তরমুজ, মিনাবাজার ও অটো হাতবোমা

আবু সাঈদ  ওবায়দুল্লাহ   তরমুজ লালের ভেতর কোথাও একটা স্বরগম কোথাও একটা রিফিউজি গ্রাম কেঁপে কেঁপে লম্বা একটা বাস ধুলিনাশকতার ভেতর আস্তে আস্তে ধীর প্যাসেঞ্জারের স্মৃতিবল্লম তার খালি চক্ষু-চিমনি কবরস্থানের পাশে পেঁপে গাছ হওয়া টেলিগ্রাম । ওড়ে মৌন চিঠিলেখা সবুজ রঙের খাম পৌঁছায় ২৬ মনেশ্বর লেন হাজারিবাগে। সেখানে একটা দাঁত …

সম্পুর্ন​

পাঁচটি কবিতা

সুবীর সরকার   ছায়া ছায়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি মজা করে কথা বলছো লাজুক মুখ,পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হেসে ওঠে কাঠের হাতি   প্রচ্ছদ যেমন জন্মদিন, পাকা কাঁঠাল একঝলকে চড়ুই পাখি মঞ্চের দখল নিচ্ছি সহবাস বস্তুতই বহুচর্চিত প্রচ্ছদ   মুখোশ গাছের নিচে দাঁড়িয়ে থাকলেই হয় না;নিঃশ্বাস ঘন হবার মূহুর্তে জলপ্রবাহ।খোলস ছাড়বার

ব্লেডলিখিত সত্তাচিহ্নের শেষ ধাপ

শুভ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ক আস্থা বা সহজাত ছিঁড়ে এসেছি মাকড়সার জালে রোদ ও ভিজে শিউলি কুড়োতে গিয়ে হাতে লেগে যাওয়া কয়লার গোলার দাগ কোনওভাবে ফিরবেনা জেনে নিজেকে ছেড়ে দিচ্ছি বাক্যে            নির্ভার            দাঁতে দাঁত কল্পনাবিহীন দিন সামান্য স্টিলের নখ           বেঁধানোর কথা ভেবে দিন যায় নিজেরই পুরনো রক্ত           সামাজিক মানুষের সাদা টিসু …

সম্পুর্ন​

অজিত দাশের কবিতা

চৌকাঠ প্রকাশ্যে উড়ছে যাবতীয় ব্যথার অগ্রন্থিত অক্ষর তোমাকে জানা আর না জানা অকথিত ভঙ্গিমা মাত্র অথচ কোন গোপন দরজা খুলে গেলে আশ্চর্য কী সব দেনা-পাওনা মিটিয়ে দেখি যারা এঘরে ওঘরে জমিয়ে রাখে অভাবের ছিটেফোঁটা তারাও আজকাল দিব্যি কিনে নিতে পারে প্রকাশের শালীনতা যেদিকে দুর্লভ প্রতিভা মেলে দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকি বিপন্ন …

সম্পুর্ন​

সৈয়দ তারিকের ৭টি কবিতা

প্রেমিক যার হৃদয়ে তিনি প্রতিষ্ঠিত তার হৃদয়ে আর কেউ থাকে না; আমার হৃদয়ে শুধু তুমি আছ– তবে কি তুমিই তিনি? তোমাকে ভালোবাসি বলে যে কেউ অনায়াসে তাঁর আসনেই বসে পড়ে– তাঁর বান্দারা এতে খুবই অসন্তুষ্ট।   প্রতিপক্ষ তোমাকে দেখে তাঁর কথা মনে পড়ে তাঁর কথা ভাবতে ভাবতে তোমাকেই ভেবে যাই; …

সম্পুর্ন​

আলতাফ হোসেন-এর ১১টি কবিতা

কবিতা ১   কী ভেবে অনেকগুলো কবিতা লিখে ফেলেছি দেখা যাচ্ছে ওই যে পত্রিকা, রাগী কাগজ স্তুপ করে রাখা ওই যে বইগুলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আমার নাম ওদের ভেতরের জানালা থেকে উঁকি দিচ্ছে দেখতে পাচ্ছি কিন্তু কবিতাদের কেউ এসে বলছে না, ‘আমাকে চেন?’   কবিতা ২   শেষে ভেবেছিলাম হোমাইপুরের গাঁয়ে আবার …

