পাঁচটি কবিতা

সুবীর সরকার ঘুঙুর যে কোনো রাস্তায় যাও দেখবে মরণপণ লড়াই। নদীর ধারে কুড়িয়ে পাওয়া পাথর নদীতেই ছুঁড়ে দিচ্ছি রাত জাগি,টোকা মেরে শীত সরাই সেতুতে ওঠার আগে অবস্থান বদল আর ভ্রু-সন্ধির ঘাম ঘুমের ভিতর আর ঘুঙুরের মতো বাজছে বিদ্রুপের সিটি। কিছু কলঙ্ক লেপে দাও, নিচু হয়ে কুড়োই।   গৌরচন্দ্রিকা রক্ত ডানা …

সম্পুর্ন​

কবিতা:গরম জামা

শামীম আজাদ নদী ও নক্ষত্র পেঁচিয়ে পাথর কাঠিতে উন্মাদের মতো উল বুনে চলেছি নখ থেকে নকশা উঠে আসছে নতুন নতুন স্তবকে স্তবকে পড়ে যাচ্ছে শেয়ারবাজার, মনপোড়া নদী, টিপাইমুখ, শৈশবের ফেনী ও ফণিকাকা, জয়দা জামালপুর, পাড়ভাঙা মনু নদীর মাটি ও সজিনার ঘ্রাণ। উগল মাছের মতো ঘাই মেরে উঠছে ফ্যাশন হাউস, মেকাপ …

সম্পুর্ন​

পাচটি কবিতা

স্নেহাশিস পাল গুপ্ত   মধুভ্রমরের তুলিতে পদ্মদিঘি কেঁপে-কেঁপে ওঠে। কোনও এক আরব-নর্তকীর নেশাতুর মুদ্রার মতো – কিঞ্চিত ঘাসে ঢাকা – ভাঙা পাড়ের সরু রাস্তাটা রূপকথা-রঙা ভোরের পেটে ঢুকে গেছে … তাল-বট-কৃষ্ণচূড়া-ছাতিম-শিরীষ-অর্জুন : মোহমুগ্ধ দর্শক; থ হয়ে দাঁড়িয়ে, চোখে রাত-জাগার অমৃতক্লান্তি একটু দূরেই মীরার মন্দির, তার নিবিড় চূড়ায় পড়েছে তোমার অভিমান …

সম্পুর্ন​

একগুচ্ছ কবিতা

মাজুল হাসান জলাতঙ্ক নগর সন্ত্রস্ত করতে একটা পাগলা কুকুরই যথেষ্ট—এই কথা জানে না নগর-পুলিশের পুরোধা ব্যক্তি অথচ কৃষ্ণচূড়ার লাল দেখে অনবরত হুইসেল বাজছে দৌড়ে আসছে দমকলগাড়ি জোড় ছাড়িয়ে সঙ্গমকে পোরা হচ্ছে ১৪ শিকের ভেতর… আমি ভাই ঘরেলু মানুষ; ভাদ্রমাসে রাস্তায় মা-বোন নিয়ে বেরুতে ভয় পাই। ভয় পাই শিমুল ফুলের পাশ …

সম্পুর্ন​

কবিতার গ্রাফগদ্য

ফকির ইলিয়াস নৃত্যবান্ধব নদী ও নামগুলোর এক্সিট নৃত্যবান্ধব নদীর মুখ দেখে শুরু হয় আমার যাত্রা। এর আগে যারা চিনেছে দূরের পথ, তাদের ধূসর ছবি দেখে আমি থামিয়ে দিই প্লটযুদ্ধ। মাটির প্রয়োজন কমে যাবার পর আমারও মন ছুঁতে চেয়েছে কেবলই শূন্য আকাশের ভিত। আর খোপের জীবন ভালোবেসে নিজেকে বার বার সাজিয়েছি …

সম্পুর্ন​

পাঁচটি কবিতা

আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ   ছুটি ১ রোদে শুকানো পাজামা গলে পড়ছে প্রজাপতি গন্ধমুকুরের কাচ আরো পয়দা আরো এলাহী। হলুদ গোলাপি মিলে আরো রঙধনু তীর তীর শিকারপাখি শীতব্রিজ করে কুয়াশা কেয়াকাহিনী ঝুলছে বনের ভেতরে বনশা। স্কুল থেকে গোগুলে শাদানীল বাদামি পায়রা মেয়েরা গোপনে মঙ্গল রাখছে পালকের নিচে তাই দেখে মা করার …

