নয়ন তালুকদারের ৪টি কবিতা

নারীর কাসুন্দি নারীর কাসুন্দি ঘাটতে কার না ভালো লাগে নারী তো ততোধিক মধুর মানব– নারী দেহের চাতুর্য বা চাতুরীপনা অস্বীকার করতে করতে ফকির লালন বড়ই একা হয়ে গিয়েছিলেন। নাজিম হিকমতের ‘জেলখানার চিঠি’ যে নারীকে লিখিত এমন কোটি নারীতে কাঁধেকাঁধ মিছিলে নামুক এ-বিশ্বের সকল পাড়ায়। নমিতা আমাকে পাবলো নেরুদা হতে বলেছিলো …

সম্পুর্ন​

চাঁদ, প্রজাপতি ও জংলি ফুলের সম্প্রীতি-৪

মাসুদ খান (পূর্বপ্রকাশিত-র পর) অতিগাগনিক উৎপাত… মাহী-সওয়ার কলেজ। জনশ্রুতি আছে, হজরত শাহ সুলতান নামের এক দরবেশ এক বিশাল মাছের পিঠে চড়ে করতোয়া নদী দিয়ে ভেসে এসে নেমেছিলেন এইখানে, এই ঘাটে। সেই থেকে দরবেশের নাম হজরত শাহ সুলতান মাহী-সওয়ার আর তাঁর নামে নাম এই বিদ্যায়তনের। কলেজের পাশ দিয়ে লালচে ধূলি-ওড়া পথ। …

সম্পুর্ন​

মতিন বৈরাগীর একগুচ্ছ কবিতা

অতীতমুখি একটা গাছ সারাদিন দাঁড়িয়ে থেকে থেকে একটা গাছ আকাশ মুখি কাণ্ড আর পাতারা সব গাছ হয়ে গেছে বিকেলের ক্লান্তির রোদ সারাটা গাছে ছলকে পড়ে তবু গজিয়ে ওঠা পাতারা নিস্তেজ নিস্পন্দ পিঁপড়েরা ছিড়ে কেটে নেয় ঢের দু’একটা নচ্ছার পাখি ঠোক্কর মারে, গাছ তবু দাঁড়িয়ে থাকে– বহু আগে এক তক্ষক বাসা …

সম্পুর্ন​

নর্তক

সৈয়দ তারিক পাথর, তোমার ভেতরেও উদ্বৃত্ত রয়েছে আর এক নৃত্য। পাথরেও নৃত্য? নাচ তো রয়েছেই। পরাবাস্তব দৃশ্যপটে আছে। দৃশ্যাতীত বাস্তবতায়ও আছে। নাচে নাচে রম্য তালে। নাচে নটরাজ। নাচে শ্মশানকালী। ইলেকট্রন। প্রোটন। নিউট্রন। কোয়ার্ক। কোনো স্থিতি নেই। আবার আছেও। নটরাজ পরম যোগী। পাথরের মতো স্থির। মা কালীর পায়ের নিচে শবাসনে মগ্ন। …

সম্পুর্ন​

তালাশের তত্ত্ব-তালাশ: ‘খড়ের কাঠামো’র কাছে

মাদল হাসান বৈশাখের খররৌদ্রে একখানা ‘খড়ের কাঠামো’-র পাশে দাঁড়াইল পথশ্রান্ত পথিক। কয়েক খামচা খড় লইয়া বসিয়া পড়িল কাঠামো পার্শ্বে। চতুর্দিকে চোখ ঘুরাইয়া পর্যবেক্ষণ করিল কাঠামোটিকে। এ-কি কোনো মানসপ্রতিমা? নাকি কাহন দুয়েক খড়ের স্তূপমাত্র! মানসপ্রতিমার কাঠামো হইলে পালমহাশয় ‘আপন মনের মাধুরী’ মিশায়ে মানসী করিবে রচনা, ইহাই স্থিরকল্প করিলেন পথিক আর বৈশাখের …