সম্পুর্ন​

সৈয়দ আফসার-এর কবিতা

স্নান ঘরে একা একা ভেবেছি… একা ভেবেই জেনেছি স্নানঘরে লাজ খুলে গেলে, জলের শব্দে হারানোর কিছুই নেই জল ছাড়া কেউ জানে না দেয়ালে কেন জলপড়ার শব্দ কানে বাজে, কেন ঈর্ষায় পুঁতে রাখি জলসহ রহস্যময় ছায়া মগ-বালতি নীরবে পড়ে থাকে দেহের লোভে স্নানঘরের কোণায় শীতকাঁপুনিতে ঝরনার গরমজল হাত, মুখ– চুলসহ সারা …

সম্পুর্ন​

নভেরা হোসেনের একগুচ্ছ কবিতা

গোপন নির্বেদ রাত ঘন হয়ে এলে দরজায় এসে কড়া নাড়েনা কেউ পিনপতন নিস্তব্ধতায় মগজে গোপন শ্লাঘা এসে জমে, বুদবুদের ফেনা হয়ে মিশে থাকে গোপন নির্বেদ, চোখ খুলে ঘুমায় সে ডিভানের কোণে সারারাত ছটফট, কে যেন রক্তে মিশিয়ে দিয়েছে জ্বলন্ত কয়লা তার আঁচে পুড়তে পুড়তে চকিতে হায়েনার হাসি– দূর থেকে ভেসে …

সম্পুর্ন​

মঈন চৌধুরী’র একগুচ্ছ কবিতা

দুর্যোধনের বোন দুর্যোধনের বোন, তোকে আমি চাইছি মনে মনের কথা শোন, দুর্যোধনের বোন। আমার মনের গণিতে শুধু ত্রিকোণমিতি আছে এ চিন্তায় যদি আল্ট্রা-নারীবাদের পতাকা তুলে ধর তবে তুমি ভুল করেছ। আমি তোমার কমলা বাগানে কমলা তুলতে চাইনা, কমলা ফুলের রঙে আর নির্যাসে আমার ইতিহাস খুজতে খুজতে আমি ইডেনের ঈভকে পেয়েছিলাম …

সম্পুর্ন​

কবিতা: কারে খোঁজো মন মনে

                             জহির হাসান স্বপ্নের ভেতর কারা                   উড়িতেছি মনমরা যারা কত শ বছর আগে। জগডুমুরের আশা                    মেঘ চাই বৃষ্টি ভালোবাসা পেকেছি আপন রাগে।। পাগলের বর্ণমালা                   এফেক্ট করছে পাঠশালা মেঘশিষ্য পাঠে। এ অবচেতনে নারী                   সেই আমাদের দূর বাড়ি শোব এক খাটে।। নারী রিডিফাইন করি                মেঘমাখা প্রাণাধিক জরি সে তো ইল্যুশন। ইতর …

সম্পুর্ন​

সিদ্ধার্থ হক-এর একগুচ্ছ কবিতা

পূজা ভয়ঙ্কর গানগুলি শব্দহীনতার মধ্যে তৈরী হয়, টের পাই। বহুকাল গানহীন ভাবে তাই আছি। এই ফাঁকে কেউ এসে চলে গেছে, আমাকে সম্পূর্ণ ভাবে গানহীন জেনে। বাতাস এসেছে তবু দূর দূরান্তের ঝর্ণা নিয়ে গাছ তার ডালগুলি নামিয়েছে অগুনিত জলে পৃথিবীর ঝিঁঝিঁপোকা আজ রাতে শব্দহীন ভাবে জেগে আছে। আমিও রয়েছি ঝুঁকে, যদি …

সম্পুর্ন​

গোলাম কিবরিয়া পিনু’র কবিতা

ড্রপসিন কালো টাকা সাদা করেও যে লোক সাদা থাকে–একটুও কালো হয় না ভূকম্পবলয় থেকে বেঁচে যায় ভূমিচাপা পড়েনা– নড়েনা অর্থলিপ্সা থেকে একবিন্দু বিন্দু বিন্দু ঘাম নেই–শুধু অর্থকাম ! তারা-তো বেঁচে থাকে সুখসেব্য সকল ব্যবস্থা নিয়ে তাদের কাপড় হরেকরকম বেশভূষা ঝলমল করে মলমল ও মসলিনে ! চোরাগুপ্তা পথে তাদেরই নিষ্ঠুরতা আঁধিঝড় …

