মঈনুস সুলতানের তিনটি কবিতা
শিশিরের ষোড়শী সময় সুরম্য স্থাপত্যরাজি ধ্বসে যাবে — ধ্বসে যাবে একদিন আমি তার শব্দ শুনি ….. মগজে চুন, সুরকি, কড়িকাঠের …
শিশিরের ষোড়শী সময় সুরম্য স্থাপত্যরাজি ধ্বসে যাবে — ধ্বসে যাবে একদিন আমি তার শব্দ শুনি ….. মগজে চুন, সুরকি, কড়িকাঠের …
উৎসর্গ: ঋতুপর্ণ ঘোষ মহিমার্ণব এ কেমন পাখি তুমি ফেলে যাও রোজ রোজ দুটো মাত্র পালকের ভার ভেবে নিচ্ছি এ তোমার …
হিন্দি থেকে ভাষান্তর: অজিত দাশ [রিতা পেত্রৌ আধুনিক আলবেনিয়ান কবিতায় এক সুপরিচিত নাম। তাঁর জন্ম আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানায় ১৩ মার্চ …
১ আমার জন্ম গ্রামে, প্রাকৃতিক প্রসবের পর নান্দনিক বৃক্ষরাজি গ্রামশোভা প্রভূত বাড়াল, অনেক দূরের নদী পাড় ভেঙ্গে নিকটস্থ হল আলো-ছায়ার …
যারা ছিলো সব বেশরম চোখ যখন লিখলাম মেয়েদের দেখতে আমার ভালো লাগে, ভাবীরা পরস্পর মুখ দেখাদেখি করলেন আর চোখ খুলে নিয়ে পেরেক মেরে লাগালেন একজন আরেকজনের কপালে
সূর্য উঠবেই আলোর শহর তেমনি সম্মোহক, শুধু উধাও জীবনের তাপ-উত্তাপ, অন্ধকার কোণাগুলো ঝুম নির্জন, আলো অন্ধকারের পরিক্রমায় রাত্রির বয়স বাড়ে, …
মোহকাল এ পথেই বসে থাকি অনন্ত ঋতুকাল মৃত পাথরের মতো তরঙ্গহীন অভিশপ্ত পাখির নিদ্রাহীন আয়তচোখে যেভাবে তীরকাঁটা বিঁধে আছে শূন্য …
কথোপকথন পুঁজিবাদী পর্বের সবচেয়ে বড় ও জনপ্রিয় কুসংস্কারের নাম প্রেম। -হুমায়ুন আজাদ গোমর ফাঁস হলে গোবর মারে মুখে, অমন তরুণীর …
দিনরাত্রির পালা কাঠপিঁপড়েটা শূন্যদৃষ্টিতে নিঃশব্দে পাহারা দিয়ে যাচ্ছিল। অন্ধকার পত্রালির ফোঁটা ফোঁটা শব্দ এবং গ্রীষ্মের গিরিখাতের গভীরের রাত্রির মর্মর …
অশ্বশক্তি ভবঘুরে স্মৃতিগুলো ফেলে আসি দূরে রঙময় জীবন সারি সারি মেঘ নিঝুম রাত্রি বুজে আসে দুচোখের পাতায় শব্দরা এখন জবানবন্দি …
সকালবেলার পাখি গাড়িটাকে জাগিয়ে তুললাম যার উইন্ডশিল্ডটা ঢেকে ছিল পরাগরেণুতে। সানগ্লাসটা চোখে দিলাম। পাখির কূজন অন্ধকার হয়ে এল। যখন …
ফিরিয়ে নাও, গোলাপকাঁটা সব উপেক্ষা ফিরিয়ে নাও ফিরিয়ে নাও পায়ে হাঁটা সব পথ, অনিদ্রারাত ফিরিয়ে নাও মুখের দিকে চেয়ে …
অখণ্ড প্রেম প্রহরে প্রহরে ঝরা পাতার নৃত্য গাছেরা সেজেছে রঙিন পার্লারে লাল, কমলা, হলুদ, মেরুন ঢঙে। নির্জন বনতলে আমরা দুজন …