সম্পুর্ন​

চাঁদ, প্রজাপতি ও জংলি ফুলের সম্প্রীতি-৩

মাসুদ খান (পূর্বপ্রকাশিত-র পর) শ্রুতি ছুঁয়ে যাচ্ছে শ্রুতি, হৃদিতে মিশছে হৃদি, শ্রবণে শ্রবণ… কবি ফখরুল আহসানের সঙ্গে রিকশায় চলেছি। রিকশা চলছে তো চলছেই, তন্দ্রাচ্ছন্ন, মদালস। দুপুরের রোদের ভেতর দিয়ে ঘুরে ঘুরে ঠনঠনিয়া, কানছগাড়ি, মালতিনগর, জলেশ্বরীতলা…। রাস্তার ধারে এক ছোকরা নাপিত টুল ও চেয়ার পেতে, আয়না খাটিয়ে বসে পড়েছে দিব্যি। টেকোমাথা …

সম্পুর্ন​

সুস্মিতা চক্রবর্তীর তিনটি কবিতা

নীলাভিলাষ নীলের দরদী আমি তুমি বঁধু নীলের প্রতিমা জগতের সব নীল তোমা মাঝে ফুটিয়াছে গাঢ়। অনড়-অলস আমি নীল-নাথবতী নীলময় ব্রহ্ম দেখি নীলের তাপসী ও নীল লাগিয়া আমি ডাকাতিয়া বাঁশি! ও নীল কখনো তুমি নীলাভ্র-আকাশ ও নীল কখনো তুমি তুমুল হুতাশ ও নীল কখনো চাঁদ নীলিম-চন্দ্রিমা ও নীল কখনো রুদ্র প্রলয়-গরিমা …

সম্পুর্ন​

গ্যোব্রিয়েলা মিস্ত্রাল-এর কবিতা

অনুবাদ:কামাল রাহমান  গ্যোব্রিয়েলা মিস্ত্রাল (১৮৮৯-১৯৫৭): প্রথম, এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র কবি, যিনি নারী হিসেবে ল্যাটিন আমেরিকা থেকে সাহিত্যের জন্য নোবেল পুরস্কার পান, ১৯৪৫ সালে। একজন শিক্ষাবিদ, কূটনীতিবিদ ও নারীবাদী হিসেবে বিশ্বব্যাপী খ্যাতি অর্জন করেন এই কবি। তাঁর কবিতার মূল সুর প্রকৃতি, বিদ্রোহ, প্রেম, মায়ের ভালোবাসা, দুঃখ, ও দুঃখ থেকে পরিত্রাণ, ভ্রমণ, …

সম্পুর্ন​

সেলিম রেজা নিউটনের তিনটি কবিতা

শুভ  বিরহ বিরহ শুভ হোক। আমাদেরকে নবজন্ম দিক। নতুন পাতার মতো কোমলসবুজ হোক বিরহের ব্যথা। যেমন ব্যথাকে জানি, না জেনে যা উপায় থাকে না, সে রকম করে যেন বিরহকে জানি। তার  চেয়ে বেশি নয়। বুদ্ধি দিয়ে নয়। বিরহ সহজ হোক শিশুর প্রশ্নের মতো। বিরহ স্বাভাবিক হোক পাখির ওড়ার মতো। বিরহ অবাধ হোক আগুনের মতো। দহনের আলো নিয়ে …

সম্পুর্ন​

চাঁদ, প্রজাপতি ও জংলি ফুলের সম্প্রীতি-২

মাসুদ খান (পূর্বপ্রকাশিত-র পর) আফিম-খেতের হাওয়া… একজন লোক। খুবসম্ভব কোনো ওষুধ কোম্পানির বিক্রয়-প্রতিনিধি। নতুন এসেছেন এ শহরে। হয়তো দূরের কোনো শহর থেকে। হাতে ব্যাগ। সন্ধ্যার পর শ্যামলী-তে আহার সেরে বাইরে এসে আরাম করে পান চিবাচ্ছেন। তাম্বুলরসে রঞ্জিত তার মন ও মুখ। চোখেমুখে ফুর্তি-ফুর্তি ভাব। লম্বা জাহাজের মতো এক সিনেমা হল। …

সম্পুর্ন​

রুপালি ইউনিকর্ন

কল্যাণী রমা [এ রূপকথা তোমাকে দিলাম- শাদা কাগজে, শাদা কালিতে… ৭ই জানুয়ারি, ২০১১] “He continued on, on to the glacier, towards the dawn, from ridge to ridge, in deep, new-fallen snow, paying no heed to the storms that might pursue him. As a child he had stood by the seashore …