সম্পুর্ন​

দুটি কবিতা

মুগ্ধ চন্দ্রিকা প্রহর ভোরের দিকে তাকালে দেখি তার উষ্ণ সুরে আর, ধারালো কিরণে নেচে ওঠে এক অজানা পাথর দুপুরের মায়াবী মুখ থেকে ঝরতে থাকে হলদে বৃষ্টি ভেজা চাঞ্চল্যে অস্থির সে প্রহর, ক্লান্ত আমি মনে দাগ নিয়ে বসে থাকা বিকেলের আয়নাহীন চেহারায় খুঁজে পাওয়া যায় নীল গোলাপি স্মৃতি- রৌদ্রের কাছ থেকে …

সম্পুর্ন​

মলয় রায়চৌধুরীর কাব্যনাট্য

যে জীবন ফড়িঙের দোয়েলের পাত্রপাত্রী: ১. কাশ্যপ ফিকির। বৃদ্ধ। শবের বাগানের কেয়ারটেকার। ২. বদ্যিনাথ। যুবক। কাশ্যপ ফিকিরের ছেলে। ৩. বিভূতিসুন্দর। প্রৌঢ়। ষষ্ঠ শতকের সম্রাট হর্ষবর্ধনের গুপ্তচর। ৪. দেবযানী। ১৮ শতকের যুবতী। ৫. চিনু হাঁসদা। প্রৌঢ়। নীলচাষী। ১৮৬০-এর বিদ্রোহে নিহত। ৬. হাঁদু লস্কর। যুবা। নীলচাষী। ১৮৬০-এর বিদ্রোহে নিহত। ৭. পাঁচটি শেয়াল। …

সম্পুর্ন​

বিষামৃতে মাখাজোখা

রওশন আরা মুক্তা পুতুলজন্ম আমাকে পুতুল পেয়েছিলে, তাই না? ফর্সা গোলাপি মুখ আর ছাগ-শিশুর মতো দাঁত। কোনো কোনো দিন প্যান্ট থাকত না ফ্রকের নিচে। তোমার বুকে উঠে বসত পুতুল। জিহ্বায় কামড় দিয়ে বলতে, আল্লাহ! নেংতু কেন? তোমার সামনের দু’দাঁতের মাঝে ফাঁক আছে, গালে টোল পড়ে। তোমার নির্লোম বুকের উষ্ণতায় পুতুল …

সম্পুর্ন​

দীপক চাইবাসায় কবে এসেছিল মনে আছে

সমীর রায়চৌধুরী বিটুর যখন প্যারাটাইফয়েড হয়েছিল ঠিক তার পরে, সেদিন মধুটোলার বাড়িতে গরুটার কালো বাছুর হয়েছিল প্রেসিডেন্সি কলেজের ড্রাগ খাওয়া ছেলেমেয়েগুলো ফিরে যাবার পরের রবিবার– কদিন পরেই ছিল রাসযাত্রা– সন্দীপনদার বউ ভাইয়ার হাতে বাবার জন্য মাছ পাঠিয়েছিল বাহাদুরনীর কাছে এক গ্লাস দুধ চেয়েছিল– জানেন তো সকাল হলে ওর লাগে, তা …

সম্পুর্ন​

দীর্ঘ কবিতা: স্মৃতিলেখা

আর্যনীল মুখোপাধ্যায়   ছবি: ছায়াছবির স্থির চিত্র ব্যক্তিগত অ্যালবাম– আর্যনীল মুখোপাধ্যায়   যেখানে এক অবলোকন ধরা পড়েছে আর এক দেখায়     কেউ দেখছিলো সেই অবলোকন      পেছন থেকে ক্যামেরাবাস্তবের মনশ্চক্ষু  দিয়ে আর সেইটেই আমি দেখছি               সেই দেখা সেটাই আমি দেখাই                            আমার তিন নম্বর চেতনা দিয়ে আপনতার অজর অকৃত্রিম ছায়া ফেলে শিল্পবস্তু চেয়ে দেখে …

সম্পুর্ন​

দীর্ঘ কবিতা: ভেকপুরাণ অথবা জনগণতান্ত্রিক ইস্তেহার

শামসেত তাবরেজী Since human nature is the true community of men, those who produce thereby affirm their nature, human community, and social being which, rather than an abstract, general power in opposition to the isolated individual, is the being each individual, his own activity, his own joy, his own richness. …

সম্পুর্ন​

দীর্ঘ কবিতা: বিনয়মঙ্গল

অংকুর সাহা ১১ ডিসেম্বর ২০০৬ প্রত্যূষে আমার ঘরে                অজস্র রাশিতে ঝরে অঘ্রানের মেঘবৃষ্টিমালা– কন্যারে ছাড়িয়া স্কুলে              পর্জন্য ধারায় দুলে কর্মস্থলে গমনের পালা। আপিসে চেয়ারে বসি                আন্তর্জালেতে পশি আচম্বিতে দুঃসংবাদ আসে- অকালে ডাকিল বান                  বিনয়ের তিরোধান শিমুলপুরে নিজস্ব আবাসে। এ দুঃখ কোথায় রাখি?                শোকগাথা গায় পাখি চরাচরে বিষণ্ণতা ছায়– কাব্যে ও গণিতশাস্ত্রে                   দিবসে এবং রাত্রে ক্রমাগত …

