আদুনিস-এর কবিতার গদ্যানুবাদ

মলয় রায়চৌধুরী   বিশ্বাসঘাতকতা হে রাজদ্রোহের স্বর্গসুখ হে বিশ্ব যা আমার পদচিহ্ন জুড়ে— হে প্রাচীন মৃতদেহ— হে জগত যার প্রতি আমি বিশ্বাসঘাতকতা করেছি আর আজও করে চলেছি আমি সেই ডুবন্ত মানুষ যার চোখের পাতা প্রার্থনা জানায় জলের গর্জনের প্রতি। আর আমি সেই ঈশ্বর যে অপরাধের জগতকে আশির্বাদ করে আমি একজন …

সম্পুর্ন​

ডব্লু বি ইয়েটস-এর তিনটি কবিতা

অনুবাদ: সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ সৃষ্টিপূর্ব চোখের পাপড়ি যদি আরও গাঢ় আঁকি আর চোখেদের ক’রে তুলি উজ্জ্বল আর ঠোঁট-দু’টি করি লাল-টুকটুকে, কিংবা প্রতিটি আয়নাকে বলি, ‘বল্ আমাকে কেমন দেখাচ্ছে আজ’; জেনো নয় সেটা নিজ-চেহারার অনুরাগে : আমি তো খুঁজছি যে-মুখ আমার ছিল এই বিশ্বটি সৃষ্টি হবার আগে। কী হয়, তাকালে কোনো …

সম্পুর্ন​

কোবাইয়াশি ইসসার হাইকু

অনুবাদ: নান্নু মাহবুব [কোবাইয়াশি ইসসা (১৭৬৩-১৮২৮) জাপানের এডো আমলের (১৬০০-১৮৬৮) বিখ্যাত হাইকু কবি। কমবেশি কুড়ি হাজার হাইকু তিনি সৃষ্টি করেছিলেন। হাইকুতে সাধারণত পাশাপাশি স্থাপিত দু’টি আপাত দূরান্বয়ী চিত্রকল্পের ফিউসনে একটি তৃতীয়, অভাবনীয় চিত্রকল্পের সৃষ্টি হয়। অনুক্ত অংশই হাইকুর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অংশ। দু’শো বছর আগের জাপানে রচিত ইসসার হাইকু সূক্ষ্ম কৌতুকপ্রবণ, …

সম্পুর্ন​

পাঁচটি কবিতা

ফেরদৌস নাহার ১ আপনপর তোমাকে আমার নিজের মনে হয় না। সব আপন যেমন নিজস্ব নয়, ঠিক সেরকম তুমি কেউ দরজায় কড়া নাড়ো, ভুল করে নাম মনে রাখ মাঝে মাঝে শাসনে বিদায় দাও, আপ্রাণ স্বপ্নে তোমার মনের দেশ ঘোলাটে স্রোতের টানে একা, হিজিবিজি কথা টানা অর্থহীন আনাগোনা ভিজিয়ে রেখেছ কোনো কঠিন …

সম্পুর্ন​

পাবলো নেরুদার কবিতা

দ্য বুক অব কোয়েশ্চেনস থেকে কিছু কবিতা অনুবাদ: রায়হান রাইন ৪. স্বর্গে কতগুলো গীর্জা আছে? হাঙর কেন বেশরম সমুদ্রমোহিনীদের আক্রমণ করে না? ধোঁয়া কি কথা বলে মেঘেদের সঙ্গে? এটা কি সত্য যে আমাদের বাসনা সিক্ত হবে শিশিরে? ৩৯. তুমি কি সমুদ্রের হাসিতেও বিপদ টের পাও না? তুমি কি পপিফুলের খুনরঙা …

সম্পুর্ন​

দুটি কবিতা

তমিজ উদ্‌দীন লোদী   মৃত্যু শুয়ে থাকে “Death is the unescapable reality, the one thing any man may be sure of; the only security…” Hemingway নিষ্প্রদীপ করা এক রাত্রির মমতায় আমরা গোল হয়ে বসে আছি মাঝখানে মৃত্যু শুয়ে আছে সারারাত টিউবলের শব্দ, ঝনঝন শেকলের শব্দ, শব্দ হেনে যায় শুধু নিঃশব্দে পাতা …

