অবনি অনার্যের একগুচ্ছ কবিতা

ইন্সটাগ্রামে কোন গাছ নাই বলা হলো, বেশি বেশি গ্রামে ফিরে যাও। তারা গেলো দ্রুতলয়ে ইন্সটাগ্রামে! অথচ এ গ্রামে কোন গাছ নাই, মাছ নাই, নাই মেঠোপথ। এমনকি নাই কোন ডাহুকের সচকিত চোখ। বলা হলো, প্রিয় বুকে গুঁজে রেখো মুখ। তারা মুখ গুঁজে আছে এহ ফেইসবুকে। অথচ …

চরু হকের এক গুচ্ছ কবিতা

সবুজ পাতা জানে সবই আম গাছে খুব মুকুল আসছে এবার গাছে গাছে সবুজ পাতার উঁকি তোমার জন্য সবচে’ নরম পঙক্তিগুলো সাজাবো আজ চোখের সামনে ছবির ভেতর বন্দী খাঁচার পাখিটিকে উড়িয়ে দেবো দিকচেতনায়। রঙের তুলি লেপ্টালেপ্টি কিছু রঙ তো যাবেই মেখে রাজপথের ওই মিছিল প্রান্তে। আমি …

তান্ইয়া নাহারের কয়েকটি কবিতা

১. ফিউশন কালো একটি বিড়াল- যেভাবে ছায়ার মধ্যে ছায়া হয়ে, সাদা একটি বিড়াল- যেভাবে রোদের মধ্যে রোদ হয়ে, নীল একটি মন যেভাবে পাখির ডানায় পাখি হয়ে- উড়ছে তো উড়ছেই, ভাবছে তো ভাবছেই, দেখছে তো দেখছেই; সেভাবেই, শ্যামা একটি আমি- তোমার মধ্যে তুমি হয়ে, ধীরে ধীরে, …

আফসার খানের এক গুচ্ছ কবিতা

ধূসর সন্ধ্যায় শীত চলে যায় নীল ধূসর ডানায় উত্তরের হিমবাহ মনে হয় কম কীভাবে ক্ষুরের ক্রোধ ধীরে থেমে যায় ও বাতাস অসম্ভব আলিঙ্গন দম। ঠান্ডা অদ্ভুত বাতাস রোদের নীরব দোলনচাঁপার গন্ধ কুয়াশার মতো ভোরের রঙিন ঠোঁট যে মুখাবয়ব হাত ইশারায় ডাকে ভালোবাসা যতো। সন্ধ্যা তারা …

আসমা চৌধুরীর দু’টি কবিতা

আবার যদি যাদের নিয়ে সাঁতার কাটো রোজ তাদের মুখের আদল বদলে যায় দুনিয়াসুদ্ধ সবাই জানে আপন ভিতর থেকে সুবাস কোথায় যায়? আদরগুলো মুঠোয় কাঁদে একা কার জন্য ঘুমের ঘোরেও ভাবো? মিথ্যে দিয়ে যে জামাটি পরো শরীর তাকে কতটুকুই চায়? এই আলোতে আর কি হবে গান? …

আহমেদ নকীবের তিনটি কবিতা

জন্মান্তর  ৭০০ বছর বয়সী গাছের চা পান করবো আর সেই খবর পেয়ে আমার চৈনিক বন্ধু আমাকে জীবিত করার জন্য পৃথিবীতে ফিরে আসছেন বাঁশের তৈরি বাষ্পযানে চড়ে; প্রায় চাঁদের কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন তিনি, ঠিক ততদূর থেকে একটা ইউটার্ন নিয়ে পতপত শব্দ করতে করতে ফিরে আসছেন ছোট-ছোট …

অশ্বিনী কুমারের দু’টি কবিতা অনুবাদ: নভেরা হোসেন

[ভারতীয় কবি, লেখক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অশ্বিনী কুমার মুম্বাইয়ের টাটা ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল সায়েন্সেস (টিআইএসএস)-এর একজন জনপ্রিয় ও পরিচিত অধ্যাপক। গীতল ও বিধ্বংসী লেখার শৈলীর জন্য বিখ্যাত এই কবির কবিতা বিভিন্ন ভারতীয় ও বিদেশী ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যসংকলনের মধ্যে রয়েছে “বানারাস অ্যান্ড দ্য …

স্নিগ্ধা বাউলের পাঁচটি কবিতা

দূরাভিলাষী মৃত্যু পৃথিবী মরে যাচ্ছে মরীচিকার ঘ্রাণে সন্ধ্যার হলুদ তারা তীব্র সারস অথবা লালচে শকুন মিলে নিয়েছে গ্লানি তার মরীচিকার ভার; পৃথিবী মরে যাক আমারও আগে সূর্যের মতো ডুবে যাক আমায় একা ফেলে সন্ধ্যার ছাদে নায়াগ্রা ভেবে ভেতরের ধারায় বন্য অরন্য সমস্ত শতবর্ষের বট ছেড়ে …