সম্পুর্ন​

কবিতা: ফটোগ্রাফার

জহির হাসান পার হয়ে তৃষ্ণা ও তাপের শাসন আর যত ওড়াউড়ি অমল বৃষ্টির লোভে লোভে এতদূর এসে কাক ও কোকিল, কাঠগোলাপে, হয়েছে হাঁপানি উহাদের ঘেয়ো প্রাণে। বিকেল আকাশে নেই মেঘের হুঙ্কার ও বৃষ্টিগাছের শুকনো খয়েরি ফলের নৈঃশব্দের ঝুলে থাকা সহ্য হয়নি কাহার– ফটোগ্রাফার মেয়েটি তুলছে ছবি! ওর পিছু পিছু দূর …

সম্পুর্ন​

হাওয়া বিবির রাশিচক্র

পাবলো শাহি চিত্ত গড়ার কাজে নিজেকে নিবৃত করা কঠিন। মানুষ তার আত্মাকে নির্মাণ করার মধ্যদিয়ে বিবেকের ক্ষতিপূরণ দেয়। জীবনের ছোটখাটো ঘটনাকে মহৎ করে তুলতে হবে– আত্মনিয়োগের বাসনা এভাবে পেয়ে বসে মানুষের মধ্যে। একে উচ্চপ্রশংসিত ভিতর-পাঠ বলা যেতে পারে। ভিতর মানে অবান্তর অর্থাৎ যে জিজ্ঞাসা আমাদের ছিটকে দিয়েছে ‘অখণ্ড’ থেকে। অন্তরের …

সম্পুর্ন​

চাঁদ, প্রজাপতি ও জংলি ফুলের সম্প্রীতি-১

মাসুদ খান সেই এক দেশ আছে… সেই এক দেশ আছে, যে-দেশে নানান প্রথা, নানা কথা, রীতি যে-দেশে বনেদি চাঁদ, প্রজাপতি আর জংলি ফুলের সম্প্রীতি আর দুগ্ধনদীতে প্লাবন তোলা সুশীলা কপিলা, ননী আর ননীচোরা… যে-দেশে বেকার বসে থাকে, প্রায়-প্রায়ই, ডাকহরকরা– কেননা সে-দেশে বার্তা নেই কোনো প্রেমবার্তা ছাড়া, আর তা বয়ে নিয়ে …

সম্পুর্ন​

আজফার হোসেন-এর গদ্যকবিতা

পোয়েটিকস্ অব দ্য সাইন   এক চোখ ফেরাতেই দেখি পৃথিবী ঝুলে আছে গাঢ় অষ্টকের মতো। ধরতেই আটটি পংক্তি তরমুজের মতো ফেটে যায়। প্রথম পংক্তিতে লেখা আছে: এখানে সূর্য সূঁচের মতো চিকন রশ্মিতে গেঁথে ফেলেছে ঘাস, মাটি, নীলচোখ গাঙের শরীর। দ্বিতীয় পংক্তি: উপমাবিদ্ধ চাঁদ, পিঠে তার ভাঁজ-করা চিহ্নের মতো পিছলে-যাওয়া শ্যাওলা। …

সম্পুর্ন​

তুমি আর আমি

গৌতম চৌধুরী   ০১. ধীরে ধীরে একটা আদল কি গড়ে উঠছে লুপ্ত সভ্যতার এমন প্রশ্নের জবাব কোনও দিনই দিলে না তুমি বৃষ্টির দেশ থেকে তাই কেবলই চলে গেছি কাঁকরের দেশে চলে গেছি জাদুঘরে, যেখানে পুস্তকের ভস্ম রাখা আছে সমস্ত লিপিই হাস্যকর, গম্ভীর, বিপরীতমুখী তুমি জানালা খুলে দিলে, বললে, তাকিয়ে দেখো …

সম্পুর্ন​

কামাল মাহমুদ-এর একগুচ্ছ কবিতা

নিদ্রাস্তুতি   আমার একটা চোখ নাকে তেল দিয়ে ঘুমোচ্ছে অন্য চোখটা নেহাৎ অনিচ্ছায় জেগে আছে ঘুমিয়ে পড়া চোখটা সুখে স্বপ্ন দেখছে– সবুজ মাঠের মধ্যে একজোড়া শাদা খরগোশ ছুটছে কোনো রাক্ষুসে শিয়াল-কুকুর তাদের তাড়া করছে না সবুজে-শিশিরে মহানন্দে খেলা করছে ওরা বৃক্ষেরা ছায়া দিচ্ছে, পাখিরা সাঁতার কাটছে ডুব সাঁতার, চিৎ সাঁতার …

