শহুরে কবিতা – ২ ফারুক হাসান

১. ঘাতক শহর কিছুই নিরাপদ নয় গা-গতরে বেড়ে ওঠা ঘাতক শহরের হাতে। আমি, গ্রাম, বৃক্ষ, ঘাস, নিরেট অন্ধকার, জোৎস্নার আলো, জোনাকীর কারুকাজ, অলস দুপুর, কিছুই নিরাপদ নয় ঘাতকের হাতে। এখানে ক’দিন আগে কাশবন ছিলো, কেউ কি জেনেছে কখনো? পৃথিবীর বয়সী সে বন হেরে গেছে কংক্রিটের …

শৈশবের উৎসব – উৎসবের শৈশব: অপর্ণা হাওলাদার

বলা হয়, উৎসবের ধরণ দিয়ে একটা সমাজের অনেক কিছুই বোঝা যায়। কিছু চেষ্টা করা যাক। মনে রাখা দরকার, নব্বই দশকে আমার শৈশবের যে বরিশাল শহরের কথা বলছি তা অনেক পুরনো, তখনো বরিশাল প্রায় গ্রাম। গ্রামীণ হিন্দু সমাজের উৎসবগুলোই প্রাধান্য ছিলো আমাদের পরিবারে। খাবারে, আচারে, কর্মে, …

‘ঝিল্লি’: কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের সেরা ছবি

অভিষেক ঘোষ ফিল্ম : ‘ঝিল্লি’ (Discards, 2022) চিত্রনাট্য, সিনেমাটোগ্রাফি, সম্পাদনা ও পরিচালনা : ঈশান ঘোষ । অভিনয়ে : অরণ্য গুপ্ত, বিতান বিশ্বাস, সৌরভ নায়েক, শম্ভুনাথ দে, সায়নদীপ গুহ, ভাস্বতী হালদার, প্রিয়া সাহা রায়, রাজু হালদার । আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বরাবরই বিদেশি সিনেমা দেখে উচ্ছ্বসিত হয়েছি …

কামরুল হাসানের দীর্ঘ কবিতা: বাঘ ও হরিণী উপাখ্যান

বয়স হলে বাঘের হরিণপ্রীতি খুব কমে যায়, বাঘ আর শিকারে কি সেভাবে তাকায়? যেভাবে দেখতো যৌবনে হরিণীর চকচকে দেহ হরিণী গাত্রের রেখা বাঘমনে জাগাত বিদ্রোহ! এখন বয়সকালে বাঘ বসে কেবল ঝিমোয় চারপাশে কত যে বর্ণ নিয়ে হরিণ সেঁধোয়; বাঘ আর পারে না তাকাতে কমে গেছে …

জঙ্গলনামা: বনবিবির জঙ্গল, থিতু সেথা মঙ্গল- নাহার তৃণা

জঙ্গলনামা: বনবিবির জঙ্গল, থিতু সেথা মঙ্গল নাহার তৃণা সুন্দরবন ঘিরে আছে নানা কিংবদন্তি। বনবিবি এবং দক্ষিণরায়ের উপাখ্যান তার মধ্যে বেশি আলোচিত। জনপ্রিয়তার দৌড়ে দক্ষিণরায়ের হালুমকে পাত্তাটি না দিয়ে বনবিবি এগিয়ে আছেন। তার নানা অলৌকিক ক্ষমতা নিয়ে রয়েছে বিভিন্ন কাহিনি। আরণ্যক সমাজের বিপদসঙ্কুল জীবনে নিরাপত্তা নিশ্চিতের …

কাজী মাজেদ নওয়াজের একগুচ্ছ কবিতা

প্রাণন তোমার অন্তর থেকে ছুটে আসছে এক সরিষাক্ষেত সোনারঙ আলো ছুটে আসছে— সূর্যমুখীপাপড়ি অতল গহ্বর থেকে ঘরে ফেরা জোনাক-জোনাকী, ছুটে আসছে— ফিনিকফোটা জ্যোৎস্নায় খসেপরা সন্ধ্যার হিমরং আসছে। ছুটে-ছুটে আসছে আমাদের দিকে সাঁঝলাগা স্বজনের দিকে যারা দেখতে পায় না— আলোর অন্ধকার অথবা অন্ধকারের আলো… … ৯ …

ফারুক সুমনের একগুচ্ছ কবিতা

পুলকসঞ্চার শব্দটি এমন উচ্চারণমাত্র প্লাবিত হয় আবেগের বন উড়ে যায় হাওয়ায় দুই অক্ষরের পাখি। শব্দটি এমন উচ্চারণমাত্র অনুভবে শীত নামে হৃৎ প্রান্তরে শুরু হয় রৌদ্রোৎসব। শব্দটি এমন উচ্চারণমাত্র বাহিত হয় বেহুশ বাতাস পুষ্পপুরে, পাতায় পাতায় পুলকসঞ্চার। শব্দটি প্রেম উচ্চারণমাত্র ঝলসিত বিবেকের ডানা ধ্যানাসন ছেড়ে নেমে …