সম্পুর্ন​

দুটি কবিতা

মিতুল দত্ত ডাবল্ রোল প্রয়োজন ডেকে নিয়ে গেছে তাকে খালপাড়ে, ক্যালেন্ডার উল্টে যাওয়া রাতে ছেনালিতে ঢাকা মুখ সে আর তোমার কাছে দেখাবে না তুমি তার অসুখের পাশে বসে থাকো ততক্ষণ, বিড়ি খাও প্রতিধ্বনি ফিরে এলে ধ্বনি ঠিক ভালো হয়ে যাবে   প্রেম অকিঞ্চিৎ, কোথায় তোর চিৎসাঁতার কোথায় তোর শাওন-ঘোর বুকের …

সম্পুর্ন​

সুবর্ণভূমিতে পরিচয়সংকট

মোশতাক আহমদ নিরীহ সোয়াসদি ককটেল হাতে চাও প্রায়া নদীর কাছাকাছি ডিজিটাল শহরের বিদেশিনী, শোনো: অনুবাদে হারিয়ে যায় সর্বাত্মক পরিচয়পত্র; তুমি মোর পাও নাই পরিচয় আকাশরেলের অচেনা যাত্রী রোবটিক জলপাই সুন্দরী— পাও নাই পাও নাই পরিচয় লক্ষ ধানের দেশে বৃষ্টি নামে পাহাড়ি প্রদেশে জেসমিন চায়ের দরাজ হাসিমুখ নারকেল সৈকত আর মাশরুম …

সম্পুর্ন​

দুটি কবিতা

আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ   মেলার মুখ ভিড়ের মধ্যে এক লাল ষাঁড় গুঁতো দিচ্ছে। তার শিং থেকে পিতলের ঘণ্টি বনাঞ্চলের মাটি গুড় গুড় করে ছড়িয়ে দিচ্ছে বাসকলতা পোড়ো জমির বনসাই। দূরে সরে যাচ্ছে না মানুষ। নরম কাধের মাংস ধরে গলাতে মালা পরিয়ে দিচ্ছে ছোটো ছেলেমেয়েদের দল। তাকে শহরের গরুর হাটে আনতেই …

সম্পুর্ন​

তিনটি কবিতা

নভেরা হোসেন নেলী   রাতের সিম্ফনি ১. দৃশ্যগুলো বদলে যাচ্ছে একটার পর একটা টয়োটা গাড়ি, জি করোলার মসৃণতা মিলিয়ে যেতেই গাল থেকে ঝুলেপড়া মাংসপিণ্ড আধহাত দূরত্বে দাঁড়িয়ে, চোখাচোখি হতেই চোখ সরিয়ে নাও তুমি আঠারো শতকীয় নাগরিক ছাপ চোখে-মুখে, নির্মমতা নয় সকালের একরাশ অধৈর্য তিরতির কাঁপতে থাকে ভলভোর জানালায় তুমিও চোখ …

সম্পুর্ন​

স্ফটিক-মই

কাজী মাজেদ নওয়াজ স্ফটিক-মই বেয়ে নেমে আসছে নীল রুমাল নামছে আর ভাসছে ভাসছে আর নামছে, কাছেই রংধনুসাঁকো উড়ে উড়ে রোদের দুপুর কেবলি কাঁপছে— অচেনা ফুলে, না-দেখা রঙে তালগাছের নিঃসঙ্গ এক ছায়া— ধীরে ধীরে আব্রু হয়ে ঢেকে দিচ্ছে নগ্ন চোখ, চোখের অন্তর, আর জন্মমুহূর্তের ভর, তবু উড়িয়ে দিলাম কথার খই বুক-পকেটে …

সম্পুর্ন​