আরব বিপ্লবের কবি তামিম আল-বারঘুতি

অনুবাদ: মলয় রায়চৌধুরী [মিশরের তাহরির স্কোয়ারে যাঁর কবিতা বার-বার পঠিত হয়েছে, এবং পরে অন্যান্য আরব দেশগুলোর গণবিপ্লবে যাঁর কবিতা পড়া হয়েছে, তিনি তামিম আল-বারঘুতি। তামিম-এর জন্ম কায়রোতে, ১৯৭৭ সালে। তাঁর বাবা ছিলেন প্যালেস্টিনীয় কবি মুরিদ বারঘুতি এবং মা নামকরা ঔপন্যাসিক মিশরীয় নাগরিক রাদওয়া আশুর। এ-পর্যন্ত তামিম-এর চারটি কাব্যগ্রন্হ ও দুটি …

সম্পুর্ন​

তেলের ছড়া

সনতোষ বড়ুয়া খেল চলছে খেল ভিন দেশীরা নিচ্ছে কেড়ে বাংলাদেশের তেল । কারা খেলায় খেল ? গদির মায়ায় যারা ফাটায় টেকো মাথায় বেল । জানিস কিছু তুই ? কারা এসে নিচ্ছে কেড়ে গোলাপ- জবা- জুঁই । হায়রে সোনার দেশ যেতে যেতে সব গিয়েছে কোথায় অবশেষ ? হিসেব করি চল্ কারা …

সম্পুর্ন​

রবীন্দ্রনাথের জন্মের দেড়শো বছর স্মরণ: বাংলা ভাষা

মাসুদ খান [তাঁর হাতে গড়া এই আধুনিক বাংলা ভাষা। একে আরো বিকশিত করে তুলবেন, আরো উৎকর্ষের দিকে নিয়ে যাবেন ভবিষ্যতের প্রতিভাগণ—এ ছিল তাঁর আশা ও বিশ্বাস। তিনি জানতেন-ভাষা বহতা নদীর মতো। বহমানতা আর বদলে বদলে যাওয়ার মধ্যেই নিহিত এর শক্তি ও সম্ভাবনা।… রবীন্দ্রনাথ, সেই মহোচ্চ প্রতিভার উদ্দেশে নিবেদিত আমার এই …

সম্পুর্ন​

পশ্চিমবঙ্গের তিনজন কবি’র কাব্য-সমালোচনা

ইমরুল হাসান ‘পৃথিবীতে আজ আর হয় নাই কোনো ভাত রান্না’ — এই কথা শুইনাই বিনয় মজুমদার কইলেন, ‘ফাইজলামি করো, মিয়া! আর আমারে নিয়া কেন এত টানাটানি? আমি ত নির্বিবাদী, তথাপি গণিতজ্ঞ এবং গায়ত্রীরে ভালবাসি, এবং ভালবাসি বলেই আমি রেললাইনের ধার দিয়া হাঁটি চা’য়ের দোকানে গিয়া চা খাই; গোপনে মাওবাদীদের বাসনা’রে …

সম্পুর্ন​

দুটি কবিতা

রেজাউদ্দিন স্টালিন ভাস্কর্য এমন একটা জায়গায় এসে আরজ আলী দাঁড়িয়েছে সে জায়গাটার নাম দ্বন্দ্ব। জায়গাটা জ্যামিতিক হিসাবে বিন্দু কল্পনায় বৃত্ত । আরজ আলী ইচ্ছে করলে ফিরতে পারে— বাড়ির দিকে। আর না ফিরতে চাইলে দিগন্তের পর দিগন্ত কিংবা নীলের পরে নীল অথবা নদীর পর নদী। এরপর আর বাড়ি ফেরার জো- নেই,: …

সম্পুর্ন​

মজনু শাহ-এর তিনটি কবিতা

অস্তিত্ব অস্তিত্বের রঙ কী– মাঝে মাঝে ভাবি। যেমন কোনো রাজমহিষীকে দেখি নি কখনো, তবু তার মুখের রঙকাহিনি মনে পড়ে। ঐ হাবা অরণ্যের পাশে, চুম্বকের বিছানাই আমার সব। রাত্রিবেলা, প্রান্তরে, দেখা দেয় মহাজাগতিক ডিম। হারেমের রূপসীরা সেই দিকে দৌড়াতে থাকে। সবাই রঙ পেয়েছে, রসিকতাও। কেবল এই বহু ছিদ্রময় অস্তিত্ব, প্রতিমুহূর্তে অস্বীকার …