জাদুবাস্তববাদের সাংস্কৃতিক রাজনীতি: আজফার হোসেন

জাতে সেফাতে সেফাতে জাত দরবেশে তাই জানিতে পায় লালন বলে কাঠ মোল্লাজী ভেদ না জেনে গোল বাধায়। – লালন ফকির মার্কিন মুলুকের একদল সমালোচক—যারা উৎসাহে ও উল্লাসে পশ্চিমা সাহিত্যের বাইরের জগতে ছুটে চলেছেন তাদের সাহিত্য পিপাসা মেটানোর জন্য—কথায় কথায় ‘ম্যাজিক রিয়েলিজম’ বা ‘জাদুবাস্তববাদ’ পদটি ব্যবহার …

গাজী রফিকের একগুচ্ছ কবিতা

প্যানোরমা  তোমাকে দেখতে আকাশে রেখেছি চোখ তোমাকে শুনতে বাতাসে পেতেছি কান! হাজার তারায় খুঁজেছি তোমাকে চাঁদের অবর্তমানে; তোমার জন্য রচনা করেছি গান। তুমি কি কাহারো প্রাণের সারথি … আদৌ … সত্যি সত্যি … বলো ! শুনছ কি সুদূরতমা…. নাকি এ হৃদয়  শুধুই এঁকেছে … স্বপ্নের …

দু’টি কবিতা: অপর্ণা হাওলাদার

সহপথিক, যে কেউ মানুষ, তুমি কাঁদছো যখন, আমার কাঁধে তোমার মাথা রাখতে পারো। মানুষ, এই যে আমার আঙ্গুল, তুমি কোথাও তোমার ব্যথা জড়িয়ে রাখো। মানুষ, তোমার নাম জানি না। মানুষ, তুমি নাম বোলো না। মানুষ, আমি হাঁটছি যখন, চাইলে তুমি এই সড়কের পুরোটা সাথে থাকতে …

ভিতরের বাহিরগুলি: জহির হাসান 

আশির দশকের কবিদের মধ্যে যে দু-চারজন কবি কবিতার রাজপথ ছেড়ে আঁইলপথ ধরে হেঁটেছেন তার মধ্যে পুলক হাসান অন্যতম। নগরের ভিড় ঠেলে নীরব-নির্জন গহন পথের দিকে যাত্রা ছিল তার কবিতার দিশা। নীরব ও নির্জন পথের চিত্রকল্প তার কবিতায় আনাগোনা বেশি। বিপরীতে যৌথ-অবচৈতনিক সত্তার কবিতাও শক্তিশালী উপস্থিতি …

মেটামডার্নিজম: কাজী জহিরুল ইসলাম

১৮ শতকের জার্মান দার্শনিক গিয়র্গ ভিলহেল্ম ফ্রিডরিখ হেইগল, ইংরেজরা যাকে বলেন জর্জ উইলিয়াম ফ্রেডেরিক হেগেল, সবাই যাকে শুধু হেগেল নামেই চেনেন এবং যার দর্শন তত্ত্ব হেগেলিয়ান দর্শন নামে পরিচিত, তার বিখ্যাত দ্বান্দ্বিক তত্ত্ব “থিসিস, এন্টি-থিসিস এবং সিন্থেসিস” ব্যপকভাবে সমাদৃত। এটি একটি চক্রাবর্ত। খুব সহজ করে …

পাঁচটি কবিতা: সাঈদা মিমি

সুরের ধ্বনিপাত আহত পংক্তিমালার সাথে জুটি বেঁধে একটা গান লিখেছি, ” প্রিয়তম আমার, শেষ হয়েছে ফুলদের ঋতুকাল, পরিযায়ী বালিহাঁস চলে গেছে পাহাড় পেরিয়ে, রেখে পালকের কোমল আদর— সময়ের রেখায় দেখি অচেনা চিহ্নের আঁকিবুঁকি!” হৃদ উপত্যকায় এক রাখাল বালক আসে, গান গায়, ভেড়াদের সাথে খেলে, নাচে …

তিনটি কবিতা: দীপেন্দু

রাবেয়া আক্তার আমাকে কথা দিয়েছিল জিপসিদের ভিড় ঠেলে উঠে আসা তোমার কোমল হাসিটা দেখতে এসেছে অ্যাপোলোর পোষা সাদা কাকটা। রাবেয়া আক্তার আমাকে কথা দিয়েছিল– যারা তার নরম যোনিতে সম্মতিহীন সংগম চেয়েছে তাদের দেহগুলো নির্জন কোনো দ্বীপে, কুকুরের খিদে মেটাবে। সালোকসংশ্লেষণকারী তোমার কপালের ব্রণগুলো, জানে না …