সম্পুর্ন​

দীর্ঘ কবিতা: এ কার হৃদয়ের কাজল গলে যায়

কামরুজ্জামান কামু আমাকে হত্যার তিমির আয়োজন চলছে। উন্মাদ কাতেল তলোয়ার উঁচিয়ে হুঙ্কার দিচ্ছে। রক্তের কণিকা-পানকারী পশুরা উল্লাসে চাটছে ব্যক্তিকে ব্যক্তি-নির্যাস, ব্যক্তি-কল্পনা, ব্যক্তি-ছন্দের প্রস্ফুটন। যেন ফুলের বিকাশের মুহূর্তকে আজ শোণিতে ভরে দিতে সীমার প্রস্তুত। ধারালো তলোয়ারে ঝিলিক-মারা রোদ ঠিকরে পড়ে ওই। এখানে এই নিচে কণ্ঠনালীটার পাশে চুমার দাগ রয়েছে জননীর। ছোরায় …

সম্পুর্ন​

ভালবাসার উৎসব

একটি হাইপার রিয়াল পদ্যনাটিকা মলয় রায়চৌধুরী   পরিদৃশ্য: পায়রোটেকনিকে তোলা রঙিন ঝড় ( গাঢ় লাল, কমলা, হলুদ, সবুজ, নীল, বেগুনি এবং গোলাপি । রঙগুলো প্রতিটি নারীর ভাবকল্প। ) সাত রঙের ঝোড়ো আলো (যে-রসায়নে আলো গড়ে উঠেছে: লিথিয়াম ক্লোরাইড, ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড, সোডিয়াম ক্লোরাইড, কপার সালফেট, কপার ক্লোরাইড, পটাশিয়াম সালফেট এবং পটাশিয়াম …

সম্পুর্ন​

তিনটি কবিতা

কল্যাণী রমা বরফে আগুন জ্বেলে, বরফে আগুন জ্বলে তোমার আলেক্সান্দ্রিয়া বরফে আগুন জ্বেলে দাউ দাউ পুড়ে যায় পুড়ে যায় ঘর। বরফে আগুন জ্বেলে বরফে আগুন জ্বলে বরফে আগুন জ্বলে। ঘন্টা বাজে না কোথাও। মন্দিরে দরোজা বন্ধ। তবু শরীরে গাভীর ডাক। গোয়ালিনী। স্তন কাঁপে। ভোর হ’লে নেশা। হলুদ তেকিলা জ্বলে, পোড়ে, …

সম্পুর্ন​

একগুচ্ছ কবিতা

মোশতাক আহমদ ধারাবাহিক মুঠোফোন ১. কথা ছিল যাব হাঁটতে হাঁটতে সহসা এসে গেল সড়কের বাঁক যে যার বিবরে ফেরার দিন এ যাত্রা হলো না যাওয়া তারামণ্ডলে যাওয়াই হলো না আর ২. রুমালিয়া ছরা এখন আর নেই সে জলের ধারা নামটুকু বয়ে চলে রুমালিয়া ছরা ৩. শেষ চুমুকের বদলে শেষ চুমুক …

সম্পুর্ন​

মাসুদ খান-এর একগুচ্ছ কবিতা

    ডাকাতি সাহাদের বাড়িতে ডাকাত পড়েছে। মাথায় মারণকল ঠেকিয়ে বাড়ির লোকজনদের বেঁধে রেখে ডাকাতি করছে ডাকাতের দল। এরই মধ্যে কোনো এক ফাঁকে সাহাদের আদর-কাড়া হোঁদলকুতকুতে ছোট্ট ছেলেটি আতঙ্কিত হয়ে হামাগুড়ি দিয়ে এসে উঠে পড়েছে ভীষণদর্শন এক ডাকাতের কোলে। আঙুল চুষতে চুষতে ঘুমিয়েও পড়েছে একসময়। পাড়ায় শোর পড়েছে, ভোর হয়ে …

সম্পুর্ন​

শিবলি সাদিক-এর কবিতা – ১

চল মন নদীর কিনারে যত মাঠ আছে, তার কাছে চল মন পশু আর পতঙ্গের কাছে কিছু দিন ঘুরে আসা যাক বায়ুসেবনের পর নতুন ভাষায় সব পুরাতন কথা ভাবা যেতে পারে, মনে হতে পারে সভ্যতার সব ছেড়ে মাছ আর পাখিদের সাথে ভাগ করে নিই এ জীবন যাই মেঘ আর বিদ্যুতের কাছে, …