সম্পুর্ন​

মাসুদ খান-এর গানের লিরিক: শেষ পর্ব

প র্ব-১।। প র্ব-২।। প র্ব-৩।। পর্ব-৪ গীতি ২১. কুল ও কানাই কোনোটাই নাই পড়েছি বিষম ঘোরে বিকারের ঝোঁকে রেখা যায় বেঁকে বৃত্ত রচনা করে ।। বিশাল বৃত্তে বিষাদচিত্তে ছোট্ট বৃত্তচাপ জেগে আছে একা– দূর থেকে দেখা জ্যামিতিক অভিশাপ। যমুনার কালো জল ও জ্যামিতি পাল্টায় দ্রুত স্বরে বিকারের ঝোঁকে রেখা …

সম্পুর্ন​

নান্নু মাহবুবের কবিতা:পুনরুত্থিত শহর থেকে

না-দেখা কিছুতেই কোন দেওয়ালে টাঙানো রয়েছে ছবি কোন দেওয়ালে রক্তগঙ্গা বইয়ে দিচ্ছে ধর্মচক্ষু কোন দেওয়ালে হা-হা করে কাঠি হাতে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছো কাক কোন দেওয়ালে মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে একশো বছর ধরে একটি পিঁপড়ে পিছলে পড়ছে বারে বারে কোন দেওয়ালে দোলদোলানো মুখোশচক্ষু ভয় দেখাচ্ছো কোন দেওয়ালে নাপিতের সামনে ঘাড় হেঁট করে রোয়া …

সম্পুর্ন​

মোশতাক আহমদ-এর দুটি কবিতা

ইয়াং ম্যান অ্যান্ড দা মারমেইড হেমিংওয়ের ওল্ড ম্যানের মতো ৮৫তম দিন সৈকতে গিয়ে অবশেষে মারমেইডের দ্যাখা মিললো দেখতে দেখতে এ দু’চোখ কবেই বাই-ফোকাল পড়তে, এমনকি চোখ বুঁজতেও কতো অভিযোজন! সন্ধ্যার সৈকতে বৃষ্টি, ঝাউবনের মাথায় আকাশের কালো শ্লেট আজ নেই মান্নাদে’র সোনালি রঙ মাখা পাখিদের ওড়াউড়ি আমিই যেনবা নিরাশ্রয় একলা পাখি, …

সম্পুর্ন​

নিসর্গ সিরিজ ৩

শিবলী সাদিক                                      নিসর্গ সিরিজ ১   ।। নিসর্গ সিরিজ ২ গাছকে লেখা চিঠি আজো গাছ সম্বন্ধে তেমন করে কিছু বলা হয় নি, এমন কি জগদীশ বিজ্ঞানী গোপন করেছেন সেই সব কথা যা খুবই ব্যক্তিগত গোপনীয়, ঘুমপ্রবণ আয়নার সামনে বলে যায় সকলেই নিজস্ব ভাষায়। ব্যতিক্রম ইতিহাসে, ভূ-ভারতে শুধু একজন। বহুদিন আগে এক …

সম্পুর্ন​

মাসুদ খান-এর গানের লিরিক: পর্ব-৪

প র্ব-১।। প র্ব-২।। প র্ব-৩।।   গীতি ১৬. তোমার সহগ হয়েই ঘুরি তোমার সহগ হয়েই মরি তোমার সঙ্গে সহমরণে একই-সে চিতায় চড়ি ।। তোমার দেহে যে রূপক-ভার আমার শরীরে প্রভাব তার অমায় কিংবা পূর্ণিমায় জাগায় ঘোর জোয়ার। তোমার সহগ হয়েই ঘুরি তোমার সহগ হয়েই মরি তোমার সঙ্গে সহমরণে একই-সে চিতায় …

সম্পুর্ন​

সেইম পেইজ

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল থাকি তার মনের ভেতর থার্মোমিটার। জানি নারীর নাড়ি ও নক্ষত্রের মনমন্ত্র, অলিগলি, গোপন গল্প। জানি–জ্যামিতিক জটিলতা, মনোজ জোয়ার। অর্জিত গর্বে সেইম পেইজে বাস করি, সহবাস করি জোড়া-বেজোড়ায়। ইনসাইড থেকে আউটসাইড কিম্বা জোড়া আর বেজোড়ার কত দূর? মন দেহের দূরত্ব তাড়িয়ে অসূর্যস্পর্শীর গন্ধরাজের নেশায় জেগে উঠি। পাঠের তীব্র …