সেঁজুতি বড়ুয়ার সাতটি কবিতা

হন্তারক নি:সঙ্গতার মৃদু ছায়াবনে আমার অসুখ বেয়ে সরসর নামে হন্তারক সাপ। আমাকে জ্যোৎস্নায় ফেলে বধ করে হাঁসফাঁস শরীরী পিপাসা শুষে নেয় দীর্ঘশ্বাসে। জড়িয়ে ডুবিয়ে দেয় আশ্চর্য নির্মেদ ক্ষতে তুমি কী জানো— তার কাছে কতোটা মুমূর্ষু আমি? সাঁকোটা নাড়ায় সে আমি শুধু নড়ি…   আমার আত্মা …

চারটি উত্তর-আধুনিক কবিতা

আবদুর রব [হোর্হে লুইস বোর্হেস-এর বিখ্যাত সৃষ্টি ‘দ্য অরিজিন্স অফ হাফ-হিউম্যান, হাফ-অ্যানিম্যাল ক্রিচার্স’ (The Origins of Half-Human, Half-Animal Creatures)-এর সেই অদ্ভুত প্রাণীদের নিয়ে লেখা আমার চারটি (সেন্টর, মিনোটর, সাইরেন, স্ফিংস) কবিতার একটি সিরিজ।] সেন্টর অর্ধেক অশ্বশক্তি, অর্ধেক মানুষের নিউরোসিস— জ্যামিতি ভেঙে গড়ে ওঠা এক অদ্ভুত …

শ্যারন ওল্ডসের কবিতা

ভাষান্তর ও ভূমিকা: সাবেরা তাবাসসুম আমেরিকান কবি শ্যারন ওল্ডসের কবিতার সাথে আমার প্রথম পরিচয় কবি শামস আল মমীন অনূদিত ‘সাম্প্রতিক আমেরিকান কবিতা’র বইয়ের পাতায়। শ্যারনের প্রথম কবিতা পাঠের আবহ আমাকে চাবকে নিয়ে বেরিয়েছিল, মনে আছে। ভাবছিলাম, কী অকপট, কী সাংঘাতিক শক্তিশালী কবি! ২০১৮ সালে শ্যারন …

চারটি কবিতা: চরু হক

ফুলজীবন বেঁচে থাকার আনন্দে ডুবি আর ভাসি। ডুবি আর ভাসি আর ভাসি আর ডুবি আমি এক প্রজাপতি দুলছি বাতাসে যাচ্ছি ঢেউ কেটে ফুলের মনের কাছে।   তোমার জলতরঙ্গ প্রবেশ করছে আমার ভেতর মাঠ নদী, হাওয়া, ,নবচরাচর প্রবেশ করছে পাখির সুর আর সুরের ঢেউ প্রবেশ করছে …

অভ্যুদয়: আবদুর রবের একটি দীর্ঘ কবিতা

অভ্যুদয় স্টিমারের যে হুইসেল শুনে ঘর ছেড়েছিলাম তা আজও শুনতে পাই। সেদিন সে যেতে বলেছিল আর আজ সে কেবলই ডাকে। কিন্তু যে পাখির বাসা আমি ভেঙে এসেছিলাম তা আর কোনোদিন গড়ে দিতে পারব না। যে প্রেমের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তাও আর রক্ষা করতে পারব না। যে …

কাজী মাজেদ নওয়াজের তিনটি কবিতা

বয়স নিজেকে এখন এক বয়সশূন্য প্রান্তর মনে হয় তরুনীরা অজানা সন্দেহে ঠারে-ঠারে চায়। তরুনরা দূরত্ব রেখে তাকায়। আমিও চালকুমরো মোরোব্বা হয়ে টিকে থাকি বয়ামে-বয়ামে আমার দুচোখ— শৈশব, কৈশোর, তারুণ্য ও যৌবনে আটকে থাকে এখনো দাড়ি না রেখে, ধর্ম-কর্মে সুমতি না দেখে কতিপয় বিস্ময়সূচক ঢেউ- অসুন্নতি …