সম্পুর্ন​

আলতাফ হোসেন-এর দুটি কবিতা

১ পোক করেছে আশফোক তুমিও তাকে করো পোক আসমানে একটি তৈরি হয়েছে ঝোপ তাতে দুনিয়াকে সেলাম করব না লাথ মারব গান বাজছে লাল লাল বাচ্চা সৈন্যদের এনে এনে জড়ো করছে কখন যে মাঠ গজিয়েছে এভাবে করলে হবে না এখানে ভারী কিছু না-শোনা কিছু শব্দ আনো রসুনে আগুন দাও আর তোমার …

সম্পুর্ন​

বিমানযাত্রীর চতুর্দশপদী

অংকুর সাহা ১ কোমরবন্ধনী বেঁধে বসে আছি সংকীর্ণ আসনে শুধু সামীপ্যের জন্য দক্ষিণী, অচেনা ব্যক্তিটিকে বন্ধু বলে মনেহয়— যেন কত কাল ধরে চিনি; অন্যধারে গৃহিনী সে মগ্ন, নিমজ্জিত মেনুকার্ডে হিন্দু মিল বলে দিলে ভাল হত, দ্যাখো কী সুন্দর পোলাও এর গন্ধ ভাসে শীতাতপ-নির্ভীক বাতাসে— খুব কম ঝাল দেওয়া ভেড়ার মাংসের …

সম্পুর্ন​

শিবলি সাদিক-এর কবিতা

গাছ ১ গাছকে সম্পূর্ণ দেখা কখনো সম্ভব নয় দৃশ্যের আড়ালে আরো দৃশ্য, গান থেকে যায় কেউ কেউ বলেন অনেক যাদুঘর, প্রত্নযুগ আছে সূর্যের চুম্বন, ঝড়, জলোচ্ছ্বাস, ঘোড়ার কংকাল রং, রেখা দিয়ে আঁকা সবুজ রহস্যময় ক্যানভাসে সময় তো হারায় না, তার নথিপত্র বাতাসে পাতায় দোলে সব জ্ঞান বিষ কাঠে স্তব্ধ হয়ে …

সম্পুর্ন​

সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ-এর কবিতা

পেন্টিমেন্টো ১ ব্রহ্মপুত্র-পাড়ে আমরা দেখেছি তোমারে, আমরা জন্মভয়ে খুলি নি দেরাজ, তুমি কাশে-কাশে এমনি ঘুরেছ গোল্ডফিশ, তুমি আমাদের দেখা-ও দ্যাখ নি, আমাদের অন্তর্বর্তী সরকার দাঁড়িয়ে ছিল প্ল্যাটফর্মে ট্রেনের মতো, তারও সময় ছিল না আরও দু’দণ্ড দাঁড়িয়ে দেখবে পাতালাভিমুখী সে-মেরাজ, এবং কাশগুলি যেন আস্তে-আস্তে মেপলের পাতা আৎকা শীতে চুনিগাঢ়, আর ট্রেন …

সম্পুর্ন​

তুচ্ছপুচ্ছ ভাবনা গুচ্ছ-২

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল ০৪/১০/১১ অন্ধ হলেই ভালো হতো, দেখতে হতো না, দেখতে দেখতে দৃষ্টি পাথর! বোবা হলেই ভালো হতো, বলতে বলতে ভাষা শেষ। কালা হলেই ভালো হতো, শুনতে হতো না শুনতে শুনতে সঙ্গীতও অসহ্য!   ০৫/১০/১১ আকাশও একা। একাতিত্বের আনন্দই আলাদা, অতুলনীয় নিঃসঙ্গতায় নিজেকে পাবে পুরোপুরি, পুরোটাই সুঁতি।   ২১/১০/১১ …

সম্পুর্ন​

তিনটি কবিতা

শামীম হোসেন তারা নেই, তারকাও নেই কোথায় গিয়েছে তারা— এত তর্জন-গর্জন, হম্বি-তম্বি গিনিপিগ- ইঁদুর; মরাডালে ঝুলন্ত বাদুড়— ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশের প্রাণ! শূন্যতার দড়ি বেঁধে ঝুলছে তাদের ভাঁড়ার… অথচ ফেরাও চোখ দেখো সেই— তারা নেই, তারকাও নেই!   ভিন্নপট ফুর্তি জেগেছে মনে— গাছের পাতা, পাখিরা কি জানে…? আলোর মশাল জ্বেলে যে …