সম্পুর্ন​

মাসুদ খান-এর গানের লিরিক: পর্ব-৩

প র্ব-১।। প র্ব-২।। গীতি ১১. কোন-বা জাতির জাতক তুমি, কোন-বা প্রাণের প্রাণী আঁধারতমা আলোকরূপে তোমায় আমি জানি ।। কোন-বা জলের জলজ আহা কোন ঝরনায় বাস কোন অম্লজানের হাওয়ায় নিচ্ছ তুমি শ্বাস কোন ঝরনার জলে শোধন সারাদিনের গ্লানি আঁধারতমা আলোকরূপে তোমায় আমি জানি ।। কোন ঘটনার অনুঘটক, কোন জারণের জারক …

সম্পুর্ন​

বিরহ ও মিলন লইয়া এক পরস্তাব

গৌতম চৌধুরী রশির উপর দিয়া হাঁট তুমি, আমি দেহি বেবাক আন্ধার আমি দেহি, শূন্যে পাও ফালাইয়া ফালাইয়া তুমি চইলা যাও কুয়াসার দিকে তুমি মৎস্যমুখী পট, গজবিড়ালির তোমার মুখের হাস্য বান্ধাইয়া রাখে গোপবালিকারা জোসনাধারা দিবা তুমি, তুমি দিবা করতোয়া দুধের ফোয়ারা মাংসপিণ্ডে তুমি দিবা ফকফকা আলো আলোরে বানাইবা মাংস গামলার ভিতরে …

সম্পুর্ন​

কচি রেজার দুটি কবিতা

রডোডেনড্রনগুচ্ছ ১ এক একটি মহাদেশ জলে পড়ে যাচ্ছে জল উড়ে যাচ্ছে ডলারের মত তাকে আমি জলের দামে কিনে ইঁদুর হয়ে কাটব চশমা নির্জনে কোমরে হাত দিয়ে নাচঘর থেকে টেনে নিয়ে গেছ তারে তালুতে চেটেছ একা থাকা নাভী জানিয়ে দিই আগামীকাল তার বিবাহ এইসব বীজানু চোখ থেকে খুলে ভরদুপুরের সাথে ঘুমাবে …

সম্পুর্ন​

মাসুদ খান-এর গানের লিরিক: পর্ব-২

গীতি ৫. বহুকাল পরে তীর্থ বসেছে দূরে আলো জ্বলে আজ ওই দ্যাখো ওই উজ্জ্বল রূপপুরে ।। মন যেতে চায়, আহা কীভাবে যে যাই! ঠিকানা জানি না, পথও চিনি না, হায় শেষ নৌকাটি সেও গেছে ছেড়ে কোথায় যে কোন্ দূরে! আলো জ্বলে আজ ওই দ্যাখো ওই উজ্জ্বল রূপপুরে ।। বহু ধাঁধাপথ …

সম্পুর্ন​

নিসর্গ সিরিজ ২

শিবলী সাদিক ল্যান্ডস্কেপ সৌন্দর্য যে এক প্রকার আয়না আগে বুঝি নাই, জলে ঢোলকলমির কাব্য পাঠ করে আমি ক্রমে অন্ধ হয়ে পড়ি। বুঝতে পারছি পাতার আড়ালে সব গান যে লুকিয়ে রাখে জলপিপি, ফলে ল্যান্ডস্কেপ করা সম্ভবই নয়। পাতা বুঝতে গেলে গান আর তার অদৃশ্য রং তো আঁকা হবে না। বিকালে পুকুর …

সম্পুর্ন​

কবিতা: যেভাবে বৃষ্টির বন্ধু মেঘের নিকট নিরুপায় আশ্রয় প্রার্থনা করল

জহির হাসান   আমার বন্ধু আমায় কেন তবু বৃষ্টি বলে ডাকে আমার ঘরের জানলা দিয়া তাকাই বহুত দূর তাহার চোখে আমি একটা পচা কুমড়া ফুল তাহার চোখে এই মহল্লার একটা ভিজা কুকুর রাস্তার উপর মুরগি খোজে কে গো দিনের বেলা আপনা ঘরে পোষা মুরগা থুইয়া মেঘের মধ্যে খোয়ায় যেসব উড়াজাহাজ …