সম্পুর্ন​

সা-রে-গায়ে ব্রেল

বারীন ঘোষাল   বেলুন      গলা        সিল্ক       চোখে  সুদূর স্বচরিতের গুহায় এই কমনরুমটা ছিল আমাদের এই নৌকো পাতা বিছানা     ব্রেনলেস    সারেগায়ে ব্রেল সারাগায়ে                                                    যা তা মস্তি বিহান   জলের ছাঁদে                স্মৃতিফলক আঙুলাঙ্গুলের  দোলছবি প্রণববাবু ছবি তুলছেন দেখে ফ্রেস্কো থেকে বেরিয়ে এলো স্ট্যাচুগণ ব্রেলচাদর গায়ে শুধু অন্ধরা উগরে এসেছে পায়ে পায়ে …

সম্পুর্ন​

স্তেফান মালার্মের দুইটি গদ্যকবিতা

অনুবাদ: আজফার হোসেন   প্রতিষঙ্গের প্রেতাত্মা তোমার ঠোঁটে গেয়েছিল গান নাম-না-জানা শব্দরা? এক অসম্ভব বাকধারার অভিশপ্ত টুকরো? ফ্ল্যাট ছেড়ে বেরিয়ে আসি, কোন এক বাদ্যযন্ত্রের তারের ওপর পিছলে-পড়া পালকের মতো অনুভব সঙ্গে নিয়ে, বিনম্র ও বহতা, যার স্থান করে নেয় একটি কণ্ঠস্বর, ধীরে ধীরে নেমে-যাওয়া ধ্বনিতরঙ্গায়িত শব্দের উচ্চারণে: “লা পেনালতিয়েম এ …

সম্পুর্ন​

চিচিং ফাঁকে ফাঁকে

সুদেষ্ণা মজুমদার শামীম আজাদের সঙ্গে আমার পরিচয় পুরোটাই বৈদ্যুতিন। এবং তা বছরখানেকের কিছু বেশি। তাতে যেমন অনেক কিছু প্রমাণিত হয়, আবার তেমন অনেক কিছুই সাধারণ সূত্রে মাপা যায় না। তাঁর অনেক কর্মকাণ্ডের কথা যদিও আমি জেনে ফেলি; সবই আন্তর্জালের জাল বেয়ে। জানতে পারি তাঁর লেখালিখির কথা, তাঁর বইয়ের কথা। এছাড়াও …

সম্পুর্ন​

ফানুসের আত্মা: তুষার চৌধুরী

রমিত দে পারসিস্টেন্স অফ মেমোরি। সালভাদর ডালির ছবিটার কথা মনে করা যাক। যেখানে টু ডায়েমেনশানে স্বেচ্ছা নির্বাসিত  ফোর্থ ডায়েমনশনের জীবাশ্ম ।  শিল্পী সেখানে স্মৃতিকথাটির মত; সময় সেখানে ক্লান্ত, গলিত, আপেক্ষিক, নিজের কাছেই স্পষ্ট নয় উত্তরজাতকের  বিশাল বন্দীত্ব। ঠিক এ জায়গায় দাঁড়িয়ে একজন শিল্পী একজন কবি চূর্ণ মনসিজ নিয়ে ঠিক কি …

সম্পুর্ন​

ভিসেন্তে আলেইহান্দ্রে’র পাঁচটি কবিতা

অনুবাদ: আজফার হোসেন   বন্ধ উদোম পৃথিবী। নিরাপত্তাহীন রাত নিরিবিলি। বাতাস তার ঝালরের বিপরীতে ইঙ্গিত দেয় কানহীন ধুকধুক ধুকধুক। সিসা ছায়া ঢালে, হিম, ভারি সিল্কে জড়িয়ে রাখে তোমার বুক, কালো, রুদ্ধ। অতএব সবকিছু চাপে থাকে রাত্রির ধাতবে। প্রসিদ্ধ, শান্ত, রাতের স্বচ্ছ পুরনো সমতলের ওপর। দেউলিয়া নক্ষত্রেরা থাকে। ঘষামাজায় মসৃণ কবজা। বরফ …