সম্পুর্ন​

একগুচ্ছ কবিতা

রওশন আরা মুক্তা অপেক্ষায় ওসব যা ছিল জোয়ার জোয়ার— তা কী ছুঁয়েছে আস্তিক মরণ ? তা কী আর আসে না মখমল-ব্যথা হয়ে? আর কী চাপে না রক্তে দুর্নিবার্য তেষ্টা নিয়ে? ওসব যা ছিলো জোয়ার জোয়ার— তা কী শীতল ঘুম পোহাচ্ছে তোমার নির্লিপ্ত ঠোঁটে? নাকি সব ঐখানে—কিছুকাল আগে— বুলিয়েছে তুলির শেষ …

সম্পুর্ন​

সাখাওয়াত টিপুর কবিতা

নন্দনতত্ত্ব ১ নম্বর এহা এহা নহে নাকি এহা যাহা তাহা এহা তাহা যাহা এহা উহা যাহা উহা উহা তাহা যাহা ইহা এহা তাহা উহা এহা নহে যাহা তারে নারে নারে তারে তাড়া খায় এহা ইহাই এহা নড়ে উহা ধরে মনোরম সুন্দরম্ ১/১/২০১২

রাকীব হাসান-এর কবিতা

আশ্চর্য প্যাকেট স্বপ্ন ছায়া হলে ছায়াতে মন নাই, দৃশ্যময় দেহ চাই; অঙ্গ সর্বাঙ্গ ওজন করো রোদ্দুর বাটা কাঁচা হলুদের রঙসহ— আষাঢ়ের জলকৃষ্ণ ঘন মেঘ ওজন করো, তুমুল বর্ষার ব্যাঙের ছাতা আর রবীন্দ্রসঙ্গীত ওজন করো। ওজন করো রন্ধনকালে আঙুলের ঝালে আহারের ভর্তা-বিলাস; ওজন করো বৃষ্টিশাসিত শরতের এ্যালকোহলিক রাত্রি— কত মুদ্রায় অন্ধকার …

সম্পুর্ন​

সমীর রায়চৌধুরীর কবিতা

এই কবিতার সম্ভাব্য শিরোনাম লোমশ মুনির গল্প চিত্রলেখার সখীসংবাদ বাণরাজার মেয়ের রূপকথা বিষ্ণুপুরাণের আনলিমিটেড সেক্সস্টোরি সেভেন ও ক্লকের অ্যাড স্নিপেট একটি উদারবাদী কবিতা ‘সেভেন-ও-ক্লক’-এ ঠিক সাতসকালে নিয়মিত দাড়িকামানোর কথা অবশ্য সেভেন-ও-ক্লক কি জানে কেন ঊষা সাতরকমের মুশকিল এই যে চলে আসতে পারে ঊষা-ফ্যান কিংবা ঊষা মঙ্গেশকরের হালফিল অথচ প্রয়োজন ছিল …

সম্পুর্ন​

নভেরা হোসেনের কবিতা

ধূলিযুদ্ধ সিংহের গর্জন ছেড়ে কোথায় লুকাও তুমি ধূলিযুদ্ধের নায়ক— গোপনীয়তার গোপন কুঠুরিতে ঘুমঘোরে— কাপালিক যাদুকন্যা নিমেষে হারিয়ে দেয় তোমাকে আজ শ্রাবণের মেঘময় দিনে ঢেকে যাও ঢেকে যাও ধূলোর আস্তরণে   তমিস্রা ম্রিয়মান দিনের গহ্বরে বেয়ত্রিচ দন্তহীন নারী এক। শলাকাদণ্ড জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যায় জ্বলে পুড়ে নাই হয়ে যায়! অগ্নিদ্রোহ …

সম্পুর্ন​

ঈশিতা ভাদুড়ীর কবিতা

জেনারেশন গ্যাপ আমরা যেমন ভাব বিনিময় করেছি অনেক রুলটানা কাগজ আর কাঠপেন্সিলে আজকে কিশোর আজকে তরুণ ভাবে না সেসব। আমরা লিখেছি বসন্তে ফোটা প্রথম ফুল আর, জ্যোৎস্না-রঙ স্নিগ্ধ আকাশ আমরা লিখেছি বৃষ্টিপাতে মধ্যদুপুর আমরা লিখেছি কাঠপেন্সিলে একে অন্যকে নদীর ঢেউ আর মেঘলা রাতের কথা রুলটানা কাগজ আর কাঠপেন্সিলে আমরা করেছি …

