পাপড়ি রহমানের স্মৃতিগদ্য: সুরমাসায়র

পাঠে আমার মন বসেনা কাঁঠালচাঁপার গন্ধে                        আমার মাথার ভেতর যেন সারাক্ষণই একটা তরতাজা চিংড়িমাছ হেঁটে বেড়াত। যে চিংড়িমাছটা ছিল প্রতি বর্ষার নতুন জলে নতুন করে জন্ম নেয়া। সেরকমই  সবুজাভ-দেহ। সেরকমই অস্থির আর সরু-পা। পাগুলি দিয়ে সে আমার মাথার ভেতর মৃদু ভঙ্গিতে হেঁটে বেড়াত। এই চিংড়িমাছের …

পাপড়ি রহমানের স্মৃতিগদ্য: সুরমাসায়র

প্রথম অ্যাবিউজ আমার আব্বার আসল চক্ষু দুইটা থাকলেও, ওই দুইচক্ষুর ভেতর ছিল আরও শত-সহস্র চোখ। যেসব চোখের দৃষ্টি আমাদের ভাইবোনের উপর সার্চলাইটের মতো সদা ঘুরাঘুরি করত। ফলত আব্বার নজর এড়িয়ে যে কোনোকিছুই করা আমাদের জন্য প্রায় অসম্ভব ছিল। আমরা রেললাইনের স্লিপারের উপর কয়টা লাফ দিলাম, …

পাপড়ি রহমানের স্মৃতিগদ্য: সুরমাসায়র

ও প্রাণের রাজা  আমাদের ক্লাসের সব চাইতে লম্বা আর ঢ্যাঙা মেয়েটাকে আমার নানান কারণেই পছন্দ হতো। তার ছিল অত্যন্ত মৃদু-স্বর। নম্র স্বভাব। কিন্তু ক্লাসের পড়াশুনা তাকে তেমন টানত না, যেমন টানত ট্রেণ্ডি ফ্যাশন ও চলচ্চিত্রের নানান খুঁটিনাটি । সে ছিল নায়িকা ববিতার ডাইহার্ড-ফ্যান। পত্রপত্রিকার যেখানে …

পাপড়ি রহমানের স্মৃতিগদ্য: সুরমাসায়র

এনেছি আমার শত জনমের প্রেম  খালাম্মার হাউসকিপার সাহেরার আমাদের বাসায় আসা-যাওয়া হঠাৎ করে বেড়ে গেল। সাহেরা সকালে সিন্ধি-গাইয়ের দুধ দিয়ে যায় তো, বিকেলে নিয়ে আসে আলুর-সিংগারা ভেজে। ঝুম-বৃষ্টিতে ছাতা ফুটিয়ে সাহেরা নিয়ে আসে ভুনাখিচুড়ি আর বড় রাতা ভুনা। মিষ্টিকুমড়ার শাকের কচিডগায়, শুঁটকি আর বেগুন ফেলে …

পাপড়ি রহমানের স্মৃতিগদ্য: সুরমাসায়র

কলি ফুটিতে চাহে, ফোটে না মরে লাজে, মরে ত্রাসে আগেই বলেছি আম্মার খুব বাছবিচার ছিল অন্যদের সাথে মেলামেশার ব্যাপারে। যাকে হয়তো শাদা চোখে উন্নাসিকতাই বলা যায়। আমি যেমন হরেদরে সবার সাথেই সমান তালে মিশে যেতে পারতাম বা মিশতামও, তেমনটি পারলেও আম্মা সেটা করত না। আম্মা …

পাপড়ি রহমানের স্মৃতিগদ্য: সুরমাসায়র

মিষ্টি মুখের দুই কিশোরী সপ্তম শ্রেনীতে উঠে আমি প্রথম বারের মতন ‘সি সেকশনে’ পড়লাম। কীভাবে সেকশন নির্ধারিত হতো সেসব আগেই বলেছি। তবুও ‘সি’ সেকশনে পড়লে মন কেমন কেমন জানি করে উঠত। আদতে আমি ‘এ’ সেকশনেই পড়তে চাইতাম। কিন্তু যে ‘সি’ তে পড়তো সে অত্যন্ত খারাপ …