সম্পুর্ন​

শামসেত তাবরেজীর দুটি কবিতা

নীল নদের তীরে আয় দেখে যা না কোবাল্ট ব্লু-এর উচ্ছ্বাস কোজাগরী এই রাত্রে, একে অপরের দায় নিয়ে এক নিঃশ্বাস বুভোয়াঁ এবং সার্ত্রে। কোমলে রেখাবে মিশেছে যেখানে চুম্বন অস্তিবাদের শর্তে, নাকি বৃথা গেল যুক্তির এ-আলিঙ্গন পশ্চিম খোড়া গর্তে। পিঙ্গল ঢেউয়ে কখনো সাদার সংস্কার কায়রো লভিল টংকা, স্ফিংসের মাথা নু’য়ে আসে, ক্লিয়োপেত্রার …

সম্পুর্ন​

মাসুদ খান-এর গানের লিরিক: পর্ব-১

গীতি ১. দেহখানা এই দেহ নয় ঠিক, শুধু সন্দেহ, ঘোর নেশা আজব ভাণ্ড, কীর্তিকাণ্ড, ভাণ্ডটা খুব পর-ঘেঁষা ।। আগুনকে বশ করছে পবন পবনকে বশ করে কোন্ জন? তরলে বায়ুর শাসন মণিতে আয়ুর আসন, অন্বেষা… আজব ভাণ্ড, কীর্তিকাণ্ড, ভাণ্ডটা খুব পর-ঘেঁষা ।। মাটি ও লবণ, দুজনেই বশ জলের কাছে মোম থাকে …

সম্পুর্ন​

কবিতা: তাবরেজীর সাথে একটি বিকেল

নান্নু মাহবুব   বেলতলার রাস্তায় বেরিয়েই তাবরেজীর সাথে দেখা। গাঢ় হলদে ছাপা শার্ট গায়ে তাবরেজীও দেখি বিকেলে হাঁটতে বেরিয়েছেন। আমি তাঁকে ধরে আমাদের বাড়ি নিয়ে আসি। আমাদের বাড়িটা অন্ধকার-অন্ধকার, খাট-টেবিল বাচ্চা-কাচ্চা কাপড়-চোপড় হৈচৈ’এ ঠাসা। তাবরেজী অর্ধেক-করে-কাটা মিষ্টির একটা মুখে দেন। স্বপ্নাকে বলি তাবরেজীকে সে চেনে কিনা। স্বপ্না ঠোঁট টিপে একটু …

সম্পুর্ন​

নিসর্গ সিরিজ ১

শিবলী সাদিক   বিদূষকের কথা বৃষ্টির পরে এখন সব শান্ত হয়ে এল, গাছের থেকে সুন্দর নেমে এল। জানি সব নাচ দেখা হয়ে গেছে, শাড়ির গোপন ভাঁজ দেখে কবি চলে গেছে। তাহলে সুন্দর কী দেখাবে? মঞ্চের বাইরে কী কিছু ঘটবে? বিদূষক হেসে বলে- নাচ দেখা শেষ, বাড়ি যাও এবার গাধার পিঠে …

সম্পুর্ন​

ঈভলিনের শহর ও অন্যান্য সম্পর্কগুলি

আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ   জগিং সোনার পাতা গুঁড়িয়ে দেবার মুহূর্তে পৃথিবীতে জলের ধারণা হলো। সেই ভরসায় তোমার চোখ থেকে চুলে তাকালাম। এই প্রথম উড়তে উড়তে নাম না-জানা পাহাড়ে পাখি হয়ে আছো। মেঘ থেকে মেঘে ঠোঁট দিয়ে খুঁচিয়ে জড়ো করে রাখছো বরফ হয়ে থাকা জলগুলি।   পিকনিক পিকনিক শেষে এগিয়ে আসলো …

সম্পুর্ন​

তমিজ উদদীন লোদীর কবিতা

বালিকারা ফিরবেনা এখানে বালিকারা ফিরেনি এখানে ধোঁয়া-গন্ধে আচ্ছন্ন তারা আর ফিরবেনা কখনো। ধোঁয়ার আড়ালে আগুন ক্রমশ লেলিহান শিখাসহ বলকে উঠছে দেখো; তারও আগে বালিকারা দেখেছে চাঁদ ডুবে গেছে আ্যশশ্যাওড়া-ঢালা জলে। বালিকারা দেখেছে নীল আতংকের রূপ- অন্ধ কারাবাস। হাইমেন ছুঁয়েছে বল্লম– অনিচ্ছুক যৌনতার ত্রাস। বালিকারা দৌড়চ্ছে খুব–উপান্তে করুণ বিভায় উদ্দীপনাহীন ঢেকে …

