নানারকম গল্প-১

মতিন বৈরাগী রাত্রির ভিতরে যে চিৎকার যেমন আমরা শুনতে পাই সে ছিলো কারো মৃত্যুর পরোয়ানা একমাত্র অন্ধকার নিরাপত্তা হয়ে সতর্ক করে আমাদের এবং বলে এই চিৎকার আর শেষ আর্তধ্বনি যা মানুষের, বলে দেয় পৃথিবীতে খুন আরো বাড়লো তারপর যদি আগুনের লেলিহান ভেদ করে জানালার কাচ …

দুটি কবিতা

পলিন কাউসার জড়বদ্ধতা নির্জীব আমিও জীব সেজে দৌড়াই অনাহত থেকেও অনাহূত হবার যোগ্যতা আমার আছে জেনেই আলতো ঢঙে, একলা আঙুলের ছাপ রাখেনি কেউ আমার বাহুতে, কখনোই ধারালো নখের প্রান্ত সীমায় আমার যে শৈবালের চাষ ছিলো পর্যবেক্ষণে নামেনি কেউ ওখানটায় আক্রমণের অপেক্ষায় থেকে থেকে কাকতাড়ুয়াও ক্লান্ত …

পাবলো নেরুদার ১০০ টি প্রেমের সনেট থেকে

অনুবাদ: আনন্দময়ী মজুমদার (৮) তোমার চোখে যদি চাঁদের রঙ থাকত না লেগে, কাদা-মাখা দিন, শ্রমের ঝলক, লালচে আগুন, এই সব আঁচ, আভা থাকত না যদি, যদি এতটা জড়ানো থেকেও না হতে তুমি বাতাসের মত ফুরফুরে, শিল্পময়, যদি না হতে হলুদাভ বাদামী পাথর, হরিত লহমার মতন যে …

শুভকামনা

সুস্মিতা চক্রবর্তী আর কিচ্ছু জানতে চাই না, শুধু দেখতে চাই যে তুমি ভালো আছো। যে রকম ভালো থাকা অধরা চাঁদের রাতে, ধুলো ওড়া পথে পাওয়া বোষ্টমীর সহজ মানুষ। যে রকম হাসিহাসি ঠোঁট আর বিনয়ের কাব্য হাতে; চশমা-পড়া তুমি সে কানাই মাস্টার! নিত্যানন্দ বেশে তবু এলোমেলো …

মেরী অলিভারের কবিতা

অনুবাদ: কল্যাণী রমা মেরী অলিভার এ সময়ের প্রধান আমেরিকান কবি। জন্ম ১৯৩৫ সালের ১০ই সেপ্টেম্বর। কবিতার জন্য পুলিৎ‌জার পুরস্কার, ন্যাশনাল বুক এওয়ার্ড, শেলী মেমরিয়্যাল এওয়ার্ড সহ অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। মেরী অলিভারের কবিতায় বারবারই মানুষ এবং প্রকৃতি একে অপরের  শরীর জড়িয়ে আমাদের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। তারপর …

সত্তর দশক

অংকুর সাহা ।।১।। ধুলি ওড়ে, ছাই ওড়ে,  ভবিষ্যত গাঢ় অন্ধকার তীর্থের কাকের মত খোঁচর পাহারা দেয় চকে; ধর্ম শান্তি রক্ষা ছেড়ে একশো বারো মাইনের পুলিশ- লক আপে জাঁকিয়ে আসে, তলপেটে বুটের লাথি কষে। মা-বাবা হাপুস কাঁদে, কোথায় সোনার টুকরো ছেলে? সে চলে গিয়েছে বনে, গড়বে …

এলোমেলো মনের কবিতা

সেলিম রেজা নিউটন ইনসোমনিয়া অনিদ্রার অভিধানে কী কী নাই ঘাঁটতে ঘাঁটতে চলে যাওয়া। ঘুম আর কী? এ দিক সে দিক করে পড়ে থাকা। এই করে রাত পার। দিন অতিক্রম। কাকে যেন পষ্ট করে দেখতে না পাওয়া। বিছানা বা চেয়ারের পেছনেই কেউ থেকে গেছে। ভালো করে …

বকুলতলার পদ্য

সেলিম রেজা নিউটন কাঠের কবিতা অতীত চলে গেছে, অতীত নাই কোনোখানে। কিন্তু রংপুরে খাবার টেবিলেরা জানে: কাঠের কোষে কোষে রয়েছে কথা-রূপকথা, সোনারূপার কাঠি, স্বপ্ন-ভেঙে-যাওয়া ঘুম। অন্ধকার-গূঢ় আলোর ঝালরের নিচে অনড় নাচে একা অচিন পুরাণের প্রেত, শিউরে ওঠে রোম, শিহরণের নীল স্মৃতি ছিল না যার, আজ …