সম্পুর্ন​

অস্পৃশ্য

ইকবাল আজিজ দাঁড়িয়েছিলে সকাল থেকে পথের ধারে– তোমায় কেউ ছোঁয়নি কোন রানী। তুমি একাই টানলে ব্যথার ঘানি তোমায় নিয়ে কেবল কানাকানি। দাঁড়িয়েছিলে সকাল থেকে পথের ধারে পড়েছিলো কি ভূতের ছায়া তোমার ঘাড়ে তোমায় তাই ছোঁয়নি কোন পরী। তারা সবাই চললো তাড়াতাড়ি তারা শধুই দেখলো কালের ঘড়ি। তোমায় কেন ছোঁয় না …

সম্পুর্ন​

স্মৃতিলেখা

আর্যনীল মুখোপাধ্যায়   কথা বলতে শিখে সে ক্রমশ পারলো বুঝতে পারলো প্রতিনিয়তের এই ভাষা তার ঘ্রাণেন্দ্রিয়ের মাধ্যমে যে তীব্র নিদারুণ বহতা অভিজ্ঞতা জমা হচ্ছে প্রতিদিন তার কথা বলতে পারেনা সেসব কথা বলার মতো লিঙ্গ শেকড় মোচড় বা রেনল্ডস নাম্বার কথার ভাষায় নেই যেখানে রাতের সকল তারা দিনের আলোর গভীরে  চিক্ …

সম্পুর্ন​

সেইসব চেয়ে দেখা: গদ্যপদ্য কোলাজ

ফেরদৌস নাহার আনমনা  হাঁটতে হাঁটতে চলে গিয়েছিলাম বেশ খানিকটা দূরে।  আকাশের খোলা দেয়াল বেয়ে নীলরঙ চুইয়ে পড়ছে। অন্টারিও লেকের জলে তার ছায়া পড়ে পুরো দৃশ্যটাকে একেবারে পার্শিয়ান ব্লু করে দিয়েছে। এই জায়গাটার নাম গিল্ডউড পার্কওয়ে,যার পাশ ঘেষে যেতে যেতে শোনা যায় বয়ে যাওয়া স্রোতস্বিনী লেক অন্টারিওর গভীর গান।  আমি সেই …

সম্পুর্ন​

আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ-এর তিনটি কবিতা

রিডিং গ্লাস ১ সমুদ্র লাগছে চোখে জল কাচ জল মণি কালো পর্দা সরে গিয়ে পুরোটাই নীল এইবার নারী হচ্ছে না কথাও বলছে না চুপ করে কেউ পাথর সরিয়ে ধরছে চাঁদ। সবুকিছু শুনতে পাচ্ছি মুখ মুখোশ হত্যাজমজ তাদের ফেলে দিয়ে ধীরে ঘরের সামনে আলপথের সূর্য তার ডিগবাজি পাতালরশ্মি। ক্ষেত করে আসছে …

সম্পুর্ন​

উইকএন্ড

মিতুল দত্ত সম্পর্ক আসলে এক বেড়াতে যাবার সম্ভাবনা দূর পাহাড়ের দেশে, যেখানে কুয়াশা ঘন আরও সম্পর্ক আসলে এক সারাদিন ছিপ ফেলে রাখা গভীর জলের কাছে, গভীর মাছের দুরাশায় তুমি যা জেনেছ, রাত্রি, তার বেশি আমিও ভাবিনি আমিও পারিনি এত দ্বিধাহীন হয়ে বেঁচে থাকা এই দ্বিধা, সন্দেহের দোলাচল সম্পর্ক আমার থাকা …

সম্পুর্ন​

দুটি কবিতা

নান্নু মাহবুব মন্দ্রপুরাণ শিশুটি লাফ দিয়া রাজার কোল হইতে আমার কোলে চলিয়া আসিল। আমি একটু সরিয়া দাঁড়াইলাম। পুরোহিত হাসিলেন, কহিলেন, ‘অভিজ্ঞতা কি পাথর যে উহা লাভ করিবেন?’ তখন চারিদিক হইতে ইস্টক নিক্ষেপ শুরু হইল। তবে ইস্টকগুলি কাছে আসিবামাত্র তুষারের মণ্ডের ন্যায় বিদীর্ণ হইয়া পেঁজা তুলার ন্যায় উড়িতে লাগিল। ভারি ভারি …

সম্পুর্ন​

টোমাজ ট্রান্সট্রোমার প্রমাণ করলেন শুধু কবিতা লিখেই টিকে থাকা যায়

আবদুর রব সাহিত্যে ২০১১ নোবেল বিজয়ী সুইডেনের কবি ও মনস্তাত্ত্বিক টোমাজ ট্রান্সট্রোমার প্রমাণ করলেন যে শুধু কবিতা লিখেই টিকে থাকা যায়। জয় করা যায় বিশ্বকে। ১৯৯৩ সাল থেকে বারবার নোবেল কমিটির বিবেচনায় আসলেও নিজ দেশের এই মহামূল্যবান পুরস্কারটি হাতে পেতে তাঁর লেগে গেল আরও প্রায় দুই দশক! ট্রান্সট্রোমার ১৯৩১ সালের …

সম্পুর্ন​

মরে গেলি, অরুণেশ?