রাত্রিগীতি রাতে একটা গ্রামের ভেতর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলাম, আর ঘরবাড়িগুলো হেডলাইটের আলোয় সামনে উঠে আসছিল─ তারা জেগে আছে, …
যাবার সময় সময় হয়ে যায় আস্তে আস্তে কেমন করে যে সময় হয়ে যায় কেউ বোঝে না বিদায় নিতে গেলেই ফ্যাসাদ …
হিয়ার পরশ লাগি তোমার যৌনতা চাই না মরদ— আশ্বিনের এই তুমুল তপ্ত দুপুরে এমন কথা কী করে বলি! চাই— তোমার …
সমাপিকা সংগীত ক্ষুদ্র একটা নোঙরের মতো আমি পৃথিবীর তলদেশ দিয়ে হিঁচড়ে যাচ্ছি। আমার যা প্রয়োজন নেই সে সবকিছুই আমার …
পুনর্জন্ম নিয়েছি নিজেরই বাঁকাহাড়ে আমাকে নাশ করতে দিও না, গির্জা এখনও কেঁপে ওঠে প্রশ্বাস, ঝুঁকি রয়ে গেছে পরাধীন দৌড়ের প্রত্যাদিষ্ট …
ভেঙে গেলে সান্নিধ্যের সাঁকো ডানা ঝাঁপটায় অস্থির জল ঘুম আর জাগরণের মধ্যে— স্নান সারে নির্জনতা নাকফুলে নেমে এলে সন্ধ্যাতারা জাহাজ …
অপরিচিত আবার দুইজন মুখোমুখি; তাদের মাঝখানে অপরিচয়ের প্রগাঢ় ছায়া ঝালরের মতো দুলে থাকে। আকস্মিক স্মৃতির ঝাপটায় তৈরি দৃশ্যপট সে কেবল …
টোমাস ট্রান্সট্রোমারের কবিতা অনেকেই অনুবাদ করেছেন, সে-সবের অনেকগুলো তেমন নির্ভরযোগ্য নয়। কারণ কবিতা অনুবাদ করতে গেলে তাতে এমনভাবে আকৃষ্ট হতে …
আমি এ ভিলায় থাকব না, ভূতে কিলাচ্ছে নব নব সৌকর্য দেখায়ে— পুনরায় টানছে প্রাচীনে। দরোজা নি-খিল, পর্দা গেছে উড়ে গতকাল, …
১ ডলুং নদীর কথা ভেবে গেছি বরফ জমলে কেমন দেখাতো? আমাদের ফেব্রুয়ারি সামান্য একধরণের ঔজ্জ্বল্য আচমকা বিদ্যুৎ শুধু জঙ্গল অথচ …
ঢেউ ডুবে যায় ঢেউ ডুবে যায় চোখের ভেতর বুকের ভেতর তুফান; সবুজতর বাতাসে কাঁপে নতুন রোয়া ধান। জলে ভাসে চোখের …
নিরুত্তাপে এ জীবন ফাগুনের মতো দিন,রাত্রির মতো অন্ধকারে ক্ষয়ে যাচ্ছে— অনুশীলন করছে পূর্বাভাষহীন স্বপ্নের! দুমড়েমুচড়ে ভেঙে পড়ছে কাঙ্ক্ষিত আলোরা। এই …
ঈম্বর ও মানুষ আয়নায় কাকে দেখি! আমি এক ধূর্ত শয়তান প্রতিবিম্বে ভেসে ওঠে ঈশ্বরের ছবি আয়না ভেঙে গেলে ভাঙা কাঁচে …
প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি অনেক প্রাপ্তিতে যোগ্যতা লাগে না, যেমন; গরুর গর্ভে গরু, রাজতন্ত্র বা ব্রাহ্মণ্যবাদ! তা-বলে বলছি-না, সকলই এমন, তবু বিজেতারা ইতিহাস …
কাফনমোড়া সিংহাসন টেবিলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে খাবার আবার শূন্য হবে কিংবা ভরে যাবে ফুলে-ফুলে পরাগায়ন-মস্তিষ্কে ফাঁপা বাঁশির কান্না চায়ের পেয়ালা উড়ে …