সম্পুর্ন​

অধুনান্তিক

সমীর রায়চৌধুরী যারা আস্ত রসগোল্লা একবারে মুখে পুরে দেয় আর যারা ছোটো করে ভেঙে থেমে থেমে খায় অথবা চারটে দিলে এক-আধখানা শেষমেষ এঁটো প্লেটে ফেলে রাখে সেই সব আচরণের সামাজিক অবস্হান নিয়ে ভাবতে পারেন রোঁলা বার্থ তিনি বঙ্গ-সংস্কৃতির রসগোল্লার সঙ্গে পর্তুগিজ অভিযাত্রীদের মিষ্টান্নপ্রীতির খুঁটিনাটি সূত্রগুলি জানেন, যেভাবে রসগোল্লার সঙ্গে ইউরিয়া …

সম্পুর্ন​

গৌতম চৌধুরীর দুটি কবিতা

নিশিব্যাধ বিরান প্রান্তরটুকু পার হয়ে গেলে হয়তো পাওয়া যাবে মৃদু জনপদ বাচ্চাদের চ্যাঁয়্যাঁ ভ্যাঁয়্যাঁ, বেলুন ফাটার শব্দ, গড়গড়িয়ে ছুটে যাওয়া চাকা খাঁচার ময়নার মুখে দু’চারটে অশ্লীল শব্দ, গাভীগন্ধে উন্মত্ত বলদ সম্ভাবনা অগণন, শতরঞ্জ ছকে যেন সারি সারি কলসি মুখঢাকা বাদশাই মোহর? সাপ? কুটকুটে আলকাতরা? মদ? গুড়? বালি? পুঁথি সুপ্রাচীন? কী …

সম্পুর্ন​

কৃষ্ণভাবিনী, রমাবাঈ ও সুতপাদির জন্য

চৈতালী চট্টোপাধ্যায় আগুনের বেড়া চারপাশে সে-আগুন পার হয়ে আসে পুরুষবন্ধুরা দলে দলে ভালোবাসে, খুব ভালোবাসে (তারা সব সোনার অঙ্গুরি বাঁকা হোক, কলঙ্ক ধরে না) সেই ঘর, ডাইনির ঘর আধখানা কুয়াশায় ঢাকা সেইখানে লোহার কটাহে পুড়ে যায় প্রথাভাঙ্গা ডানা দু-একটি কী করে যে বাঁচে ওরা পাখি হয়ে উড়ে যায় যেখানে শীতের …

সম্পুর্ন​

মাসুদ খান-এর একগুচ্ছ ছড়া

  নদীতে আগুন ধ’রে… নদীতে আগুন ধ’রে মাছ পুড়ে যায় নদীপোড়া গন্ধে তো ঘরে টেকা দায়! মাছরাঙা বক-চিল সেই ঘ্রাণ পায় চিলাহাটি থেকে চিল চিলমারি ধায়। নদী কোথা! এ যে নদ! ব্রহ্মের পুত্র আগ লাগে এই নদে! কী-বা সেই সূত্র? ভোঁদড়ে ধরেছে পোড়া শোল টাটকিনি তা-ই দেখে আহ্লাদে নাচে ভোঁদড়িনী। …

সম্পুর্ন​

অনুবাদ কবিতা: পাগলা

মূল:খলিল জিব্রান অনুবাদ: কৌশিক ভাদুড়ী উনবিংশ শতকের শেষ ভাগ থেকে বিংশ শতকের প্রথম ভাগ পর্যন্ত যে আরব কবি আধুনিক আরব দুনিয়াতে প্রথম মুক্তচেতনার অভিযাত্রী তিনি খলিল জিব্রান। পুরো নাম আরবি উচ্চারণে ‘ খলিল জুবরান’। ১৯১৮-এ ওনার ম্যাডম্যান কবিতাটি আমেরিকায় প্রকাশিত হয়। কবিতাটি বাংলায় অনুবাদ করার একটি চেষ্টা করছি মাত্র – …

সম্পুর্ন​

টোমাস ট্রান্সট্রোমারের কবিতা

অনুবাদ: জুয়েল মাজহার আবহ চিত্র পিঠে মরীচিকার ডানা।–এই নিয়ে অক্টোবরের সাগর তুলছে তার ঠাণ্ডা ঝলক নৌকা-দৌড়ের সেই ঝিমধরা স্মৃতিকে উসকে দেবার মতো অবশিষ্ট কিছু আর নেই গ্রামের উপরে হলুদাভা আর ওই ধ্বনিপুঞ্জ ধীরে উড়ে যায় কুকুরের ঘেউ এক গূঢ়লিপি আঁকা আছে বাগানের উপরে হাওয়ায় গাছকে বানিয়ে বোকা সে বাগানে হলুদাভ …