সম্পুর্ন​

মতিন বৈরাগীর একগুচ্ছ কবিতা

একটা পাখির মুক্তি সংগ্রাম পাখিটা সারা দিন উড়িবার আকাঙ্খায় খাঁচার ভেতরে পাখা ঝাপটায় বাহির দেখে খাঁচা দেখে এবং আমাকেও দেখে জানালার এপাশে এইভাবে নিত্য তার অভিজ্ঞতায় শানিত করে প্রয়োগ আবার দেখে চারিপাশ, ফোকর-ফাঁক যতোটুকু উদোম আকাশ আমিও দেখি শুয়ে শুয়ে বই পড়ি তার ফাঁকে কখনো নিবিড় ভাবি আমার ভেতরেও কী …

সম্পুর্ন​

তরমুজ, মিনাবাজার ও অটো হাতবোমা

আবু সাঈদ  ওবায়দুল্লাহ   তরমুজ লালের ভেতর কোথাও একটা স্বরগম কোথাও একটা রিফিউজি গ্রাম কেঁপে কেঁপে লম্বা একটা বাস ধুলিনাশকতার ভেতর আস্তে আস্তে ধীর প্যাসেঞ্জারের স্মৃতিবল্লম তার খালি চক্ষু-চিমনি কবরস্থানের পাশে পেঁপে গাছ হওয়া টেলিগ্রাম । ওড়ে মৌন চিঠিলেখা সবুজ রঙের খাম পৌঁছায় ২৬ মনেশ্বর লেন হাজারিবাগে। সেখানে একটা দাঁত …

সম্পুর্ন​

পাঁচটি কবিতা

সুবীর সরকার   ছায়া ছায়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি মজা করে কথা বলছো লাজুক মুখ,পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হেসে ওঠে কাঠের হাতি   প্রচ্ছদ যেমন জন্মদিন, পাকা কাঁঠাল একঝলকে চড়ুই পাখি মঞ্চের দখল নিচ্ছি সহবাস বস্তুতই বহুচর্চিত প্রচ্ছদ   মুখোশ গাছের নিচে দাঁড়িয়ে থাকলেই হয় না;নিঃশ্বাস ঘন হবার মূহুর্তে জলপ্রবাহ।খোলস ছাড়বার

তরুনাস্থির গান

সাগুফতা শারমীন তানিয়া ৩০০ বছরের পুরানো স্যাডলার্স ওয়েলস্‌ থিয়েটারে আকরাম খানের শো ‘ইটমই’ (ITMOI– In the mind of Igor) দেখেছিলাম, দেখে আমার রীতিমত বোম্বাগড়ের রাজার পিসীর মতন তালকানা দশা হয়েছিল। কে বলে নাচ কেবল নাচ, নাচ যে গাছের মতন স্টেজ ফুঁড়ে বের হয়, শামুকের মতো মাথার উপর টেনে দেয় খোলস। …

সম্পুর্ন​

মহানগরে পথচর বদল্যার

মলয় রায়চৌধুরী কী এক ইশারা যেন মনে রেখে একা-একা শহরের পথ থেকে পথে অনেক হেঁটেছি আমি; অনেক দেখেছি আমি ট্রাম বাস সব ঠিক চলে তারপর পথ ছেড়ে শান্ত হয়ে চলে যায় তাহাদের ঘুমের জগতে সারারাত গ্যাসলাইট আপনার কাজ বুঝে ভালো করে জ্বলে । কেউ ভুল করেনাকো – ইঁট বাড়ি সাইনবোর্ড …

সম্পুর্ন​

নিজের মুখোমুখি

কামাল রাহমান সুদীর্ঘ এক জীবনের তিরাশিটা বছর অতিক্রম করে হামযা আবু তাহের অভাবনীয় এক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে অতীতের সবকিছুর খেই হারিয়ে ফেলে। এমন একটা বয়সে পৌঁছে বেঁচে থাকার আরো ইচ্ছা থাকলেও কারণ বিশেষ কিছুই থাকে না। অনেকটা প্রথাসিদ্ধ জীবন যাপনের ফলে কিছু কিছু কাজ এমনভাবে অভ্যাসের সঙ্গে মিশে গেছে যে …