আব্দুল ওয়াব আল-বয়াতির কবিতা:ফরিদ আল-দিন আল-আত্তারের কষ্টের বিবিধ ভাষ্য

অনুবাদ: তাপস গায়েন  [কবি আব্দুল ওয়াব আল-বয়াতি (১৯২৬-১৯৯৯)-র জন্ম ইরাকের বাগদাদে, দ্বাদশ শতাব্দীর সুফী সাধক আব্দেল কাদির আল-জিলানির দরগাহের কাছে।আরব বিশ্বের কবিতা যা পনের শতাব্দি ধরে আবর্তিত হয়েছে চিরায়ত আঙ্গিকের ভিতরে, অর্থাৎ, মিল এবং ছন্দের স্বাভাবিক বৃত্তে। সেই বৃত্তকে ভেঙ্গে তিনি বিষয়-ভাবনা এবং গঠনকাঠামোর দিক …

কবিতা:শীত-সকালের সূর্য

সুস্মিতা চক্রবর্তী   ১ শীত-সকালের সূর্যকেই শুধু ভালোবেসে পিঠ দেয়া যায়! শেষ অঘ্রাণের এই শীতার্ত বেলায়, প্রিয়তম− বহূদূরে তবু এভাবেই থেকো নীলিমায়। ঢেকে দিও পৃথিবীর সবটুকু আঁধারের দিন, তোমার আভার রাশি চির অমলিন; গাছের পাতার সাথে অদৃশ্যের মাঝে বুঝি বাজিয়েছো বিণ! ২ যখন কুয়াশার কুহকেরা …

সেলিম রেজা নিউটন-এর তিনটি কবিতা

নীল কোকিলের গান ইস্ক্রা রহমানের জন্য … অস্তিত্বের খানিক নিচেই জ্বলতেছে লাল আলো– জ্বালো তোমার আওয়াজ, মানুষ, ফুলকিনিচয় জাগে; ডাক দিয়ে যায় সত্তা তোমার – যদিও সময় কালো – অন্ধকারের ঘোর অমাতেও আত্মা-আগুন থাকে। আগস্টের এই ছয় তারিখে কোনখানে ডিম পাড়ে আকাশ থেকে মিথ্যাকারের ইস্পাত-ঈগল …

একদিন প্রতিদিন

মিতুল দত্ত   ২/৪/১৩ ৯:২৯, সকাল জানলার সামনে বসে আছি। আমার চায়ের কাপে রোদ্দুর। ভিটামিন ডি। আমি অনেকটা রোদ্দুর একসঙ্গে খেতে চাইছি। আমার গলা দিয়ে নামছে না। আমার গলায় কান্না, রোদ্দুরকে আমার ভেতরে ঢুকতে দিচ্ছে না। ৯:৫০, সকাল আমার আত্মাকে আমি বিছানায় শুয়ে থাকতে দেখছি। …

মধ্যবিত্তের বাঁশি

কচি রেজা মধ্যবিত্তের বাঁশি তাই অসুস্থ তর্জনীর কোনো সম্বোধন নেই প্রতিবর্ণ শামুকের সরল আঙুলও ঘোরতর নিস্তব্ধ সমুদ্র উল্টে পড়েছে বালু কী আত্মাময়ী? মাড়িয়ে যাচ্ছে  কৌটা পুনর্বার জন্ম নিতে চাই যে কোনো ডে অফের দিন ধলেশ্বরীতে ঝাঁপখেলা পূর্বদেশীয় মাছ আমি বেরিয়ে এসেছি খোলা নগ্ন কুমারি সমুদ্রে

সুর্পনখা-বাল্মীকি সংবাদ

মলয় রায়চৌধুরী   সুর্পনখা ।। খুবই জঘন্য কাজ হয়েছে তোমার আদি কবি এভাবে আমাকে পাঁকের মৃণ্ময়ীরূপে মহাকাব্যে হেয় করা। তাই অনুরোধ করি আমাকে পাঠিয়ে দাও, মহাভারতের গল্পে। ব্যাস আমাকে নিশ্চিত আমার মনের মত সুপুরুষ পাইয়ে দেবেন। বাল্মীকি ।। কী যে বলছিস তুই স্পষ্ট করে বল …