মলয় রায়চৌধুরী মরে গেলি? সত্যিই মরে গেলি নাকি অরুণেশ? রূপসী বাংলার খোঁজে আসঙ্গ-উন্মুখ শীতে বেপাড়া-ওপাড়া ঘেঁটে শেষ-মেশ ঝিলের সবুজ ঝাঁঝরিতে ডুব দিলি ! যবাক্ষারযানে কালো বিষগানে আধভেজা উলুপীর সাপ-রক্ত মিঠেল শীৎকারে হৃদযন্ত্রে দামামা বাজতেই বুক খামচে জলে নেমে গেলি, বাড়িতো পিছনে ছিল; সেদিকে গেলি না কেন? ডাঙার গেঁজেল হায়নারা যৌবনে …

সম্পুর্ন​

তুচ্ছপুচ্ছ ভাবনাগুচ্ছ

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল ২৯/০৯/১১ যখন আমরা আবাদি জমির বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামলাম- ভাঙচুর করলাম বাংলাদেশ,  জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে দিলাম বাংলাদেশ তখন ভাসমান মেঘ মুখ ফিরিয়ে ফিরে গেলো মেঘালয়ে।   ২৯/০৯/১১ বহু বছর পর যখন ঘুমোবার প্রস্তুতি নিলাম, তখন চৌকির ছারপোকাগুলো জেগে উঠলো। আমাদের পিতাকে যখন টুঙ্গিপাড়ায় কবর দিলাম সেদিন স্বপ্নে পেলাম শিশু সন্তান! …

সম্পুর্ন​

শামীম আজাদের কবিতা

দেন দরবার যে ভাবে জীবনকে কামড়ে ধরেছি তাহার খবর আছে, এখন ঝেড়ে ফেলে দিলে ঝামেলা আছে… শুদ্ধ পাথরের পাড়ে অদৃশ্যের সাথে দ্বিধাদাগ ফেলে স্বপ্নসামুখে দেহতন্তু কেটে কেটে পালং শাক আর বরবটি মটরসুঁটি তোলা এক অথবা দুই দণ্ড দাঁড়িয়ে থাকাইতো ব্যাপক ব্যাপার সেখানে আমি কিনা প্রায় পঁয়ত্রিশ বছর ঘাড় ও হাড়ের …

সম্পুর্ন​

তাই কবিতা

অনুবাদ: মাসুদ খান বুদ্ধদাস ভিক্ষু (১৯০৩-১৯৯৩)  অন্ধ আঁখিগুলি, দেখতে-পারা চোখগুলি তাকিয়ে থাকে পাখিদের ঝাঁক, অনেকক্ষণ কিন্তু কখনোই দ্যাখে না আকাশ কখনো মাছের ঝাঁক দ্যাখে না পানিকে, ঠাণ্ডা ও পরিষ্কার কেঁচোরা তাকিয়ে থাকে মাটি খায় দ্যাখে না মাটিকে কীটেরা ময়লা ঘাঁটে দ্যাখে না ময়লাকে মানুষ তো সবখানেই, অথচ দ্যাখে না দুনিয়াকে তারা ভোগে, অবশ্যই ভোগে বিষাদে, উদ্বেগে অথচ বৌদ্ধরা ধর্ম্মে শরণ নিয়ে তরিকামতে চ’লে সত্যের …

সম্পুর্ন​

তাই কবিতা

অনুবাদ: সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ তাই তাই তাই মামাবাড়ি যাই। প্রথমেই দ্বন্দ্ব: তাই নাকি থাই (নাকি এমনকি দাই?)? বাংলায় চিরকাল দেখে-শুনে এসেছি থাইল্যান্ড। এই অস্ত্রাল মুল্লুকে, কর্মস্থলে একবার “থাই সূপ” আমার প্রিয় তা এলান করতেই, এক শ্বেতাঙ্গ কলিগনি জিগান মুরগির রানের কথা কইতেছি কীনা। পরে এদেরকে বলতে শুনি টাইল্যান্ড। তো তাই, …