পাপড়ি রহমানের স্মৃতিগদ্য: সুরমাসায়র

লণ্ডন, অভিসার, বর্মণ স্টুডিও ক্বীনব্রিজ থেকে নেমে এলে সোজা যে পথ, তা গিয়ে ঠেকেছে সিলেট কোর্টের দোর গোড়ায়। তারও আগে একটা ট্রাফিক পয়েন্টে ফেলে হাতের সামান্য বাম দিকে ‘লন্ডন স্টুডিও’। ফুজিকালারের বড় বড় পোস্টারে লাস্যময়ী সুন্দরীদের ছবি। কিংবা টিউলিপ ফুলের নয়ন-জুড়ানো ছবি্র সমারোহ! ওইসব ছবি …

পাপড়ি রহমানের স্মৃতিগদ্য: সুরমাসায়র

আমার বন্ধু পান্না  পান্নার সঙ্গে ইশকুলের বাইরেও আমার পারিবারিক-হৃদ্ধতা গড়ে উঠেছিল। আমি আর আম্মা প্রায় বিকেলেই সুরমানদী নৌকায় পারাপার হয়ে রিকশা নিয়ে ক্বীনব্রিজের নিচ দিয়ে লালদিঘীর পারে চলে যেতাম। নিচতলায় ছিল পান্নাদের গোল্ডের দোকান— ‘কমলাভাণ্ডার’। দোকানের উপরে ছিল ওদের বাসা। পুরানো দিনের বাড়িগুলির মতোই অপ্রশস্ত …

পাপড়ি রহমানের স্মৃতিগদ্য: সুরমাসায়র

পথেঘাটে রোমিওর দল  আমাদের ইশকুলে আসা-যাওয়া, সিনেমা দেখতে বা ছবি তুলতে যাওয়া কিংবা আমাদের উঠতি-বয়স— এইসবের মাঝে আমাদের চলার পথ কেমন ছিল? বা তখনকার পুরুষদের মানসিকতা? উহু, আমাদের চলার-পথ কোনোভাবেই মসৃণ ছিল না। বরং তা ছিল কন্টকাকীর্ণ! নবীজির পথে সেই দুষ্টু-বুড়ির কাঁটা বিছিয়ে রাখা পথের …

পাপড়ি রহমানের স্মৃতিগদ্য: সুরমাসায়র

কেন হয়েছিল শুরু হবে যদি অবসান? মেয়েটির মুখ যতোটা স্পষ্ট মনে আছে, তার নামটা আমি ততোটাই ভুলে গিয়েছি।  ন্যাড়া করে দেয়ার পর সদ্য-গজানো এক/দেড়-ইঞ্চি চুল ছিল তার  মাথায়। কালো কুচুকুচে চুল! প্রথম দিকে স্কার্ফ জড়িয়ে আসত। চুল সামান্য সামান্য বড় হওয়ার পরে স্কার্ফ পরা ছেড়ে …

পাপড়ি রহমানের স্মৃতিগদ্য: সুরমাসায়র

শিমুল ফুলের দুনিয়া—১৩ ইচিংবিচিং খেলায় সময় অন্যদের হাত-পা দিয়ে বানানো পিরামিডের তিনফুট উচ্চতা হাইজাম্প করে সহজেই পেরোতে পারি আমি। বা খেলতে পারি ছি-কুতকুত। কিন্তু ইশকুলে বউচি খেলায় দৌড়ে স্লো বলে আমাকেই ‘বুড়ি’ হয়ে ঘরে বসতে হয়। ঘোড়া ও আরোহী খেলায় এজন্যই আমাকে ঘোড়া সেজে হাঁটু …