সু‌হিতা সুলতানার একগুচ্ছ কবিতা

আমরা বেঁ‌চে আছি সেইসব উলঙ্গ মানু‌ষের ভি‌ড়ে আমরা বেঁ‌চে আছি সেইসব উলঙ্গ মানু‌ষের ভি‌ড়ে বরফা‌চ্ছা‌দিত নয় অথচ বর‌ফে ছে‌য়ে গ্যা‌ছে দেশ! ক্রমশ মানু‌ষের অন্ধত্ব‌বিলাস খে‌য়ে ফেল‌ছে হৃৎ‌পিণ্ড ‌বি‌চিত্র ও‌ বিবিধ ম‌স্তি‌ষ্কের অবিক‌শিত কল্পমূ‌র্তি ধূসর অপ্রাস‌ঙ্গিক য‌দিও তারপরও রক্তবর্ণ ক্ষত অট্টহাস্য হ‌য়ে ঝ‌রে প‌ড়ে অলি‌ন্দে।বৃহত্তর ঐক্য …

পুলক হাসান এর সাতটি কবিতা

ঝালকাঠি নদী ও নারী যদি না আলাদা করি তবে সবুজ গাছপালা ও তরুপল্লবে পরিপাটি ঝালকাঠি যেন জলের বুকে রূপালী এক বন্দরসুন্দরী! ডাচ ফরাসী ও ব্রিটিশ বেনিয়া তার মন জয়ে ছিল মরিয়া। সতের মুসলমানের বুকের তাজা রক্তে লেখা আছে সেই পরিহাস, ব্রিটিশ নিষ্ঠুরতা! তারপরও মেঘমুক্ত হয়নি …

ফিরোজ শাহ’র কবিতা

নাকফুল মায়ের নাকফুল আমার স্পর্শের প্রথম ফুল ঘ্রাণ বিলিয়ে যাচ্ছে পৃথিবীর সব ফুলে..   পারাপার একটি খরস্রোতা ধোঁয়ার নদী পার হতে সমস্ত আয়ু যোগ করে বানিয়ে নিচ্ছি একটা ব্রিজ।   আপনজন সুঁই বিদ্ধ দু’টি কাপড় ভাগ্যদোষে পরস্পর আত্মীয়।   ঘণ্টা হেমন্তের মাঠ একটা পিতলের বাসন …

অপর্ণা হাওলাদারের তিনটি কবিতা

শব্দ কিংবা মুখোশ কাঠামোহীন সংঘের চেয়ে বড় ঘাতক কে আছে লেখকের? অথবা সেই অর্থে যে কোনও সৃষ্টিশীলতার, একবার সভাক্ষেত্রে হাততালি উঠে গেলে ছারখার হয়ে যায় বুকের জমিন, যায় না? মাতৃভাষা বিমুখ হয়, মুখ ফিরিয়ে চলে যায় সমস্ত ঈশ্বর এবং দানব। প্রতি-ঈশ্বর ছেড়ে যান সবার আগে। …

টিএস ইলিয়ট: প্রিল্যুডস অনুবাদ: অভ্র ঘোষাল

প্রস্তাবনা (১) শীতের সন্ধ‌্যা ফুরিয়ে হঠাৎ করে রাত নেমে আসে সরু গলিতে ভেসে বেড়ায় সেদ্ধ মাংসের গন্ধ। এখন সময় ঠিক সন্ধ‌্যা ছটা। মৃত মানুষেরা বাড়ি ফেরে, দিনের ভস্ম গায়ে মেখে নেমে আসে রাত। বৃষ্টি তোমার পায়ের কাছে বয়ে আনে সারাদিনের সমস্ত জঞ্জাল বয়ে নিয়ে আসে …

হোসেন দেলওয়ারের একগুচ্ছ কবিতা

চক্রব্যূহ যতোটা পাহাড় থেকে দূরে সরে যাই ততো বহু বছরের জমে থাকা বরফের শীর্ষে মমতা-পাথর নড়ে ওঠে। দুর্গাসাগরের মতো আমার নিজস্ব কোনো দীঘি নাই তথাপি কখনো পাতা পতনের শব্দে চমকিত হতে ভালো লাগে— মনে মনে আমি এক অভিমন্যু অশোকের ছায়া দুঃস্বপ্নে দুর্গের যতো কাছে আসি …

শিবলী সাদিকের কয়েকটি কবিতা

প্রেম ও প্রতিবিম্ব প্রেম এসে বলে তার নাম রৌদ্র, এ কি কথা, সে তো মেঘের আড়ালে থাকে, কেবল দুঃখের দিনে রামধনু হয়ে দেখা দেয়, শুয়ে থাকলে বিষাদে সব রক্ত ঝরে পড়বার পরে দেখা যায় সিঁড়ির পিছনে প্রেম কোনায় আঁধারে জ্বলে— পুরোনো, ঠাকুরদার আমলের ঝুলকালিমাখা এক …