সম্পুর্ন​

শনিবারের জার্নাল – ৫

দোলনচাঁপা চক্রবর্তী তেরই ডিসেম্বর খবরের আর্কাইভ থেকে কী যেন খোঁজার সময়, গিল স্কট হেরনের মৃত্যুসংবাদ দেখলাম। বেশ পুরানো খবর। ২৭শে মে’ ২০১১। ঠিক দুঃখ নয়, একটা শূন্যতাবোধ, জলের ফোঁটার মত অবধারিত ব্যপ্তিতে, ছড়িয়ে পড়ল। কিছু কিছু মানুষ এতখানি মিশে যায় যাপনে, চর্চায়, যে তারা সশরীরে রইল কি রইল না, সেটা …

সম্পুর্ন​

গল্প: নানা টুকরো, আপ্তবাক্য

পাবলো শাহি কথাটা সেই প্রথম স্পষ্ট করেছে, আমাদের মস্তিষ্কে চিন্তাটা মিথ হয়ে উঠবার আগে– সেই বলেছে ‘কনসেপ্ট’ এক ভয়ঙ্কর জটিল শব্দ আর মানুষ এই অভ্যস্থতার মধ্যে ঢুকে শব্দের দাস হয়ে ওঠে। এই প্রসঙ্গ ধরে সে আমকে বলে– ধরো আমি নিয়াণ্ডারথাল নারী, আর তুমি পৃথিবীর ফুল হাতে দাঁড়িয়ে থাকা আদি পুরুষ; …

সম্পুর্ন​

মর্শিয়া বানুর আরেক সকাল

নাহার মনিকা এমন সকালে, এমন সকাল বেলায় মর্শিয়া বানুর মনে হয়- জীবনে বিলাসিতা না থাকা ঠিক না। একতলা বাড়ির বারান্দায় বসে থাকার সকাল দশটা, নাশতা, চা শেষ। আধপড়া খবরের কাগজ আলস্য করে তার ইজি চেয়ারের হাতলে। আঙ্গুলের ডগা চুলে মই দেয়, অন্য হাত মনে মনে রোদের আভিজাত্য গায়ে মেখে পরিচ্ছন্ন …

সম্পুর্ন​

ধা রা বা হি ক আ ত্ম জী ব নী: মায়াপারাবার (পর্ব-৮)

পর্ব-১।। পর্ব-২।। পর্ব-৩।। পর্ব-৪।। পর্ব-৫।। পর্ব-৬।। পর্ব-৭ পাপড়ি রহমান মৎসরূপ ক্যারক্যারি! আমার আব্বার ছিল নানান খেয়াল। তার সাধ ছিল অনেক কিন্তু সাধ্য ছিল সিমীত। নিজে যেটুকু সৎভাবে আয় করতেন তা নিয়েই সন্তুষ্ট ছিলেন। পরের হাজার বিত্ত বা ধনদৌলতে কখনো তাকে পরশ্রীকাতর হতে দেখিনি। মোটকথা তিনি ছিলেন নির্লোভ। এবং আমাদের খুব …

সম্পুর্ন​

নয়ন মেলে দেখি

ফারহানা মান্নান   শিল্পের সৌন্দর্য নারীর সৌন্দর্যের মতন হরণ করবার মতন বিষয় কী? শিল্পকে জোর পূর্বক হাতের মুঠোয় আটকে রেখে নিজেকে শিল্পী তো ভাবা যায় না। শিল্প তাই জোর পূর্বক অর্জন করবার বিষয় নয়। আমরা শিল্পকে হাত দিয়ে ধরে দেখতে পারি, ছুঁতে পারি, অনুভব করতে পারি কিন্তু শিল্পের অধিকার কি …

সম্পুর্ন​

গল্প: আলো ক্রমে নিভিতেছে

সৈকত আরেফিন আমাদের মফঃস্বল বদলে যায়। ছোট শহরটা দ্রুত তার ভূগোল পাল্টে ফেলে। এই ভৌগোলিক পরিবর্তনের প্রায় সবটাই হয় আমাদের শৈশব ও কৈশোর জুড়ে, উদ্দাম ও স্বপ্নরঙিন অতীতকালে; প্রজাপতির পেছনে ছুটে বেড়িয়ে, সারাদিনমান ঘুড়ি উড়াতে উড়াতে আমরা দেখি যে, আমাদের আকাশ ঢাকা পড়ে যায়, গোলাছুট খেলার মাঠও তখন বহুতল শপিং …