পাপড়ি রহমানের স্মৃতিগদ্য: সুরমাসায়র

পাঁচিলের ফোকর গলে—১২ অগ্রগামী ইশকুল থেকে কোনো ছাত্রীরই ক্লাস-চলাকালীন অবস্থায় বের হওয়ার সুযোগ একদম ছিল না। এমনকি টিফিন-পিরিয়ডেও না! গেটের বুড়ো-দারোয়ানটা ছিল হাড়বজ্জাত। ফুকলওয়ালা, তুক্তুকিওয়ালা, আঁচারওয়ালা, তেঁতুলওয়ালারা বসতো ছোট-গেটের বাইরে। আইস্ক্রীমওয়ালা, চানাচুরওয়ালাকেও বড়-গেটের বাইরেই থাকতে হতো। কিন্তু বড়-গেটের ওইটুকুন ফাঁক দিয়ে আমরা হাত গলিয়ে চানাচুর …

পাপড়ি রহমানের স্মৃতিগদ্য: সুরমাসায়র

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা  ফুল ভলিয়্যুমে রেডিও বাজার শব্দে একদিন ঘুম ভেঙে যায়। ঘুমচোখে ঠাহর করতে পারি না, এমন ভোর ভোর অমন জোরে রেডিও বাজাচ্ছে কে? আমাদের বাসায় এরকম জোরে রেডিও বাজে না। আর সকালে তো অবশ্যই না। এরকম সকালগুলিতে আমরা ঝুমতে ঝুমতে পড়ার …

পাপড়ি রহমানের স্মৃতিগদ্য: সুরমাসায়র

সৃজনী কচিকাঁচার মেলা  দৈনিক ইত্তেফাকের ভেতরের পাতায় ‘কচিকাঁচার আসর’ নামে শিশুকিশোরদের লেখা নিয়ে একটা পৃষ্ঠা প্রকাশিত হতো। ওই পাতায় নতুন সদস্যদের জন্য একটা নির্ধারিত ফরম ছাপানো হতো তখন। আমি একদিন ওই ফরমটা কাঁচি দিয়ে কেটে, ফিলআপ করে, খামে ভরে দৈনিক ইত্তেফাক কার্য্যালয়ের ঠিকানায় পাঠিয়ে দিলাম। …

পাপড়ি রহমানের স্মৃতিগদ্য: সুরমাসায়র

ছোটকার জেলবাস একদিন ভোরবেলায় উঠে দেখি আম্মা অঝোরে কাঁদছে। অতিরিক্ত কান্নার ফলে আমার অতিরিক্ত গৌরবর্ণা আম্মার নাকমুখ একেবারে রক্তজবা ফুলের মতো টুকটুকে লাল হয়ে উঠেছে। আব্বারও চোখ দুটো ফুলে ঢোল— অনুমিত হয়, বিস্তর-কান্নাকাটির পরে আব্বা সদ্য কিছুটা হয়তো ধাতস্থ হয়েছে। আমাদের সমস্ত বাসা রাতভর টর্নেডো …

পাপড়ি রহমানের স্মৃতিগদ্য: সুরমাসায়র

ধুসর গোধূলি চানাচুর-ফুকল-আইসক্রীম-সিংগারা-তেঁতুল-অড়বড়ই-আমলকী নিত্য কিনে খেয়ে, বন্ধুদের খাইয়েও আমার হাতে প্রতি হপ্তাতেই কিছু পয়সা উদ্বৃত্ত থেকে যেত। দুই-তিন-হপ্তা বাদেই দেখতাম হাতে পাঁচ-দশটাকা জমে গেছে! এত টাকা কই বা কীভাবে খরচ করব তাল পেতাম না। রিক্সা ও নৌকাভাড়া দেয়া ছাড়া আমার নিজের কোনো খরচই ছিলনা। আমার …

পাপড়ি রহমানের স্মৃতিগদ্য: সুরমাসায়র

অচ্ছুৎ অসুখের দিনরাত্রি ততদিনে আম্মার ট্রাংকে লুকিয়ে রাখা প্রায় সবগুলি নিষিদ্ধ বই-ই আমি পড়ে ফেলেছি। ভালো করে বুঝি বা না বুঝি পড়তে ইচ্ছে করেছে, ব্যস পড়ে ফেলেছি। ওইসব আউট বইয়ের মাঝে নজরুলের ‘মৃত্যুক্ষুধাও’ ছিল। প্রচণ্ড কাশির তোড়ে যখন আমার কচি বুক থেকে সিঁদুরের মতো লাল …