সম্পুর্ন​

সাঁকো –উজান-তুমি

মহুল বসু এক ছাত হয়, সম্পর্ক জুড়ে বিছানার চাদরে ঢাকা চেতনা। নিপুন বুনটে শীতলতা, শীতল পাটির… ছাইতে-নাইতে, বছর ঘুরে যায়। হলুদ নেশা ধরে, কপাট-রুদ্ধ জীবন ফাঁকফোকড় দিয়ে সূর্যস্নান। শূন্য থেকে কাঁধে চুমু খায় সন্ধ্যা তারা… প্রেম ঢুকে পড়ে বন্ধ করিডোরে। তোমার স্পর্শ, বাঁচতে ডাকে… আয়, এদিক-সেদিক, একাল-সেকাল। এক পা এগোলে …

সম্পুর্ন​

তিনটি কবিতা

সুকুমার চৌধুরী   নিষ্ক্রমণ পালিয়ে আসি। সে তো অতি সাধারণ বলে। খড়কুটোও হতে পারি নি বলে হয়তো বাঁচাতেও পারি না ডুবু ডুবু মানুষদের। একটু যে লজ্জা হয় না তা নয় কিন্তু তাও কেটে যায় কিছুদিন পর আমাদের জীবনে প্রতিদিন নতুন নতুন লজ্জা গ্লানি ও মেচেতা। পালিয়ে আসি। সে তো অতি সাধারণ …

সম্পুর্ন​

সন্দীপিত জলপিপি

পাপড়ি রহমান   ধূসর বরন মেঘ করেছে তখন রোদ্দুরে তেজ ছিল না মোটে আর হাসপাতালের হিমশীতল ঘরে দেখা হলো বকুল আর বাবার আকস্মিক এই রোগশয্যার দিনে কেউ রাখেনি বাবার কোনো খোঁজ আকাশ ভেঙে পড়লো বুঝি ঘাড়ে আকুল হয়ে বকুল কাঁদছে রোজ অক্সিজেনের মুখোশ দিয়ে ঢাকা অচল বাবার সরল মুখখানি ঝাপসা …

সম্পুর্ন​

অংকুর সাহার ছড়া: বারাক ওবামা (১৯৬১ – )

[প্রাককথন: এমন একটা সময় ছিল যখন পৃথিবীর সব ক্রিকেট খেলোয়াড়রাই আমার চেয়ে বয়েসে বড়— ডন ব্র্যাডম্যান থেকে শুরু করে সুনীল গাভাসকার। তারপর ১৯৭০ দশকের দ্বিতীয়ার্ধে আমার সমবয়েসিরা শুরু করলেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। বর্তমানের ক্রিকেটাররা সবাই আমার হাঁটুর বয়েসি। আমেরিকার রাষ্ট্রপতি পদে বরাক ওবামার মনোনয়ন এবং নির্বাচন এক যুগান্তকারী ঘটনা। ২০০৮ সালের …

সম্পুর্ন​

পাঁচটি কবিতা

ফারহানা ইলিয়াস তুলি   অভিবাসন হ্যারিকেন আইরিন নিউইয়র্ক স্পর্শ করার আগেই জেগে উঠে আমাদের আত্মা। আমরা বেহিসেবি নই। চিনি, অংকের ঘরবাড়ি আর জ্যামিতির কম্পাস খুলে নির্ণয় করি দিকের উত্তর-দক্ষিণ। কোথা থেকে ঢেউ আসে, কোথায় চলে যায়। রেখে যায় ধ্বংসবিলাস ! ভাঙারও একধরণের অহংকার থাকে। থাকে গড়ে তোলার সুবর্ণ লীলাকাল। সেই …

সম্পুর্ন​

আলতাফ হোসেনের একগুচ্ছ কবিতা

কবিতা ১ ওদের মহলে যেতে চাই নিজেরা নিজেরা বেশ মশগুল, চলছে গুলতানি আয়নায় মুখ দেখে দেখে ক্লান্ত আমি একজন লিখছে কিছু ফেসবুকে বিশজন ঝাঁপিয়ে নামছে প্রকাশ্যে এমন আড়ালে আড়ালে আরও কত কত বার্তা বিনিময়, কত খুনশুটি চলেছে আমি সব দেখতে পাই, শুনতে পাচ্ছি আমি আমার কথাই বলছে, আমাকে যে নেবে …

সম্পুর্ন​

সেলিম রেজা নিউটনের কবিতা

জেনের কবিতা: মেঘবৃষ্টির পথ  (ফিলিপ তোশিও সুডো, জেন সেক্স: দ্য ওয়ে অফ মেকিং লাভ, হার্পারকলিন্স ই-বুকস: ক্ষমাপ্রার্থনাপূর্বক)   নিশ্চলতার পথ জেন-বনে, বরষার সনে নিশ্চল বসে থাকা, পড়ছে না শ্বাস… বরষা আসছে তবু, বেড়ে উঠছে ঘাস।   পিরিতের পথ জেন-যৌনতার ফাঁকে ফাঁকে চিহ্ন যত জমা হলো সুদিনে-দুর্দিনে— কারা সব লিখতে যাবে, …