সম্পুর্ন​

কাব্যনাটক: পদস্খলনের পর

যোবায়ের শাওন দরজা খোলা ও বন্ধ হওয়ার মতো শব্দ হতে থাকবে। কিছু শ্লোগান ভেসে আসবে। জিকিরের মতো শব্দ শ্লোগানের শব্দ ছাপিয়ে যাবে। যে কোনো খেলায় সমর্থকরা যেমন চিৎকার করে তেমন শব্দ সব ছাপিয়ে প্রকট হবে। আবার’ দরজা খোলা ও বন্ধ হওয়ার মতো শব্দ হতে থাকবে। জনান্তিকে কেউ একজন দৃঢ় কন্ঠে …

সম্পুর্ন​

দুটি কবিতা

সাখাওয়াত টিপু মায়াবি খোলস কে কোন দিকে যাবেন ঋতু বদলাতে বদলাতে তুমি মরতে মরতে যেন কচি কচি পাতা ফোটে কে কে আসিবেন খেতে লিঙ্গ দোলাতে দোলাতে আর তুমি উরু ফাক করে কাটিতেছ ফর্সা তরমুজ যদি নাই আসো তবে হবে অশেষ নাগাদ কারণ দুনিয়ার সবাই ভাগতে ভাগতে জাগে সে খেলায় আমি …

সম্পুর্ন​

আঁরি মিশোর কবিতা

বাংলা রূপান্তর: নান্নু মাহবুব [কবি, লেখক, চিত্রকর আঁরি মিশোর জন্ম ১৮৯৯ সালের ২৪ মে বেলজিয়ামের নামিউর শহরে। ১৯ অক্টোবর, ১৯৮৪ সালে প্যারিসে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থগুলির মধ্যে রয়েছে আ  বারবারিয়ান ইন এশিয়া; ডার্কনেস মূভস; মিজরেবল মিরাকল; আ ডিসটান্স; বাই সারপ্রাইজ । প্লুম আঁরি মিশোর প্লুম-সিরিজের কবিতাগুলির কেন্দ্রীয় চরিত্র।] …

সম্পুর্ন​

সমুদ্র বিষয়ক তিনটি কবিতা

মোশতাক আহমদ ভেবেছিলাম এ এক রোমাঞ্চের চড়ুইভাতি, ছেলেখেলা উড়িয়ে দেয়ার মুড়ি-মুড়কি, তেজপাতা আদতে শেকড়িত, এইবারে বদলে নিলাম ডানা ভাজা ভাজা করলাম পর্বতমালা, সিন্ধু কলংকের খোঁজে পাড়ি দিলাম চাঁদে ভিজিয়েছে সে আমাকে আহিতাগ্নি-জোছনায় সোমরস-হলাহল আনে নি মত্ততা দিয়েছে পরিয়ে ধীবর-মগ্নতার মুকুট বৈরী যানজট কালো ধোঁয়া মানুষের ভিড়ে মনখালি সৈকতের হাওয়া লেগে …

সম্পুর্ন​

তিনটি কবিতা

পরিতোষ হালদার একাকী খনিজ ভুলে গেছি সব। কোন হাতে পাত্র রাখি কোন হাতে সোনার গোলক। ঘনকুয়াশার বনে হাঁটতে হাঁটতে ফিরে গেছে আমার সকাল। তিস্তা-বেগবতী-নিলাক্ষী কত শত নদীর নামে তোমারে ডাকতে গিয়ে প্রাণের শ্রাবণে কখন যে হয়ে গেছি জল। রূপালী শস্যের টানে সাঁই সাঁই উড়ে আসে পাখিদের ঝাঁক। ফড়িঙের ঘাস দেহে …

সম্পুর্ন​

কয়েকটি কবিতা

আলতাফ হোসেন ইউথ্যানাসিয়া ইউথ্যানাসিয়া এসে ঘুরঘুর করল ঘুরঘুর করল একদিন যেমনটা করেছিল কোকানোভা বালগেরিয়ার খসরু-র ফিল্মোৎসবে একদাসমাজতন্ত্রে তুমিও বাসিনী? কোমলাঙ্গ আপেলরঙ আনতনয়না ঘুম জড়িয়ে ধরবে কি ঘর্ঘর ঘর্ঘর শব্দ। ট্রাক থেকে নেমে এল মার্সি কিলিং   প্রত্যেক রাতকে প্রত্যেক রাতকে ভাবি শেষ রাত কুকুররা ডাকছে ঘড়ি ফেলছে পা, তার হাত …

সম্পুর্ন​

আরব্য উপনিবেশে

খালেদ হামিদী জবান আরবি না, অথচ মুসলিম! কেন!! এ প্রশ্নেই উপনিবেশিতের অমোচনীয় গ্লানি এখনো স্মৃতি থেকে স্বদেশে বয়ে আনি। আরব মনিবের চকিত গর্জন অবিস্মরণীয় হলেও গে এরাব ক্লাবের নানামুখ শিশ্ন-নিতম্বপ্রধান হাসি ছুঁড়ে খুলেই ওয়ালেট রিয়াল দেখাতেই আমার রিরংসা পেরোয় প্রভুত্ব। তাতেও লাভ কই? জেব্রা ক্রসিংয়েও কখনো শকটের আলতো ধাক্কায় বাঙালি …