পাপড়ি রহমানের স্মৃতিগদ্য: সুরমাসায়র

পাতারপাহাড় ও রক্তবর্ণ হীম  বিউটিআপাদের ওই বাংলোর যে কোনো জায়গায় দাঁড়ালে বিস্তর সবুজের দেখা পাওয়া যায়। সেসব সবুজ বর্ণনা করার সাধ্য আমার নাই। যেদিকে তাকাই উঁচা উঁচা পাতারপাহাড়।  সেইসব পাহাড় বড় আয়েশ করে নীল আকাশের গায়ে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে! জোর হাওয়া বইলে পাহাড়েরা সামান্য …

পাপড়ি রহমানের স্মৃতিগদ্য: সুরমাসায়র

উষ্ণ বয়সী ব্ল্যাকবোর্ড  সুদীর্ঘ ঘোরানো সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠলে দেখি ছিমছাম এক বাংলো। অত্যন্ত মনোরম আর্কিটেক্টচারে একতলা বিল্ডিং। বাংলোতে ঢোকার মুখে ফুলের বাগান । নানা প্রজাতির ফুলের সমারোহ। একটা ঝুমকোজবা গাছে ঝেঁকে লাল লাল ফুল ধরে আছে। গাছের ডাল ঝুমকোর ভারে মাটির দিকে অবনত। নানান …

পাপড়ি রহমানের স্মৃতিগদ্য: সুরমাসায়র

অরণ্যের পথে  সহসা এর মাঝে একদিন আমি জীবনের প্রথম স্বাধীনতার স্বাদ পেয়ে গেলাম। রাজাকাক্কার প্রতি আব্বার ছিল অপরিসীম শ্রদ্ধা,ভালোবাসা আর নির্ভরতা। সেই নির্ভরতার সূত্র ধরে আব্বা আমাকে রাজাকাক্কার সংগে আম্মাকে ছাড়া একা একা বরমচাল যাওয়ার অনুমতি দিলো। শুধু যে রাজাকাক্কার জন্যই দিলো, এমন নয়।বিউটিআপার অবদানও …

পাপড়ি রহমানের স্মৃতিগদ্য: সুরমাসায়র

ছোটফুপুর শুভবিবাহ আমরা আমাদের দাদীকে ডাকতাম দিদি। আমার দিদির কথা ‘মায়াপারাবারে’ বহুবার বহুভাবে আমি বলেছি। সে ছিল আমাদের জন্য অতি আহ্লাদের জায়গা। অত্যন্ত সহজসরল আর ভালোমানুষ ছিল আমার দিদি।শাশুড়ি হিসেবে আম্মা-চাচিমাদের দিদি দিয়েছিল অবারিত স্বাধীনতা।গভীর স্নেহমমতা ও উদারতায় দিদি ছিল খানিকটা বাউল কিসিমের মানুষ। আর …

পাপড়ি রহমানের স্মৃতিগদ্য: সুরমাসায়র

আসা-যাওয়ার পথের পাশে যুদ্ধের চিন! মাত্র কিছুদিন আগেই যে আমরা এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ভেতর দিয়ে গিয়েছি, সেই যুদ্ধের নানা চিহ্ন তখনও সিলেটের নানা জায়গায় বিদ্যমান ছিল। সরকারি অগ্রগামী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে আমাদের ক্লাসরুমগুলিতে তখনও নানান ধরণের পোস্টার সাঁটানো ছিল। ক্লাস ফোর-বি তে একটা পোস্টার ছিল, …

পাপড়ি রহমানের স্মৃতিগদ্য: সুরমাসায়র

[মানুষের কাজই তাঁকে আলাদা করে চিনতে শেখায়। জামদানি তাঁতিদের নিয়ে উপন্যাস ‘বয়ন’ (২০০৮) ও পালাকারদের জীবন ভিত্তিক উপন্যাস ‘পালাটিয়া’ (২০১১) লিখে পাপড়ি রহমান নব্বই দশকের সেরকম একজন ব্যতিক্রমী এবং উল্লেখযোগ্য কথাশিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন। আমরা আনন্দের সাথে জানাচ্ছি যে, সাহিত্য ক্যাফে পাপড়ি রহমানের  স্মৃতিগদ্য …

