ছাপ যেন সমুদ্র, যেন জলের পৃষ্ঠা এ শহর, যেন শরীর জুড়ে বিপন্ন বুদবুদ- পারফিউম মধ্যরাতে হাওয়া আত্মসাৎ করে দীর্ঘশ্বাসের গিলোটিন, জলপতনের শব্দ আসে শিশিরখোয়া রাতের কবজিতে- উড়ে যাব হাওয়াই জলে, মাছের …

অভ্র ঘোষালের একগুচ্ছ কবিতা

যে যেভাবে, সে সেরকম পিঠের ওপর ক্রমাগত বৃষ্টি ঝ’রে পড়ছে – গাছের গোড়া বাঁধা আছে একটি শেকড়েই। যে যেভাবে ছিলাম আমরা, সে সেভাবে নেই। হাতের চেটোয় ক্রমাগত বৃষ্টি ঝ’রে পড়ছে— গোপন চিঠি রাখা আছে নিঃস্ব মুঠোতেই। যে যেরকম ছিলাম আমরা, সে সেরকম নেই। গাছের পাতা …

রেজাউদ্দিন স্টালিনের চারটি কবিতা

দুরবিন স্মৃতির অশ্বারোহী ফিরে আসি কাতর শৈশবে যখন সবকিছু মূল্যবান ছিলো চিনেবাদাম চকোলেট আইসক্রিম মেলায় কেনা সবুজ টিয়ে আজো কাঁধে এসে বসে ঠোঁটদুটো সেরকমই লাল গরম জিলাপি জিভ টেনে লম্বা করে রাখে পাঁপড় হাসতে হাসতে ভেঙে পড়ে হাতের তালুতে পয়সা জমিয়ে কেনা দুরবিন তাকায় আত্মহারা …

জাকিয়া এস আরা’র কবিতাগুচ্ছ

স্বপ্ন আমি হাঁটছি দ্রাক্ষাবনে, চারদিকে বাতাসের সিম্ফনি, আজ কোনো ক্ষুধা নেই, পান তেষ্টা নেই, পাখিদের প্রেমে বিষণ্ণতা থমকে দাঁড়ায়। ওই দূরে টিলায় বোধকরি ঈশ্বর-আবাস, আমার প্রবেশ নিষিদ্ধ। ঘুমপরীর করুণ ভায়োলিন, চোখ মুদে আসে, ও আকাশ আমাকে ফেলে মেঘের কাছে যেওনা কো! জানো তো রোদ আমার …

যশোধরা রায়চৌধুরীর কবিতা: পীড়া সমগ্র

১ সম্মিলিত কোলাহলের কাছে নিবেদিত প্রাণ হও। বারে বারে উৎকন্ঠার কাছে ফিরে যাও কেননা একবিংশ শতকের ঐটিই অভিজ্ঞান। অভিজ্ঞান অঙ্গুরীয়টি চৌকা চ্যাপ্টা এবং বেজায় চকচকে। কালচে সমতলের ওপর প্রতিফলিত হয় তোমার মুখচ্ছবি। সর্ব অর্থেই। প্রতিবিম্বিত করে তোমারই ভয়, সংকোচ, শংকা ও ঘৃণা। তোমার অসামাজিক, প্রায় …

জেনিস মাহমুনের গুচ্ছকবিতা

অর্গানিক মোরগ মুখোমুখি এসে বসেছিল সে—বুকে রেখে দুটি পিকাসো-কিউব, আমোদেও মুখগুলো তিন দিকে এলোমেলো খুব: এসেছি স্থির করে নিতে জীবনের সুখ, ঈশ্বর নাই, বল কে আমাদের থামায়! আমরা আটকে আছি পরিস্থিতি ও যুগের জামায়। দম আর দামে অর্থনীতির ফুসফুস কামারের হাপরের মত ফুলে থাকে, কয়লার …

লুৎফুল হোসেনের কবিতা

অহল্যা গর্ভকে অপেক্ষার মাদুলি গলায় ঝুলিয়ে চন্দ্রালোক স্নানে জোছনা মাখা গায়ে রূপালি ঢেউ তুলে ডাকলে-চন্দ্রমুখী সূর্যস্নানে সিক্ত ঘামে কুসুমের স্মৃতি বুনতে ত্বক ঝলসে রঙিন হলো-সূর্যমুখী তারার রাজ্য উপেক্ষায় ফেলে চুম্বনের নাম রাখলে-নক্ষত্র পল্লী দেখনি আঁধার অমাবস্যার আবছা অবয়বে খেলা করে যায় যত অযুত প্রশ্ন পুরুষের …