সম্পুর্ন​

নৌকা বিষয়ক একগুচ্ছ কবিতা

শিবলি সাদিক নৌকা-১ তারার আলোর নিচে নৌকার ছইয়ে শুয়ে মনে হল এই সন্ধ্যা ততটা নিকটবর্তী নয়, যেমন নিকটবর্তী নয় নরম তারকারা। নদীজলে তারকাদের ভাষা নেচে ঢেউয়ে ঢেউয়ে উপচায়, আর ক্রমে গ্রাস করে লোকালয়। ভাবি, এই আক্রমণে, এই নাচঘরে রাতভর বসে আমি দেখতে পাব কি অমাজল, যা থেকেই উৎসারিত নদী ও …

সম্পুর্ন​

বালিঘড়ি

মিতুল দত্ত এক. পরিত্রাণহীন ট্রেনে আমাদের ছোট্ট জানাশোনা শেষ হয়ে এল দ্রুত, রুক্ষতাসর্বস্ব দেশ মেলে ধরলো জবুথবু নদী হাওয়া উড়ে গেল মৃদু উড়ে গেল রঙিন কাঁচুলি ছোট স্টেশনের নাম, যাতায়াতে পড়ে রইল শুধু দুই. কোথাও মাজার নেই, দু’পাশে ছড়ানো শুধু বালি তবু যেন ছায়া কেউ শুয়ে আছে এখানে পরম রেখেছে …

সম্পুর্ন​

মাছরাঙা পাখির সফর

সেলিম রেজা নিউটন সুস্মিতা চক্রবর্তী: ওগো চক্রযান, তোমার চাকায় মম প্রাণ   এক। দূরের থেকে দূরের দিকে এখনো তুই কোথায় বটে বেঁচে আছিস দু-এক ফালি- এখনো তাই কামিনী ফোটে, গন্ধে ভরে তোমার ডালি। এখনো চাঁদ নিখোঁজ হলে হারায়ে তারে মেঘের রঙে খুঁজতে থাকো বিরহানলে তৃষ্ণাবারি আকাশগাঙে। ছায়াপথের আলোকস্নাতা দূরের থেকে …

সম্পুর্ন​

ও মাইয়া মোঁরে…

শামসেত তাবরেজী লে হালুয়া, তকদির আমার গণতন্ত্রময় আর বটে লোহার গরমে অভিজ্ঞান বসন্ত হয়েছে ছেঁড়া স্ট্র্যাপস চপ্পলের তবু হাঁটা হল ৮-১০কিমি যেখানে ধনচের ফুল ইয়ে মাখছিল সংগঠনের মুখে এবং আমরাও একবার…, যেহেতু শিক্ষা হয় দেখে, ভালবেসে লে হালুয়া, কত ভোট এলোগেলো কত মস্তানির বারুদ উড়ল আহা, দুধ ঝরিয়ে ঘুমাতে গেল …

সম্পুর্ন​

প্রার্থনা: মুখতার মাইএর জন্যে

অংকুর সাহা তোমার ছিল দুখের সংসার সূর্য-রাগী, আগুনভরা তেজ; তোমার পায়ে পাথুরে রুখো মাটি কান্না, ঘাম, খিদের সংশ্লেষ। সমাজ তোমার আদতে পুরুষালি, রমণী হীন, দ্বিতীয় শ্রেণী, পণ্য; হেঁসেল, আঁতুড়, প্রহার, সহবাস সমতা কবে আসবে তোমার জন্যে। গ্রামের উঠোন, গেরস্থালি, ঘর কৃষিকর্ম দুপর বেলায় মাঠে; তালাক দিল হৃদয়হীন খশম একা শয্যায় …

সম্পুর্ন​

দুটি কবিতা

তালাশ তালুকদার তরমুজের কর্মকাণ্ড ঐ টাট্টুঘোড়ারা এমনই সৃষ্টিছাড়া শ্লেটে রসাত্মক বাক্য লেখে। অবসরে হাবিলদারের মতো অনাত্মীয় গন্ধ পেলে দূর দূর করে তাড়িয়ে বেড়ায়! তবুও কেমন সুখী ওরা বেডরুমে কাঁচা কাপড় সরিয়ে ষ্পষ্ট জবাফুল; পাকা পেঁপের মতন দু’পায়ের ফাঁকে ভর করে থাকে। যেন অনায়াস ঝর্ণা; নিম্নমুখী হলেই ও নেচে ওঠে, জল …

সম্পুর্ন​