শহুরে কবিতা: ফারুক হাসান

বনসাই হয়ে গেছি দুপুরের রোদে পোড়োবাড়ীর আঙ্গিনায় একাকী শালিকের মতো নিঃসঙ্গ আমি স্মার্ট ফোনের স্ক্রীনে আটকে রাখি চোখ। আমাকে ঘিরে নিস্তরঙ্গ বয়ে যায় চির বহমান কালের অচিহ্ন সময়। দোতলা ফ্লাটের চিলতে বারান্দায় নৃত্য করে যায় চড়ুই যুগল। কম্প্যুটারের কী-বোর্ডে উর্বশীর মত কথক নৃত্য করে হাতের …

কবিতায় ও যাপনে মৃত্যু: খালেদ হামিদী

উইলিয়াম শেক্সপীয়রের ‘হ্যামলেট’ নাটকের তৃতীয় অঙ্কের প্রথম দৃশ্যের ৬০তম লাইনে বলা হয়: ‘To die:—to sleep:/No more; and, by a sleep to say we end/The heart-ache and the thousand natural shocks That flesh is heir to, ’tis a consummation/Devoutly to be wished. মরে যাওয়া মানে শেষবারের …

ভাষার বন্ধন, কবিতা ও কাঁটাতার: খসরু পারভেজ

১. কবিতার কী অমোঘ শক্তি! সকল বাধা, কাঁটাতার পেরিয়ে কবিতার কী অপ্রতিরোধ‍্য অগ্রযাত্রা! এই সীমাহীন অগ্রযাত্রার আলোকবাহন আমাদের বাংলা ভাষা। আমাদের ভাষার অশেষ ঐশ্বর্যকে ধারণ করে বাংলা কবিতা অন‍্যান‍্য বিশ্বভাষার আধিপত‍্যের মধ‍্যেও আজ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। পৃথিবীর অন‍্যতম সমৃদ্ধ ভাষা বাংলা ভাষা। এই …

মাহমুদ কামালের তিনটি কবিতা

জনসমুদ্র এবং সাগরের ধ্বনি জনসমুদ্র আর সাগরের ঢেউ কখনো সংক্ষুব্ধ কখনো বিক্ষুদ্ব সাগরের উত্তাল ধ্বনি জনসমুদ্রের ধ্বনিসাম্যের কাছে কখনো নত কিংবা কখনো পরিণত সাগরের একবিন্দু জল বেদনার নোনার সাথে অশ্রু হয়ে গেলে সাগরের শক্তিমত্তা কখনো কি কমে? জনসমুদ্র থেকে প্রতিদিন বিয়োগে বিয়োগে শব্দরাজি তবুও ধ্বনিসাম্য …

নুশান জান্নাত চৌধুরীর গুচ্ছ কবিতা

ঘুম ব্যর্থতার পদচিহ্ন ম্লান করে সবুজ পাতার ঝলকানির মতো আমাদেরই কারও কারও স্বপ্ন মাটিতে পড়ে ফুল হয়ে গজায় যদিও ওরা ফুলের গাছে নয়। সূর্যাস্তের স্নিগ্ধ উষ্ণায়নে, আবাল-বৃদ্ধ দু:খ-সুখের শব্দ উচ্চারণে, তুমি হৃদয়ের ভাগাভাগি করে নিয়ো একটি জীবন জুড়ে। হয়তো ততদিনে বিস্তৃত অন্ধকারে, অলস নোঙ্গর ছায়া …

শূন্যকুঞ্জ শ্যামচন্দ্র নাহি রে… এক অন্য গাঁথা : বৈশাখী নার্গিস

বৈশাখী নার্গিস ১ সখী হে, আজ যাইব মোহি…ঘর গুরুজন ডর না মানব, বচন চুকাব নাহি। কিন্তু যাবটা কোথায়। চোখ বন্ধ করে ডুবে ছিলাম এক অন্য জগতে। রাত নেমে গেছে বোধহয় এতক্ষণে। হ্যাঁ রাত, আমার সব কিছুর আশ্রয় রাত। এখানেই কাঁদতে পারি আমি মন খুলে, কথা …

মাধু: অভ্র ঘোষাল

অভ্র ঘোষাল বড়ো ঝামেলায় পড়েছে দীপেশ। সে সকাল ন’টায় অফিসের জন‌্য রওয়ানা হয়। তার একটু পরেই বেরুতে হয় তার স্ত্রী মেঘবালা-কে। তাড়াতাড়ি হয়ে গেলে মেঘবালা অনেকদিন তার সঙ্গেই বেরোয়। দুজনে এক রিক্সায় চেপে বাসস্টপে যায়। তারপর দুজনে দু-দিকে। কারণ, মেঘবালার স্কুলের উল্টোদিকে দীপেশের অফিস। তা …