নাজনীন খলিলের পাঁচটি কবিতা

যাত্রা কেন এমন ঝাপসা হয়ে আসে চোখ? হয়তো চশমার কাঁচে কিছু জমেছে কুয়াশা। ঠাসবুনটে র‍্যাকস্যাক ভরা জিনিসপত্র। অসাবধানে কোথাও কিছু কি পড়ে রইলো? যাত্রা তো নিশ্চিত ছিল। প্রস্তুতিও।   ক্রস কানেকশন যখন খুলছিল পাতালপুরীর শেষ দরোজাটাও, পালিয়ে এসেছি। সব জানতে নেই— এই কথা জানার পরেও …

অমৃতা প্রীতমের কবিতা

যখনই তার সাথে দেখা হয় প্রায়শই এক অলিখিত কবিতা বলে মনে হয় এই অলেখা কবিতাকে আমি কয়েকবার লিখে ফেলেছি কিন্তু সে অলিখিতই রয়ে যায় অমৃতা প্রীতম— এক নিবিড় প্রেমের কবি, এক টান টান সাহসের নাম। মূলত পাঞ্জাবী ও হিন্দী ভাষায় লিখেছেন তিনি। পাঞ্জাবী সাহিত্যের প্রথম …

জুয়েল মাজহারের একগুচ্ছ কবিতা

ইস্তেহার: নতুন প্রেমের ১. বলেছি এসো না; শোনো, এতো কম শীতে ততোখানি জমবে না প্রেম; যদি না কঠোর হিমে হৃদয়ের ত্রসরেণু বরফে কঠিন হয়ে ওঠে। তাহলে অপেক্ষা করি চলো পথ ক্রমে ঢেকে যাক অবিরাম তুষারে-তুষারে। যাতে অবাধে চালাতে পারি স্লেজ ২. আজো যদি প্রেম কিছু …

বিজয়ের দিবসের কবিতা

শামীম আজাদ ব্যাখ্যা নিতম্ব চেয়ারে গাড়া বুকে বহুমাত্রিক স্মৃতির স্পন্দন কুচকুচে কালো ক্যালকুলেটরের নিচের পঞ্চাশ বছর বয়সী কাঠের টেবিল থেকে আসছে পুরানো গন্ধ। সব মিলে কী একটা আবদ্ধ পরিবেশ! দেশ থেকে বহু দূরে দুর্দান্ত স্মার্ট পোশাকেও বেজায় বোকা হয়ে ভাবছি- না কাটিতে তাল কখনো কি …

ফুয়াদ হাসানের ৫টি কবিতা

অনির্বাণ মাটির নিচের সরাইখানায় বসেছে সকলে মাতাল জুয়ারি যত বেইমান জাতে বেজন্মা বজ্জাত কালা লুলা খোঁড়া খোজা নির্লজ্জের সাথে অসভ্য ইতর বেহায়া হারামির দল পাশার টেবিলে কেউ দান চুরি করে, বাইজির হাত ধরে গালি দিয়ে বলে— নাচো, টেনে নিয়ে যায় অন্দরে, শেষ না করে ছুড়ে …

আবদুর রবের একগুচ্ছ কবিতা

স্বপ্নধরা যে সিদ্ধান্তগুলি তুমি নিয়েছিলে ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায় তারাই তোমাকে মহান করেছে অথবা কোনো নিষ্ঠুর ভিলেন দোষী কিংবা নির্দোষ প্রেমিক অথবা খুনি তবু তারাই তোমাকে পৌঁছে দিয়েছে এখানে। এগিয়ে যাওয়ার পথে তুমিই তোমার সব গল্পের নায়ক তুমিই তোমার প্রেমের লাইলি-মজনু তোমার নাটকের স্ক্রিপ্ট তুমিই লিখেছ …

ফেরদৌস নাহারের কবিতা: নদী, অখণ্ড রক্ত-স্রোতধারা

নদীবন্দনা আমি পুবদেশের, দুহাতে বাজাই নদীদের করতালি যেতে যেতে চিরদিন গড়িয়ে পড়ি তাহাদের বুকে পদ্মা একটা তল্লাট উড়ানো ঝড়, প্রকৃতির নামে ভাড়াটে কেউ এখানেই লুকিয়েছে, তার গন্ধ এখন পদ্মার জোয়ার ভাটায় ভেসে যাচ্ছে মরণ মরণ চিৎকারে উড়ছে চৌচির বিশুষ্ক বালুচর, সবকিছু কাঁপিয়ে ধেয়ে আসছে জল …