কামরুল হাসানের পাঁচটি কবিতা

অশ্ব আমার আস্তাবলে অশ্ব আমার আস্তাবলে হাঁটছি তোমার শ্যামসুন্দর পথটি বেয়ে। আমার পিতৃভিটে পূর্বাকাশে মেধা এখন মগজে নেই দুই চাতালে অশ্ব আমার আস্তাবলে। বনস্থলির শিরদাঁড়া সেই যেমন দাঁড়ায় বনমোরগের ঘাড় তেজী ঐ জলের সখ্যে নিরহস্যে দ্বিধা টলে অশ্ব আমার আস্তাবলে। পূর্বপুরুষ যেতেন জিতে দক্ষতাতার রুক্ষ …

জুনান নাশিতের কবিতা

ইউটোপিয়া To us now these green days lie broken with leaves with blossoms fallen কাঠঠোকরার পায়ের চাপে ঘাসফুলের অশল্য চিৎকার কীভাবে বায়বীয় ঘূর্ণিতে হারিয়ে যায় সে গল্প তোমাকে বলব বলে সন্ধ্যামুখে ধূপকাঠি জ্বালাতেই ধোঁয়াশায় ঢেকে গেল আকাশের পাড়। দূরলগ্নে ফেলা আসা শৈশবের শূন্যমাঠ আমাকেও ডাকে …

হেনরী স্বপনের কবিতা

আমার ছেলেবেলা ভাসানের চেনা প্রতিমায় ডুবে গেলে পঞ্চমির চাঁদ রাস-পূর্ণিমার ঠাণ্ডা নেমে আসে প্রতিবেশি ছাদে; কলমির ফুল ফোটে সুচিত্রা যুগের নায়িকার মতো ছাদ বাগানের টবে। পরিযায়ি পাখিরা আসে, সার্কাসের মেয়ে হয়ে হাত ছেড়ে উড়াল দেখায়, ডিগবাজি দেয়— ঝাঁপ দিয়ে নামে সুপারম্যান সেজে নর্তকীর নাচে মেতে …

পিয়াস মজিদের কবিতা

অভিলাষ ভাঙছে কাটছে পুড়ছে ডুবাচ্ছে গুড়িয়ে দিচ্ছে, তোমাকে। তবু তুমি তার মুখ থেকেই ‘স্টে টিউনড’ চাইছো শুনতে!   সে আগলে রাখছে জাপটে ধরছে চুমুর দরিয়া খুলছে মান করে দূরে গিয়ে ফিরে ফিরে আসছে, আমৃত্যু-আজীবন সঙ্গী থাকার আকুল আশ্বাসে ছাড়ছে না কোনোমতে তোমাকে; তোমারই একান্ত ব্যাকপেইন …

ফেরদৌস নাহারের দীর্ঘ কবিতা: সমাধি ভ্রমণ

এক. সমাধি সমান্তরাল হেঁটে যাই সবটুকু আয়োজন কি নিজেকে নিয়ে বৃত্তাবদ্ধ জমানার পাখি এখানে এসেছে যে তাকে কী করে বেঁধে রাখি, ভুলে থাকি বলো ! আজব গল্প শেষে ধ্যানমঞ্চ থেকে নেমে আসে একটু বাড়তি যত্নের আশায় ঘুরেছিল পথে সে কেমন উগড়ে দিলো মৃত্তিকা পাহাড়, বারবার …

শামসেত তাবরেজী: বাংলা সাহিত্য ও অন্যান্য কবিতা

বাংলাসাহিত্য বাংলাসাহিত্য শুরু করিয়া দিলাম। শর্ত মোতাবেক জনগণ শব্দটি রাখিব না। নির্বিচারে মানিয়া লইব স্বৈরতা, তাহাকেই দিব সব অধিকার। চোর ও বাটপারদের জন্য নিত্য দোয়া করিয়া যাইব। যে মাথা আকাশ ছুঁইয়াছিল আজ তাহা চিরকালের জন্য অবনত করিলাম। অধিক অধিক বাংলাসাহিত্য এই পথেই প্রথম আলো পাইবে। …

শহুরে কবিতা – ২ ফারুক হাসান

১. ঘাতক শহর কিছুই নিরাপদ নয় গা-গতরে বেড়ে ওঠা ঘাতক শহরের হাতে। আমি, গ্রাম, বৃক্ষ, ঘাস, নিরেট অন্ধকার, জোৎস্নার আলো, জোনাকীর কারুকাজ, অলস দুপুর, কিছুই নিরাপদ নয় ঘাতকের হাতে। এখানে ক’দিন আগে কাশবন ছিলো, কেউ কি জেনেছে কখনো? পৃথিবীর বয়সী সে বন হেরে গেছে কংক্রিটের …

Back to Top