মাঠে, মেহগনি বন থেকে কুয়াশারে দেখা

জহির হাসান কনে যাব এইসব পাখির গায়ের গন্ধবহ ডুমুর পাতার ঘর উল্টো করে কার কাছে থুয়ে! ঐ শীত আসে যদি বলি হালকা মউত আসে তা’লে কেন আগে আসে সেইসব ছেঁড়া কাঁথা ফুটা মনে! বাতাসের হামাগুড়ি কেন মেকুরের থাবা-তারা হচ্ছে শীতের রাত্রিতে… কী কচ্ছো আমাগের না-ঝরা …

সুস্মিতা চক্রবর্তীর তিনটি কবিতা

ভোল অপচয় কী অপচয় কী যে অপচয় হৃদয়ের! কোন সে ক্ষরণ কার খেসারত হিসেবের। অথচ, জীবন সদা বেগবান– এই ধুলা-মাটি-গাছ মহীয়ান, এই জলরাশি চাঁদ আর আলো সকলের। ভালবাসাবাসি বেঁচে থাকা সব মানুষের। এই স্বপ্নের নীল চাঁদোয়ার নিচে যে, কত আদরের-প্রণয়ের মনপাখি সে– ডেকে ডেকে আজ …

গোলাম কিবরিয়া পিনু

ও বৃষ্টিধারা ও বারিপাত ১ রজনীজল এসে ভিজিয়ে তোলে অঙ্কুরও গাছ হবার স্ফূর্তি পায় প্রভাহীন আলোহীন অবস্থায় তৈরি হতে থাকে বাঁশঝাড়ের ভেতর অশথ। ২ পর্বতের গায়েও আজ বৃষ্টি এতদিন পর্বত ধুলোবালিকণা নিয়ে রুক্ষ ছিল পর্বতচূড়া ভিজে ভিজে আজ কান্তিময় সৌম্যদর্শনে নয়নশোভন। ৩ উদ্যানরক্ষক জানে জলের …

নয়ন তালুকদারের ৪টি কবিতা

নারীর কাসুন্দি নারীর কাসুন্দি ঘাটতে কার না ভালো লাগে নারী তো ততোধিক মধুর মানব– নারী দেহের চাতুর্য বা চাতুরীপনা অস্বীকার করতে করতে ফকির লালন বড়ই একা হয়ে গিয়েছিলেন। নাজিম হিকমতের ‘জেলখানার চিঠি’ যে নারীকে লিখিত এমন কোটি নারীতে কাঁধেকাঁধ মিছিলে নামুক এ-বিশ্বের সকল পাড়ায়। নমিতা …

মতিন বৈরাগীর একগুচ্ছ কবিতা

অতীতমুখি একটা গাছ সারাদিন দাঁড়িয়ে থেকে থেকে একটা গাছ আকাশ মুখি কাণ্ড আর পাতারা সব গাছ হয়ে গেছে বিকেলের ক্লান্তির রোদ সারাটা গাছে ছলকে পড়ে তবু গজিয়ে ওঠা পাতারা নিস্তেজ নিস্পন্দ পিঁপড়েরা ছিড়ে কেটে নেয় ঢের দু’একটা নচ্ছার পাখি ঠোক্কর মারে, গাছ তবু দাঁড়িয়ে থাকে– …

নর্তক

সৈয়দ তারিক পাথর, তোমার ভেতরেও উদ্বৃত্ত রয়েছে আর এক নৃত্য। পাথরেও নৃত্য? নাচ তো রয়েছেই। পরাবাস্তব দৃশ্যপটে আছে। দৃশ্যাতীত বাস্তবতায়ও আছে। নাচে নাচে রম্য তালে। নাচে নটরাজ। নাচে শ্মশানকালী। ইলেকট্রন। প্রোটন। নিউট্রন। কোয়ার্ক। কোনো স্থিতি নেই। আবার আছেও। নটরাজ পরম যোগী। পাথরের মতো স্থির। মা …

সুস্মিতা চক্রবর্তীর তিনটি কবিতা

নীলাভিলাষ নীলের দরদী আমি তুমি বঁধু নীলের প্রতিমা জগতের সব নীল তোমা মাঝে ফুটিয়াছে গাঢ়। অনড়-অলস আমি নীল-নাথবতী নীলময় ব্রহ্ম দেখি নীলের তাপসী ও নীল লাগিয়া আমি ডাকাতিয়া বাঁশি! ও নীল কখনো তুমি নীলাভ্র-আকাশ ও নীল কখনো তুমি তুমুল হুতাশ ও নীল কখনো চাঁদ নীলিম-চন্দ্রিমা …