কাজী গিয়াস আহমেদের পরাবাস্তব কবিতাগুচ্ছ

যা দেখছেন মুখোশ ভেতরে আমি নেই! ৫. ধূধূ মরুভূমি, দূরে পাহাড়ের সারি একটি বর্ধিত হাতের তালু দৃশ্যপটে ঢুকে গেছে তালুর উপর একটি তরতাজা গাছ নিশ্বাস নিচ্ছে উপরে খণ্ডিত ঘন মেঘ বজ্র বৃষ্টি গাছের উপর ঢেলে দিচ্ছে ছাতা মাথায় একটি কিশোরী আশ্রয় নিয়েছে তার তলে। ১৫. …

কামরুল হাসানের মৃত্যুবিষয়ক দশটি কবিতা

বিলীয়মানতার গান আমি থাকবো না, চামেলীও চলে যাবে বাতাসে কর্পুর, গন্ধ ছিল কি না, এ প্রশ্নে লোকেরা মাতুক সে মাতমও থাকবে না কিছুকাল পর লোকেরা সমস্ত ভোলে, সত্য থাকে প্রত্যেহের প্রভাতের থলি ইলিশে ভরাতে যায় দিন কোমলগান্ধার অজস্র চাঁদমুখ আকাশের ছবি অমলিন। আমি থাকবো না, …

ধূসর মননের কবি: সিলভিয়া প্লাথ  লেখা ও অনুবাদ: দিলশাদ চৌধুরী 

[“আমি যখন চোখ বন্ধ করি, সমস্ত পৃথিবীর যেন অকালমৃত্যু ঘটে। আবার যখন চোখ তুলে তাকাই, সবাই আবার বেঁচে ওঠে…” কথাগুলো মায়াময় বিষাদের কবি সিলভিয়া প্লাথের। এবছর ২৭ অক্টোবর পালিত হল তার ৮৮ তম জন্মবার্ষিকী। ম্যাসাচুসেটসের বোস্টন শহরে ১৯৩২ সালে এই অপূর্ব সুন্দরী কবি জন্মগ্রহণ করেন। …

লুৎফুল হোসেনের তিনটি কবিতা

মন-তৈজসে তখন পাপড়িগুলো খুলতে খুলতে শূন্য গোলাপ একের পর এক নরম তুলোর মেঘের শরীর তুলে এনে বিছিয়ে দিই জেট ব্ল্যাক মার্বেল ডিসেকশন টেবিলে ধারালো ছুরির নিচে ভ্যানিলা ক্রিম কেকের মতন কাটি তাকে ফালি ফালি করে জলের বিবর ছেনে দেখি কোন জৈবিক নিয়ম খেলা করে কতটা …

তৌহীদা ইয়াকুবের একগুচ্ছ কবিতা

দুপুর গড়িয়ে নিখোঁজ স্তব্ধতার মাঠ ঠোঁটে নিয়ে তখনও বাতাস বাজে সবুজের ডানায় কোথাও কাঠ গোলাপ ফোটা মিহি শব্দের ভেতর দুপুর গড়িয়ে যায়। আর এইসব দেখে নেয়া পরিধির আলোছায়ায় স্নানশেষে গৃহলক্ষ্মীর ভেজা মীমাংসার সুবাস নিয়ে উড়ে গেছে আঁচলের হাওয়া— একটা ঘাম-দুপুর হলুদ বিক্ষেপণ ছড়ায় বারান্দায় কোন …

কেয়া ওয়াহিদ অনুদিত লুইজ গ্লিকের তিনটি কবিতা

প্রথম স্মৃতি বহুকাল আগে নিজেকে ক্ষতবিক্ষত করেছিলাম বাবার উপর প্রতিশোধ-পরায়ণ হয়ে। বাবার কারণে নয়, আমার নিজের কারণেই— শৈশবের শুরু থেকে আমি ভাবতাম বেদনা মানে আমায় কেউ ভালোবাসেনি আমিই শুধু ভালোবেসেছি।   সুখ শুভ্র সাদা বিছানায় একজন পুরুষ ও একজন নারী শুয়ে আছে; এইতো সকাল হলো …

শামীম হোসেনের কবিতাগুচ্ছ

নৌকাতলী ডাকিনীর ছায়াস্মৃতি চোখ হারিয়ে অন্ধ হয়ে যায় জোনাক-আলো জাগিয়ে রাখে ভ্রমণদৃশ্যের পথ কালিদহে গড়িয়ে যেতে যেতে আঙুলবন্দি নুড়ি দেখিয়েছে জাফরি-কাটায় ঝোলা জ্যাকেটের ভয়। ঢেউ বিগড়ানো নদীতে ফিরিয়ে দিলে মৎস্যের আয়ু বাদামফুল বুকে নিয়ে প্রত্ননৌকার তলে ধীবর ঘুমায়।   কথার বিস্ফার আয়ু ফুরানো নদীগুলো বসে …

Back to Top