সম্পুর্ন​

মাসুদ খানের অনুবাদ (৩)

১ম কিস্তি: পাবলো আন্তোনিও কুয়াদ্রা ২য় কিস্তি: ডেইজি সামোরা আলফানসো কোর্তেস (১৮৯৩-১৯৬৯) [এক কিংবদন্তির জায়গা অধিকার করে আছেন কবি আলফানসো কোর্তেস, লাতিন আমেরিকান সাহিত্যধারায়। ১৯২৭ সালে, চৌত্রিশ বছর বয়সে, ১৮ ফেব্রুয়ারির ঠিক মধ্যরাতে দেখা দেয় ঊনপঞ্চাশ বায়ুর প্রকোপ। ওই বিখ্যাত ঘটনার পর থেকে কবি কিছুদিন থাকেন ভালো, কিছুদিন ছিটগ্রস্ত, পর্য়ায়ক্রমে। …

সম্পুর্ন​

মাসুদ খানের অনুবাদ (২)

১ম কিস্তি:পাবলো আন্তোনিও কুয়াদ্রা ডেইজি সামোরা (১৯৫০- ) [সমকালীন মধ্য-আমেরিকান কাব্যক্ষেত্রের গুরুত্বপূর্ণ বুজুর্গদের মধ্যে ডেইজি সামোরা অন্যতম। তাঁর কবিতায় ধ্বনিত হয় এক আপসহীন কণ্ঠস্বর। দৈনন্দিন জীবনের নানা খুঁটিনাটি পুঙ্খে-পুঙ্খে উঠে আসে তাঁর কবিতায়। রাজনীতি থেকে শুরু করে মানবাধিকার, বিপ্লব থেকে শুরু করে বিভিন্ন নারীবাদী ইস্যু, ইতিহাস থেকে শুরু করে শিল্পসাহিত্য, …

সম্পুর্ন​

পিয়া ট্যাফড্রাপের একটি অবিস্মরণীয় কবিতা

পিয়া ট্যাফড্রাপ ডেনমার্কের শীর্ষস্থানীয় কবি। জন্ম ২১ মে ১৯৫২। ২০০৮-০৯ এর শীতকালে আমি ”তুষারে একাকী ঋক্ষ” নামে স্ক্যান্ডিনেভিয়ার কবিতার একটি বাংলা অ্যান্থোলজি সম্পাদনার কাজে রত ছিলাম। তখন তাঁর সঙ্গে প্রথম যোগাযোগ। সদ্য নতুন দিল্লির এক কবিতা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ফিরেছেন তিনি– ভারতবর্ষ সম্পর্কে গভীর উৎসাহ। তিনি ভারতবর্ষে গিয়েছিলেন মুম্বাই এর …

সম্পুর্ন​

কবিতাগুচ্ছ

সৈয়দ তারিক ১. পড়েছি যাবে না বলা প্রেমে, পড়ি নি তাও তো ঠিক নয়, অর্ধেক প্রেমন্ত আর নেভা আধখানা– ভূতুড়ে সে বেড়ালের মতো মনে হয়। তাকে আমি চাইছি তা নয়, এমনও না– ভুলে আছি তাকে, বেখেয়ালে বাঁয়ে যাই, সাথে সাথে ঘুরে যাই ডানে– কেউ না পড়ুক–হায়– এমন বিপাকে। ২. আমাকে …

সম্পুর্ন​

মারাসিম

রমিত দে \\১১// ওই গাছটা পর্যন্ত আমার বেড়ে ওঠা, তারপর, আমি একটা ঘটনা একটা মুখচোরা নির্যাস। এই সন্ধ্যায় ওরা কারা? স্নানে বেজে যাওয়া মেলানকলি! আজ সব সত্যি বলো…. দেখো, ঠিক ঠিক জানলা নিভিয়ে আমি বেজ়ে যাব অরন্যের আবদারে।                                 //১২\\ আমার মৃতদেহ ফিরিয়ে আনছে ওরা। সব হলুদ সব নষ্ট জন্মের …

সম্পুর্ন​

এলিজি

সুবীর সরকার ১। তাঁতশিল্পের কথা শোনাই মৎসপিপাসুকে প্রধান খাদ্যের বদলে রকমারী                     দ্রব্য ঢালু চালের বাড়ি। কাঠের                  পা। বৃষ্টিহীন মাঠে মাঠে কাঁটাগাছ সংরক্ষণ কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে ফলাহার চর্মরোগীদের নিযুক্ত করা হচ্ছে                     গালিচা শিল্পে চা-পান বিরতিতে বাঁশি শুনি পেখম মেলার অবসর পায় না                     ময়ুরী ২। খামারবাড়ি চলে যাচ্ছি নির্বাসনে যেখানে লালশাক, ভেটকি …