সম্পুর্ন​

ব্লেডলিখিত সত্তাচিহ্নের শেষ ধাপ

শুভ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ক আস্থা বা সহজাত ছিঁড়ে এসেছি মাকড়সার জালে রোদ ও ভিজে শিউলি কুড়োতে গিয়ে হাতে লেগে যাওয়া কয়লার গোলার দাগ কোনওভাবে ফিরবেনা জেনে নিজেকে ছেড়ে দিচ্ছি বাক্যে            নির্ভার            দাঁতে দাঁত কল্পনাবিহীন দিন সামান্য স্টিলের নখ           বেঁধানোর কথা ভেবে দিন যায় নিজেরই পুরনো রক্ত           সামাজিক মানুষের সাদা টিসু …

সম্পুর্ন​

ছোটগল্প: এক্সকিউজ মি স্যার আমার নাম সাজ্জাদ

আনোয়ার সাদী এক্সকিউজ মি, আমার নাম সাজ্জাদ স্যার। একটা লেটেষ্ট এডিশন বই এনেছি। এটা ভালো। ছেলেটি ছিপছিপে, ভেসে থাকা চোয়ালে সামর্থ্যের ছাপ ষ্পস্ট। তার হাসিমাখা মুখে তাকিয়ে বিব্রত রফিক। কেননা তার চোখ চিক চিক করছে অপ্রকাশিত কান্নায়। ভেতরটা কাঁপছে অজানা এক আশঙ্কায় । হাসপাতলের কৃত্রিম আলো তার চোখ থেকে মুছে …

সম্পুর্ন​

ছোটগল্প: বীজ

মাহবুব আলী   শিহাবের এই কাজ করতে জঘন্য লাগে। সারা শরীর ঘিনঘিন করে উঠে। অথচ আগে এমন অনুভূতি হতো না। হঠাৎ যেদিন রানু বমি করার মতো চোখমুখ উল্টে বলে, – ‘যাও গোসল করে এসো।’ কেন কি হলো আবার?’ ‘ই মা! কি জঘন্য কি নোংরা!’ সেই থেকে শুরু। না হলে কাজ …

সম্পুর্ন​

ধা রা বা হি ক আ ত্ম জী ব নী: মায়াপারাবার (পর্ব-৭)

পর্ব-১।। পর্ব-২।। পর্ব-৩।। পর্ব-৪।। পর্ব-৫।। পর্ব-৬ পাপড়ি রহমান ফচাদিদির মিহির ও খনা! দাদাজানের আপন চাচাতো বোন ফচা। আমরা ডাকি ফচাদিদি। ফচাদিদির গায়ের রঙ মেমসাহেবদের মতন টুকটুকে লাল। তিনি নিঃসন্তান বিধবা। নিজের অঢেল সহায়-সম্পত্তি বিক্রি করে চলে এসেছেন আমাদের বাড়িতে। মানে উনার বাবার বাড়িতে। ফচাদিদির একবোনের বিয়ে হয়েছিল চাচাতো ভাইয়ের সাথে। …

সম্পুর্ন​

অজিত দাশের কবিতা

চৌকাঠ প্রকাশ্যে উড়ছে যাবতীয় ব্যথার অগ্রন্থিত অক্ষর তোমাকে জানা আর না জানা অকথিত ভঙ্গিমা মাত্র অথচ কোন গোপন দরজা খুলে গেলে আশ্চর্য কী সব দেনা-পাওনা মিটিয়ে দেখি যারা এঘরে ওঘরে জমিয়ে রাখে অভাবের ছিটেফোঁটা তারাও আজকাল দিব্যি কিনে নিতে পারে প্রকাশের শালীনতা যেদিকে দুর্লভ প্রতিভা মেলে দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকি বিপন্ন …

সম্পুর্ন​

শনিবারের জার্নাল-৪

দোলনচাঁপা চক্রবর্তী পাশের বাড়ির ছাতের কার্নিশে দুটো ঘুঘু। ওই বাড়িটার গায়ে রঙের প্রলেপ নেই – ইট বার করা। তার ওপর ঘুঘুর ছায়া মানায় না। কিন্তু ঘুঘু এত বোঝে না। ওরা উচ্চতা বোঝে। রোদ বাড়ছে – ওরা পিঠ পেতেছে রোদে। দূর থেকে দেখলে লাল পায়রা বলে ভুল হয়ে যায়। আমি অবশ্য …

সম্পুর্ন​