সেলিম রেজা নিউটনের তিনটি কবিতা

শুভ  বিরহ বিরহ শুভ হোক। আমাদেরকে নবজন্ম দিক। নতুন পাতার মতো কোমলসবুজ হোক বিরহের ব্যথা। যেমন ব্যথাকে জানি, না জেনে যা উপায় থাকে না, সে রকম করে যেন বিরহকে জানি। তার  চেয়ে বেশি নয়। বুদ্ধি দিয়ে নয়। বিরহ সহজ হোক শিশুর প্রশ্নের মতো। বিরহ স্বাভাবিক হোক পাখির ওড়ার মতো। বিরহ অবাধ হোক …

কবিতা: ফটোগ্রাফার

জহির হাসান পার হয়ে তৃষ্ণা ও তাপের শাসন আর যত ওড়াউড়ি অমল বৃষ্টির লোভে লোভে এতদূর এসে কাক ও কোকিল, কাঠগোলাপে, হয়েছে হাঁপানি উহাদের ঘেয়ো প্রাণে। বিকেল আকাশে নেই মেঘের হুঙ্কার ও বৃষ্টিগাছের শুকনো খয়েরি ফলের নৈঃশব্দের ঝুলে থাকা সহ্য হয়নি কাহার– ফটোগ্রাফার মেয়েটি তুলছে …

আজফার হোসেন-এর গদ্যকবিতা

পোয়েটিকস্ অব দ্য সাইন   এক চোখ ফেরাতেই দেখি পৃথিবী ঝুলে আছে গাঢ় অষ্টকের মতো। ধরতেই আটটি পংক্তি তরমুজের মতো ফেটে যায়। প্রথম পংক্তিতে লেখা আছে: এখানে সূর্য সূঁচের মতো চিকন রশ্মিতে গেঁথে ফেলেছে ঘাস, মাটি, নীলচোখ গাঙের শরীর। দ্বিতীয় পংক্তি: উপমাবিদ্ধ চাঁদ, পিঠে তার …

তুমি আর আমি

গৌতম চৌধুরী   ০১. ধীরে ধীরে একটা আদল কি গড়ে উঠছে লুপ্ত সভ্যতার এমন প্রশ্নের জবাব কোনও দিনই দিলে না তুমি বৃষ্টির দেশ থেকে তাই কেবলই চলে গেছি কাঁকরের দেশে চলে গেছি জাদুঘরে, যেখানে পুস্তকের ভস্ম রাখা আছে সমস্ত লিপিই হাস্যকর, গম্ভীর, বিপরীতমুখী তুমি জানালা …

কামাল মাহমুদ-এর একগুচ্ছ কবিতা

নিদ্রাস্তুতি   আমার একটা চোখ নাকে তেল দিয়ে ঘুমোচ্ছে অন্য চোখটা নেহাৎ অনিচ্ছায় জেগে আছে ঘুমিয়ে পড়া চোখটা সুখে স্বপ্ন দেখছে– সবুজ মাঠের মধ্যে একজোড়া শাদা খরগোশ ছুটছে কোনো রাক্ষুসে শিয়াল-কুকুর তাদের তাড়া করছে না সবুজে-শিশিরে মহানন্দে খেলা করছে ওরা বৃক্ষেরা ছায়া দিচ্ছে, পাখিরা সাঁতার …

সা-রে-গায়ে ব্রেল

বারীন ঘোষাল   বেলুন      গলা        সিল্ক       চোখে  সুদূর স্বচরিতের গুহায় এই কমনরুমটা ছিল আমাদের এই নৌকো পাতা বিছানা     ব্রেনলেস    সারেগায়ে ব্রেল সারাগায়ে                                                    যা তা মস্তি বিহান   জলের ছাঁদে                স্মৃতিফলক আঙুলাঙ্গুলের  দোলছবি প্রণববাবু ছবি তুলছেন দেখে ফ্রেস্কো থেকে বেরিয়ে এলো স্ট্যাচুগণ ব্রেলচাদর গায়ে শুধু …

স্তেফান মালার্মের দুইটি গদ্যকবিতা

অনুবাদ: আজফার হোসেন   প্রতিষঙ্গের প্রেতাত্মা তোমার ঠোঁটে গেয়েছিল গান নাম-না-জানা শব্দরা? এক অসম্ভব বাকধারার অভিশপ্ত টুকরো? ফ্ল্যাট ছেড়ে বেরিয়ে আসি, কোন এক বাদ্যযন্ত্রের তারের ওপর পিছলে-পড়া পালকের মতো অনুভব সঙ্গে নিয়ে, বিনম্র ও বহতা, যার স্থান করে নেয় একটি কণ্ঠস্বর, ধীরে ধীরে নেমে-যাওয়া ধ্বনিতরঙ্গায়িত …

Back to Top