সম্পুর্ন​

মাসুদ খানের অনুবাদ কবিতা

__________________________________________________________________________________________ কবি মাসুদ খানের কবিতা কী তা পাঠকেরা জানেন। কিন্তু  এবার মাসুদ খানকে আমরা অনুবাদক হিসেবে দেখতে পাব সাহিত্য ক্যাফের পাতায়। নিকারাগুয়ার তিন কবি পাবলো আন্তোনিও কুয়াদ্রা (১৯১২-২০০২), আলফানসো কোর্তেস (১৮৯৩-১৯৬৯) ও  ডেইজি সামোরা (১৯৫০-)’র বেশ কিছু কবিতা অনুবাদ করেছেন তিনি নিজের ভাষায়। ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হবে তাঁর  এই অনুবাদ। তাই চোখ …

সম্পুর্ন​

দুটি কবিতা

নান্নু মাহবুব বন আবার সে বনে যাওয়া যায়। বারবার যাওয়াই তো যায়। কে কোথায় সরিয়ে রেখেছে ভাসমান সোনার প্রাসাদ? নীল বাড়ির ছাদে, বারান্দায়, লাল বালতি রাখা আছে। ঘুড়ি নেই কোনো? এখনো ঘুমিয়ে রয়েছে বসতি।   জাতিস্মর আজ আর অবকাশ নেই। হাতে রামধনু নিয়ে তুমি শিকারে গিয়েছো। ষাঁড়ের হৃদয় নিয়ে ছুটে …

সম্পুর্ন​

মলয় রায়চৌধুরীর কবিতা

মর মুখপুড়ি   এই বেশ ভাল হল অ্যামি, বিন্দাস জীবন ফেঁদে তাকে গানে-নাচে-মাদকের জুয়ার পূণ্যে আ্যামি, কী বলব বল, অ্যামি ওয়াইনহাউস, অ্যামি, আমি তো ছিলুম তোর জানালার কাঁচ ভেঙে ‘ল্যাম্ব অফ গড’এর দামামায় বাজপড়া-গিটারের ছেনাল-আলোয় চকাচৌঁধ ভাম আ্যামি, আমি তো ছিলুম, তুই দেখলি না, হের্শেল টমাসের শিয়রে বিষের শিশি মাধুকরী …

সম্পুর্ন​

বারীন ঘোষালের কবিতা

কবিতা একটি প্রণালীর নাম   কবিতা প্রণালীর মধ্যে গড়িয়ে এল কবেকার প্রাম প্রেম কোনটানে এসেছে যাদুঘরের দরজায়     সুন্দরীকে সুন্দরীদের যাঃ যাদুঘরের ভেতরে ওদের মানামানি একটা পুলিঙ্গ নিয়েই সারাজীবন কেটে গেল হে বায়ুবিনা বীণা পললের পল পলকের হাস মুখের পাতায় দেয়াল নেই ফ্রেমটা নতুন প্রেমের খোঁজে চাঁদ নেই হারেরেম গুরুম চাঁদমারি …

সম্পুর্ন​

তিনটি কবিতা

ফকির ইলিয়াস   পরিচিত জলধ্বনি   রত্নের রহস্য নিয়ে থাকো, আর রাখো বিছিয়ে আঁচল এরকম এই ঘাটে কতোবার ছুঁয়েছি যে জল তার হিসেব মনে আছে আমার, কৌশলে ধারণ করে পরিচিত জলধ্বনি রঙ, পিছু ফেলে সেইসব শকুনের নগ্ন নখর পরিখা পেরিয়ে এসে আমিও, সাজিয়েছি উনুন প্রহর। রূপের আয়না ধরে রাখো, আমি …

সম্পুর্ন​

চারটি কবিতা

শামস আল মমীন    ওরা চিৎকার করে কিছু বলতে শেখেনি প্রকৃত জ্ঞানীরা শেষমেশ যুক্তিবাদী হয়ে ওঠে, কারণ কোনকিছু ওরা চিৎকার করে বলতে শেখেনি। একটা কবিতা মিথ্যেবাদীর সাজানো গল্প হতে পারে একটা কবিতা নিন্দুকের রটনাও হতে পারে; হতে পারে শুধু এর শুরুটাই মিথ্যা। মিথ্যুকেরা ভিতরে ভিতরে সত্যকে পরাস্ত করে। টেলিফোন বাজে, …