সম্পুর্ন​

গোলাম কিবরিয়া পিনু’র কবিতা

ভ্রমণকালে   ভ্রমণকালে ভূখণ্ড আরো খণ্ড খণ্ড অনুভবে আসে, চিরহরিৎ মিঠেপাতার বৃক্ষ সবুজের ঘাসে। অন্ধকার ঢাকা গুপ্তস্থান সেইখানে বিদ্যুতের গান, বৈদ্যুতিক গোলযোগ নেই–শুধু বিদ্যুৎ চমকায়। গরম কেতলি ধরার বস্ত্রখণ্ড নাই তরুগুল্মাবৃত ছায়ামগ্ন উপত্যকা খুঁজে পাই। ভ্রমণসৃজনে শীতকাল ও মেরুঅঞ্চল মৌন বুনোফল নিয়ে বিজুবনে গৃহকাতরতা গৌণ।   অভিকর্ষ সারেং নদীতে যাচ্ছে …

সম্পুর্ন​

সহসাই খুলে গেল

অদিতি ফাল্গুনী   ক. সহসাই খুলে গেল নিরুদ্ধ অর্গল এই গোপন জানালা প্রকাশিত হল নভোনীল অন্তরীক্ষ; মহাবিশ্ব সংবাদ… বলো, কীভাবে জেনেছিলে লুপ্ত অভিপ্রায়? জেনেছিলে মোহন পাতার ঝড়… আমার লুকনো বেদনা সেসকল হারানো স্বরলিপি… যা কিছু মাটির গভীরে পুঁতে রেখেছিল এই ভীরু মেয়ে তোমারই জন্য… সেই অবরুদ্ধ প্রেম কীভাবে জেনেছ ভৃগু? …

সম্পুর্ন​

শিবলি সাদিকের দীর্ঘ কবিতা

পদ্মপুকুর   ১ যদি পদ্মপুকুরে নামতে পারি তুলে নেব সব রং আর বর্ণলিপি পদ্ম হয়ে তাবৎ বিকাশ সেথা জ্বলে তার রং আর রূপ তাই এত অপরূপ দেশ-কাল জলে থর থর কাঁপে শোভায় মরণ হলে এই ঘাটে স্তব্ধ হয়ে অন্ধ হয়ে সব বাক্য ধরে বাকহীন হয়ে বসে থাকা, আর বসে থাকতে …

সম্পুর্ন​

ফেরদৌস নাহার-এর তিনটি কবিতা

জাদুর বাক্সে ঘর সারাদিন জ্বর জ্বর   জাদুর বাক্স হাতে হেঁটে যায়,কে যায়? মানুষের অদ্ভুত দুটি পা হেঁটে যায়, বাক্সে যায় তার সাথে ধুলোর সংসার। কত কবি নিয়েছে বিদায় পৃথিবীর কোলাহলে কত কবি করেছে অভিমান তাদের খবর আছে জাদুর বাক্সে ভরা গুচ্ছগুচ্ছ অযুথ সংবাদ… জন্মান্তর ঘুরে বেড়ায়, ঘোরে চোখ নাক মুখ… …

সম্পুর্ন​

কবিতা: ব্লেডলিখিত সত্তাচিহ্ন

শুভ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ১ চিরকাল ডিসেম্বরতাড়িত আমি ফেলে এসেছি ধারালো সুরের মধ্যে মাথা ও নির্ধারণ কোথায় সনেট থাকে? শান্তিপূর্ণ  দূরত্ব ভাষার শরীরে কি আমাদের বসবাস ছিল? রাস্তা জড়িয়ে যায় বালিকার ধূসর ফিতে ইশকুল ফেরত মাথা নামিয়ে রেখেছে এপাড়া তোর ছিল কোনওদিন? এই গলি আশ্রয়প্রবণ শক্ত ভিত এগিয়ে যাই মগ্ন দেহমন্ত্র জুড়ে …

সম্পুর্ন​

কবিতা: এক স্লাইস ঈদ

শামীম আজাদ   নতুনজামাটা নামাতেই হ্যাঙ্গারের হাড়ে হাড়ে কি নরম হাসি দিনতো গিয়াছে দূর্বার আমার তরকারি হাতে তখনো ঈদের সুগন্ধী সেমাই প্লেটে প্লেটে ফটোগ্রাফ দরজা দাঁড়িয়ে একা খিল খিল পা থেকে প্লাস্টিক এক দুই পাঁচ জোড়ায় জোড়ায় গ্লাসে গ্লাসে সহস্র সুষ্রুসা এন্টাসিড বিকেলে ব্রা ভরা বরষা ফ্রিজ ঠাসা ফিশ ফিংগার …