ধা রা বা হি ক আ ত্ম জী ব নী: মায়াপারাবার (পর্ব-৮)

পর্ব-১।। পর্ব-২।। পর্ব-৩।। পর্ব-৪।। পর্ব-৫।। পর্ব-৬।। পর্ব-৭ পাপড়ি রহমান মৎসরূপ ক্যারক্যারি! আমার আব্বার ছিল নানান খেয়াল। তার সাধ ছিল অনেক কিন্তু সাধ্য ছিল সিমীত। নিজে যেটুকু সৎভাবে আয় করতেন তা নিয়েই সন্তুষ্ট ছিলেন। পরের হাজার বিত্ত বা ধনদৌলতে কখনো তাকে পরশ্রীকাতর হতে দেখিনি। মোটকথা তিনি …

ধা রা বা হি ক আ ত্ম জী ব নী: মায়াপারাবার (পর্ব-৭)

পর্ব-১।। পর্ব-২।। পর্ব-৩।। পর্ব-৪।। পর্ব-৫।। পর্ব-৬ পাপড়ি রহমান ফচাদিদির মিহির ও খনা! দাদাজানের আপন চাচাতো বোন ফচা। আমরা ডাকি ফচাদিদি। ফচাদিদির গায়ের রঙ মেমসাহেবদের মতন টুকটুকে লাল। তিনি নিঃসন্তান বিধবা। নিজের অঢেল সহায়-সম্পত্তি বিক্রি করে চলে এসেছেন আমাদের বাড়িতে। মানে উনার বাবার বাড়িতে। ফচাদিদির একবোনের …

ধা রা বা হি ক আ ত্ম জী ব নী: মায়াপারাবার (পর্ব-৬)

পর্ব-১।। পর্ব-২।। পর্ব-৩।। পর্ব-৪।। পর্ব-৫ পাপড়ি রহমান মা মনসার নাতনী-পুতনীদের খবর! বাড়ির চারপাশে জলা-জংলার অভাব নাই। ফলে মা মনসার নাতনী-পুতনীরা অনায়াসে তাদের রাম-রাজত্ব কায়েম করে আছে। তাদের রাজ্য তো আছেই। নিজরাজ্য ছেড়ে তারা যে লোকালয়ে আসেনা এমন নয়। কাহাতক আর ভালো লাগে জঙ্গলের ভেতর থাকতে? …

ধা রা বা হি ক আ ত্ম জী ব নী: মায়াপারাবার (পর্ব-৫)

পর্ব-১।। পর্ব-২।। পর্ব-৩।। পর্ব-৪ পাপড়ি রহমান ভুরুঙ্গির উদ্দাম আদি-নৃত্যকলা আমার দিদির কাছে গ্রামের নানান বয়সী নারীরা এসে ভিড় জমাতো। তাদের কেউ কেউ দীন-দরিদ্র। কেউ কেউ পেশায় ভিক্ষুক। কেউ ঠিকে-ঝিয়ের কাজ করে। কেউ বা অনাথা বিধবা। কেউ আবার স্বামী পরিত্যক্তা। দিদি তাদের সাধ্যমত সাহায্য করতো। নিজের …

ধা রা বা হি ক আ ত্ম জী ব নী: মায়াপারাবার (পর্ব-৪)

পর্ব-১।। পর্ব-২।। পর্ব-৩ পাপড়ি রহমান   সে এক বাঁশিওয়ালা–‘চান্দে’ মানুষের গায়ের বর্ণ কতোটা কালো হতে পারে? আষাঢ়ের মেঘের মতো কালো? কয়লার মতো কালো? ভ্রমরের পাখনার মতো কালো? অথবা মাথার চুলের মতো কালো? কিংবা চোখের মনির মতো কালো? আমি তাকে ভ্রমরের পাখনার মতোই কালো বলবো। সে যতই …

Back to Top