সম্পুর্ন​

অনুবাদ কবিতা: মাতাল তরণি

অনুবাদ: আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ   অসাড় নদীর ভেতরে ঢুবে যাওয়ার সময় আমি আর টের পাইনি আমাকে টানছে কোনো বাঁধন উজ্জল লাল চামড়া নিয়ে গেছে বণিকদের লক্ষ্যে রঙিন কাঠের খুঁটিতে গেঁথে তাদের নগ্ন। আমি উদাসীন আমার নাবিকদের প্রতি যারা বহন করছিল ফ্লেমিশ গম বা ইংলিশ তুলো যখন বণিকদের সব গর্জন থেমে …

সম্পুর্ন​

শিবলি সাদিকের কবিতা

কন্যার সাথে খেলা আমার শিশুকন্যার সাথে খেলার নেশায় সাত তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরি, শহরের মেট্রো, বাস, বাতিস্তম্ভ— সকলেই জানে শিশুকন্যাটিই শুধু এসবের খবর রাখে না আমাদের খেলার নিয়ম খুব ঠিক করা নাই, তবে হামাগুড়ি দিয়ে শুরু হলে সবচেয়ে মজা হয়, কারণ হামাগুড়ি দিয়ে এমন সব সুর আর সুড়ঙ্গের ভিতরে যাওয়া যায়, …

সম্পুর্ন​

দুটি কবিতা

মজনু শাহ   ঘুঘু ঘুঘুদের ডাক শোনামাত্র আমার মাথা শয়তানি চিন্তায় ভরে ওঠে। তুমিও কম বজ্জাত নও, বাজিয়ে দিয়েছ হেমঘণ্টা। কাকাবাবু, আমার কথায় কি আর মৃত তারাগুলো ঝরবে? সাদা রঙ সম্পর্কে গত ছ-সাত বছর প্রায় কিছুই ভাবি নি, রাত্রির আকাশ এখনো নিরক্ষর। সাদা মাকড়শার সঙ্গে অবশ্য মাঝে মধ্যে দেখা হয়, …

সম্পুর্ন​

চারটি কবিতা

সিদ্ধার্থ হক স্বপ্নের জলপান সুগভীর তৃষ্ণা নিয়ে ঘুমিয়ে পড়লে জলপান স্বপ্নে দেখা দেয়। তৃষ্ণা মেটে না তাতে, ঘুম ভেঙ্গে যায়, বেদনায় জলের সকল পাত্র, কেন যেন, অস্পষ্ট নিদ্রায়। যাকে তুমি ছুঁতে চাও স্বপ্ন মধ্যে জলাধার ভেবে ছোঁয়া মাত্র সে-ই দ্রুত অনির্দিষ্ট হয়ে ভেঙ্গে যায় শূন্য থেকে দূরবর্তী শূন্যের ঘূর্ণনে তৃষ্ণা …

সম্পুর্ন​

তিনটি কবিতা

গৌতম চৌধুরী স্পর্শ আসল জাদু— স্পর্শ করায় স্পর্শে ভীষণ রোমাঞ্চ, তাও আড়াল থেকে শিউরে ওঠা বাতাস পাঠায় অপস্মৃতি তার মানে ভয় তেপান্তরের দিকহারানো মাঝদরিয়ার তরঙ্গপথ বজ্রপাতে বিলকুল জল খাক হয়েছে পাঁজর দাঁড়া পুড়তে পুড়তে এখন ধুধু অনন্ত খাদ জোসনা অব্দি ঠিকরে কালো অদ্ভুতুড়ে মহানিমের দীঘল ডালে বাদুড় ঝুলছে লক্ষ লক্ষ …

সম্পুর্ন​

যশোধরা রায়চৌধুরীর কবিতা

অন্তর্জলী যাত্রা   ক্রমশ সমস্ত দেহ থেকে জল কাটতে কাটতে মেয়ের হাত পা মাথা সব জলের তলায় তুই শশা নাকি তরমুজ গরমে গলে যেতে লাগলি টাটকা সবুজ পাতাঢাকা বাঁধাকপির মত যাকে তুই চিনতিস বেজায় কম বয়সে আর যার আক্কেল বলতে কিছু ছিল না বলে সবার সামনেই হাঁপাত, বলে দিত মনখারাপের …

সম্পুর্ন​

চারটি কবিতা

দারা মাহমুদ স্মৃতিঘর   খোলস ছাড়তে ছাড়তে সে ছুটে যায় দিন আর রাত্রির টানেল বরাবর তার পিছনে ধাওয়া করে তারই ছেড়ে আসা মুখোশগুলো একদিন যাদেরকে নায়িকা ভেবে প্রবল বিভোর ছিল আজ তারা প্রেত হয়ে মেলে ধরে দাঁতের করাত পৃথিবীর এসব বীভৎস ইমেজ থেকে দূরে— কোনো অচিনপুরে যেখানে মধু ও মদের …