ড্যাফোডিলস্: শকুন্তলা চৌধুরী                           

শকুন্তলা চৌধুরী স্নান সেরে এসে, সোফায় গা এলিয়ে দিল মেধা। আজকের দিনটা ছিল খুব লম্বা। থিসিস প্রায় শেষ হওয়ার মুখে, তাই নাওয়া-খাওয়ার সময় নেই এখন ওর। সকালে ব্রেকফাস্ট করেই ইউনিভার্সিটিতে চলে গিয়েছিল, লাঞ্চব্যাগে একটা আপেল আর পিনাটবাটার স্যাণ্ডউইচ ভরে নিয়ে। নিজের অফিসে বসে একমনে কম্প্যুটারে …

কামরুল হাসানের পাঁচটি কবিতা

শামুক বাড়ি শামুরবাড়িতে বো-কাট্টা ঘুড়ির মতো চক্কর খায় মেঘ, কেনো তরুণী মেঘের দোপাট্টা খুলে গিয়ে আটকে যায় দূরান্তে গ্রামের নিশানা উঁচুমাথা গাছের চূড়োয়; বৃষ্টি হয় বিধবার একপলক স্বামীশোকের মতো। এই গ্রামে ধন্বন্তরী, আহা, খাল ছিল কোমরের বিছা রূপালি ঝিলিক তার ঐ পাড়ে অন্যমন্ত্র চরের সিথানে …

মোহাম্মদ হোসাইনের পাঁচটি কবিতা

বাতাস লিখে ফেলে সুগন্ধি কবিতা অন্ধকারে ধুয়ে নিয়ে হাত বাতাস লিখে ফেলে নতুন সুগন্ধি কবিতা কেউ দেখার আগেই তা প্রতি ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়ে আসে আলোর কৃষক শহরের লোকেরা কৃষিজমি চেনে না অথচ, প্রত্যেকের ভেতর একজন কৃষক বাস করে শাদা ভাত যখন মিষ্টি করে হাসে, …

তূয়া নূরের একগুচ্ছ কবিতা

হারিয়ে ফেলা তুই কবে বড় হবি? কবে হবি সাবালক? ধরবি সংসারের হাল? বড় হবার বয়সতো পার হয়ে যায়! তোর ভেতর ঘরে কার বসবাস? কে তোর লাগাম টেনে ধরে? বেঁধে রাখে হাত পা শেকলে, চুপচাপ মাথা পেতে মেনে নেয়া সব মনটাকে জীবন্ত মাটিচাপা দিয়ে। জীবনটা কী …

ফরিদা মজিদ: চিরন্তন বিস্ময়ের নিঃসাড় হাত – সাবেরা তাবাসসুম

সাবেরা তাবাসসুম ১ কবি ফরিদা মজিদ। জন্ম ১৯৪২ সালের ২৭ জুলাই, কলকাতায়। পিতা মহিবুল মজিদ ও মাতা ফিরোজা খাতুন। ফরিদা মজিদের পিতা পেশায় প্রকৌশলী ছিলেন। তাঁর মা ছিলেন কবি গোলাম মোস্তফার জেষ্ঠ্য কন্যা। শিশুকালে দ্বিতীয় ভাগ পড়ার সময় তাঁর প্রথম লেখা প্রকাশিত হয় কলকাতার সত্যযুগ …

হোসেনউদ্দীন হোসেনের একগুচ্ছ কবিতা

শরৎ সরোবরে হাসছে কুমুদ কহ্লার আকাশে শাদা মেঘ ধনধান্যে গন্ধে মাতাল চারদিকে নববেশ ভেতর বাইরে স্নিগ্ধ ছায়া আনন্দ উদ্বেল জলবতী মেঘ খেলেছিল খেলা সাঙ্গ হয়েছে রেশ এবার আমার বিদায় লগ্ন আঁচল দিয়েছি বিছিয়ে তোমাকে দিলাম বন বীথিকা এই নাও অর্ঘ্য এই নাও পুষ্পডালি এই নাও …

পুলক হাসানের বারোটি কবিতা

ভাষা তোমাকে সাফ বলে রাখি সুচেতনা ভাষার ওপর কোনোরকম দুর্বৃত্তপনা বরদাস্ত করব না। সে নহে সাদাকে কালো, কালোকে সাদা করার বিজ্ঞাপনী প্রতারণা! সে আমার হাসি-কান্না, রক্তের দ্যোতনা মরুর বুকে বসন্তের উষ্ণ ঝরণা। এমনকি তার কারণেই তোমাকে দিতে পারি ফি-বছর বন্যার সকরুণ বর্ণনা! ভেবে দেখো পোশাকী-বন্ধন …

Back to Top