সম্পুর্ন​

মলয় রায়চৌধুরীর প্রহসন: ভরসন্ধ্যা

[একটি কদমগাছ ছেয়ে আছে ফুলে ; গাছটির চারিপাশে উবু হয়ে বসে উনত্রিশজন বুড়োবুড়ি আর জনা ছয় যুবক-যুবতী । সকলেই তারা ওপরে তাকিয়ে আছে কদম গাছের পানে ; বোঝা যায় তারা অপেক্ষা করছে গাছটির অন্ধকার থেকে একজন অতিমানুষের আগমন । লোকগুলো এসেছে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এ-আশায় কদম গাছটি নাকি সেই গল্পতরু …

সম্পুর্ন​

মঈন চৌধুরীর কবিতা

যতিচিহ্নের সুখ সত্য ও মিথ্যাকে খুঁজে একদিন চিহ্নকে পাওয়া গেল, যতিচিহ্ন, সমস্ত সমস্যার সমাধান। তারপর নৈশব্দের আলোড়নে জেগে ওঠে দ্বীপ, জল গড়িয়ে মিশে যায় সমুদ্রমহলে। ওখানে শব্দহীন মাছ, লাল রঙের সবুজ শ্যাওলা, বেগুনি রঙের হলুদাভ নীল আর তারপর আলোও নেই অন্ধকারও নেই। দেশকালহীন এই ক্লীব চুম্বক মাত্রাকে আনন্দ বলা যায়, …

সম্পুর্ন​

নাহার মনিকার কবিতা

সকলি আয়ান ঘোষ, কেউ কেউ রাধা ১ ছিটমহলের বুকে মধুভাণ্ড নিয়ে নদী কথা বলে ওঠে চোখের সামনে ভাসে মমীদের শরীরের বাঁক। তোমাকেও অমাবস্যা পাক, অন্ধকারে নদীকে জড়াও পানিপোকা হয়ে নেমে যাও, রত হও মূর্ছা যাও স্নানের বিরহে। পানির শরীরে গুজে প্রলম্বিত কাঁধ তারপর জেগে ওঠো আহত সম্বিত কাঁটাতার উলের গোলক …

সম্পুর্ন​

জুয়েল মাজহার-এর কবিতা

রুবিকন   আমার সামনে এক রুবিকন, পুলসিরাত, ভয়ানক ক্রুর অমানিশা এর সামনে একা আমি; কিস্তিহীন, নিরশ্ব, রসদহীন পিগমিদের চেয়ে ছোটো আমি! আর আমার ভাঙা হাড়, থ্যাঁতলানো খর্বকায় দেহের ভেতরে যতো রক্ত-পিত্ত-কফ-থুথু-বীর্য-লালা সবই অসীম বরফে-হিমে গ্রানিটের মতো ক্রমে হতেছে জমাট; আর ওই থেকে-থেকে ফুঁসন্ত ব্লিজার্ড এক, আর এক আনক্যানি করাল হিমানী …

সম্পুর্ন​

সপ্তর্ষি বিশ্বাস-এর একগুচ্ছ কবিতা

প্রতিশ্রুত পাথরের গা’য়ে কথা ছিল ফোটাবো গোলাপ – আজ দেখি পাথরে পাথরে শ্যাওলা ও সময়ের দাগ …           প্রতিশ্রুতির পাথরগুলো প্রতিশ্রুতির পাথর গুলো পথের পাশে ছড়িয়ে রেখে নিদ্রাবিহীন নদীর ধারে ঘুমিয়ে ছিলাম কাল সারারাত… ঘুমন্ত সেই রাত্রি জুড়ে বুকের নরম মাংস খুঁড়ে নৃত্যরতা ছিল আমার জন্মগত …

সম্পুর্ন​

কিছু কবিতা

আলতাফ হোসেন ১ এখন পরীক্ষায় কী হবে সাপখোপ হয়তো বেরবে যা টক্সিক,তাই তো নিদান হাসিমুখে আজ  ফিরে যান ঘাসমাটি না বলে এনেছে একদিন ওই দূর, দূর ফেরার, অচিন ২ রোদ, রিক্সার কথা ভাই বলে যাও পাহাড়টার ওপারে গেলেই শুধু হাওয়া হয়তো সেই পাখিখেকো গাছটিই এসে দাঁড়াবে সাত হাত তুলে দেখিয়ে …