সম্পুর্ন​

পাঁচটি কবিতা

পিয়াস মজিদ       তোমার গিলোটিনে একটানা চব্বিশ বছর ক্রমাগত গোধূলিপাত। সন্ধ্যালহরিও বেঁকেচুরে যায়। সে থেকে থেকে দেখে নিঝুম নদীগুলো দাউ দাউ অগ্নিতে আত্মহত্যা করে। তৃষ্ণার মওসুমে সুরভির কাননে শুধু গরম পানির ঝরনা। লাইটপোস্টে ঘনীভূত অন্ধকারমালা। তারপর বনভূমির সবুজ মোহর এবং কালো কোয়েলিয়া সাথে নিয়ে আমি যাব তোমার গিলোটিনে। …

সম্পুর্ন​

অনুবাদ কবিতা:রেইনার মারিয়া রীল্কের ৩টি কবিতা

অনুবাদ: ওয়ারিসুল আবিদ পূর্বাভাষ আমি পতাকার মত— উন্মুক্ত আর বিশাল স্থান দ্বারা বেষ্টিত, অনুভব করতে থাকি দূর-আগত বাতাসের— আর তারই মাঝে অবশ্যম্ভাবী বসবাসের; যখন অন্য সব কিছু নিজেতে নির্বাক: দরোজাগুলো নিঃশব্দে বন্ধ, চিমনিগুলোতে বিরাজমান নিস্তব্ধতা; জানালাগুলো স্থির, আর ধূলার আস্তরণ ভারি ও গহ্বরের মত কৃষ্ণকায়। ঝড়কে আমি চিনি, তাইতো আমি …

সম্পুর্ন​

দুটি কবিতা

আলতাফ হোসেন   ধারাবর্ণন   ধ্বংসের মধ্য দিয়ে যাত্রা উনি আরামসে বলেন আর উট উড়ে যায় সপ্তম শতক থেকে একুশের অন্তিম অবধি এই দ্রুত, এই ধীর, এই মধ্য লয়ে রোদ কিংবা ছায়া আজ অচেনা-যে কেউ তা বলেনি প্রিয় গায়ত্রীর গান সমাপ্ত হতেই স্বর সমবেত : সব আজ শেষ হোক শেষ …

সম্পুর্ন​

স্মৃতিলেখা

আর্যনীল মুখোপাধ্যায় জীবন ও কবিতার মধ্যে একটুকরো কালক্ষয় আছে যাকে কিছুতেই মানা যায় না অথচ বিদ্যুৎ ও বাজ কিন্তু মেনে নিয়েছে বৃত্তকে আমি বাদ দিয়েছি কবিতার যে চোঙা তার দুধার খোলা যে মলিন পানি আসে যায় তার মালিন্যতা প্রধান নয় স্রোতে ভাসা নয় শুধু যাওয়া আসা মানুষের রূপকের   সেই …

সম্পুর্ন​

দুটি কবিতা

মাসুদ খান দীক্ষা পথ চলতে আলো লাগে। আমি অন্ধ, আমার লাগে না কিছু। আমি বাঁশপাতার লণ্ঠন হালকা দোলাতে দোলাতে চলে যাব চীনে, জেনমঠে কিংবা চীন-চীনান্ত পেরিয়ে আরো দূরের ভূগোলে,,, ফুলে-ফুলে উথলে-ওঠা স্নিগ্ধ চেরিগাছে মৌমাছির গুঞ্জন শুনব নিষ্ঠ শ্রাবকের মতো, দেশনার ফাঁকে ফাঁকে। মন পড়ে রইবে দূরদেশে। সাধুর লাঠির বাড়ি পড়বে …

সম্পুর্ন​

আদুনিস-এর কবিতার গদ্যানুবাদ

মলয় রায়চৌধুরী   বিশ্বাসঘাতকতা হে রাজদ্রোহের স্বর্গসুখ হে বিশ্ব যা আমার পদচিহ্ন জুড়ে— হে প্রাচীন মৃতদেহ— হে জগত যার প্রতি আমি বিশ্বাসঘাতকতা করেছি আর আজও করে চলেছি আমি সেই ডুবন্ত মানুষ যার চোখের পাতা প্রার্থনা জানায় জলের গর্জনের প্রতি। আর আমি সেই ঈশ্বর যে অপরাধের জগতকে আশির্বাদ করে আমি একজন …

সম্পুর্ন​