সম্পুর্ন​

পাতাবাহার অন্ধকার

পাপড়ি রহমান মেঘ থইথই আকাশ, পাশে হাওয়া মেঘের ভেতর মেঘ হয়ে তার যাওয়া থমকে যেত, চমকে যেত মৃদু তনুর ভেতর ছাই হওয়া মন ধু ধু কিছুই সে আর পায় না যেন খুঁজে তৃণের পানে হাত বাড়ালেই বোঝে সবুজ সবুজ ঘাসের ডগা যত পলক ফেলেই দুঃখ ভারানত এমনি করেই বইত রাত্রিদিন …

সম্পুর্ন​

দারা মাহমুদের একগুচ্ছ কবিতা

দারা মাহমুদ   প্রেম মানুষ নিজের থুতু নিজে খায় পেটের ভেতর তা আবার জারক রসের কাজ করে তবে থুতু একবার মুখ থেকে বেরিয়ে গেলেই তা আর খাওয়া যায় না   পুরুষ পাথর পুরুষ পাথর বালি দিয়ে তৈরি নারীর টোকায় ভেঙে যায় একথা অভিললনা মৌনি যেমন জানে বস্তির বিন্দুও সেরকম  

পাঁচটি কবিতা

সুবীর সরকার ঘুঙুর যে কোনো রাস্তায় যাও দেখবে মরণপণ লড়াই। নদীর ধারে কুড়িয়ে পাওয়া পাথর নদীতেই ছুঁড়ে দিচ্ছি রাত জাগি,টোকা মেরে শীত সরাই সেতুতে ওঠার আগে অবস্থান বদল আর ভ্রু-সন্ধির ঘাম ঘুমের ভিতর আর ঘুঙুরের মতো বাজছে বিদ্রুপের সিটি। কিছু কলঙ্ক লেপে দাও, নিচু হয়ে কুড়োই।   গৌরচন্দ্রিকা রক্ত ডানা …

সম্পুর্ন​

কবিতা:গরম জামা

শামীম আজাদ নদী ও নক্ষত্র পেঁচিয়ে পাথর কাঠিতে উন্মাদের মতো উল বুনে চলেছি নখ থেকে নকশা উঠে আসছে নতুন নতুন স্তবকে স্তবকে পড়ে যাচ্ছে শেয়ারবাজার, মনপোড়া নদী, টিপাইমুখ, শৈশবের ফেনী ও ফণিকাকা, জয়দা জামালপুর, পাড়ভাঙা মনু নদীর মাটি ও সজিনার ঘ্রাণ। উগল মাছের মতো ঘাই মেরে উঠছে ফ্যাশন হাউস, মেকাপ …

সম্পুর্ন​

পাচটি কবিতা

স্নেহাশিস পাল গুপ্ত   মধুভ্রমরের তুলিতে পদ্মদিঘি কেঁপে-কেঁপে ওঠে। কোনও এক আরব-নর্তকীর নেশাতুর মুদ্রার মতো – কিঞ্চিত ঘাসে ঢাকা – ভাঙা পাড়ের সরু রাস্তাটা রূপকথা-রঙা ভোরের পেটে ঢুকে গেছে … তাল-বট-কৃষ্ণচূড়া-ছাতিম-শিরীষ-অর্জুন : মোহমুগ্ধ দর্শক; থ হয়ে দাঁড়িয়ে, চোখে রাত-জাগার অমৃতক্লান্তি একটু দূরেই মীরার মন্দির, তার নিবিড় চূড়ায় পড়েছে তোমার অভিমান …

সম্পুর্ন​

একগুচ্ছ কবিতা

মাজুল হাসান জলাতঙ্ক নগর সন্ত্রস্ত করতে একটা পাগলা কুকুরই যথেষ্ট—এই কথা জানে না নগর-পুলিশের পুরোধা ব্যক্তি অথচ কৃষ্ণচূড়ার লাল দেখে অনবরত হুইসেল বাজছে দৌড়ে আসছে দমকলগাড়ি জোড় ছাড়িয়ে সঙ্গমকে পোরা হচ্ছে ১৪ শিকের ভেতর… আমি ভাই ঘরেলু মানুষ; ভাদ্রমাসে রাস্তায় মা-বোন নিয়ে বেরুতে ভয় পাই। ভয় পাই শিমুল ফুলের পাশ …

সম্পুর্ন​